Clinical Engineering Association-Bangladesh

Clinical Engineering Association-Bangladesh So appropriate implementation of medical devices technologies through trained and skills healthcare technology personnel are become mandatory to enhance HCDS.

“The Association is committed to promoting the safe, effective, and appropriate use of medical device technologies by implementing a comprehensive healthcare technology management cycle, thereby strengthening patient safety and healthcare quality.” In the recent years, Healthcare Delivery System (HCDS) has increasingly become healthcare technology driven due to rapid development of medical device

s technologies. But without standard management of healthcare technology cycle safe and effective use of medical devices technologist are not possible. On the divergent, it has examined that clinical engineering professional, clinical engineering department and healthcare engineering directorate are the best human resources, departments and regulatory authority receptively to standardize the healthcare technology management cycle in HCD. Despite the further development of CE, CED & HCED are yet needed to desire by develop world and development countries, HCDS of under development countries like Bangladesh is unknown with CE, CED & HCED for enhancing the patient care. As a result, quality of the patient care of Bangladesh has been slowing down and it is continually. in this situation it is very much impotent to address the problem and possible solution is very much required . From a comprehensible literature review result, it has found that, a community like as Clinical Engineering Association has taken initiative to solved the problem through develop awareness of the healthcare stakeholders. Like other countries Clinical Engineering Association-Bangladesh is going to be taken initiative to make awareness among healthcare policymakers, healthcare providers, medical equipment supplier, equipment operators/users and healthcare engineers & technologist etc. CEAB firmly believe that we do work together with healthcare team and an excellent outcome is possible to obtain. The impact of CEAB will play a role to enhance the HCDS in our country which is presently found as questionable. There are many objectives of this association but here some main objectives are listed below:
(1) To develop awareness of our healthcare stakeholder such as from top level policy-makers to end-users about the necessity of clinical engineers and healthcare delivery system through appropriate implementation of medical devices for the patient care
(ii) To produce accredited CE, CET,& BMET through developing suitable courses
(iii) To motivate the public and private hospitals to introduce CED/ BMED to keep safe functional condition of medical devices for 24 hour services to the patients. (iv) To establish a Directorate General of Healthcare Engineering Services under the Healthcare Regulatory Authority (MOH&FW) like other four doctorates for balancing the entire healthcare delivery system

(It can be enhance by your opinion)

04/08/2026

কারিগরি ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আইসিইউ এবং ডায়ালাইসিস ইউনিটে নিরবচ্ছিন্ন জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে অনলাইন ইউপিএস, অটোমেটিক ট্রান্সফার সুইচ (ATS), স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর, ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং পৃথক জরুরি বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে ব্যাকআপ ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ স্থানান্তরের মধ্যবর্তী সময়েও জীবনরক্ষাকারী ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম যেন এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ জন্য নিয়মিত লোড টেস্ট, প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ, জেনারেটরের জ্বালানি পরীক্ষা, অ্যালার্ম মনিটরিং, ব্যাটারির সক্ষমতা যাচাই এবং জরুরি মহড়ার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
আইসিইউ বা ডায়ালাইসিস ইউনিটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া শুধু সাময়িক অসুবিধা নয়; এটি রোগীর জীবন, চিকিৎসাসেবা এবং হাসপাতালের পরিচালনব্যবস্থার জন্য গুরুতর ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করা, কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং সব জীবনরক্ষাকারী ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নির্ভরযোগ্য, বিকল্প ব্যবস্থাসম্পন্ন ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

24/07/2026

I got over 10 reactions on one of my posts last week! Thanks everyone for your support! 🎉

বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওচিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনাWHO-এর স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা কাঠামো অনুসরণে প্র...
24/07/2026

বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও
চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা
WHO-এর স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা কাঠামো অনুসরণে প্রস্তুত নমুনা প্রতিবেদন
দেশ বাংলাদেশ
বিষয় ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা
প্রতিবেদনের ধরন প্রাথমিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও নীতিগত সুপারিশ
প্রস্তুতির তারিখ জুলাই ২০২৬

শিক্ষামূলক ও একাডেমিক ব্যবহারের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
এই প্রতিবেদনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক প্রকাশিত, অনুমোদিত বা পর্যালোচিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন নয়। এটি WHO-এর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনার সাধারণ কাঠামো অনুসরণে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত একটি নমুনা।

