আমরা নারী আমরাই পারি

আমরা নারী আমরাই পারি এই পেইজটির উদ্দেশ্য হল মেয়েদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম করা।

এই পেইজটির উদ্দেশ্য হল মেয়েদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম করা। মেয়েরা তাদের মানসিক, শারীরিক এবং আইনি সমস্যা আমাদের মেসেজের মধ্যমে জানাতে পারবেন । পেইজের মাধ্যমে এই সব বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হবে ।
পেইজের এডমিন সবাই নারী এবং পেশায় কেউ ডাক্তার , কেউ আইনজীবী , কেউ নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছেন, কেউ মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন । এবং শুধু মাত্র মেয়েদের সমস্যাগুলো নিয়েই এখানে আলোচনা করা হবে। ছেলেরা প্রশ

্ন করতে পারবেন কিন্তু অবশ্যই সেটা নারী বিষয়ক এবং যৌক্তিক প্রশ্ন হতে হবে। যারা ইনবক্স করবেন তাদের নাম ঠিকানা গোপন রাখা হবে ।
মেসেজ করার সময় প্রথমেই লিখবেন , আপনি কোন বিষয়ে জানতে চান । ধরুন আপনি কোন শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে ডাক্তারের পরামর্শ চান তবে সেটা মেসেজের প্রথমেই উল্লেখ্য করুন ।
আমরা চাই সব নারীদের পাশে বন্ধু হয়ে দাঁড়াতে । সকল নারীরা নিরাপদে, নিশ্চিন্তে থাকুক এটাই আমাদের প্রচেষ্টা।

অনেক চেষ্টা করেছিলাম যে এই বিষয়ে কিছু বলবো না, কারন লুবাবার পরিবার বড়লোক। মেয়ের জরায়ু ক্ষত বিক্ষত হলে ভালো চিকিৎসা করাতে...
06/04/2026

অনেক চেষ্টা করেছিলাম যে এই বিষয়ে কিছু বলবো না, কারন লুবাবার পরিবার বড়লোক। মেয়ের জরায়ু ক্ষত বিক্ষত হলে ভালো চিকিৎসা করাতে পারবে এবং বাচ্চা পেটে আসলেও বেড রেস্টে রাখতে পারবে, মেয়েটার কোন কাজ করা লাগবেনা এই ভেবে। কিন্তু মানুষ এই মেয়েকে দেখে বাল্যবিবাহ যে হারে প্রমোট করছে, সেখানে বাল্যবিবাহ কেনো দেওয়া উচিৎ না, সেটা নিয়ে কথা বলা জরুরি মনে করছি।

প্রথমেই জানায়, মাসিক হওয়া মানেই একটা মেয়ে সহবাসের জন্য বা বাচ্চা ধারণের জন্য প্রিপেয়ার না। তার শুধুমাত্র এস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টোরন হরমোন বডিতে ঠিকমতো তৈরী হওয়া শুরু হয়েছে। হরমোন তৈরী হলে যে জরায়ু পরিপক্ক হয় না বা হাড় মজবুত হয়ে যায় না এটা আমাদের দেশের অশিক্ষিত কেনো, শিক্ষিত বাংগু রাও জানেই না।

দ্বিতীয়ত, অনেকেই বলবে যে তাহলে এই বাচ্চা বাচ্চা মেয়েরা যে প্রেম করে বেড়ায় সেটা? আমি এটার কারন বুঝাতে একটা উদাহরণ দিবো।
ধরুন আপনার একটা বাচ্চার বয়স ছয় মাস। তার হরমোনগত কারনে তার যে কোন খাবার দেখলেই নিয়ে খেতে মন চায়, এমন কি ফ্লোরে পড়ে থাকা পিঁপড়া, ময়লা, ধূলাবালি দেখলেও। তখন কি আপনি তাকে আপনার জন্য বানানো গরুর মাংশ খেতে দিয়ে দেন? নিশ্চয় না। কারণ কি? কারণ তার হরমোন গত কারনে সলিড খাবার খাওয়ার নেশা হলেও, তার দাঁত বের হয়নি, পাকস্থলি পরিপক্কও হয়নি গরুর মাংশ হজম করার মতো। আপনি কি তাহলে তুলনা দিবেন যে খেতে চাইসিলি না, খা তাহলে? নাকি বলবেন, আমি খেতে পারলে তুই কেনো পারবি না? ইভেন এগুলো বললেও আপনার সেই ছয় মাসের বাচ্চাটা বুঝবেনা। এই সময় আপনি যদি তার সলিড খাওয়ার ইচ্ছা শক্তিও মেরে শুধু সুজিই খাওয়ান তাহলেও তা তার পাকস্থলীর জন্য ভালো না। এটা বাবা মা হিসেবে আপনাকে বুঝা লাগবে।
ঠিক তেমন, আপনার মেয়ে ১১-১৩ বছরে ঋতুবর্তী হয়েছে, বা তার এখন কোন পুরুষ সংগী পচ্ছন্দ মানে এই না যে তার বিয়ের বয়স হয়েছে। তার জরায়ু কোন বড় লিংগ নেওয়ার জন্য বা বাচ্চা ধারন ও ডেলিভারির জন্য প্রিপেয়ার না। একটা শিশুর শারিরীক ও মানুষিক গ্রোথ হয় টিনএজ পর্যন্ত। এর আগে বাচ্চা নিলে মা ও শিশু, দুজনই অপুষ্টির স্বীকার হয়। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মিসক্যারেজও হয়। আবার অনেক সময় মা এর ও জীবন সংকায় থাকে। তাই ১৮ এর আগে বিয়ে দেওয়া যাবেনা, আর ১৯ এর আগে বাচ্চা নেওয়া যাবেনা। না মানে, একে বারেই না।

এবার আসি ইসলামের ফতোয়া যারা দেয়, তাদের কথায়। মহানবী মা আয়েশা কে বিয়ে করেন, ১৬ বছর বয়সে। কিন্তু তিনি কোন ধরনের যৌন আকর্ষণে মা আয়েশাকে বিয়ে করেননি। তিনি বিয়ে করেছেন আল্লাহর হুকুমে, মা আয়েশার তুখর বুদ্ধির জন্য। যাতে করে কোরআন ও হাদিসের সব আয়াত ও তফসীর মা আয়েশা দ্রুত মুখস্ত ও প্রচার করতে পারে, মহানবী মারা যাবা পরও। এবং তিনি বিয়ের পরও তার শাশুড়ীকে বলেন শসা ও খেজুর এক সাথে করে মা আয়েশাকে খাওয়াতে। এতে করে শারীরিক গ্রোথ বাড়ে দ্রুত। এবং এর পরের কয়েক বছরও তিনি রাতে মা আয়েশার সাথে বেডে না বরং রাস্তায় দৌড় প্রতিযোগীতা করতো, বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়, আমি কি বুঝাতে চেয়েছি। এছাড়াও অন্যান্য বিবিরা আয়েশার সাথে মহানবীর ইন্টিমেসি নিয়ে প্রশ্ন করলেও মা আয়েশা বলেন মহানবী আর তার ইন্টিমেসির ধরণ, উদাহরণ স্বরূপ মহানবী মা আয়েশার পানির পাত্রে ঠিক সেই জায়গায় মুখ লাগিয়ে পানি খাওয়া, এক সাথে গোসল করা, একই দাঁতল ব্যবহার করা ইত্যাদি। মরিয়ামের সাথে মহানবীর সন্তান থাকলেও মা আয়েশার সাথে না থাকার কারন জানতে তো খুব রকেট সাইন্স পড়া লাগবে না, তাই না। মহানবীর আন্ডার এজ মেয়েকে বিয়ে করার পারপাস আর আপনাদের পারপাস কি সেইম? আপনি কোন আপনার রিসার্চ পেপার আপনার বউকে দিয়ে মুখস্ত আর পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে বিয়ে করছেন? নিশ্চয় না। তাহলে বাল্যবিবাহ জাস্টিফাই করেন ক্যামনে?

