23/08/2026
আজ সকালে নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার জনাব এন. এম. নাসিরুদ্দিন স্যারের সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শেষে তাঁর হাতে তুলে দিলাম লাল সবুজের দুটি বই।
স্যারের সঙ্গে আমার পরিচয় আজকের নয়, প্রায় ৯ বছর আগের। তখন তিনি লালমনিরহাট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেই সময় লালমনিরহাটে আমাদের মাদকবিরোধী একটি অনুষ্ঠানে তিনি যেভাবে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছিলেন, তা আজও মনে আছে। এরপর থেকে পরিচয়টা কখনো নিয়মিত যোগাযোগে, কখনো দূরত্বে, আবার কখনো অনলাইনে ছিল।
অনেক বছর দেখা হয়নি আমাদের। ব্যস্ততার কারণে ব্যাটে-বলে মেলেনি। কয়েকমাস আগে কথা হলো, বললাম ঢাকায় তাঁর অফিসে যাবো। এরই মধ্যে হঠাৎ জানতে পারলাম, তিনি নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। খবরটি শুনে সত্যিই আনন্দিত হয়েছিলাম। কারণ মাঠ পর্যায়ে তাঁর কাজের ধরন সম্পর্কে আমার দীর্ঘদিনের ধারণা আছে। মনে হলো, এবার একটি বড় জেলার মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে ভালো কিছু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। নোয়াখালীতে যোগদানের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
আজ বহু বছর পর স্যারের অফিসে গিয়ে যেন পুরোনো সেই আন্তরিকতাই ফিরে পেলাম। আমাকে দেখেই আপন করে ডাকলেন, খুব মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনলেন। একটি আবদার করলাম, বেগমগঞ্জে লাল সবুজের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করতে চাই, আপনাকে সেখানে যেতে হবে।
মনে হলো, এক সেকেন্ডও ভাবলেন না।
বললেন অবশ্যই “যাবো।”
সঙ্গে সঙ্গে বেগমগঞ্জ মডেল থানার (ওসি) জনাব শামসুজ্জামান মহোদয়কে ফোন করে বললেন- “কাওসার যাবে, কোথায় অনুষ্ঠান করা যায় দেখো।”
অদ্ভুত এক ভালো লাগা কাজ করছিল তখন। কারণ বেগমগঞ্জ মডেল থানার (ওসি) শামসুজ্জামান মহোদয়ের সঙ্গেও আমার পরিচয় প্রায় ১১ বছর আগের। তিনিও আমাদের লাল সবুজের বিভিন্ন মাদকবিরোধী অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন। এরপর দুপুরে থানায় গিয়ে (ওসি) মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে অনুষ্ঠানস্থল ঠিক হলো। তারপর সংশ্লিষ্ট স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সবকিছু চূড়ান্ত করলাম।
সত্যি বলতে, কাওসারের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পদ-পদবি নয়, সবচেয়ে বড় পাওয়া আপনাদের স্নেহ, ভালোবাসা ও আস্থা।এই ভালোবাসার শক্তিতেই গত ১৫ বছর ধরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী, ৬৪ জেলায় স্বেচ্ছায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। কখনো ক্লান্তি এসেছে, কখনো পথ কঠিন হয়েছে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা বারবার নতুন করে পথ দেখিয়েছে। পুলিশ সুপার এন. এম. নাসিরুদ্দিন স্যারের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতা বেঁচে থাকুক।
আজ নোয়াখালী যাওয়ার পেছনে যে তরুণটির ভালোবাসা, তার কথাও না বললেই নয়। সেই আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাঁর নাম মুতাসির মাহি, বেগমগঞ্জের ছেলে। সে বর্তমানে AIUB বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। কয়েকমাস আগে কুমিল্লা থেকে ঢাকা যেতে গাড়িতে তার সঙ্গে পরিচয়। সেদিনই মাহি বলেছিল, “কখনো সময় পেলে বেগমগঞ্জে একটি অনুষ্ঠান করবেন।” আজ তার সেই কথাটাই রাখা হচ্ছে।
মাহি সকাল থেকে আমার সঙ্গে ছিল। অনুষ্ঠানস্থল নির্বাচন থেকে শুরু করে পুরো আয়োজনের প্রতিটি কাজে আন্তরিকভাবে সময় দিয়েছে। বিদায় নেওয়ার সময় তার মন খারাপ হয়ে গেল, কী এক অদ্ভুত মায়া! গাড়িতে হওয়া সেই ছোট্ট পরিচয়টা আজ তাকে আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন করে তুলেছে। মাহির বাবা একজন পুলিশ ইন্সপেক্টর। বাবার আদর্শ ও ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করে বাবার চেয়েও বড় মানুষ হও, মানুষের জন্য আলো ছড়াও, এই দোয়া ও ভালোবাসা রইলো তোমার জন্য।
ইনশাআল্লাহ, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জে হতে যাচ্ছে দারুণ একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নোয়াখালী জেলার মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব এন. এম. নাসিরুদ্দিন স্যার।
(কাওসার আলম সোহেল)
(কপি পোস্ট)