12/07/2026
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাস, পেশাগত বিবর্তন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা: সূচনা থেকে ২০২৬
Dr. Engr. Md. Anwar Hossain
Founder General Secretary
Clinical Engineering Association of Bangladesh (CEAB)
Dhaka, Bangladesh
Email: [email protected]
সারসংক্ষেপ—ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি বিশেষায়িত পেশাগত ক্ষেত্র, যেখানে প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর সেবা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির নিরাপদ, কার্যকর, নির্ভরযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রকৌশলের প্রয়োগ কয়েক শতাব্দী আগে শুরু হলেও “Clinical Engineering” পরিভাষাটির প্রাথমিক ও বহুল উদ্ধৃত প্রকাশিত ব্যবহার পাওয়া যায় ১৯৬৯ সালে James R. Landoll ও Cesar A. Caceres-এর গবেষণাপত্রে। পরবর্তীকালে মেডিকেল ডিভাইসের দ্রুত বিস্তার, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক নিরাপত্তার প্রয়োজন, রোগী পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির জটিলতা এবং হাসপাতালভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার চাহিদা ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে একটি স্বতন্ত্র পেশায় রূপ দেয়। বর্তমানে এর কার্যপরিধি শুধু যন্ত্রপাতি মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রয়োজন নিরূপণ, প্রযুক্তি মূল্যায়ন, ক্রয়, স্থাপন, গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে আন্তঃসংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সম্পূর্ণ জীবনচক্র ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই পর্যালোচনামূলক নিবন্ধে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ঐতিহাসিক বিকাশ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, পেশাগত সনদায়ন, আধুনিক কার্যপরিধি এবং বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হয়েছে।
সূচক শব্দ—বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল ডিভাইস, রোগী নিরাপত্তা, পেশাগত সনদায়ন।
I. ভূমিকা
আধুনিক চিকিৎসাসেবা মেডিকেল ডিভাইস, সফটওয়্যার, তথ্যব্যবস্থা এবং প্রকৌশল অবকাঠামোর ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। রোগ নির্ণয়, নিবিড় পরিচর্যা, সার্জারি, অ্যানেসথেশিয়া, ডায়ালাইসিস, পুনর্বাসন এবং রোগী পর্যবেক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযুক্তির নিরাপদ ও যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন।
American College of Clinical Engineering (ACCE)-এর ১৯৯২ সালের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেন এমন একজন পেশাজীবী, যিনি স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিতে প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা প্রয়োগ করে রোগীর সেবাকে সহায়তা ও উন্নত করেন। ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, মেডিকেল ডিভাইস সরবরাহকারী এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে প্রযুক্তিগত সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেন। [1]
II. পর্যালোচনা পদ্ধতি
এটি একটি বর্ণনামূলক ঐতিহাসিক ও নীতিগত পর্যালোচনা। তথ্য সংগ্রহে মূল গবেষণাপত্র, peer-reviewed journal article এবং ACCE, HTCC, AAMI, IFMBE, WHO, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও World Bank-এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনা ব্যবহার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক দাবির ক্ষেত্রে সম্ভব হলে মূল বা প্রাথমিক উৎস এবং বর্তমান পেশাগত সনদ ও নীতির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক নথিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তথ্য ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।
III. চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রকৌশলের প্রাথমিক প্রয়োগ
A. রক্তচাপ পরিমাপ
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আধুনিক পেশা হলেও চিকিৎসায় প্রকৌশল ও পরিমাপবিজ্ঞানের প্রয়োগ বহু পুরোনো। ১৭৩৩ সালে Stephen Hales একটি ঘোড়ার ধমনিতে কাচের নল প্রবেশ করিয়ে সরাসরি ধমনীয় রক্তচাপ পরিমাপ করেন। তাঁর পরীক্ষা আধুনিক হেমোডাইনামিক পরিমাপের প্রাথমিক ভিত্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। Hales বদ্ধ স্থান, জাহাজ ও কারাগারে বায়ু চলাচল উন্নত করার জন্য যান্ত্রিক বায়ুপ্রবাহ ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করেছিলেন; তবে তাঁকে আধুনিক রোগী-ভেন্টিলেটরের আবিষ্কারক বলা যথার্থ নয়। [2]
B. এক্স-রে প্রযুক্তি