এবার আসি বাগদানের পর একসাথে হজ্ব করার টপিকে। এটা জায়েজ হবে কিন্তু শুধু হবু জামাই বউ যেতে পারবেনা। সংগে অবশ্যই মেয়ের বাবাকে থাকতেই হবে। এর আগেও এমন হয়েছে, যখন লুবাবা বেশি পাকনামির জন্য আউল ফাউল কথা বলে ফেঁসেছে তখন তখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে তার বাবা মা অদ্ভূত সব কথা বলেছে মিডিয়ায়। এই বারও তার ব্যতিক্রম না। এরা করেছে দেখে হুদায় বাল্যবিবাহকে জাস্টিফাই কইরেন না।

ওহ্ লাস্ট একটা কথা, আপনার মেয়ে ১২-১৩ বয়সেই বাল পাকনামি করে হোটেল রেস্টুরেন্টে কোন ছেলের সাথে ধরা পড়লে তা একেবারেই বাবা মা হিসেবে আপনার অযোগ্যতা। এতে সেই মেয়ের কোন দোষ নাই। এবং সে শাস্তি স্বরূপ বিয়ে ডিজার্ভ করেনা। সে ডিজার্ভ করে আপনার ইম্প্যাথি। আপনি বাবা মা হিসেবে ফেইল করেছেন এই শাস্তি বাচ্চা মেয়েটা কেনো পাবে? পড়াশোনার চাপ না দিয়ে আপনি তাকে কোন স্পোর্টস বা জিমে বা ইয়োগা সেন্টারে এবং কোন মেডিটেশন, ডিবেট ক্লাব বা ক্রিয়েটিভ যে কোন কাজে ইনভলভ করেন, তার বডির এস্ট্রোজেন ডোপামিনের চাহিদায় পুরুষ সংগী না খুঁজে এই সকল ফিজিক্যাল এক্টিভিটিস খুঁজবে।

দোয়া করি আপনাদের আল্লাহ অমানুষ হওয়া থেকে রক্ষা করুক।

হ্যাপি প্যারেন্টিং।
লেখ- yeasmin mustary baadhan

একটা লেখা দেখে মন পুরাই তিতা হয়ে গেল। সেই লেখার দুটো বক্তব্য। দ্বিতীয়টা বিষয়ে পরে বলছি, প্রথম বক্তব্য হল, “১৮ বছরের আগেই...
05/04/2026

একটা লেখা দেখে মন পুরাই তিতা হয়ে গেল। সেই লেখার দুটো বক্তব্য। দ্বিতীয়টা বিষয়ে পরে বলছি, প্রথম বক্তব্য হল,
“১৮ বছরের আগেই তো ছেলে মেয়ে প্রেম করে, তাহলে ১৮ বছরের আগে কেন তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না?”

এই ননসেন্স প্রশ্ন দেখে খুব কঠিন করে বকা দিতে ইচ্ছে হল, কিন্তু সুইডেনে এসে আমি শিখেছি, কোনো প্রশ্নই ননসেন্স প্রশ্ন না, বরং উত্তর দিতে না জানাটা দুর্বলতা। তাই লেখাটা লিখতে বসেছি।

এখন দুটো প্রশ্ন করি, যার উত্তর সবাই জানেন।
বিয়ে মানে কি শুধু যৌনতা?
বিয়ে মানে কি শুধু বাসরঘর?

সোজা-সাপ্টা উত্তর, “না”। বিয়ে মানে দুটো মানুষের শুধু একসাথে থাকা না, বিয়ে মানে দুটো নতুন পরিবার, তাদের আলাদা আলাদা পারিবারিক সংস্কৃতি, তাদের জীবনবোধ, তাদের কালচার, রাজনীতি, সামাজিক জীবন, আদর্শিক অবস্থান, পারিপার্শ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মানিয়ে নেওয়া কিংবা গ্রহণ করে নেওয়ার মানসিকতা।এটা একটা মেয়ের জন্য জীবনের সব চেয়ে কঠিন জার্নি। আর এই জার্নির জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি দরকার। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, ১৮ এর আগে মেয়েদের শরীর-মন এই সাংসারিক বিষয়গুলো সামলে নেওয়ার জন্য মোটেও প্রস্তুত হয় না।

ব্যাখ্যা করছি। আপনাদের যাদের নিউরোসায়েন্সের সাথে অল্পবিস্তর পরিচয় আছে, তারা জানবেন, একটা ম্যাচিউর ব্রেন একদিনে “তৈরি” হয় না, ধাপে ধাপে তৈরি হয়। শৈশব (০–১০ বছর), যেখানে শেখা, ভাষা, স্মৃতি ও চিন্তার বেসিক ক্ষমতাগুলো গড়ে ওঠে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তখনও খুব সীমিত থাকে।

এরপর আসে কৈশোর (১১–১৭ বছর)। এই সময়টাতে আবেগ সবচেয়ে তীব্র হয়। ভালোবাসা, রাগ, ভয়, সম্পর্ক, সবকিছুই খুব গভীর থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই বয়সে ব্রেনের যে অংশ আবেগের জন্য দায়ী, মানে অ্যামিগডালা, সক্রিয় হলেও নিয়ন্ত্রণের অংশ পুরোপুরি তৈরি হয় না। ফলে যুক্তির উপর আবেগের প্রভাব অত্যন্ত বেশি থাকে। তাই আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থাকে।

পরবর্তীতে আসে তারুণ্য (১৮–২৫ বছর)। এই সময়েই মস্তিষ্কের Prefrontal Cortex বিকশিত হয়ে যায়। এই অংশটা দায়িত্ব, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তাই এই বয়সে মানুষ মানসিকভাবে বেশি স্থিতিশীল হয় এবং বড় বড় দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়।

এবার আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ছেলেদের ক্ষেত্রে কী হয়?
ছেলেদের ক্ষেত্রে ব্রেনের বিকাশ মেয়েদের তুলনায় একটু ধীরে হয়। বিস্তারিত সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

সুতরাং স্পষ্ট করেই বলা যায়, মেয়েরা ১৮ এর আগে পূর্ণ সংসার ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না। তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিউরাল নেটওয়ার্ক অসম্পূর্ণ থাকে বলে মাতৃত্ব, দাম্পত্য, সামাজিক দায়, এই অতিরিক্ত কগনিটিভ লোড নেওয়ার মতো সক্ষমতা এই বয়সে থাকেই না।

এর একটা খুব ভালো উদাহরণ হল, ছোটবেলায় পড়া জসীমউদ্দীনের সেই বিখ্যাত কবর কবিতার দুটো লাইন,

“এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।”

খুবই কষ্টের একটা দৃশ্য। নতুন বউয়ের তখন পুতুল খেলার বয়স। সে সংসারের জটিলতা বোঝে না, সে বোঝে তার পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেছে, তাই তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তার কান্না, তার যন্ত্রণাকে আপনি যতই কবিতার ভাষা দিয়ে মুড়িয়ে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করুন না কেন, বাচ্চা মেয়েটি সংসারের জন্য প্রস্তুত ছিল না, এটাই সত্য।

আসলে মানুষের মস্তিষ্ক ২৫ বছর এর আগ পর্যন্ত পুরোপুরি পরিপক্বই হয় না। সেদিক থেকে ভাবলে ২৫ এর আগে সংসার নামক এই অতি জটিল দায়িত্ব নেওয়াই উচিত না। তবে ১৮ তে অন্তত এতটুকু পরিপক্বতা আসে, যেখানে একটা মেয়ে তার পুতুলের বিয়ে ভাঙার জন্য কাঁদবে না, সে বাস্তবতা বোঝে। সে একটা সংসারের দায় নেওয়া কী, এই বিষয়টা অন্তত বুঝতে চেষ্টা করে।

