07/03/2024
নিশ্চয় আপনার রব, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে তিনি কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সেটার ফয়সালা করে দিবেন। ( সিজদাহঃ২৫)
এখানে মতবিরোধ বলতে আহলে কিতাবদের নিজেদের মাঝের মতবিরোধকে বুঝানো হয়েছে। এর মধ্যে মু’মিন ও কাফের, হকপন্থী ও বাতিলপন্থী, তাওহীদবাদী ও অংশীবাদীদের মাঝে পৃথিবীতে যে মতভেদ ছিল ও আছে, তাও আনুষঙ্গিকভাবে এসে যায়। যেহেতু পৃথিবীতে প্রত্যেক দল নিজ যুক্তি-প্রমাণের উপর তুষ্ট এবং নিজ রাস্তার উপর অবিচল থাকে, সেহেতু এই মতভেদসমূহের ফায়সালা আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন করবেন। যার উদ্দেশ্য হল, তিনি হকপন্থীকে জান্নাতে এবং কুফরী ও বাতিলপন্থীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।
যেহেতু আল্লাহ নিজেই উপযুক্ত সময়ে মতবিরোধ বা ইখতিলাফ এর ফয়সালা করে দিবেন। সুতরাং আমাদের এ সকল (ইখতিলাফি) বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। এটা আল্লাহর উপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত! এসকল বিষয় নিয়ে নতুন করে ইফতিরাক (বিচ্ছিন্ন হওয়া) বা ইখতিলাফ ( মতবিরোধ) করার কোন সুযোগ নেই।
এখন সময় সকল ইফতিরাক (বিচ্ছিন্ন হওয়া) বা ইখতিলাফ ( মতবিরোধ) কে আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে মুসলিম ইউনিটি বা ঐক্য গঠনে কাজ করা। এখন সময় মুসলিম উম্মাহ এক হওয়ার। আপনি সবকিছু বাদ দিন বিশ্বের সকল মজলুম মুসলমানদের (বিশেষ করে ফিলিস্থিনি মুসলিমদের) কথা চিন্তা করে হলেও এখন সব বাদ দিয়ে মুসলিম উম্মাহ এক হন।
কারো যদি কোন বিষয় জানার থাকে বা বোঝার থাকে আপনি আলেমদের কাছে যান, কুরআন-হাদিস থেকে শিক্ষা নিন। আর তা নিজের শিক্ষা হিসেবে কাজে লাগান। এই মুহুর্তে অন্যের আমলের সাথে জাজ করার দরকার নেই, কে সঠিক কে ভুল তা ভেবে ইফতিরাক (বিচ্ছিন্ন হওয়া) বা ইখতিলাফ ( মতবিরোধ) করার কোন সুযোগ নেই। আপনি সুধু আপনার আমল যাচাই করুন আরো উন্নত করুন।
এবারের রমজানে নতুন কোন ইফতিরাক (বিচ্ছিন্ন হওয়া) বা ইখতিলাফ ( মতবিরোধ) নয়, আসুন আমরা সবাই হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর এক উম্মত হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করি।
‘‘তোমরা আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ কর সমবেতভাবে, এবং পরস্বপর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’’ (আল ইমরানঃ১০৩)
--ওয়ামা তাওফিক ইল্লা-বিল্লাহ!