নির্বাহী সারসংক্ষেপ
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। এসব সরঞ্জামের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজন নিরূপণ, নির্বাচন, ক্রয়, স্থাপন, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যালিব্রেশন এবং উপযুক্ত সময়ে বাতিলকরণ প্রয়োজন।
WHO-এর মতে, চিকিৎসা সরঞ্জাম সাধারণত এমন চিকিৎসা যন্ত্রকে বোঝায় যার জন্য ক্যালিব্রেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহার শেষে নিরাপদভাবে প্রত্যাহারের প্রয়োজন হয়। এসব কাজ সাধারণত ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি দলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। [১]
বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তার জন্য ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (NEMEMW & TC) কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা যন্ত্র মেরামত, চালু রাখা, ক্রয়ের জন্য কারিগরি স্পেসিফিকেশন তৈরি এবং দরপত্রের কারিগরি মূল্যায়নে সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। [৬]
তবে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জামের সামগ্রিক অবস্থা, কার্যক্ষমতার হার, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা এবং ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যার বিষয়ে একটি হালনাগাদ জাতীয় জরিপ ছাড়া সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। তাই জাতীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
১. পটভূমি
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হলো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা প্রযুক্তির নিরাপদ, কার্যকর ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় প্রকৌশল জ্ঞানের প্রয়োগ।
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা হাসপাতাল প্রশাসন, চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল ফিজিসিস্ট, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা, সরঞ্জাম সরবরাহকারী এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন।
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং চিকিৎসা প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা বা Health Technology Management (HTM)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। HTM-এর পরিধি কোনো যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে তার সম্পূর্ণ ব্যবহারকাল এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদ বাতিলকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত।
WHO স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হিসেবে রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা যন্ত্রের উপযুক্ত ব্যবহার এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে। [২]
২. প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য
1. ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা;
2. বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে তুলে ধরা;
3. চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনার প্রধান কার্যক্রম চিহ্নিত করা;
4. সম্ভাব্য ঘাটতি মূল্যায়নের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা;
5. নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ প্রদান করা;
6. অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য পরিমাপযোগ্য সূচক প্রস্তাব করা।
৩. পরিধি ও প্রস্তুতপ্রণালি
প্রতিবেদনটি মূলত নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
• চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজন নিরূপণ;
• প্রযুক্তি মূল্যায়ন ও নির্বাচন;
• ক্রয়ে কারিগরি সহায়তা;
• স্থাপন ও গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা;
• সম্পদ তালিকা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা;
• প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ;
• ক্যালিব্রেশন ও নিরাপত্তা পরীক্ষা;
• ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ;
• ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা;
• বাতিলকরণ ও নিরাপদ অপসারণ।
প্রতিবেদনটি সরাসরি জাতীয় জরিপ বা হাসপাতাল পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রস্তুত নয়। এটি WHO-এর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রকাশনা এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি প্রাথমিক কাঠামো।
৪. বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তায় NEMEMW & TC ভূমিকা পালন করে। এর প্রকাশিত কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে:
• সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা যন্ত্র মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ;
• বিকল যন্ত্র পুনরায় চালু করার চেষ্টা;
• চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য স্ট্যান্ডার্ড স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত;
• দরপ্রস্তাবের কারিগরি মূল্যায়নে সহায়তা;
• সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারিগরি পরামর্শ প্রদান।
এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি হাসপাতাল পর্যায়ে দৈনন্দিন সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা, দ্রুত ত্রুটি নির্ণয় এবং প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন।
তবে কোন স্তরের কতটি হাসপাতালে নিজস্ব ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট রয়েছে, কতজন প্রশিক্ষিত পেশাজীবী কর্মরত এবং কত শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম কার্যক্ষম—এ বিষয়ে এই প্রতিবেদনে পর্যাপ্ত যাচাই করা জাতীয় উপাত্ত পাওয়া যায়নি।
৫. ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রধান দায়িত্ব
৫.১ প্রয়োজন নিরূপণ
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের রোগীর সংখ্যা, রোগের ধরন, সেবার স্তর, অবকাঠামো, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং জনবলের সক্ষমতা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম চিহ্নিত করা।
উপযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নির্বাচন স্থানীয় চাহিদা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধরন, উপলভ্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার রোগের চাপের ওপর নির্ভর করে। [৭]
৫.২ প্রযুক্তি মূল্যায়ন ও ক্রয়ে সহায়তা
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সরঞ্জামের নিরাপত্তা, কার্যক্ষমতা, ব্যবহারযোগ্যতা, মোট জীবনচক্র ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন এবং স্থানীয় পরিবেশে উপযোগিতা মূল্যায়ন করে ক্রয় কমিটিকে কারিগরি পরামর্শ প্রদান করেন।
তবে ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ক্রয় কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধিবিধান অনুসারে নেওয়া হয়।
৫.৩ স্থাপন ও গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা
নতুন সরঞ্জাম সরবরাহের পর ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সরবরাহকৃত মডেল ও স্পেসিফিকেশন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, স্থাপনের পরিবেশ, বৈদ্যুতিক সংযোগ, প্রাথমিক কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ এবং ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস ডকুমেন্ট যাচাই করেন।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর যন্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করা উচিত।
৫.৪ চিকিৎসা সরঞ্জামের তালিকা প্রস্তুত
প্রতিটি চিকিৎসা যন্ত্রের জন্য সম্পদ নম্বর, যন্ত্রের নাম, প্রস্তুতকারক ও মডেল, সিরিয়াল নম্বর, অবস্থান, ক্রয় ও স্থাপনের তারিখ, মূল্য, ওয়ারেন্টির তথ্য, ঝুঁকির শ্রেণি, রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি, মেরামতের ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