আর শারীরিক ক্ষেত্রে হরমোনাল ব্যালান্স স্থিতিশীল থাকে। Hypothalamus Pituitary Ovarian (HPO) axis পূর্ণভাবে পরিপক্ব থাকে এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নিয়মিত নিঃসৃত হয় বলে ওভুলেশন ঠিকঠাক মত হয়। তাই এন্ডোমেট্রিয়াম (জরায়ুর দেয়াল) ভ্রূণ ধারণের জন্য উপযুক্ত থাকে। শিশু-মৃত্যু, মাতৃ-মৃত্যু এবং অপুষ্ট শিশু জন্মানোর সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

এবার আসি এই পুরো সংসার চালানোর জন্য যে ফুয়েল, মানে আর্থিক সংগতির প্রয়োজন হয় সে বিষয়ে। একটা সংসার চালাতে কত টাকা লাগে, নিশ্চয়ই আপনার ধারণা আছে। এই দেশের ছেলে-মেয়েদের সেই সংগতিটা ঠিক কত বছরে হয় আমি জানি না, তবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ১৮ তে সাধারণত এই সংগতিটা হয় না। আর ইকোনমি ম্যানেজমেন্ট এর মতো ম্যাচিউরিটিও তখন ছেলে-মেয়ে কারোরই তৈরি হয় না।

প্লিজ এবার কেউ বলবেন না, পাশ্চাত্যে তো এমনটা বৈধ, তাদের নারীদের একটা অংশ তো ১৮ এর আগেই মা হয়ে যাচ্ছেন। ট্রু, কিন্তু সেটা খুব ক্ষতিকর একটা বিষয় হচ্ছে। উন্নত হেলথকেয়ারে ঝুঁকি কিছুটা mitigate করলেও অপুষ্ট, অসুস্থ শিশু জন্মাচ্ছে, ব্রোকেন ফ্যামিলির সংখ্যা বাড়ছে, সম্পর্ক ভাঙছে। এই বিষয়টা যে মোটেও উপকারি কোনো বিষয় না, সেটা এখন স্বীকৃত।

প্লিজ ধর্ম টানবেন না। কারণ আপনি ধর্ম টানলে এতক্ষণ যা বললাম, সে বলা কথার আসলে আপনি কিছুই বোঝেন নাই, এটাই প্রমাণিত হবে। সেক্ষেত্রে আলাপের কোনো মানে হয় না। তবে আপনাকে শুধু একটা কথা মনে করিয়ে দিই, ধর্ম বলে কোনো সমস্যা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল নিয়ম নয়, পরিস্থিতি, সময় এবং পরিবেশকে বিবেচনা করা আবশ্যক, যাতে উদ্দেশ্য পূরণ হয় এবং ক্ষতি এড়ানো যায়। হাজার বছর আগের পরিস্থিতির সাথে বর্তমান কে মেলানো যায় না।

এখনো যদি আপনার মনে হয় যে, ১৮ বছরের আগেই তো ছেলে-মেয়ে প্রেম করে, তাহলে ১৮ বছরের আগে কেন তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না?

তাহলে আপনাকে একটা বিষয় ভাবতে দিচ্ছি,

আপনার ঘরে যে বাচ্চাটা রান্নাবাটি খেলে, খেলনা কাপে চা বানিয়ে আপনাকে দেয়, খেলনা পাতিলে ভাত রাঁধে তাই আপনি কি তাকে ধরে আপনার ঘরের সকল রান্নার দায়িত্ব চাপিয়ে দেন? কেন দেন না?
কারণ আপনি জানেন, খেলা আর দায়িত্ব এক না। দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটা বয়স, মানসিকতা এবং যোগ্যতা লাগে।

এবার ওই লেখাটার দ্বিতীয় বক্তব্যটা বলি। দ্বিতীয় বক্তব্য হল, এপস্টেইনের ঐ সব বর্বর কাজগুলোকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে সে চাইল্ড ম্যারেজকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে!

মানে কী!! আপনার কি মনে হয় ঐ সব শিশুদেরকে বিয়ে করে যদি সেক্সুয়ালি এবিউজ করা হতো, তাহলে বিষয়টা ঠিক হতো!! কি ভয়ানক নোংরা একটা ব্যাপার হত আপনি কি বুঝতে পারছেন ??

প্লিজ ভাবতে শিখুন, বুঝতে শিখুন, কী সব জঘন্য চিন্তাকে নিজের মধ্যে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, বুঝুন। আপনার খুব কাছের কোনো শিশুর সাথে এমন হলে আপনি কী করতেন?
লেখা- Camelia

শহীদুল আলমের ব্যাপারটা আমার কাছে পরিস্কার হয় গত বছর জুনে। ফিলিস্তিনিদের জন্য বিখ্যাত মানবাধিকার ও জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থু...
05/04/2026

শহীদুল আলমের ব্যাপারটা আমার কাছে পরিস্কার হয় গত বছর জুনে। ফিলিস্তিনিদের জন্য বিখ্যাত মানবাধিকার ও জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গের আয়োজন করা ’গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ সময়।

হঠাৎ করে আমরা জানতে পারলাম যে, বাংলাদেশ থেকে শহীদুল আলম সেই যাত্রায় অংশ নিয়েছে। এটা নি:সন্দেহে ভাল খবর।

ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের একটা সফট কর্নার আছে। একটা অন্যায্য যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুতে গোটা বাংলাদেশ ব্যথিত! ওরকম সময়ে বাংলাদেশ থেকে কেউ একজন ফিলিস্তিনের দিকে যাচ্ছে-আবেগকে নাড়া দেওয়ার মত খবর।

কিন্তু এরপরই শুরু হল শহীদুল আলমের খেলা।

শুরু করলেন ’তিনিই সুমুদের শেষ যাত্রী হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন’ গল্প দিয়ে। এরপর জাহাজে বসে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লাইভ, কয়েক মিনিট পরপর পোস্ট, যাত্রার রোমহর্ষক বর্ণনা যখন তিনি দিচ্ছেন, তখনো তাদের জাহাজ মুলত স্পেনের সীমান্তে। ফিলিস্তিন তখনো হাজার কিলোমিটার দূরে।

কিন্তু এত গভীরে ঢোকার সময় যেমন মানুষের হাতে নেই, অধিকাংশ মানুষও বুঝেও না এত চক্রান্ত! ফলে শহীদুল আলমের ফলোয়ার বাড়তে থাকলো হুহু করে। লোকটা এতটা এটেনশন সিকার যে, প্রতিদিন কতজন ফলোয়ার বাড়ছে- সেসময় ওটার আপডেট দিতেও ভুলেনি। ভাবুন একবার? একটা মানুষ জীবন হাতে নিয়ে ফিলিসতিন যাচ্ছে, আর এর মধ্যেই আপডেট দিচ্ছে যে, তার কত ফলোয়ার বাড়ছে 🤓

এর মধ্যে তিনি একটা ব্লান্ডার করে ফেললেন! তার জাহাজে যদি ইসরায়েলের নৌবাহিনী হামলা করে তখন কি পরিস্থিতি হবে, সেটা একটা ডেম্যু ভিডিও শ্যুট করে ঢাকার টিমের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। বলে রাখলেন যে, ঢাকার সাথে শহীদুলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে যেনো এই পোস্টটা শেয়ার করা হয়।

