12/03/2026
শ্রম সংস্কার কমিশন এর সুপারিশ পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে!
আজ থেকে শুরু হলো নতুন আইন প্রণেতাদের যাত্রা। দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার প্রশ্নে তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করছি যে, “বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫”–এ এখনো বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতা, সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ধারা বিদ্যমান রয়েছে, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী মানুষের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের ওপর। গার্মেন্টস, কৃষি, পরিবহন, নির্মাণ, চামড়া, গিগ অর্থনীতি, প্রবাসী শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত কোটি কোটি শ্রমিক দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। অথচ বাস্তবতা হলো—অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা এখনো ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক সুরক্ষা এবং সংগঠিত হওয়ার পূর্ণ অধিকার থেকে বঞ্চিত।
এই প্রেক্ষাপটে আমরা মনে করি, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫–কে আইন হিসেবে চূড়ান্ত করার আগে অবশ্যই শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজ, শ্রম বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে বিস্তৃত আলোচনা ও পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি। আইনটি এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যাতে তা আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড, বিশেষ করে আইএলও’র মৌলিক কনভেনশনসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং শ্রমিকদের অধিকারকে বাস্তবভাবে শক্তিশালী করে।
আমরা আশা করি, এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার আগে এর মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে। বিশেষ করে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন—
শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার আরও সহজ ও কার্যকর করা।
জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ও জীবনধারণ মজুরি নিশ্চিত করার করা।
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা জোরদার করা।
নারী শ্রমিকদের জন্য সমতা, মাতৃত্ব সুরক্ষা ও হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
অপ্রাতিষ্ঠানিক ও গিগ অর্থনীতির শ্রমিকদের সকল ধরনের আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।
শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত, হয়রানি ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা রাখা।
আমরা বিশ্বাস করি, একটি ন্যায্য ও মানবিক শ্রম আইন কেবল শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও টেকসই ও শক্তিশালী করবে। শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত হলেই উৎপাদনশীলতা বাড়বে, সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিন।
ন্যায়ভিত্তিক শ্রম আইন প্রণয়ন করুন।
আমরা প্রত্যাশা করি—নতুন আইন প্রণেতারা দেশের কোটি শ্রমজীবী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫–কে একটি যুগোপযোগী, মানবিক ও শ্রমিকবান্ধব আইনে রূপান্তর করবেন।
নাহিদুল হাসান নয়ন
সাধারণত সম্পাদক
সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন (এসএসএফ)