WHO-এর মতে, কার্যকর কম্পিউটারভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় চিকিৎসা সরঞ্জামের তালিকা, সার্ভিস ইতিহাস, প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের পদ্ধতি, কার্যক্ষমতার সূচক এবং ব্যয়ের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। [৩]
৫.৫ প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যন্ত্র পরীক্ষা, পরিষ্কার, সমন্বয়, প্রয়োজনীয় অংশ পরিবর্তন এবং কার্যক্ষমতা যাচাই করাকে প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ বলা হয়।
এর উদ্দেশ্য হলো আকস্মিক বিকল হওয়া কমানো, যন্ত্রের ব্যবহারকাল বৃদ্ধি, রোগীর নিরাপত্তা রক্ষা, জরুরি মেরামতের ব্যয় কমানো এবং চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস। WHO একটি কার্যকর চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির জন্য যথাযথ পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নের গুরুত্ব উল্লেখ করে। [৪]
৫.৬ ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামত
অচল বা ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের সমস্যা নির্ণয় করে হাসপাতালের নিজস্ব কর্মশালায় মেরামত, প্রস্তুতকারক বা অনুমোদিত সেবা প্রদানকারীর সহায়তা, খুচরা যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অস্থায়ীভাবে ব্যবহার বন্ধ অথবা প্রয়োজন হলে বাতিলের সুপারিশ করা যেতে পারে।
জটিল বা উচ্চঝুঁকির যন্ত্রে প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন ছাড়া মেরামত করা উচিত নয়।
৫.৭ ক্যালিব্রেশন ও কার্যক্ষমতা পরীক্ষা
ক্যালিব্রেশনের মাধ্যমে কোনো চিকিৎসা যন্ত্রের পরিমাপ নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না যাচাই করা হয়। উদাহরণ হিসেবে ইনফিউশন পাম্পের প্রবাহের হার, রোগী পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের চাপ বা তাপমাত্রা, ডিফিব্রিলেটরের শক্তি, ভেন্টিলেটরের চাপ ও গ্যাস প্রবাহ এবং ওজন মাপার যন্ত্রের নির্ভুলতা উল্লেখ করা যায়।
সব যন্ত্র একই সময়সূচিতে ক্যালিব্রেশন করতে হয় না। প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা, ঝুঁকি, ব্যবহারের মাত্রা এবং জাতীয় মান অনুসারে সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।
৫.৮ বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক নিরাপত্তা
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চিকিৎসা যন্ত্রের বৈদ্যুতিক লিকেজ, আর্থিং, তার, প্লাগ, ব্যাটারি, অ্যালার্ম এবং যান্ত্রিক অংশ পরীক্ষা করতে পারেন।
বিকিরণ উৎপন্নকারী যন্ত্রের ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে মেডিকেল ফিজিসিস্ট, রেডিয়েশন প্রোটেকশন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। বিকিরণ নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব শুধু ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের নয়।
৫.৯ ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য ব্যবহারকারীকে যন্ত্র চালু ও বন্ধ করার নিয়ম, সঠিক আনুষঙ্গিক উপকরণ ব্যবহার, অ্যালার্ম বোঝা, দৈনন্দিন পরিচর্যা, সাধারণ ত্রুটি শনাক্তকরণ, দুর্ঘটনা রিপোর্টিং এবং জরুরি অবস্থায় নিরাপদ পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন।
প্রশিক্ষণ চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নয়। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীর দায়িত্ব।
৫.১০ ঝুঁকি ও প্রতিকূল ঘটনা ব্যবস্থাপনা
চিকিৎসা সরঞ্জাম সম্পর্কিত দুর্ঘটনা বা নিকট-দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার যন্ত্রটি সাময়িকভাবে ব্যবহার থেকে প্রত্যাহার, ঘটনা নথিভুক্ত, কারিগরি পরীক্ষা, ব্যবহারজনিত বা যান্ত্রিক কারণ বিশ্লেষণ, সংশোধনমূলক ব্যবস্থা প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
৫.১১ সংযুক্ত চিকিৎসা যন্ত্রের সাইবার নিরাপত্তা
নেটওয়ার্ক-সংযুক্ত চিকিৎসা যন্ত্রের সাইবার নিরাপত্তা শুধু ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে হাসপাতালের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, সাইবার নিরাপত্তা দল, তথ্য সুরক্ষা কর্মকর্তা, যন্ত্র প্রস্তুতকারক এবং হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে হবে।
৫.১২ বাতিলকরণ ও নিরাপদ অপসারণ
কোনো যন্ত্র মেরামতের অযোগ্য, অনিরাপদ, প্রযুক্তিগতভাবে অচল, প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশবিহীন, ব্যবহার ব্যয়ের তুলনায় অকার্যকর অথবা নির্ধারিত মান পূরণে অক্ষম হলে কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাতিলের সুপারিশ করা যেতে পারে।
বাতিলকরণে রোগীর তথ্য মুছে ফেলা, বিপজ্জনক উপাদান আলাদা করা এবং পরিবেশগত বিধান অনুসরণ করা প্রয়োজন।
৬. জাতীয় মূল্যায়নে যাচাইযোগ্য সম্ভাব্য ঘাটতি
পর্যাপ্ত জাতীয় উপাত্ত ছাড়া নিচের বিষয়গুলোকে নিশ্চিত সমস্যা না বলে মূল্যায়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত:
1. হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা সরঞ্জাম তালিকা কতটা সম্পূর্ণ;
2. কার্যক্ষম ও অকার্যকর সরঞ্জামের অনুপাত;
3. প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তবায়ন হার;
4. প্রয়োজনীয় ক্যালিব্রেশন যন্ত্রের প্রাপ্যতা;
5. প্রশিক্ষিত ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানের সংখ্যা;
6. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মেরামত সুবিধার সক্ষমতা;
7. খুচরা যন্ত্রাংশ ও কারিগরি ডকুমেন্টের প্রাপ্যতা;
8. রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বার্ষিক বাজেট;
9. ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণের অবস্থা;
10. সরঞ্জামজনিত দুর্ঘটনা রিপোর্টিং ব্যবস্থা;
11. ক্রয়পরিকল্পনায় জীবনচক্র ব্যয় বিবেচনা করা হয় কি না;
12. সংযুক্ত চিকিৎসা যন্ত্রের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
৭. নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুপারিশ
৭.১ জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চিকিৎসা সরঞ্জামের সম্পূর্ণ জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা বা নির্দেশিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। বর্তমান WHO নির্দেশনায় চিকিৎসা যন্ত্রের নীতিমালার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তি মূল্যায়ন, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং যন্ত্রের নামকরণ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। [৫]
৭.২ জাতীয় ভিত্তিমূলক জরিপ
সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জরিপ পরিচালনা করে মোট চিকিৎসা সরঞ্জামের সংখ্যা, কার্যক্ষমতার অবস্থা, বয়স, ব্যবহার হার, রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা, জনবল, যন্ত্রের অচল থাকার সময়, মেরামত ব্যয় এবং ক্যালিব্রেশনের অবস্থা সংগ্রহ করা উচিত।
৭.৩ হাসপাতালভিত্তিক ইউনিট প্রতিষ্ঠা
হাসপাতালের আকার, সেবার ধরন ও সরঞ্জামের সংখ্যার ভিত্তিতে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বায়োমেডিকেল রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিট, আঞ্চলিক কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় বিশেষায়িত রেফারেল ওয়ার্কশপ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
৭.৪ জনবল কাঠামো নির্ধারণ
প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুসারে ক্লিনিক্যাল বা বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার, বায়োমেডিকেল ইকুইপমেন্ট টেকনিশিয়ান, ইনভেন্টরি বা তথ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রশাসনিক সহায়ক এবং বিশেষায়িত বহিরাগত সেবা প্রদানকারীর দায়িত্ব ভাগ করা যেতে পারে। পদের দায়িত্ব, যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও কর্মজীবনের অগ্রগতির পথ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
৭.৫ ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা
ধাপে ধাপে একটি কম্পিউটারভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সরঞ্জামের তালিকা, রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি, কাজের আদেশ, যন্ত্রের অচল থাকার সময়, খুচরা যন্ত্রাংশ, সার্ভিস চুক্তি, ব্যয় এবং কার্যক্ষমতার সূচক সংরক্ষণ করা যাবে। [৩]