সম্ভবত তাদের নিজেদের মধ্যে কমিউনিকেশন গ্যাপ হওয়ার কারণে সেই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট হয়ে যায়। যদিও তারা বলেছে যে, ভুলে পোস্ট হয়ে গেছে। আর সঙ্গে সঙ্গে তাদের পালিত মিডিয়া নিউজ করে দেয় যে, ’শহীদুলদের জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা করেছে।’ শিবির ঢাকায় মিছিল বের করে, ’শহীদুলের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’ বিবৃতি ইউনূসও ফেসবুকে গল্প লিখে শেয়ার করে দিল।

পরে জানা গেল, গোটা জিনিসটাই ছিল ভুয়া। ইসরায়েলতো দূরের কথা, শহীদুলদের জাহাজ কখনো স্পেনের সমুদ্র সীমাই পার হয়নি। শহীদুল যখন এসব নাটক করছেন, ততক্ষণে গ্রেটা থুনবার্গ গ্রেপ্তার হয়ে, তার দেশ সুইডেনে ডিপোর্ট হয়ে গেছে।

ধরুন, এই ভিডিওটা ’ভুল করে পোস্ট’ হয়নি। শহীদুলদের জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা করেছে এবং এরপর তার টিম এই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছে। মানুষ ওই ভিডিওতে শ্যুট করা ঘটনা সত্যি হিসেবে ধরে নিতো না? এটা কি এথিক্যাল হত?

দেশে ফেরার তিন দিন পর, গ্রেটা থুনবার্গ সংবাদ সম্মেলন করতে এসে জানালেন যে, তিনি সমুদ ফ্লটিলার স্টিয়ারিং কমিটি থেকে পদত্যাগ করছেন, যার কারণ হলো শহীদুলের মত এটেনশন সিকারদের নাটক। না, তিনি শহীদুলের নাম বলেন নি। বলেছেন, ”সুমুদ ফ্লোটিলা ক্ষতিগ্রস্ত গাজাবাসীর চেয়ে মিডিয়া ফোকাসের ওপর বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।”

মানবিক সাহায্য কাজে যারা যুক্ত, তারা জানে যে এটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আপনি যখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাবেন, সেখানে আপনাকে চারটা মূল নীতি মেনে চলতেই হবে। humanity, impartiality, neutrality, independence। এর বাইরে কাজের স্বচ্ছতা, জবাবহিদীতা ও জনসমর্থন পাওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেটা যেনো কোনোভাবেই মূখ্য হয়ে না ওঠে।

মানবিক সাহায্য কর্মসূচি চালাতে গিয়ে মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ে একটা বহুল প্রচলিত উক্তি আছে। বলা হয়, মিডিয়ার কাজ হবে, মানুষের কষ্ট ”দেখানো”, ‘বিক্রি’ করা না।

অথচ প্রথম দিন থেকে শহীদুল ফিলিস্তিনবাসীর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আবেগকে বিক্রি করে ফেসবুকে ফলোয়ার বাড়িয়েছেন।
....
সে সময় ”ভুলে পোস্ট হয়ে যাওয়া” ভিডিওটা দেখে আমার হুট করে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা মনে পড়ে গেল।

ধানমন্ডিতে আন্দোলনকারীদের সাথে হেলমেটবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। তখন ওই হেলমেটবাহিনীকে আমরা ছাত্রলীগ বললেও, এখন আর সরাসরি ছাত্রলীগ বলতে রাজি নই আমি। তারা যে গুপ্ত বাহিনী নয়, সেটার নিশ্চয়তা কে দেবে?

তো সন্ধ্যায় যখন ওই এলাকাটা থমথমে, শহীদুল তার ক্যামেরা নিয়ে বের হলেন। কিছুক্ষণ আগে মারপিট হয়েছে বলে থমথমে সন্ধ্যার ফাঁকা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে ভয়ার্ত গলায় এমনভাবে ধারাভাষ্য দিতে থাকলেন যে, মনে হচ্ছে কোনো যুদ্ধের ময়দানে হাঁটছেন তিনি। তার যেহেতু বিদেশী কানেকশন ভাল, সাথে সাথে সেই গুজব ছড়িয়ে পড়ল এবং গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তখনকার সরকার শহীদুলকে গ্রেপ্তার করল।

ব্যস, শহীদুল তার গায়ে মজলুমের কুর্তা পরার সুযোগ পেয়ে গেলেন। দেশের চেতনার শরীরে আঘাত করার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রকল্প শুরু হল তার।

শেখ হাসিনা তাকে বেশিদিন আটকে রাখতে পারেনি। বিদেশী চাপে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এরপর শহীদুল তার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেছেন শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করতে। বলা হয়, বাংলাদেশে তুরস্ক কানেকশনের প্রধান কুশীলব এই শহীদুল। আমেরিকার বিরুদ্ধে একটা শব্দ লিখলে যেখানে ভিসা বাতিল হয়, সেখানে ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে ফ্লটিলায় চড়লেও একমাত্র ওনারই ভিসা বাতিল হয়না। আজব ব্যাপার না?

জুলাই-আগস্টে যে শহীদুল খুবই এক্টিভ রোল প্লে করেছেন, সেটাতো সবারই জানা। বলা হয়, ইউনূসের সময়ে যে ডিপ স্টেট কার্যকর ছিল, তার প্রধান সংযোগ কর্তা শহীদুল। তবে এই বক্তব্যের পেছনে শক্ত কোনো প্রমাণ আমি দিতে পারবনা।

যে সব কারণে ইউনূসকে গদি ছাড়তে হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল দীপু দাশকে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনা। এই নারকীয় তান্ডবের ভিডিও যখন পৃথিবীব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে, তখন ইউনূসকে বাঁচানোর জন্য শহীদুল ময়মনসিংহ গিয়ে হাজির হন। দীপুর স্ত্রী ও পরিবারের লোকজনের ছবিটবি তোলেন। তারপর এই মর্মে স্ট্যাটাস প্রসব করেন যে, ’শেখ হাসিনার স্বৈরাচারি শাসনের ফলে মানুষ এতটাই ক্ষুব্ধ যে, তারা একে অপরকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে।’ কথায় আছে, ১০ দিন চোরার হলে একদিনতো গৃহস্থের হবেই। এই স্ট্যাটাসের কারণে দেশেতো বটেই; এমনকি বিদেশী কমিউনিটির কাছেও শহীদুল সমালোচিত হন।

প্রথম আলো ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়ার রাতের কথাও মনে করতে পারেন। প্রথম আলোয় আগুন দেওয়ার পর নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন। তৌহিদী জনতাকে নিবৃত্ত করার অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন তিনি। এরপর সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টােদেরকে ফোন দিয়েও কিছু করতে পারেন নি জনাব কবীর। পারবেন কি করে? আগুন দেয়া লোকেরাতো নূরুল কবীরকে চিনেনা। কথিত আছে, এরপর প্রথম আলোর অনুরোধে শহীদুল আলম ঘটনাস্থলে হাজির হন। তিনিই তৌহিদী জনতাকে নিবৃত্ত করেন। খুবই স্বাভাবিক। তার লোকেরাতো তার কথা শুনবেই।

লেখাটা শেষ করি। যদিও মূল কথা এই লেখায় বলা গেলনা।

একটা চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে দেশ যখন ক্রমশ নরমালাইজ হতে শুরু করেছে, তখন শহীদুল আলমও সক্রিয় হতে শুরু করেছেন। সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধন থেকে শুরু করে জামায়াত-শিবিরের সেমিনার, কিংবা ঢাকায় প্রগতিশীলদের আলোচনা সভা, সবখানে শহীদুল হাজির।

একটা নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণের ৪৪ দিনের মাথায় শহীদুল হুমকি দিচ্ছে যে, সে সরকারকে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা তিনি রাখেন। সরকারের ভুল থাকলে তার সমালোচনা হতে পারে, ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে, এটাইতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া! কিন্তু ৪৪ দিন বয়সী সরকারকে ফেলে দেওয়ার হুমকি আর যে-ই দিক, সেই সরকারের শুভাকাঙ্খী কেউ যে দিতে পারেনা, এটি নিশ্চয় না বললেও চলবে? তাহলে তিনি কার শুভাকাঙ্খী?

