06/04/2026
অনেক চেষ্টা করেছিলাম যে এই বিষয়ে কিছু বলবো না, কারন লুবাবার পরিবার বড়লোক। মেয়ের জরায়ু ক্ষত বিক্ষত হলে ভালো চিকিৎসা করাতে পারবে এবং বাচ্চা পেটে আসলেও বেড রেস্টে রাখতে পারবে, মেয়েটার কোন কাজ করা লাগবেনা এই ভেবে। কিন্তু মানুষ এই মেয়েকে দেখে বাল্যবিবাহ যে হারে প্রমোট করছে, সেখানে বাল্যবিবাহ কেনো দেওয়া উচিৎ না, সেটা নিয়ে কথা বলা জরুরি মনে করছি।
প্রথমেই জানায়, মাসিক হওয়া মানেই একটা মেয়ে সহবাসের জন্য বা বাচ্চা ধারণের জন্য প্রিপেয়ার না। তার শুধুমাত্র এস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টোরন হরমোন বডিতে ঠিকমতো তৈরী হওয়া শুরু হয়েছে। হরমোন তৈরী হলে যে জরায়ু পরিপক্ক হয় না বা হাড় মজবুত হয়ে যায় না এটা আমাদের দেশের অশিক্ষিত কেনো, শিক্ষিত বাংগু রাও জানেই না।
দ্বিতীয়ত, অনেকেই বলবে যে তাহলে এই বাচ্চা বাচ্চা মেয়েরা যে প্রেম করে বেড়ায় সেটা? আমি এটার কারন বুঝাতে একটা উদাহরণ দিবো।
ধরুন আপনার একটা বাচ্চার বয়স ছয় মাস। তার হরমোনগত কারনে তার যে কোন খাবার দেখলেই নিয়ে খেতে মন চায়, এমন কি ফ্লোরে পড়ে থাকা পিঁপড়া, ময়লা, ধূলাবালি দেখলেও। তখন কি আপনি তাকে আপনার জন্য বানানো গরুর মাংশ খেতে দিয়ে দেন? নিশ্চয় না। কারণ কি? কারণ তার হরমোন গত কারনে সলিড খাবার খাওয়ার নেশা হলেও, তার দাঁত বের হয়নি, পাকস্থলি পরিপক্কও হয়নি গরুর মাংশ হজম করার মতো। আপনি কি তাহলে তুলনা দিবেন যে খেতে চাইসিলি না, খা তাহলে? নাকি বলবেন, আমি খেতে পারলে তুই কেনো পারবি না? ইভেন এগুলো বললেও আপনার সেই ছয় মাসের বাচ্চাটা বুঝবেনা। এই সময় আপনি যদি তার সলিড খাওয়ার ইচ্ছা শক্তিও মেরে শুধু সুজিই খাওয়ান তাহলেও তা তার পাকস্থলীর জন্য ভালো না। এটা বাবা মা হিসেবে আপনাকে বুঝা লাগবে।
ঠিক তেমন, আপনার মেয়ে ১১-১৩ বছরে ঋতুবর্তী হয়েছে, বা তার এখন কোন পুরুষ সংগী পচ্ছন্দ মানে এই না যে তার বিয়ের বয়স হয়েছে। তার জরায়ু কোন বড় লিংগ নেওয়ার জন্য বা বাচ্চা ধারন ও ডেলিভারির জন্য প্রিপেয়ার না। একটা শিশুর শারিরীক ও মানুষিক গ্রোথ হয় টিনএজ পর্যন্ত। এর আগে বাচ্চা নিলে মা ও শিশু, দুজনই অপুষ্টির স্বীকার হয়। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মিসক্যারেজও হয়। আবার অনেক সময় মা এর ও জীবন সংকায় থাকে। তাই ১৮ এর আগে বিয়ে দেওয়া যাবেনা, আর ১৯ এর আগে বাচ্চা নেওয়া যাবেনা। না মানে, একে বারেই না।