৭.৬ মানসম্মত কার্যপদ্ধতি
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন যন্ত্র গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যালিব্রেশন, নিরাপত্তা পরীক্ষা, ত্রুটি রিপোর্ট, দুর্ঘটনা তদন্ত, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরে যন্ত্র গ্রহণ, যন্ত্র স্থানান্তর এবং বাতিলকরণের লিখিত কার্যপদ্ধতি থাকা প্রয়োজন।
৭.৭ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
প্রশিক্ষণের মধ্যে হাসপাতালে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতকারকভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, ক্যালিব্রেশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা যন্ত্রের সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
৭.৮ জীবনচক্র ব্যয়ভিত্তিক ক্রয়
শুধু ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে যন্ত্র নির্বাচন না করে স্থাপন ব্যয়, ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যয়, বিদ্যুৎ ও পরিবেশগত প্রয়োজন, প্রশিক্ষণ, ওয়ারেন্টি, সার্ভিস চুক্তি, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাতিলকরণ ব্যয় বিবেচনা করা উচিত।
৭.৯ গবেষণা ও স্থানীয় উদ্ভাবন
বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয় প্রয়োজন উপযোগী চিকিৎসা প্রযুক্তি উন্নয়ন করা যেতে পারে। তবে স্থানীয় উৎপাদন হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রধান দায়িত্ব নয়; তারা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, নিরাপত্তা, কার্যক্ষমতা এবং পরীক্ষামূলক মূল্যায়নে কারিগরি সহায়তা দিতে পারেন।
৮. পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের সূচক
অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নিম্নলিখিত সূচক ব্যবহার করা যেতে পারে:
সূচক পরিমাপের পদ্ধতি
সম্পূর্ণ ইনভেন্টরিতে অন্তর্ভুক্ত যন্ত্রের হার তালিকাভুক্ত যন্ত্র ÷ মোট যন্ত্র × ১০০
কার্যক্ষম যন্ত্রের হার কার্যক্ষম যন্ত্র ÷ মোট যন্ত্র × ১০০
প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার হার সময়মতো সম্পন্ন কাজ ÷ নির্ধারিত কাজ × ১০০
সময়মতো ক্যালিব্রেশন সম্পন্ন হওয়ার হার বৈধ ক্যালিব্রেশনযুক্ত যন্ত্র ÷ ক্যালিব্রেশনযোগ্য যন্ত্র × ১০০
গড় মেরামত সময় মোট মেরামত সময় ÷ সম্পন্ন মেরামতের সংখ্যা
যন্ত্রের অচল থাকার গড় সময় মোট অচল সময় ÷ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রের সংখ্যা
প্রথমবারেই মেরামত সফল হওয়ার হার প্রথম প্রচেষ্টায় সফল মেরামত ÷ মোট মেরামত × ১০০
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যবহারকারীর হার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যবহারকারী ÷ লক্ষ্য ব্যবহারকারী × ১০০
নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার হার উত্তীর্ণ যন্ত্র ÷ পরীক্ষিত যন্ত্র × ১০০
সম্পূর্ণ নথিভুক্ত ঘটনার হার পূর্ণাঙ্গভাবে নথিভুক্ত ঘটনা ÷ মোট রিপোর্টকৃত ঘটনা × ১০০
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী সূচকের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ছাড়া কাল্পনিক জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত নয়।
৯. বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত ধাপ
স্বল্পমেয়াদি পর্যায়
• জাতীয় ভিত্তিমূলক জরিপ;
• প্রধান হাসপাতালগুলোর সম্পদ তালিকা হালনাগাদ;
• উচ্চঝুঁকির যন্ত্র শনাক্ত;
• জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা;
• দায়িত্ব ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা নির্ধারণ।
মধ্যমেয়াদি পর্যায়
• হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট;
• ডিজিটাল ইনভেন্টরি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা;
• মানসম্মত কার্যপদ্ধতি;
• নিয়মিত ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ;
• ক্যালিব্রেশন ও নিরাপত্তা পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি।
দীর্ঘমেয়াদি পর্যায়
• জাতীয়ভাবে সমন্বিত HTM ব্যবস্থা;
• আঞ্চলিক রক্ষণাবেক্ষণ নেটওয়ার্ক;
• মানসম্মত শিক্ষা ও পেশাগত স্বীকৃতি;
• জীবনচক্র ব্যয়ভিত্তিক ক্রয়;
• গবেষণা ও স্থানীয় উদ্ভাবন;
• নিয়মিত জাতীয় মূল্যায়ন ও প্রকাশ্য অগ্রগতি প্রতিবেদন।
১০. প্রত্যাশিত ফলাফল
• চিকিৎসা সরঞ্জামের নিরাপদ ব্যবহার বৃদ্ধি;
• রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি হ্রাস;
• যন্ত্রের অচল থাকার সময় কমানো;
• যন্ত্রের কার্যকর ব্যবহারকাল বৃদ্ধি;
• জরুরি মেরামতের প্রয়োজন কমানো;
• ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের উন্নত নিয়ন্ত্রণ;
• ব্যবহারকারীর দক্ষতা বৃদ্ধি;
• হাসপাতালের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন;
• চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি।
এসব ফলাফল নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাবে না; নির্ধারিত সূচকের মাধ্যমে নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে।
১১. প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা
1. এটি কোনো জাতীয় হাসপাতাল জরিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়;
2. চিকিৎসা সরঞ্জামের সংখ্যা ও কার্যক্ষমতার হালনাগাদ জাতীয় উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি;
3. সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়নি;
4. জনবল, বাজেট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি;
5. রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি;
6. সুপারিশ বাস্তবায়নের ব্যয় হিসাব করা হয়নি।
তাই এটিকে চূড়ান্ত জাতীয় পরিস্থিতি প্রতিবেদন না ধরে ভবিষ্যৎ জরিপ ও নীতিগত আলোচনার একটি প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
১২. উপসংহার
আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় করলেই স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত হয় না। যন্ত্রের প্রয়োজন নিরূপণ, সঠিক নির্বাচন, স্থাপন, নিরাপদ ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ক্যালিব্রেশন, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং উপযুক্ত বাতিলকরণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় সরকারি রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হাসপাতাল ও অঞ্চলভেদে প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণের জন্য একটি হালনাগাদ জাতীয় মূল্যায়ন প্রয়োজন।
হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত জনবল, ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পরিমাপযোগ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে চিকিৎসা প্রযুক্তির নিরাপত্তা, প্রাপ্যতা ও অর্থনৈতিক ব্যবহার উন্নত করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র
১. World Health Organization. Medical devices — overview and definitions. https://www.who.int/teams/health-product-and-policy-standards/assistive-and-medical-technology/medical-devices
২. World Health Organization. Health technology management and medical device policy resources. https://www.who.int/publications/b/74278
৩. World Health Organization. Computerized Maintenance Management System. https://www.who.int/publications/i/item/9789241501415
৪. World Health Organization. Medical Equipment Maintenance Programme Overview. https://www.who.int/publications/i/item/9789241501538
৫. World Health Organization. Development of Medical Device Policies, Second Edition. https://www.who.int/publications/i/item/9789240114401
৬. National Electro-Medical Equipment Maintenance Workshop and Training Center (NEMEMW & TC), Bangladesh. https://nememw.gov.bd/
৭. World Health Organization. Needs assessment for medical devices. https://www.who.int/publications/i/item/WHO-HSS-EHT-DIM-11.03