শহীদুল এখন জাশির অনুষ্ঠানে হাজিরা দিচ্ছেন। এতে লাভটা কি হয় জানেন? প্রগতিশীলতার ভেক ধরা লোকটা যখন জাশির অনুষ্ঠানে হাজির হয়, তখন জাশির দর্শনকে বৈধতা দেওয়া হয়, তাদের দেশবিরোধী, মানবতাবিরোধী রাজনীতিকে নরমালাইজ করা হয়। এছাড়া আর কোনো কারণ নেই এ কারণে বলছি যে, জাশি এখন আর কোনো মজুলম সংগঠন নয়। গত পৌনে দুই বছর ধরেতো নয়ই, অবশ্য এর আগেও ছিল বলে আমি মনে করিনা। এটাই হল শহীদুলদের প্রজেক্ট!

এই গোটা চক্রান্তে শহীদুল একা নয়, তার সাথে তথাকথিত বাম ও প্রগতিশীলতার বেশ ধরে সভা সেমিনারে বক্তৃতা ঝাড়ার একটা বড় গ্রুপ আছে। ঢাকার আকাশ-বাতাসে এ খবর ছড়িয়ে আছে যে, গত দেড় বছর এদের প্রত্যেকেই নানাভাবে সিন্নি-রুটির ভাগ পেয়েছে।

কিছুদিন আগে দৃকে শহীদুল শেখ হাসিনার ছবির নানা বিকৃত ভঙ্গিমার একটা প্রদর্শনী করেছেন। বেশ ভাল কথা! এবার খোঁজ নিয়ে দেখুন তো, একাত্তরের গণহত্যার কুশীলব ইয়াহিয়া কিংবা টিক্কা খানদের ছবি নিয়ে ওরকম কোনো প্রদর্শণী শহীদুল কখনো করেছেন কিনা? এতেই পরিস্কার হবে, সুমুদে চড়ে বসা কিংবা গলায় ফিলিস্তিনের মাফলার ঝুলিয়ে ঘোরাটা স্রেফ মৌলবাদী চরিত্রকে আড়াল করার ঢাল ছাড়া আর কিছুই নয়।
Raju nurul

ক্রেডিট- সবাক পাখি
26/03/2026

ক্রেডিট- সবাক পাখি

19/03/2026

আমি যে সব ভাঙা মানুষদের সাথে কথা বলি, তাদের বেশির ভাগের একটা কমন প্রশ্ন থাকে,
আপু, টক্সিক আচরণ বুঝব কিভাবে? কোন আচরণটা আসলে টক্সিক?
প্রথমত বলি, টক্সিক আচরণ দূরের মানুষেরা করে না। করে কাছের মানুষ, যাকে আপনি ভালোবাসেন।
টক্সিক আচরণ মানে এই না যে সে আপনার সাথে সব সময় খারাপ আচরণ করে। টক্সিক আচরণ মানে হল, সে আপনার সাথে মাঝে মাঝে খারাপ আচরণ করে, মাঝে মাঝে আপনাকে খুব ভালোবাসে।
তাই আপনি বুঝতে পারেন না যে, তাকে আপনার ছেড়ে দেওয়া উচিত, নাকি উচিত না। সে যখন খারাপ আচরণ করে, আপনি তার ওই ভালো আচরণের কথা মনে করে তার সাথে থেকে যান। আপনি ভাবতে থাকেন যে,
সে তো সব সময় এমন না, সে আপনাকে মাঝে মাঝে মারে, মাঝে মাঝে গালি দেয়, মাঝে মাঝে মিথ্যা বলে, মাঝে মাঝে সন্দেহ করে, মাঝে মাঝে চিট করে, মাঝে মাঝে কিছু না বলে দিনের পর দিন ডুব দেয়, মাঝে মাঝে… একটু আধটু এমন করে, কিন্তু তারপর তো আপনার কাছেই ফিরে আসে! ক্ষমা চায়। মাথা গরম না হলে… সে আসলে আপনাকে সম্মান করে!
এই আচরণই টক্সিক। সে যদি সব সময় আপনার সাথে একই রকম খারাপ আচরণ করত, তবে আপনি তাকে ছেড়ে কবেই চলে যেতেন। সে তা না করে তিলে তিলে আপনাকে ধ্বংস করে ফেলছে।
একটা বিষয় বলে লেখাটা শেষ করছি ,
কেউ যদি আপনাকে একবারে ফিরিয়ে দেয়, কোন আশা না দিয়েই বলে , আপনার সঙ্গে তার পথ চলা হবে না, তবে সে আসলে আপনাকে বাঁচিয়ে দিলো, আপনাকে সম্মান দেখালো । কিন্তু যে মিথ্যে আশা দিয়ে আপনাকে যেতেও দেয় না, ধরেও রাখে না, সে আসলে আপনাকে ভিখেরি বানাচ্ছে, আপনার আত্মসম্মান , আপনার অপমান বোধ , আপনার জীবনী শক্তি সব ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছে। তার মত ক্ষতি আপনার জীবনে আর কেউ কখনো করতে পারবে না।
লেখা- Foring Camelia

13/02/2026

বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব একবার সংসদে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।

খুব সিরিয়াস মুখভঙ্গি করে বললেন, ”আপনারা জানেন লালু প্রসাদ যাদব কে?”

সংসদ সদস্যরা খানিকটা কানখাড়া করে বসল: ভাবলো, আরে এই লোকটার হঠাৎ হলোটা কি? এত ফানি একটা মানুষ হঠাৎ সিরিয়াস হয়ে গেল কেনো?

মুখচোখ শক্ত করে লালুজী বললেন, ”আমি হলাম সেই লোক, যার জন্মের আগে ব্রিটিশরা ভয়ে পালিয়ে গেছিল! আমার জন্ম ১৯৪৮ সালে আর ব্রিটিশরা পালিয়ে গেছে ৪৭-এ!”

এরপর সংসদে যে হাসির রোলটা পড়েছিল, ওটা স্থায়ী ছিল পাক্কা কয়েক মিনিট। সোনিয়া গান্ধীর মত রাশভারি মানুষও হেসে খুন হয়ে গেছিলেন। স্পিকারের কথা আর কি বলবো!!

১৯৮১ সালে আমাদের দেশেও তিনটা ঘটনা ঘটছে। আততায়ীদের হাতে জিয়াউর রহমান মারা গেছেন, জাতির পিতাসহ গোটা পরিবার হারানোর পর ৬ বছরের নির্বাসন শেষে শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন। আর তিন নম্বরটা আপনি যা ভেবেছেন ওটাই- আমার জন্ম ৮১ সালে 😘

জোকস এপার্ট! সিরিয়াস আলাপে আসি।

জিয়ার মৃত্যুর পর দেশ পুরোপুরি সেনাবাহিনীর হাতে চলে গেল! শুরু হল দীর্ঘ ১০ বছরের স্বৈরশাসন। সাথে শুরু হলো ওই দুই বেডির লড়াই।

খালেদা-হাসিনা রাস্তায় নেমে গেলেন। একজন জাতির পিতার কন্যা, অন্যজন সাবেক সেনাপ্রধান, প্রেসিডেন্ট এবং জাতির পিতার হয়ে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার বিরল সুযোগ পেয়েছেন। একজন গোটা পরিবার হারিয়ে নিংস্ব, অন্যজন হারিয়েছেন স্বামী, কোলে দুইটা ছোট ছোট ছেলে।

এরপরের ৯ বছর তারা দুইজন দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন। পরনে সুতার সারি! যেখানে গেছে, মানুষ তাদেরকে আপন করে নিয়েছে।

৮৯/৯০ সালে দেশ থেকে যে স্বৈরশাসনের অবসান হলো, তার বড় কৃতিত্ব হাসিনা ও খালেদার!