১৮৯৫ সালে Wilhelm Conrad Röntgen অজানা একধরনের ভেদক্ষম বিকিরণ আবিষ্কার করেন, যা পরবর্তীকালে এক্স-রে নামে পরিচিত হয়। এর মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই মানবদেহের অভ্যন্তরীণ গঠন পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয় এবং আধুনিক মেডিকেল ইমেজিংয়ের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। [3]
C. ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি
১৯০৩ সালে Willem Einthoven ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত নির্ভুলভাবে পরিমাপের জন্য string galvanometer নির্মাণ করেন। এর ফলে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ECG) ব্যবহারিক ক্লিনিক্যাল প্রযুক্তিতে পরিণত হয়। ECG-বিষয়ক অবদানের জন্য তিনি ১৯২৪ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। [4]
এসব আবিষ্কারের পর রোগী মনিটর, ডিফিব্রিলেটর, ডায়ালাইসিস মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, পেসমেকার, ইনফিউশন পাম্প এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রযুক্তির বিকাশ হাসপাতালগুলোকে ক্রমে প্রকৌশলনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে।
IV. বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৮ সালে চিকিৎসায় ইলেকট্রনিকস ও প্রকৌশলের প্রয়োগ নিয়ে একটি আন্তঃসমিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। [5]
১৯৫৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় International Conference of Medical and Biological Engineering-এ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানীরা International Federation for Medical Electronics and Biological Engineering প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তিত হয়ে International Federation for Medical and Biological Engineering (IFMBE) হয়। [6]
IFMBE-এর Clinical Engineering Division স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা, পেশাগত সক্ষমতা, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় কাজ করছে। [7]
V. “ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং” পরিভাষার সূচনা
“Clinical Engineering” পরিভাষাটির প্রাথমিক ও বহুল উদ্ধৃত প্রকাশিত ব্যবহার পাওয়া যায় James R. Landoll ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ Cesar A. Caceres-এর ১৯৬৯ সালের গবেষণাপত্রে। “Automation of Data Acquisition in Patient Testing” শিরোনামের নিবন্ধটি Proceedings of the IEEE-এর ৫৭তম খণ্ডের ১১তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। [8]
Caceres-কে সাধারণভাবে পরিভাষাটির অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শুধু যন্ত্র মেরামতের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি নন; বরং চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির মূল্যায়ন, সংযোজন, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিতকারী প্রকৌশল পেশাজীবী।
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। সে সময় প্রতি ২৫০টি হাসপাতাল শয্যার জন্য প্রায় একজন ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচিত হয়েছিল। এ ধরনের অনুমান মেডিকেল প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং হাসপাতালভিত্তিক প্রকৌশল সেবার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব নির্দেশ করেছিল। [5]
VI. হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিকাশ
১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক মেডিকেল ডিভাইসের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, পরিমাপের নির্ভুলতা, ক্যালিব্রেশন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
প্রথম দিকের Clinical Engineering Department-গুলোর প্রধান দায়িত্ব ছিল যন্ত্রপাতির তালিকা সংরক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা, ত্রুটি মেরামত, প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্যালিব্রেশন। বর্তমানে দায়িত্বগুলো বিস্তৃত হয়ে নিম্নলিখিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে:
1. প্রযুক্তির প্রয়োজন নিরূপণ ও পরিকল্পনা;
2. প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত;
3. দরপত্র ও ক্রয়প্রস্তাব মূল্যায়ন;
4. গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা ও কমিশনিং;
5. ক্যালিব্রেশন ও কর্মক্ষমতা যাচাই;
6. প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ;
7. মেডিকেল ডিভাইসজনিত দুর্ঘটনা তদন্ত;
8. ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ ও মানবিক উপাদান মূল্যায়ন;