13/07/2026

বাংলাদেশে চিকিৎসা-প্রযুক্তি প্রকৌশল
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসা-প্রযুক্তি প্রকৌশল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এর মৌলিক উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালের বৈচিত্র্যময় চিকিৎসাযন্ত্রের নিরাপদ, নির্ভুল ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। আধুনিক হাসপাতালে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র, হৃদ্‌স্পন্দন পর্যবেক্ষণযন্ত্র, অবেদনযন্ত্র, রক্ত পরিশোধনযন্ত্র এবং বিভিন্ন রোগনির্ণয় যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এসব যন্ত্র সঠিকভাবে পরিচালনা ও সংরক্ষণের জন্য দক্ষ চিকিৎসা-প্রযুক্তি প্রকৌশলী অপরিহার্য।
চিকিৎসা-প্রযুক্তি প্রকৌশলীরা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করেন এবং কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। তাঁরা চিকিৎসক, সেবিকা, প্রযুক্তিবিদ ও হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করেন। একটি সামগ্রিক ও উপযুক্ত চিকিৎসাযন্ত্র ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা সেবার মান উন্নত করে এবং রোগীর নিরাপত্তার জন্য কল্যাণকর ফল বয়ে আনে।
তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হলো নিয়মিত পরীক্ষা, পরিমাপের যথার্থতা যাচাই, মান-সমন্বয়, প্রতিরোধমূলক পরিচর্যা ও মেরামতের মাধ্যমে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা। তাঁরা সম্ভাব্য ত্রুটি আগে থেকেই অনুমান করেন এবং ঝুঁকি দূর করার ব্যবস্থা নেন। যন্ত্রের কার্যক্ষমতা ওঠানামা করলে রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার মানের অবনতি ঘটতে পারে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হতে পারে।
বাংলাদেশের অনেক হাসপাতালে চিকিৎসাযন্ত্রের ব্যবহারবিধি কখনো অস্পষ্ট থাকে। বিভিন্ন সরবরাহকারী বা ব্যবহারকারীর নির্দেশনা পরস্পরের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসা-প্রযুক্তি প্রকৌশলীরা কারিগরি তথ্য ও পরীক্ষার ফল সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং প্রমাণের মাধ্যমে নিজেদের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করেন। কোনো সমস্যাকে অযথা বাড়িয়ে বলা উচিত নয়; বরং যথাযথ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করতে হয়।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন অনিবার্য। চিকিৎসা-প্রযুক্তি প্রকৌশল কেবল যন্ত্র মেরামতের সমতুল্য নয়; এর মধ্যে যন্ত্র নির্বাচন, ক্রয়, স্থাপন, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং মান নিশ্চিতকরণও অন্তর্ভুক্ত। তাই এ ক্ষেত্রকে পরিত্যাগ না করে বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পৃথক চিকিৎসা-প্রযুক্তি প্রকৌশল বিভাগ প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করা উচিত। এতে যন্ত্রপাতির অপচয় কমবে, রোগীর নিরাপত্তা বাড়বে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে।

ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাস, পেশাগত বিবর্তন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা: সূচনা থেকে ২০২৬Dr. Engr. M...
12/07/2026

ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাস, পেশাগত বিবর্তন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা: সূচনা থেকে ২০২৬
Dr. Engr. Md. Anwar Hossain
Founder General Secretary
Clinical Engineering Association of Bangladesh (CEAB)
Dhaka, Bangladesh
Email: [email protected]
সারসংক্ষেপ—ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি বিশেষায়িত পেশাগত ক্ষেত্র, যেখানে প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা প্রয়োগের মাধ্যমে রোগীর সেবা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির নিরাপদ, কার্যকর, নির্ভরযোগ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রকৌশলের প্রয়োগ কয়েক শতাব্দী আগে শুরু হলেও “Clinical Engineering” পরিভাষাটির প্রাথমিক ও বহুল উদ্ধৃত প্রকাশিত ব্যবহার পাওয়া যায় ১৯৬৯ সালে James R. Landoll ও Cesar A. Caceres-এর গবেষণাপত্রে। পরবর্তীকালে মেডিকেল ডিভাইসের দ্রুত বিস্তার, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক নিরাপত্তার প্রয়োজন, রোগী পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির জটিলতা এবং হাসপাতালভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার চাহিদা ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংকে একটি স্বতন্ত্র পেশায় রূপ দেয়। বর্তমানে এর কার্যপরিধি শুধু যন্ত্রপাতি মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রয়োজন নিরূপণ, প্রযুক্তি মূল্যায়ন, ক্রয়, স্থাপন, গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে আন্তঃসংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সম্পূর্ণ জীবনচক্র ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই পর্যালোচনামূলক নিবন্ধে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ঐতিহাসিক বিকাশ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, পেশাগত সনদায়ন, আধুনিক কার্যপরিধি এবং বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হয়েছে।
সূচক শব্দ—বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল ডিভাইস, রোগী নিরাপত্তা, পেশাগত সনদায়ন।