প্রতিদানও পেয়েছেন তারা। পরের টানা ৩৬ বছর এই দুইজন দেশ শাসন করেছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীতো আরেকজন প্রধান বিরোধীদলের নেতা! কেমন করেছেন, সেটা এই লেখাটার বিষয় না। ভাল-মন্দ মিলিয়ে করেছেন।

কিন্তু এই দৃশ্যটা ভাবেন? একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে দুইটা মহিলা সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে, হাজার হাজার পুরুষ বেষ্টিত, কেউ তাদেরকে মাথায় কাপড় দিতে বলতেছে না, কেউ বলে নাই যে হিজাব পরে নাই কেনো? কেউ তারে ঘরে থাকতে বলতেছে না, কেউ টিজ করছে না, কেউ বলছে না নারীর নেতৃত্ব জায়েজ নাই। এটাই ছিল আমাদের দেশ!

তারা দুইজন যখন প্রধানমন্ত্রী ছিল, তারা দেশটাকে নানাভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আছে, কারোর বিরুদ্ধে কম আছে, কারোর বিরুদ্ধে বেশি আছে- কিন্তু তারা এই দেশে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভেদ করে নাই। মেয়েদের শিক্ষা, উন্নয়ন, কাজের জন্য নানা প্রকল্প নিছে।

এই যে পাকিস্তান যে একটা জঙ্গি, সেনাশাসিত, প্রায় ব্যর্থ রাস্ট্র হিসেবে গণ্য হয়, বাংলাদেশ যে উন্নয়নের নানা সূচকে পাকিস্তানতো বটেই, এমনকি ভারত থেকেও এগিয়ে গেছিল, তার প্রধান কারণ এই দুই নারী! এইটা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে!

তারা সংসদে নারীদেরকে খুব বেশি আনতে পারেন নাই। তারা দুইজনেই ছিলেন পুরুষ দিয়ে ঘেরা! তাদের নীতিগুলো পুরুষেরাই নিতো!! কিন্তু তারা চেষ্টা করছেন। নানাভাবে করছেন।

আমাদের বুঝ হওয়ার পর এই প্রথম একটা ইলেকশন দেখতেছি, যেখানে খালেদা-হাসিনা নাই।

খালেদা মৃত্যুবরণ করেছেন, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।

আজকের ইলেকশনে যারাই জিতুক, ৩৬ বছরের ধারা ভেঙ্গে যাচ্ছে। দেশ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।

কেনো জানিনা, আমার খুব উইয়ার্ড লাগতেছে। মনে হয়, ব্যাপারটায় অভ্যস্ত হতে পারি নাই বলে!

কিন্তু আমি চাই বাংলাদেশ আবার নারী প্রধানমন্ত্রী ফিরে পাক।

কতদিন লাগবে সেটা আমি জানিনা। সেটা কি ওই দুই পরিবার থেকে আসবে, নাকি এর বাইরে থেকে কেউ- সেটা আমি জানিনা- জনগণ যাকে চাইবে, সেই অনুযায়ী হোক- কিন্তু নারীরা, আমাদের জীবদ্দশায় আবার দেশের নেতৃত্বে আসুক।

আমাদের মৃত্যুরে আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেনো একজন নারীকে দেখে যেতে পারলে মন্দ হয়না মনে হয়!

লেখা- Raju norul

একটা লেখা দেখে মন পুরাই তিতা হয়ে গেল। সেই লেখার দুটো বক্তব্য। দ্বিতীয়টা বিষয়ে পরে বলছি, প্রথম বক্তব্য হল, “১৮ বছরের আগেই...
05/02/2026

একটা লেখা দেখে মন পুরাই তিতা হয়ে গেল। সেই লেখার দুটো বক্তব্য। দ্বিতীয়টা বিষয়ে পরে বলছি, প্রথম বক্তব্য হল,

“১৮ বছরের আগেই তো ছেলে মেয়ে প্রেম করে, তাহলে ১৮ বছরের আগে কেন তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না?”
এই ননসেন্স প্রশ্ন দেখে খুব কঠিন করে বকা দিতে ইচ্ছে হল, কিন্তু সুইডেনে এসে আমি শিখেছি, কোনো প্রশ্নই ননসেন্স প্রশ্ন না, বরং উত্তর দিতে না জানাটা দুর্বলতা। তাই লেখাটা লিখতে বসেছি।

এখন দুটো প্রশ্ন করি, যার উত্তর সবাই জানেন।
বিয়ে মানে কি শুধু যৌনতা?
বিয়ে মানে কি শুধু বাসরঘর?

সোজা-সাপ্টা উত্তর, “না”। বিয়ে মানে দুটো মানুষের শুধু একসাথে থাকা না, বিয়ে মানে দুটো নতুন পরিবার, তাদের আলাদা আলাদা পারিবারিক সংস্কৃতি, তাদের জীবনবোধ, তাদের কালচার, রাজনীতি, সামাজিক জীবন, আদর্শিক অবস্থান, পারিপার্শ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মানিয়ে নেওয়া কিংবা গ্রহণ করে নেওয়ার মানসিকতা।এটা একটা মেয়ের জন্য জীবনের সব চেয়ে কঠিন জার্নি। আর এই জার্নির জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি দরকার। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, ১৮ এর আগে মেয়েদের শরীর-মন এই সাংসারিক বিষয়গুলো সামলে নেওয়ার জন্য মোটেও প্রস্তুত হয় না।

ব্যাখ্যা করছি। আপনাদের যাদের নিউরোসায়েন্সের সাথে অল্পবিস্তর পরিচয় আছে, তারা জানবেন, একটা ম্যাচিউর ব্রেন একদিনে “তৈরি” হয় না, ধাপে ধাপে তৈরি হয়। শৈশব (০–১০ বছর), যেখানে শেখা, ভাষা, স্মৃতি ও চিন্তার বেসিক ক্ষমতাগুলো গড়ে ওঠে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তখনও খুব সীমিত থাকে।

এরপর আসে কৈশোর (১১–১৭ বছর)। এই সময়টাতে আবেগ সবচেয়ে তীব্র হয়। ভালোবাসা, রাগ, ভয়, সম্পর্ক, সবকিছুই খুব গভীর থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই বয়সে ব্রেনের যে অংশ আবেগের জন্য দায়ী, মানে অ্যামিগডালা, সক্রিয় হলেও নিয়ন্ত্রণের অংশ পুরোপুরি তৈরি হয় না। ফলে যুক্তির উপর আবেগের প্রভাব অত্যন্ত বেশি থাকে। তাই আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থাকে।

পরবর্তীতে আসে তারুণ্য (১৮–২৫ বছর)। এই সময়েই মস্তিষ্কের Prefrontal Cortex বিকশিত হয়ে যায়। এই অংশটা দায়িত্ব, ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তাই এই বয়সে মানুষ মানসিকভাবে বেশি স্থিতিশীল হয় এবং বড় বড় দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়।
এবার আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ছেলেদের ক্ষেত্রে কী হয়?