9. ঝুঁকি, মান ও নিয়ন্ত্রক পরিপালন ব্যবস্থাপনা; এবং
10. প্রতিস্থাপন ও অবসায়নসহ সম্পূর্ণ জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা।
WHO-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচিতে কর্মক্ষমতা পরীক্ষা, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। [9]
VII. পেশাগত সংগঠন ও সনদায়ন
A. প্রাথমিক সনদায়ন
১৯৭০-এর দশকে Association for the Advancement of Medical Instrumentation (AAMI)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের আনুষ্ঠানিক সনদায়ন শুরু হয়। একই সময়ে American Board of Clinical Engineering (ABCE)-ও একটি সনদ কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীকালে এসব কর্মসূচি একীভূত ও পুনর্গঠিত হয়। [5], [10]
AAMI ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাইয়ের পর নতুন Clinical Engineering Certification আবেদন গ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। [11]
B. ACCE প্রতিষ্ঠা
১৯৮৯ সালে AAMI সম্মেলনে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পেশাজীবী সংগঠন প্রতিষ্ঠার আলোচনা শুরু হয়। ধারাবাহিক সাংগঠনিক সভার পর American College of Clinical Engineering (ACCE) ১৯৯০ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। [12]
C. আধুনিক CCE কর্মসূচি
২০০২ সালে Healthcare Technology Certification Commission (HTCC) গঠনের মাধ্যমে আধুনিক Certification in Clinical Engineering (CCE) কর্মসূচি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। [10]
২০২৬ সালের HTCC কাঠামোতে তিনটি পৃথক পেশাগত সনদ রয়েছে:
• Clinical Technology Professional (CTP): অভিজ্ঞ প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য;
• Associate Clinical Engineer (ACE): পেশাজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকৌশলীদের জন্য;
• Certified Clinical Engineer (CCE): উন্নত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য।
CTP ও ACE বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত। CTP ও ACE-এর ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা এবং CCE-এর ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পর পরিস্থিতিভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে পরীক্ষাগুলো নিরাপদ ভার্চুয়াল পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি HTCC সনদের মেয়াদ তিন বছর এবং ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়নের ভিত্তিতে নবায়ন করতে হয়। [13]
AAMI Certification Institute বর্তমানে CABT, CBET, CRES, CHTM এবং CISS সনদ পরিচালনা করে। এগুলো ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের CCE সনদ থেকে পৃথক এবং মূলত বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি, যন্ত্রসেবা, রেডিওলজি প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও স্টেরিলাইজেশন-সংশ্লিষ্ট দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেয়। [14]
VIII. Health Technology Management-এ বিবর্তন
প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সেবা প্রধানত যন্ত্র মেরামত ও নিরাপত্তা পরীক্ষাকেন্দ্রিক ছিল। আধুনিক ব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রয়োজন নির্ধারণ থেকে প্রতিস্থাপন ও অবসায়ন পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবনচক্র পরিচালনা করা হয়।
WHO সাধারণত Health Technology Management (HTM) পরিভাষা ব্যবহার করে। অন্যদিকে AAMI-সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান Healthcare Technology Management শব্দসমষ্টি ব্যবহার করে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির নির্বাচন, সংগ্রহ, গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, ইনভেন্টরি, নিরাপদ ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং অবসায়ন অন্তর্ভুক্ত।
WHO-এর মতে, প্রশিক্ষিত ও যোগ্য বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী মেডিকেল ডিভাইসের নকশা, মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ ব্যবহারের প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয়। WHO-এর ব্যবহারে “Biomedical Engineer” ধারণার মধ্যে বিভিন্ন দেশের clinical engineer, medical engineer এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি পেশাজীবীরাও অন্তর্ভুক্ত। [15]
IX. রোগী নিরাপত্তায় ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
অনুপযুক্ত মেডিকেল ডিভাইস নির্বাচন, ভুল স্থাপন, ক্যালিব্রেশনের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ অথবা ব্যবহারকারীর ভুল রোগীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নিম্নলিখিত কাজ করে:
1. অনিরাপদ বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র শনাক্তকরণ;
2. পরিমাপের নির্ভুলতা ও কর্মক্ষমতা যাচাই;
3. বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক ও সফটওয়্যারজনিত ঝুঁকি মূল্যায়ন;
4. ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ;
5. যন্ত্রজনিত ঘটনা ও দুর্ঘটনা তদন্ত;
6. প্রস্তুতকারকের recall ও safety notice বাস্তবায়ন;
7. জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা; এবং
8. রক্ষণাবেক্ষণ, ঝুঁকি ও কর্মক্ষমতার নথি সংরক্ষণ।
WHO-এর মেডিকেল ডিভাইস বিষয়ক প্রকাশনাগুলোতে মানবসম্পদ, ইনভেন্টরি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ ব্যবহারের সমন্বিত ব্যবস্থাকে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। [9], [15]
X. কোভিড-১৯ মহামারিতে ভূমিকা
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, পালস অক্সিমিটার, রোগী মনিটর, CPAP/BiPAP, high-flow nasal cannula এবং মেডিকেল গ্যাস ব্যবস্থার প্রয়োজন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
ক্লিনিক্যাল ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবীরা জরুরি যন্ত্র স্থাপন, গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, অক্সিজেন অবকাঠামো পরিচালনা, মেরামত, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প প্রযুক্তির ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। WHO মহামারি প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে অক্সিজেন-সংশ্লিষ্ট মেডিকেল যন্ত্রের সম্পূর্ণ জীবনচক্র নিয়ে প্রশিক্ষণ উপকরণ প্রকাশ করেছে। [16]
মহামারিটি প্রমাণ করে যে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শুধু সহায়ক রক্ষণাবেক্ষণ সেবা নয়; এটি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতি ও হাসপাতালের স্থিতিস্থাপকতার একটি অপরিহার্য অংশ।
XI. ২০২৬ সালে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কার্যপরিধি
২০২৬ সালে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কার্যপরিধির মধ্যে প্রচলিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
• মেডিকেল ডিভাইস জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা;
• হাসপাতালভিত্তিক Health Technology Assessment (HTA);
• মূলধনী প্রযুক্তি ও বাজেট পরিকল্পনা;
• মেডিকেল ডিভাইস নেটওয়ার্কিং ও আন্তঃকার্যক্ষমতা;
• হাসপাতাল তথ্যব্যবস্থার সঙ্গে ডিভাইস সংযুক্তি;
• মেডিকেল ডিভাইস সাইবার নিরাপত্তা;
• Software as a Medical Device মূল্যায়ন;
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মেডিকেল প্রযুক্তি;
• টেলিমেডিসিন ও দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণ;
• মেডিকেল গ্যাস ও অক্সিজেন অবকাঠামো;
• রোবোটিক ও ডিজিটাল সার্জারি প্রযুক্তি;
• দুর্যোগ ও মহামারি প্রস্তুতি; এবং
• পরিবেশসম্মত প্রতিস্থাপন ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
WHO-এর ২০২৫ সালের Health Technology Assessment নির্দেশিকা অনুযায়ী, HTA হলো একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির ক্লিনিক্যাল, অর্থনৈতিক, নৈতিক, সাংগঠনিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। ২০২৫ সালের হালনাগাদ medical device policy নির্দেশিকাতেও নিয়ন্ত্রণ, HTA, HTM, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং মেডিকেল ডিভাইস nomenclature-এর সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। [17], [18]
XII. বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জাতীয়, বিশেষায়িত, মেডিকেল কলেজ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক মেডিকেল ডিভাইস ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী প্রকাশনায় National Equipment Maintenance and Engineering Workshop (NEMEW)-এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল যন্ত্র মেরামত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে। [19]
World Bank-এর Bangladesh Health Sector Support Project-সংক্রান্ত মূল্যায়নে স্বাস্থ্য খাতের ক্রয়ব্যবস্থাকে অত্যন্ত প্রযুক্তিগত, জটিল ও বৈচিত্র্যময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে টেকসইভাবে procurement manager, biomedical engineer এবং supply-chain বিশেষজ্ঞের সমন্বিত দল প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। [20]
বাংলাদেশে মেডিকেল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে Directorate General of Drug Administration (DGDA) দায়িত্ব পালন করে। তবে যন্ত্রের বাজারে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রযুক্তির সম্পূর্ণ জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা পৃথক কিন্তু পরস্পরসম্পর্কিত কার্যক্রম। [21]