I. ভূমিকা
আধুনিক চিকিৎসাসেবা মেডিকেল ডিভাইস, সফটওয়্যার, তথ্যব্যবস্থা এবং প্রকৌশল অবকাঠামোর ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। রোগ নির্ণয়, নিবিড় পরিচর্যা, সার্জারি, অ্যানেসথেশিয়া, ডায়ালাইসিস, পুনর্বাসন এবং রোগী পর্যবেক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে প্রযুক্তির নিরাপদ ও যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন।
American College of Clinical Engineering (ACCE)-এর ১৯৯২ সালের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হলেন এমন একজন পেশাজীবী, যিনি স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিতে প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা প্রয়োগ করে রোগীর সেবাকে সহায়তা ও উন্নত করেন। ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, মেডিকেল ডিভাইস সরবরাহকারী এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে প্রযুক্তিগত সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেন। [1]
II. পর্যালোচনা পদ্ধতি
এটি একটি বর্ণনামূলক ঐতিহাসিক ও নীতিগত পর্যালোচনা। তথ্য সংগ্রহে মূল গবেষণাপত্র, peer-reviewed journal article এবং ACCE, HTCC, AAMI, IFMBE, WHO, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও World Bank-এর প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশনা ব্যবহার করা হয়েছে। ঐতিহাসিক দাবির ক্ষেত্রে সম্ভব হলে মূল বা প্রাথমিক উৎস এবং বর্তমান পেশাগত সনদ ও নীতির ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক নথিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তথ্য ১২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।
III. চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রকৌশলের প্রাথমিক প্রয়োগ
A. রক্তচাপ পরিমাপ
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আধুনিক পেশা হলেও চিকিৎসায় প্রকৌশল ও পরিমাপবিজ্ঞানের প্রয়োগ বহু পুরোনো। ১৭৩৩ সালে Stephen Hales একটি ঘোড়ার ধমনিতে কাচের নল প্রবেশ করিয়ে সরাসরি ধমনীয় রক্তচাপ পরিমাপ করেন। তাঁর পরীক্ষা আধুনিক হেমোডাইনামিক পরিমাপের প্রাথমিক ভিত্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। Hales বদ্ধ স্থান, জাহাজ ও কারাগারে বায়ু চলাচল উন্নত করার জন্য যান্ত্রিক বায়ুপ্রবাহ ব্যবস্থা নিয়েও কাজ করেছিলেন; তবে তাঁকে আধুনিক রোগী-ভেন্টিলেটরের আবিষ্কারক বলা যথার্থ নয়। [2]
B. এক্স-রে প্রযুক্তি
১৮৯৫ সালে Wilhelm Conrad Röntgen অজানা একধরনের ভেদক্ষম বিকিরণ আবিষ্কার করেন, যা পরবর্তীকালে এক্স-রে নামে পরিচিত হয়। এর মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ছাড়াই মানবদেহের অভ্যন্তরীণ গঠন পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয় এবং আধুনিক মেডিকেল ইমেজিংয়ের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। [3]
C. ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি
১৯০৩ সালে Willem Einthoven ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত নির্ভুলভাবে পরিমাপের জন্য string galvanometer নির্মাণ করেন। এর ফলে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ECG) ব্যবহারিক ক্লিনিক্যাল প্রযুক্তিতে পরিণত হয়। ECG-বিষয়ক অবদানের জন্য তিনি ১৯২৪ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। [4]
এসব আবিষ্কারের পর রোগী মনিটর, ডিফিব্রিলেটর, ডায়ালাইসিস মেশিন, অ্যানেসথেশিয়া মেশিন, পেসমেকার, ইনফিউশন পাম্প এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস প্রযুক্তির বিকাশ হাসপাতালগুলোকে ক্রমে প্রকৌশলনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে।
IV. বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৃদ্ধি পায়। ১৯৪৮ সালে চিকিৎসায় ইলেকট্রনিকস ও প্রকৌশলের প্রয়োগ নিয়ে একটি আন্তঃসমিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। [5]
১৯৫৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় International Conference of Medical and Biological Engineering-এ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও পদার্থবিজ্ঞানীরা International Federation for Medical Electronics and Biological Engineering প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তিত হয়ে International Federation for Medical and Biological Engineering (IFMBE) হয়। [6]
IFMBE-এর Clinical Engineering Division স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তির জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা, পেশাগত সক্ষমতা, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় কাজ করছে। [7]
V. “ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং” পরিভাষার সূচনা
“Clinical Engineering” পরিভাষাটির প্রাথমিক ও বহুল উদ্ধৃত প্রকাশিত ব্যবহার পাওয়া যায় James R. Landoll ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ Cesar A. Caceres-এর ১৯৬৯ সালের গবেষণাপত্রে। “Automation of Data Acquisition in Patient Testing” শিরোনামের নিবন্ধটি Proceedings of the IEEE-এর ৫৭তম খণ্ডের ১১তম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। [8]
Caceres-কে সাধারণভাবে পরিভাষাটির অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার শুধু যন্ত্র মেরামতের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি নন; বরং চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির মূল্যায়ন, সংযোজন, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিতকারী প্রকৌশল পেশাজীবী।
১৯৭০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল। সে সময় প্রতি ২৫০টি হাসপাতাল শয্যার জন্য প্রায় একজন ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচিত হয়েছিল। এ ধরনের অনুমান মেডিকেল প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ এবং হাসপাতালভিত্তিক প্রকৌশল সেবার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব নির্দেশ করেছিল। [5]
VI. হাসপাতালভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিকাশ
১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে হাসপাতালগুলোতে ইলেকট্রনিক মেডিকেল ডিভাইসের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, পরিমাপের নির্ভুলতা, ক্যালিব্রেশন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
প্রথম দিকের Clinical Engineering Department-গুলোর প্রধান দায়িত্ব ছিল যন্ত্রপাতির তালিকা সংরক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা, ত্রুটি মেরামত, প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্যালিব্রেশন। বর্তমানে দায়িত্বগুলো বিস্তৃত হয়ে নিম্নলিখিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে:
1. প্রযুক্তির প্রয়োজন নিরূপণ ও পরিকল্পনা;
2. প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত;
3. দরপত্র ও ক্রয়প্রস্তাব মূল্যায়ন;
4. গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা ও কমিশনিং;
5. ক্যালিব্রেশন ও কর্মক্ষমতা যাচাই;