ছেলেদের ক্ষেত্রে ব্রেনের বিকাশ মেয়েদের তুলনায় একটু ধীরে হয়। বিস্তারিত সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

সুতরাং স্পষ্ট করেই বলা যায়, মেয়েরা ১৮ এর আগে পূর্ণ সংসার ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না। তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিউরাল নেটওয়ার্ক অসম্পূর্ণ থাকে বলে মাতৃত্ব, দাম্পত্য, সামাজিক দায়, এই অতিরিক্ত কগনিটিভ লোড নেওয়ার মতো সক্ষমতা এই বয়সে থাকেই না।

এর একটা খুব ভালো উদাহরণ হল, ছোটবেলায় পড়া জসীমউদ্দীনের সেই বিখ্যাত কবর কবিতার দুটো লাইন,

“এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।”

খুবই কষ্টের একটা দৃশ্য। নতুন বউয়ের তখন পুতুল খেলার বয়স। সে সংসারের জটিলতা বোঝে না, সে বোঝে তার পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেছে, তাই তার খুব কষ্ট হচ্ছে। তার কান্না, তার যন্ত্রণাকে আপনি যতই কবিতার ভাষা দিয়ে মুড়িয়ে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করুন না কেন, বাচ্চা মেয়েটি সংসারের জন্য প্রস্তুত ছিল না, এটাই সত্য।

আসলে মানুষের মস্তিষ্ক ২৫ বছর এর আগ পর্যন্ত পুরোপুরি পরিপক্বই হয় না। সেদিক থেকে ভাবলে ২৫ এর আগে সংসার নামক এই অতি জটিল দায়িত্ব নেওয়াই উচিত না। তবে ১৮ তে অন্তত এতটুকু পরিপক্বতা আসে, যেখানে একটা মেয়ে তার পুতুলের বিয়ে ভাঙার জন্য কাঁদবে না, সে বাস্তবতা বোঝে। সে একটা সংসারের দায় নেওয়া কী, এই বিষয়টা অন্তত বুঝতে চেষ্টা করে।

আর শারীরিক ক্ষেত্রে হরমোনাল ব্যালান্স স্থিতিশীল থাকে। Hypothalamus Pituitary Ovarian (HPO) axis পূর্ণভাবে পরিপক্ব থাকে এবং ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন নিয়মিত নিঃসৃত হয় বলে ওভুলেশন ঠিকঠাক মত হয়। তাই এন্ডোমেট্রিয়াম (জরায়ুর দেয়াল) ভ্রূণ ধারণের জন্য উপযুক্ত থাকে। শিশু-মৃত্যু, মাতৃ-মৃত্যু এবং অপুষ্ট শিশু জন্মানোর সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।

এবার আসি এই পুরো সংসার চালানোর জন্য যে ফুয়েল, মানে আর্থিক সংগতির প্রয়োজন হয় সে বিষয়ে। একটা সংসার চালাতে কত টাকা লাগে, নিশ্চয়ই আপনার ধারণা আছে। এই দেশের ছেলে-মেয়েদের সেই সংগতিটা ঠিক কত বছরে হয় আমি জানি না, তবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ১৮ তে সাধারণত এই সংগতিটা হয় না। আর ইকোনমি ম্যানেজমেন্ট এর মতো ম্যাচিউরিটিও তখন ছেলে-মেয়ে কারোরই তৈরি হয় না।

প্লিজ এবার কেউ বলবেন না, পাশ্চাত্যে তো এমনটা বৈধ, তাদের নারীদের একটা অংশ তো ১৮ এর আগেই মা হয়ে যাচ্ছেন। ট্রু, কিন্তু সেটা খুব ক্ষতিকর একটা বিষয় হচ্ছে। উন্নত হেলথকেয়ারে ঝুঁকি কিছুটা mitigate করলেও অপুষ্ট, অসুস্থ শিশু জন্মাচ্ছে, ব্রোকেন ফ্যামিলির সংখ্যা বাড়ছে, সম্পর্ক ভাঙছে। এই বিষয়টা যে মোটেও উপকারি কোনো বিষয় না, সেটা এখন স্বীকৃত।

প্লিজ ধর্ম টানবেন না। কারণ আপনি ধর্ম টানলে এতক্ষণ যা বললাম, সে বলা কথার আসলে আপনি কিছুই বোঝেন নাই, এটাই প্রমাণিত হবে। সেক্ষেত্রে আলাপের কোনো মানে হয় না। তবে আপনাকে শুধু একটা কথা মনে করিয়ে দিই, ধর্ম বলে কোনো সমস্যা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল নিয়ম নয়, পরিস্থিতি, সময় এবং পরিবেশকে বিবেচনা করা আবশ্যক, যাতে উদ্দেশ্য পূরণ হয় এবং ক্ষতি এড়ানো যায়। হাজার বছর আগের পরিস্থিতির সাথে বর্তমান কে মেলানো যায় না।

এখনো যদি আপনার মনে হয় যে, ১৮ বছরের আগেই তো ছেলে-মেয়ে প্রেম করে, তাহলে ১৮ বছরের আগে কেন তাদের বিয়ে দেওয়া যাবে না?
তাহলে আপনাকে একটা বিষয় ভাবতে দিচ্ছি,
আপনার ঘরে যে বাচ্চাটা রান্নাবাটি খেলে, খেলনা কাপে চা বানিয়ে আপনাকে দেয়, খেলনা পাতিলে ভাত রাঁধে তাই আপনি কি তাকে ধরে আপনার ঘরের সকল রান্নার দায়িত্ব চাপিয়ে দেন? কেন দেন না?
কারণ আপনি জানেন, খেলা আর দায়িত্ব এক না। দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট একটা বয়স, মানসিকতা এবং যোগ্যতা লাগে।

এবার ওই লেখাটার দ্বিতীয় বক্তব্যটা বলি। দ্বিতীয় বক্তব্য হল, এপস্টেইনের ঐ সব বর্বর কাজগুলোকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে সে চাইল্ড ম্যারেজকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে!

মানে কী!! আপনার কি মনে হয় ঐ সব শিশুদেরকে বিয়ে করে যদি সেক্সুয়ালি এবিউজ করা হতো, তাহলে বিষয়টা ঠিক হতো!! কি ভয়ানক নোংরা একটা ব্যাপার হত আপনি কি বুঝতে পারছেন ??

প্লিজ ভাবতে শিখুন, বুঝতে শিখুন, কী সব জঘন্য চিন্তাকে নিজের মধ্যে প্রশ্রয় দিচ্ছেন, বুঝুন। আপনার খুব কাছের কোনো শিশুর সাথে এমন হলে আপনি কী করতেন?
লেখা- Camelia

মোজাফফর আহমেদ অডিটোরিয়ামের মেঝেতে যাকে শুয়ে থাকতে দেখছেন তার নাম মদিনা খাতুন। তার মাথাটা কোলে নিয়ে যিনি বসে আছেন তিনি রা...
31/01/2026