এ প্রেক্ষাপটে প্রতিটি স্তরের সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী Clinical and Biomedical Engineering Department প্রতিষ্ঠার নীতিগত ভিত্তি রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোর প্রধান উপাদান হওয়া উচিত:
1. কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জাতীয় Clinical Engineering and HTM Directorate;
2. বিভাগ ও অঞ্চলে বিশেষায়িত প্রকৌশল সহায়তা কেন্দ্র;
3. মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বিভাগ;
4. জেলা হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিবিদ;
5. উপজেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক বা cluster-based প্রকৌশল সহায়তা;
6. জাতীয় মেডিকেল যন্ত্র ইনভেন্টরি ও computerized maintenance management system;
7. অভিন্ন গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকল; এবং
8. ক্রয়, স্থাপন, প্রশিক্ষণ, ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবসায়নে প্রকৌশলীর বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ।
এসব প্রস্তাব বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার, বিনিয়োগের সুরক্ষা, পরিষেবার ধারাবাহিকতা এবং রোগী নিরাপত্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে নীতিগত সুপারিশ হিসেবে বিবেচ্য।
XIII. আলোচনা
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিবর্তনকে তিনটি প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্যায়ে প্রকৌশল ও পদার্থবিজ্ঞানের সাহায্যে শারীরবৃত্তীয় সংকেত পরিমাপ এবং চিকিৎসা যন্ত্র উদ্ভাবিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষায়িত প্রকৌশল ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। তৃতীয় এবং বর্তমান পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি পরিকল্পনা, জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা, HTA, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, আন্তঃকার্যক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং নীতিনির্ধারণে সম্প্রসারিত হয়েছে।
একটি হাসপাতালের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা শুধু কতগুলো আধুনিক যন্ত্র রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। যন্ত্রগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে কি না, সঠিকভাবে স্থাপন ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, ব্যবহারকারীরা প্রশিক্ষিত কি না এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণ করে।
XIV. উপসংহার
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাস চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রকৌশল প্রয়োগের ধারাবাহিক বিবর্তনের ইতিহাস। প্রাথমিক রক্তচাপ পরিমাপ, এক্স-রে ও ECG থেকে শুরু করে আধুনিক নেটওয়ার্কযুক্ত, সফটওয়্যারচালিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মেডিকেল ডিভাইস পর্যন্ত প্রতিটি অগ্রগতি এই পেশার গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
১৯৬৯ সালে “Clinical Engineering” পরিভাষার বহুল উদ্ধৃত ব্যবহারের পর পেশাটি যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্রিক সেবা থেকে বিকশিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা, রোগী নিরাপত্তা, প্রযুক্তি মূল্যায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি সংযুক্তি এবং কৌশলগত হাসপাতাল পরিচালনার অংশে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় স্তরভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক ক্লিনিক্যাল ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কাঠামো প্রতিষ্ঠা রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা এবং সরকারি বিনিয়োগের কার্যকর ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রেফারেন্সসমূহ
[1] American College of Clinical Engineering, “Clinical Engineer Defined,” ACCE, Henderson, NV, USA, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://accenet.org/about/Pages/ClinicalEngineer.aspx
[2] J. P. Saul et al., “Heart rate variability and the dawn of complex physiological signal analysis,” Philosophical Transactions of the Royal Society A, vol. 379, no. 2212, 2021, doi: 10.1098/rsta.2020.0255. [Online]. Available: https://doi.org/10.1098/rsta.2020.0255
[3] Nobel Prize Outreach, “Wilhelm Conrad Röntgen—Facts,” NobelPrize.org, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.nobelprize.org/prizes/physics/1901/rontgen/facts/
