10/08/2026
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি-বান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে SOSI প্রকল্পের অর্জনতুলে ধরল BBDN ও GIZ
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী-বান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্ক (BBDN) এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা GIZ যৌথভাবে ‘Lessons, Results, and Future Directions: Promoting Disability-Inclusive Workplaces in Bangladesh’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
৩০ জুন মতিঝিলের মেট্রোপলিটন চেম্বার ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ), ন্যাশনাল অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (NOSHTRI), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (BEF), বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), চিকিৎসক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
সেশন ১: ‘ডিকোডিং দ্য পলিসি গ্যাপস’
প্রথম সেশনে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন অসঙ্গতি ও নীতিগত ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রতিবন্ধিতার সংজ্ঞায় পার্থক্য, কর্মক্ষেত্রে যৌক্তিক সুবিধা নিশ্চিত করার সীমিত সুযোগ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান ধরে রাখার ব্যবস্থা এবং প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে বৈষম্য প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো আলোচনায় উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা দুই আইনের মধ্যে আরও সমন্বয় ও সামঞ্জস্য তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে প্রতিবন্ধী কর্মীদের কর্মজীবনে ধরে রাখা এবং Return-to-Work (RTW) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
সেশন ২: ‘রিটার্ন-টু-ওয়ার্ক ইন অ্যাকশন – ফ্রম পলিসি টু দ্য ফ্যাক্টরি ফ্লোর’
দ্বিতীয় সেশনে Return-to-Work (RTW) কর্মসূচির বাস্তব অগ্রগতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ৯টি প্রশিক্ষণ ব্যাচের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ১৪০টি কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ২৭৬ জন HR, Welfare, Compliance ও Medical পেশাজীবী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। শিপব্রেকিং, স্টিল, ফার্মাসিউটিক্যালস, হসপিটালিটি ও ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। বিভিন্ন অঞ্চল ও শিল্পখাতের এই অংশগ্রহণ কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার পর কর্মীদের পুনরায় কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনা, প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান ধরে রাখার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক RTW ব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সেশন ৩: ‘কারেন্ট পার্সপেক্টিভস অ্যান্ড ফিউচার ক্যারিয়ার পাথওয়েজ অন অকুপেশনাল ডিজিজেস’
তৃতীয় সেশনে Occupational Disease and Occupational Medicine বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। মোট ৯টি প্রশিক্ষণ ব্যাচের মাধ্যমে ১১৬টি কারখানার ২০২ জন চিকিৎসা পেশাজীবীর সক্ষমতা উন্নয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (DIFE) এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (NOSHTRI)-এর প্রতিনিধিরাও এতে যুক্ত ছিলেন। আলোচনায় কর্মক্ষেত্রে পেশাগত রোগ প্রতিরোধ, সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, রোগের তথ্য নথিভুক্ত ও রিপোর্টিং এবং পেশাগত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পখাতে Occupational Health ও Occupational Medicine যে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ ফরহাদ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (BEF)-এর মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ। তাঁরা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, কার্যকর Return-to-Work ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সরকার ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা এবং কর্মীদের পুনর্বাসন ও অন্তর্ভুক্তিকে কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।