28/11/2025
আমার কাছে যেসব পাত্রীর জন্য বিয়ের বায়োডাটা আসে, তাদের একটা বড় অংশের বয়স ২৯-৩৪ বছর। ব্যতিক্রম ছাড়া এরা প্রায় সবাই মূলত ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে বিয়ে করেনি।
এসব পাত্রীদের জন্য পাত্রদের আগ্রহ কম। ২৫-৩২ বছর বয়সী পাত্রদের প্রায় সবার চাহিদা ২২-২৭ বছর বয়সী পাত্রী৷ আর আমি ৩৩-৩৬ বছরের অবিবাহিত পাত্রের সংখ্যা দেখি খুবই কম।
কারণ হিসেবে পাত্রের পরিবারের মতামত হল,
২৯-৩৪ বছর বয়সী মেয়েরা সহজে ত্যাগ স্বীকার করতে চায় না। এডজাস্ট করতে চায় না। সহজে কনসিভ করে না। নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ আর ক্যারিয়ারকে প্রায়োরিটি দেয়। পাত্রের পরিবারের মুরুব্বিরা কোন পরামর্শ বা উপদেশ দিলে মাইন্ড করে, রাগ করে আর অভিমান করে ক্ষেত্রবিশেষে ঝগড়া করে।
এই পয়েন্টগুলো যে ধ্রুব সত্য তা নয়, তবে অনেক মেয়ের মন-মানসিকতাই এরকম। আমার কাজিনের জন্য কক্সবাজার পোস্টিং একজন পাত্রীর বায়োডাটা এসেছিল। মেয়ে শর্ত দিয়েছিল, সে কক্সবাজার হতে আসবে না। পাত্রের ফ্যামিলি প্রয়োজন মনে করলে কক্সবাজার গিয়ে তাকে দেখে আসবে। কার ঠ্যাকা পড়েছে বলেন? যে মেয়েটা তার দাম্পত্য সঙ্গী সিলেক্ট করার জন্য অফিস ছেড়ে আসতে রাজি না, সে স্বামী আর সংসার কিংবা সন্তানের জন্য কি ত্যাগ স্বীকার করবে?
আবার বিয়ে করতে যত দেরী হবে, অবৈধ সম্পর্ক, অবৈধ গর্ভধারণ, লিভ টুগেদার, ফ্রেন্ডস ফর বেনিফিট, জাস্ট ফ্রেন্ডস, কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ.... এগুলো বাড়তে থাকবে। কারণ শরীর আর যৌবন তো থেমে থাকবে না।
আমাদের জেনারেশনে এই প্রবণতা ছিল না। মেয়েরা ২১-২৫ বছরে বিয়ে করত। বিয়ের পর উচ্চশিক্ষা আর সংসার ম্যানেজ করত। পরে সন্তান একটু বড় হলে ক্যারিয়ারও করেছে।
মেয়েদের একটা বায়োলজিকাল ক্লক থাকে। ৪০০-৪৫০টা ডিম্বাণু নিয়ে সব মেয়েরা জন্মায়। ১১-১২ বছর হতেই তাদের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা তৈরি হয়। যদিও বাংলাদেশের আইনে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়স ১৮ বছর। একটা মেয়ে যদি ক্যারিয়ার করতে গিয়ে ৩৫ বছরে এসে বিয়ে করে, ততদিনে কিন্তু তার ৩০০ ডিম্বাণু কমে গেছে। সাধারণত অল্প বয়সের ডিম্বাণুগুলো শক্তিশালী হয়। এজন্যই দেখা যায়, ৩৮-৪০ বছরের পর মেয়েরা সাধারণত প্রেগন্যান্ট হয় না। তাই দেখবেন, ৩৫+ বছর বয়সী হাজার হাজার নারী কৃত্রিম উপায়ে ( IVF).সন্তান ধারণের জন্য ফার্টিলিটি সেন্টারগুলোতে দৌড়ঝাঁপ করেন।
এইচএসসির পর মেয়েদের বিয়ে দেয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। পাত্রপক্ষ কথা না রাখলে মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। চাকুরি করুক বা না করুক, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ হতে, ভাল মা হতে, স্বাবলম্বী হতে বা উপার্জনের যোগ্যতা অর্জন করতে শিক্ষিত হওয়া মাস্ট।
তাই সব মিলিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, গ্র্যাজুয়েশন করার পরপরই মেয়েদের বিয়ে করা উচিত, আনুমানিক ২২-২৫ বছরের মধ্যে। এতে পর্যাপ্ত ম্যাচুরিটি থাকে, ন্যুনতম উচ্চশিক্ষাও থাকে, সন্তান ধারণ আর পালনের জন্য যথেষ্ট এনার্জিও থাকে আর গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিও কম থাকে।
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আপনাদের মতামত কি?