6. প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ;
7. মেডিকেল ডিভাইসজনিত দুর্ঘটনা তদন্ত;
8. ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ ও মানবিক উপাদান মূল্যায়ন;
9. ঝুঁকি, মান ও নিয়ন্ত্রক পরিপালন ব্যবস্থাপনা; এবং
10. প্রতিস্থাপন ও অবসায়নসহ সম্পূর্ণ জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা।
WHO-এর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচিতে কর্মক্ষমতা পরীক্ষা, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক রক্ষণাবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন। [9]
VII. পেশাগত সংগঠন ও সনদায়ন
A. প্রাথমিক সনদায়ন
১৯৭০-এর দশকে Association for the Advancement of Medical Instrumentation (AAMI)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের আনুষ্ঠানিক সনদায়ন শুরু হয়। একই সময়ে American Board of Clinical Engineering (ABCE)-ও একটি সনদ কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল। পরবর্তীকালে এসব কর্মসূচি একীভূত ও পুনর্গঠিত হয়। [5], [10]
AAMI ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাইয়ের পর নতুন Clinical Engineering Certification আবেদন গ্রহণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। [11]
B. ACCE প্রতিষ্ঠা
১৯৮৯ সালে AAMI সম্মেলনে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পেশাজীবী সংগঠন প্রতিষ্ঠার আলোচনা শুরু হয়। ধারাবাহিক সাংগঠনিক সভার পর American College of Clinical Engineering (ACCE) ১৯৯০ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। [12]
C. আধুনিক CCE কর্মসূচি
২০০২ সালে Healthcare Technology Certification Commission (HTCC) গঠনের মাধ্যমে আধুনিক Certification in Clinical Engineering (CCE) কর্মসূচি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। [10]
২০২৬ সালের HTCC কাঠামোতে তিনটি পৃথক পেশাগত সনদ রয়েছে:
• Clinical Technology Professional (CTP): অভিজ্ঞ প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য;
• Associate Clinical Engineer (ACE): পেশাজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রকৌশলীদের জন্য;
• Certified Clinical Engineer (CCE): উন্নত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য।
CTP ও ACE বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত। CTP ও ACE-এর ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা এবং CCE-এর ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার পর পরিস্থিতিভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে পরীক্ষাগুলো নিরাপদ ভার্চুয়াল পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি HTCC সনদের মেয়াদ তিন বছর এবং ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়নের ভিত্তিতে নবায়ন করতে হয়। [13]
AAMI Certification Institute বর্তমানে CABT, CBET, CRES, CHTM এবং CISS সনদ পরিচালনা করে। এগুলো ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের CCE সনদ থেকে পৃথক এবং মূলত বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তি, যন্ত্রসেবা, রেডিওলজি প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও স্টেরিলাইজেশন-সংশ্লিষ্ট দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেয়। [14]
VIII. Health Technology Management-এ বিবর্তন
প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সেবা প্রধানত যন্ত্র মেরামত ও নিরাপত্তা পরীক্ষাকেন্দ্রিক ছিল। আধুনিক ব্যবস্থায় প্রযুক্তির প্রয়োজন নির্ধারণ থেকে প্রতিস্থাপন ও অবসায়ন পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবনচক্র পরিচালনা করা হয়।
WHO সাধারণত Health Technology Management (HTM) পরিভাষা ব্যবহার করে। অন্যদিকে AAMI-সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান Healthcare Technology Management শব্দসমষ্টি ব্যবহার করে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির নির্বাচন, সংগ্রহ, গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, ইনভেন্টরি, নিরাপদ ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং অবসায়ন অন্তর্ভুক্ত।
WHO-এর মতে, প্রশিক্ষিত ও যোগ্য বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী মেডিকেল ডিভাইসের নকশা, মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ ব্যবহারের প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয়। WHO-এর ব্যবহারে “Biomedical Engineer” ধারণার মধ্যে বিভিন্ন দেশের clinical engineer, medical engineer এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি পেশাজীবীরাও অন্তর্ভুক্ত। [15]
IX. রোগী নিরাপত্তায় ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং
অনুপযুক্ত মেডিকেল ডিভাইস নির্বাচন, ভুল স্থাপন, ক্যালিব্রেশনের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ অথবা ব্যবহারকারীর ভুল রোগীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে নিম্নলিখিত কাজ করে:
1. অনিরাপদ বা ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র শনাক্তকরণ;
2. পরিমাপের নির্ভুলতা ও কর্মক্ষমতা যাচাই;
3. বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক ও সফটওয়্যারজনিত ঝুঁকি মূল্যায়ন;
4. ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ;
5. যন্ত্রজনিত ঘটনা ও দুর্ঘটনা তদন্ত;
6. প্রস্তুতকারকের recall ও safety notice বাস্তবায়ন;
7. জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা; এবং
8. রক্ষণাবেক্ষণ, ঝুঁকি ও কর্মক্ষমতার নথি সংরক্ষণ।
WHO-এর মেডিকেল ডিভাইস বিষয়ক প্রকাশনাগুলোতে মানবসম্পদ, ইনভেন্টরি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ ব্যবহারের সমন্বিত ব্যবস্থাকে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। [9], [15]
X. কোভিড-১৯ মহামারিতে ভূমিকা
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, পালস অক্সিমিটার, রোগী মনিটর, CPAP/BiPAP, high-flow nasal cannula এবং মেডিকেল গ্যাস ব্যবস্থার প্রয়োজন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
ক্লিনিক্যাল ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবীরা জরুরি যন্ত্র স্থাপন, গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, অক্সিজেন অবকাঠামো পরিচালনা, মেরামত, ব্যবহারকারী প্রশিক্ষণ এবং বিকল্প প্রযুক্তির ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। WHO মহামারি প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে অক্সিজেন-সংশ্লিষ্ট মেডিকেল যন্ত্রের সম্পূর্ণ জীবনচক্র নিয়ে প্রশিক্ষণ উপকরণ প্রকাশ করেছে। [16]
মহামারিটি প্রমাণ করে যে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শুধু সহায়ক রক্ষণাবেক্ষণ সেবা নয়; এটি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতি ও হাসপাতালের স্থিতিস্থাপকতার একটি অপরিহার্য অংশ।
XI. ২০২৬ সালে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কার্যপরিধি
২০২৬ সালে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কার্যপরিধির মধ্যে প্রচলিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