মোজাফফর আহমেদ অডিটোরিয়ামের মেঝেতে যাকে শুয়ে থাকতে দেখছেন তার নাম মদিনা খাতুন। তার মাথাটা কোলে নিয়ে যিনি বসে আছেন তিনি রাবেয়া বেগম। অসহায়ের মতো যিনি চেয়ারে বসে থাকা গর্ভবতী ভদ্রমহিলার নাম হুমাইরা বেগম। হুমাইরা ও রাবেয়া মদিনা খাতুনের পুত্রবধূ। এরা সবাই সেইন্ট মার্টিনের বাসিন্দা। তাদের স্বামীরাসহ (জাহাঙ্গীর ও আলমগীর) সেইন্ট মার্টিনের চার শতাধিকের উপর জেলে পাঁচ মাস ধরে আরাকাম আর্মির হাতে আটক।
এদের তিন জনকেই সেন্টার ফর ক্রিটিকাল ডিসকোর্স সেইন্ট মার্টিন থেকে নিয়ে এসেছিলেন তাদের সেমিনারে। বৃদ্ধা মদিনা ডায়েসে বসলেন না। আদতে কোথাওই বসতে পারলেন না। মানুষ কত সাহসী হলে প্রায় সম্বিৎ হারিয়েও আপনজনের জন্য এই বিভূঁইয়ে ছুটে আসতে পারেন। অপরাধীর মত ডায়েসে বসে এই ছবি তুলতে তুলতে তাই ভাবছিলাম।
সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে দশ হাজারের উপর মানুষের বাস। তিন দশক ধরে এই দ্বীপে স্থানীয়দের অমতে দ্বীপের বাইরের পুঁজিপতিদের কাছে দ্বীপের জমি বিক্রি করা হয়েছে। সেই ব্যবস্থাতেই পরিবেশের এই হাল হয়েছে। ইন্টেরিমের পরিবেশবাদ করার শখ হওয়াতে আবারো এই লোকগুলোকেই জিম্মি করে সকল পর্যটন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা অর্থনীতিটাকে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অধিকাংশ জেলের ট্রলার নাই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যে মাছ ধরে তার দামের অর্ধেকটা ট্রলার মালিককে দিয়ে দিতে হয়। এরপর যখন চারশর উপর জেলে আরাকান আর্মির হাতে বন্দী থাকে তখন গণমাধ্যমে আর কেউ আউটরেজড হয়ে কলাম লিখে না। ক্যাম্পাসগুলো থেকে গোলামী না আজাদী স্লোগান হয় না।
নির্বাচনের মরসুম। সবাই 'জনগণের' চাওয়া-পাওয়ার ফেরিওয়ালা সাজছেন। মদিনা-রাবেয়া-হুমাইরার প্রাণান্তক লড়াই, ভদ্রবিত্তের কাছে প্রশ্ন রেখে যাক, জনগণটা আসলে কে?
-meghmallar bosu

দানিয়ুব নদী খুব শান্তভাবে বয়ে চলে। তার জল দেখে বোঝার উপায় নেই, এই নীরবতার তলায় কত ভারী ইতিহাস ঘুমিয়ে আছে। বুদাপেস্ট শহরে...
31/01/2026

দানিয়ুব নদী খুব শান্তভাবে বয়ে চলে। তার জল দেখে বোঝার উপায় নেই, এই নীরবতার তলায় কত ভারী ইতিহাস ঘুমিয়ে আছে। বুদাপেস্ট শহরের এক প্রান্তে, নদীর তীর ঘেঁষে হেঁটে গেলে হঠাৎ চোখে পড়ে কিছু অদ্ভুত দৃশ্য,,,, সারি সারি লোহার জুতা। পুরুষের, নারীর, শিশুর। সবগুলোই আলাদা, সবগুলোই ফাঁকা।
এই জুতাগুলো কোনো ভাস্কর্যের শৌখিন সাজ নয়। এগুলো স্মৃতির জুতা।
১৯৪৪-৪৫ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ অধ্যায়। হাঙ্গেরিতে তখন ক্ষমতায় ‘Arrow Cross’ নামে এক নাৎসি সহযোগী গোষ্ঠী। তারা ইহুদি মানুষদের ধরে এনে দানিয়ুব নদীর তীরে দাঁড় করাত। গুলি করার আগে একটি নির্দেশ দিতো,,,, “জুতা খুলে রাখো।”
জুতার তখন খুব দাম। যুদ্ধের সময়ে জুতা মানে সম্পদ। মৃত মানুষের জুতা পরে বিক্রি হবে, অন্য কেউ ব্যবহার করবে। তাই মানুষগুলো কাঁপতে কাঁপতে জুতা খুলে রাখতো নদীর ধারে। কেউ জানতো, কয়েক সেকেন্ড পরই সে নদীতে পড়বে। কেউ জানতো না, শুধু চোখে ছিল ভয় আর অবিশ্বাস।
তারপর গুলি। দেহগুলো নদীতে পড়ে যেতো। স্রোত তাদের নিয়ে যেত দূরে কোথাও। কিন্তু জুতাগুলো পড়ে থাকতো। নীরব সাক্ষী হয়ে।
বছরের পর বছর কেটে যায়। যুদ্ধ শেষ হয়। শহর আবার হাসতে শেখে কিন্তু ইতিহাসকে পুরোপুরি চাপা দেওয়া যায় না। ২০০৫ সালে শিল্পী গিউলা পাউয়ের আর ভাস্কর কান তোগাই এই স্মৃতিকে দৃশ্যমান করে তোলেন। নদীর তীরে স্থায়ীভাবে বসানো হয় ৬০ জোড়া লোহার জুতা। ঠিক সেই পুরোনো স্টাইলের, যেন কেউ এইমাত্র খুলে রেখে গেছে।
আজও মানুষ সেখানে ফুল রাখে। কেউ ছোট পাথর রেখে যায়। কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। জুতার ভেতর পা নেই, কিন্তু উপস্থিতিটা খুব তীব্র। মনে হয়, এইমাত্র কেউ হাঁটছিলো, এইমাত্র কেউ বেঁচে ছিলো।
দানিয়ুব নদী এখনও বয়ে চলে। আগের মতোই। কিন্তু লোহার জুতাগুলো নদীকে প্রশ্ন করে,,,, মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, আর স্মৃতি কেন এত ভারী হয়?
এই জুতাগুলো কোনো জাদুঘরের দেয়ালে বন্দি নয়। খোলা আকাশের নিচে, মানুষের হাঁটার পথেই পড়ে আছে। যেন তারা চায়,,,, যে-ই আসুক, একটু থামুক, একটু ভাবুক। কারণ কিছু ইতিহাস পড়ে থাকে না বইয়ের পাতায়। কিছু ইতিহাস পড়ে থাকে নদীর তীরে, জুতোর মতো নীরব হয়ে।
- Nusrat Chowdhury

19/12/2025

পৌনে এক ছটাক ঘিলু তাও পচে গেছে, না হলে কেউ বাদ্যযন্ত্র ভাঙে !
ছায়ানটে হামলা করতে যায় !
এক ইঞ্চি চিন্তা করার ক্ষমতা থাকলেই এরা বুঝে যেত, সুর লয় তাল এগুলা কখনো ধ্বংস করা যায় না। মানুষ এর কথা না হয় বাদ দিলাম সঙ্গীত মিশে আছে প্রকৃতির সমস্ত রঙে ,ঢঙে , নিয়মে , নীতিতে , প্রজ্ঞায়, ধ্যানে, জ্ঞানে ।
সকাল বেলায় পাখির সুরে ঘুম ভাঙে, দুপুরের কড়া রোদে যে ঝিরঝির বাতাস পথিকের প্রাণ জুড়ায়, কান পাতলে সে বাতাসের সুর শোনা যায়। রাতের গভীরে যে ঝিঝি ডাকে সেও বেসুরা না । গাছের পাতারা যখন প্রকৃতির সাথে সখ্য গড়ে তখন তারা ছন্দ মিলায় , কোন প্রাণী যখন কাঁদে সেখানেও থাকে সুর !
অথচ এই তওহিদি বাল ছাল গুলা ভেবে নিয়েছে এরা চাইলেই বন্ধ করে দিতে পারে তাল লয় সুর ! হিহিহি …।
যা ক্ষমতা থাকলে বাতাসের গলা টিপে ধর , শক্তি থাকলে বসন্ত বৌরির গান থামিয়ে দেখা । ভর দুপুরের কোকিলটার ডানায় শেকল বেঁধে দে।
ব…ল…দ এর নিম্ন শ্রেণী কোথাকার ।
লেখা- Foring Camelia

Address

Mirpur 10
Dhaka
1216

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আমরা নারী আমরাই পারি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to আমরা নারী আমরাই পারি:

Share