14/08/2026
একদিন এক কাস্টমার এমন এক অনুরোধ করলো, যা নিয়ে আমার ধারণাই ছিল না। কিন্তু তাকে না করিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় আমার নতুন পথচলা।
আমার নাম ফাতেমা পারভিন। বাড়ি লালমনিরহাট সদরে। মা একা হাতে সংসার সামলে বড় করেছেন আমাদের। ধৈর্য ধরে, সৎ থেকেও যে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া যায়, তার কাছেই শিখেছি।
পড়াশোনার বাইরেও যুক্ত ছিলাম নানা সংগঠনের সাথে, কাজ করেছি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে। নিজের কিছু করার স্বপ্নটা দেখেছিলাম তখনই।
একদিন কোভিড এল। চেনা পৃথিবীটা বদলে যাওয়া শুরু হলো। কিন্তু আমার স্বপ্নটা ভুলিনি। ঘরে বন্দী তাতে কী, অনলাইনেই কিছু করি! যেই ভাবা সেই কাজ, বোনেরা মিলে খুললাম একটা পেইজ, নাম দিলাম ‘শখের বাজার’। ঘরে বানানো খাবার, ঘরে বসেই বিক্রি করতাম অনলাইনে।
টুকটাক অর্ডার পাচ্ছিলাম, ডেলিভারিও দিচ্ছিলাম নিশ্চিন্তে। কিন্তু একদিন আমার এই খাবারের পেইজে এল এক অদ্ভুত অর্ডার। এক কাস্টমার জানতে চাইলো, তাকে শীতল পাটি বানিয়ে দিতে পারব কিনা।
শীতল পাটি কী দিয়ে, কীভাবে বানায়, কিছুই জানতাম না। তবু কেন যেন মনে হলো, চ্যালেঞ্জটা নিয়েই দেখি। উনাকে আর না করিনি। ঠিক করলাম, শীতল পাটি বানানো শিখব, অর্ডারও ডেলিভারি দেব।
ভাগ্য ভালো, আমার খালারা এই কাজ পারতেন। তাঁদের কাছেই শিখে নিলাম। পুঁজি ছিল মোটে পাঁচশ টাকা। সেই সাহসী সিদ্ধান্তটা কিন্তু বিফলে গেল না। হস্তশিল্পের কাজ শুরু হয়ে গেল আমার ‘শখের বাজার’-এ।
এবার স্বপ্ন বড় করার পালা। দোকান দেব। কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না, ব্যবসার হিসাবই তো জানি না। ঠিক তখনই জানতে পারলাম ব্র্যাকের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের কথা।
তিন মাসের ট্রেনিং থেকে শিখলাম ব্যবসার হিসাব, বাজার বোঝা, লাভ-ক্ষতির অঙ্ক। শিখলাম কীভাবে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে হয়। বুঝলাম, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ছোট উদ্যোগও একদিন বড় হয়।
আজ শখের বাজার শুধু একটা অনলাইন পেজ নয়, এটা আমার পরিচয়। হস্তশিল্পের পাশাপাশি বিক্রি করি চা বাগানের মধু, বগুড়ার মাটির পণ্য, ঘরে বানানো শুকনো খাবার। যারা একসময় আমার সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করত, তারাই এখন আমার নিয়মিত ক্রেতা।
আমি বিশ্বাস করি, লোকে কী বলল সেটা বড় কথা নয়, নিজে কী বিশ্বাস করলাম সেটাই আসল। আমি চাই, আরও অনেক নারী নিজের শখ আর দক্ষতাকে সঙ্গী করে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাক। নিজের মতো করে কিছু একটা গড়ে তুলুক।
ফাতেমা পারভিন
উদ্যোক্তা, শখের বাজার
লালমনিরহাট সদর