[4] Nobel Prize Outreach, “Willem Einthoven—Facts,” NobelPrize.org, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.nobelprize.org/prizes/medicine/1924/einthoven/facts/
[5] R. P. Zambuto, “Clinical engineers in the 21st century,” IEEE Engineering in Medicine and Biology Magazine, vol. 23, no. 3, pp. 37–41, May–Jun. 2004, doi: 10.1109/MEMB.2004.1317980. [Online]. Available: https://doi.org/10.1109/MEMB.2004.1317980
[6] International Federation for Medical and Biological Engineering, “History of IFMBE,” accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://ifmbe.org/about-ifmbe/history-of-ifmbe/
[7] International Federation for Medical and Biological Engineering, “Clinical Engineering Division,” accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://ifmbe.org/organisation-structure/divisions/clinical-engineering-division/
[8] J. R. Landoll and C. A. Caceres, “Automation of data acquisition in patient testing,” Proceedings of the IEEE, vol. 57, no. 11, pp. 1941–1953, Nov. 1969, doi: 10.1109/PROC.1969.7440. [Online]. Available: https://doi.org/10.1109/PROC.1969.7440
[9] World Health Organization, Medical Equipment Maintenance Programme Overview. Geneva, Switzerland: WHO, 2011, ISBN: 978-92-4-150153-8. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789241501538
[10] J. O. Wear, “Certification in the United States, Canada and Asia,” Global Clinical Engineering Journal, special issue, pp. 15–22, 2018. [Online]. Available: https://globalce.org/index.php/GlobalCE/article/download/29/9
[11] American College of Clinical Engineering, “Clinical Engineering Certification,” ACCE News, Jul. 1999. [Online]. Available:https://accenet.org/resources/Newsletters/ACCENewsJuly1999.pdf
[12] American College of Clinical Engineering, “Our History,” ACCE, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://accenet.org/about/Pages/History.aspx
[13] Healthcare Technology Certification Commission, Certification Handbook—2026 Virtual Edition. HTCC, Jan. 2026. [Online]. Available:https://accenet.org/CECertification/Documents/HTCC_Certification_Handbook_2026_%202.4.26%20Final_Clean.pdf
[14] AAMI Certification Institute, “Certifications,” Association for the Advancement of Medical Instrumentation, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://aami.org/certifications/
[15] World Health Organization, Human Resources for Medical Devices: The Role of Biomedical Engineers. Geneva, Switzerland: WHO, 2017, ISBN: 978-92-4-156547-9. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789241565479
[16] World Health Organization, “Trainings for Medical Devices,” WHO, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.who.int/teams/health-product-policy-and-standards/assistive-and-medical-technology/medical-devices/management-use/trainings
[17] World Health Organization, Health Technology Assessment of Medical Devices, 2nd ed. Geneva, Switzerland: WHO, 2025, ISBN: 978-92-4-011087-8. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789240110878
[18] World Health Organization, Development of Medical Device Policies, 2nd ed. Geneva, Switzerland: WHO, 2025, ISBN: 978-92-4-011440-1. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789240114401
[19] Directorate General of Health Services, Health Bulletin 2008. Dhaka, Bangladesh: DGHS, Ministry of Health and Family Welfare, 2008. [Online]. Available:https://old.dghs.gov.bd/licts_file/images/Health_Bulletin/HealthBulletin2008.pdf
[20] World Bank, Bangladesh Health Sector Support Project: Project Appraisal Document. Washington, DC, USA: World Bank, 2017. [Online]. Available: https://documents1.worldbank.org/curated/en/509301501466454241/txt/BANGLADESH-HSSP-PAD-07112017.txt
[21] World Health Organization Bangladesh, “Strengthening National Regulatory Authority,” WHO, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.who.int/bangladesh/activities/strengthening-national-regulatory-authority