এবার আসি ইসলামের ফতোয়া যারা দেয়, তাদের কথায়। মহানবী মা আয়েশা কে বিয়ে করেন, ১৬ বছর বয়সে। কিন্তু তিনি কোন ধরনের যৌন আকর্ষণে মা আয়েশাকে বিয়ে করেননি। তিনি বিয়ে করেছেন আল্লাহর হুকুমে, মা আয়েশার তুখর বুদ্ধির জন্য। যাতে করে কোরআন ও হাদিসের সব আয়াত ও তফসীর মা আয়েশা দ্রুত মুখস্ত ও প্রচার করতে পারে, মহানবী মারা যাবা পরও। এবং তিনি বিয়ের পরও তার শাশুড়ীকে বলেন শসা ও খেজুর এক সাথে করে মা আয়েশাকে খাওয়াতে। এতে করে শারীরিক গ্রোথ বাড়ে দ্রুত। এবং এর পরের কয়েক বছরও তিনি রাতে মা আয়েশার সাথে বেডে না বরং রাস্তায় দৌড় প্রতিযোগীতা করতো, বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়, আমি কি বুঝাতে চেয়েছি। এছাড়াও অন্যান্য বিবিরা আয়েশার সাথে মহানবীর ইন্টিমেসি নিয়ে প্রশ্ন করলেও মা আয়েশা বলেন মহানবী আর তার ইন্টিমেসির ধরণ, উদাহরণ স্বরূপ মহানবী মা আয়েশার পানির পাত্রে ঠিক সেই জায়গায় মুখ লাগিয়ে পানি খাওয়া, এক সাথে গোসল করা, একই দাঁতল ব্যবহার করা ইত্যাদি। মরিয়ামের সাথে মহানবীর সন্তান থাকলেও মা আয়েশার সাথে না থাকার কারন জানতে তো খুব রকেট সাইন্স পড়া লাগবে না, তাই না। মহানবীর আন্ডার এজ মেয়েকে বিয়ে করার পারপাস আর আপনাদের পারপাস কি সেইম? আপনি কোন আপনার রিসার্চ পেপার আপনার বউকে দিয়ে মুখস্ত আর পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে বিয়ে করছেন? নিশ্চয় না। তাহলে বাল্যবিবাহ জাস্টিফাই করেন ক্যামনে?
এবার আসি বাগদানের পর একসাথে হজ্ব করার টপিকে। এটা জায়েজ হবে কিন্তু শুধু হবু জামাই বউ যেতে পারবেনা। সংগে অবশ্যই মেয়ের বাবাকে থাকতেই হবে। এর আগেও এমন হয়েছে, যখন লুবাবা বেশি পাকনামির জন্য আউল ফাউল কথা বলে ফেঁসেছে তখন তখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়ে তার বাবা মা অদ্ভূত সব কথা বলেছে মিডিয়ায়। এই বারও তার ব্যতিক্রম না। এরা করেছে দেখে হুদায় বাল্যবিবাহকে জাস্টিফাই কইরেন না।
ওহ্ লাস্ট একটা কথা, আপনার মেয়ে ১২-১৩ বয়সেই বাল পাকনামি করে হোটেল রেস্টুরেন্টে কোন ছেলের সাথে ধরা পড়লে তা একেবারেই বাবা মা হিসেবে আপনার অযোগ্যতা। এতে সেই মেয়ের কোন দোষ নাই। এবং সে শাস্তি স্বরূপ বিয়ে ডিজার্ভ করেনা। সে ডিজার্ভ করে আপনার ইম্প্যাথি। আপনি বাবা মা হিসেবে ফেইল করেছেন এই শাস্তি বাচ্চা মেয়েটা কেনো পাবে? পড়াশোনার চাপ না দিয়ে আপনি তাকে কোন স্পোর্টস বা জিমে বা ইয়োগা সেন্টারে এবং কোন মেডিটেশন, ডিবেট ক্লাব বা ক্রিয়েটিভ যে কোন কাজে ইনভলভ করেন, তার বডির এস্ট্রোজেন ডোপামিনের চাহিদায় পুরুষ সংগী না খুঁজে এই সকল ফিজিক্যাল এক্টিভিটিস খুঁজবে।
দোয়া করি আপনাদের আল্লাহ অমানুষ হওয়া থেকে রক্ষা করুক।
হ্যাপি প্যারেন্টিং।
লেখ- yeasmin mustary baadhan