13/05/2026
দেশটাকে যদি সত্যিই ‘People’s Republic Of Bangladesh’ বলা হয়ে থাকে, তাহলে এই ছবিটায় নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর থাকার কথা নয়।
আপনারা যারা রাষ্ট্রচিন্তার মৌলিক উপাদান ‘রিপাবলিক’ কনসেপ্টটিকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন তারা জানেন, 'রাজনীতি', 'নির্বাচন’, ‘জনগণ', ‘নাগরিক’, 'ব্যক্তি’, ‘ব্যক্তিবোধ’, ‘অধিকার‘— এই শব্দগুলি প্রজাতন্ত্রের একেকটা পিলার বা স্তম্ভ। আর এসবের মাঝে ফার্স্ট পিলার হলো ‘ব্যক্তি’
পেছনে ফেলে আসা দুনিয়ার বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থায় আমরা দেখেছি শাসক বা শাসকগোষ্ঠীর বাইরে সবাই প্রজা হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু যখন থেকে দুনিয়া রিপাবলিক সিস্টেমের দিকে ধাবিত হলো তখন থেকে ব্যক্তি, নাগরিক, জনগণ, অধিকার শব্দগুলির উত্থান ঘটে এবং এগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রিপাবলিক আমাদের শেখায়, একজন ব্যক্তির অধিকারের উপরেই দাঁড়িয়ে থাকে রাষ্ট্র। আপনি যখন একজন ‘ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য হবেন, কেবলমাত্র তখনই আপনি নাগরিক হিসেবেও গণ্য হবেন। আর একজন নাগরিকের প্রতিই রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকে। রাষ্ট্র তাকে ভোট দেওয়া কিংবা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। আর সেই ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিক যাকে তার প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারই দায়িত্ব, যারা তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর!
তো নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি? উত্তর হলো না। তাহলে তিনি ওখানে কেন?
দেখুন, আমরা সারাদিন ডেমোক্রেসি ডেমোক্রেসি করে মাথা খারাপ করলেও রিপাবলিক শব্দটা উচ্চারণও করিনা- যেটা নিয়ে আসলে সবচেয়ে বেশি কথা বলা উচিত।
রিপাবলিকের সবচেয়ে সুন্দর বিষয়টা হচ্ছে: নাগরিক তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করতে পারে। বুক ফুলিয়ে বলার সেই অধিকার তার আছে ‘ব্যাটা তুই আমারে দেখোস না ক্যান, তোরে ক্ষমতা দিছিই আমি'। কারণ ওইযে উপরে বলেছি, ব্যক্তির অধিকারের উপরেই রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকে!
অর্থাৎ রাষ্ট্র যখন নাগরিকের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়না তখন রাষ্ট্র নৈরাষ্ট্রে পরিণত হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেখানে শূন্যস্থান তৈরী হয়। ব্যক্তি বা নাগরিকের অধিকার আদায়ের এই শূণ্যস্থান কেউ না কেউ তো পূরণ করবে। আর সেটাই নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।
রিপাবলিক আছে বলেই রাজনীতি আছে। রাজনীতি আলাদা কোনো কিছুনা। রিপাবলিকের ডেফিনেশনে রাজনীতি মানেই জনকল্যাণ।
নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারি যখন সীমান্তশহীদ মজলুম যুবকের মায়ের পাশে বসছেন, আধিপত্যবাদ বিরোধী মিছিলের নের্তৃত্ব দিচ্ছেন— তখন তার দুটো পরিচয় থাকছে। এক. ব্যক্তি নাসির দুই. রাজনৈতিক নেতা নাসির।
এই দুই পরিচয়ই নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারিকে বহুদূর নিয়ে যাবে।
Shafin Rahman