• মেডিকেল ডিভাইস জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা;
• হাসপাতালভিত্তিক Health Technology Assessment (HTA);
• মূলধনী প্রযুক্তি ও বাজেট পরিকল্পনা;
• মেডিকেল ডিভাইস নেটওয়ার্কিং ও আন্তঃকার্যক্ষমতা;
• হাসপাতাল তথ্যব্যবস্থার সঙ্গে ডিভাইস সংযুক্তি;
• মেডিকেল ডিভাইস সাইবার নিরাপত্তা;
• Software as a Medical Device মূল্যায়ন;
• কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মেডিকেল প্রযুক্তি;
• টেলিমেডিসিন ও দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণ;
• মেডিকেল গ্যাস ও অক্সিজেন অবকাঠামো;
• রোবোটিক ও ডিজিটাল সার্জারি প্রযুক্তি;
• দুর্যোগ ও মহামারি প্রস্তুতি; এবং
• পরিবেশসম্মত প্রতিস্থাপন ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
WHO-এর ২০২৫ সালের Health Technology Assessment নির্দেশিকা অনুযায়ী, HTA হলো একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির ক্লিনিক্যাল, অর্থনৈতিক, নৈতিক, সাংগঠনিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়। ২০২৫ সালের হালনাগাদ medical device policy নির্দেশিকাতেও নিয়ন্ত্রণ, HTA, HTM, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং মেডিকেল ডিভাইস nomenclature-এর সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। [17], [18]
XII. বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জাতীয়, বিশেষায়িত, মেডিকেল কলেজ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক মেডিকেল ডিভাইস ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্ববর্তী প্রকাশনায় National Equipment Maintenance and Engineering Workshop (NEMEW)-এর মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালের বায়োমেডিক্যাল যন্ত্র মেরামত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে। [19]
World Bank-এর Bangladesh Health Sector Support Project-সংক্রান্ত মূল্যায়নে স্বাস্থ্য খাতের ক্রয়ব্যবস্থাকে অত্যন্ত প্রযুক্তিগত, জটিল ও বৈচিত্র্যময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে টেকসইভাবে procurement manager, biomedical engineer এবং supply-chain বিশেষজ্ঞের সমন্বিত দল প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। [20]
বাংলাদেশে মেডিকেল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে Directorate General of Drug Administration (DGDA) দায়িত্ব পালন করে। তবে যন্ত্রের বাজারে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রযুক্তির সম্পূর্ণ জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা পৃথক কিন্তু পরস্পরসম্পর্কিত কার্যক্রম। [21]
এ প্রেক্ষাপটে প্রতিটি স্তরের সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী Clinical and Biomedical Engineering Department প্রতিষ্ঠার নীতিগত ভিত্তি রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোর প্রধান উপাদান হওয়া উচিত:
1. কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জাতীয় Clinical Engineering and HTM Directorate;
2. বিভাগ ও অঞ্চলে বিশেষায়িত প্রকৌশল সহায়তা কেন্দ্র;
3. মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ বিভাগ;
4. জেলা হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিবিদ;
5. উপজেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক বা cluster-based প্রকৌশল সহায়তা;
6. জাতীয় মেডিকেল যন্ত্র ইনভেন্টরি ও computerized maintenance management system;
7. অভিন্ন গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রোটোকল; এবং
8. ক্রয়, স্থাপন, প্রশিক্ষণ, ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবসায়নে প্রকৌশলীর বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ।
এসব প্রস্তাব বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার, বিনিয়োগের সুরক্ষা, পরিষেবার ধারাবাহিকতা এবং রোগী নিরাপত্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে নীতিগত সুপারিশ হিসেবে বিবেচ্য।
XIII. আলোচনা
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিবর্তনকে তিনটি প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্যায়ে প্রকৌশল ও পদার্থবিজ্ঞানের সাহায্যে শারীরবৃত্তীয় সংকেত পরিমাপ এবং চিকিৎসা যন্ত্র উদ্ভাবিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষায়িত প্রকৌশল ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। তৃতীয় এবং বর্তমান পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি পরিকল্পনা, জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা, HTA, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, আন্তঃকার্যক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং নীতিনির্ধারণে সম্প্রসারিত হয়েছে।
একটি হাসপাতালের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা শুধু কতগুলো আধুনিক যন্ত্র রয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। যন্ত্রগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়েছে কি না, সঠিকভাবে স্থাপন ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, ব্যবহারকারীরা প্রশিক্ষিত কি না এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ের সমন্বিত ব্যবস্থাপনাই প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণ করে।
XIV. উপসংহার
ক্লিনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইতিহাস চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রকৌশল প্রয়োগের ধারাবাহিক বিবর্তনের ইতিহাস। প্রাথমিক রক্তচাপ পরিমাপ, এক্স-রে ও ECG থেকে শুরু করে আধুনিক নেটওয়ার্কযুক্ত, সফটওয়্যারচালিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মেডিকেল ডিভাইস পর্যন্ত প্রতিটি অগ্রগতি এই পেশার গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
১৯৬৯ সালে “Clinical Engineering” পরিভাষার বহুল উদ্ধৃত ব্যবহারের পর পেশাটি যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্রিক সেবা থেকে বিকশিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি জীবনচক্র ব্যবস্থাপনা, রোগী নিরাপত্তা, প্রযুক্তি মূল্যায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি সংযুক্তি এবং কৌশলগত হাসপাতাল পরিচালনার অংশে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় স্তরভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক ক্লিনিক্যাল ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কাঠামো প্রতিষ্ঠা রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা এবং সরকারি বিনিয়োগের কার্যকর ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রেফারেন্সসমূহ
[1] American College of Clinical Engineering, “Clinical Engineer Defined,” ACCE, Henderson, NV, USA, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://accenet.org/about/Pages/ClinicalEngineer.aspx
[2] J. P. Saul et al., “Heart rate variability and the dawn of complex physiological signal analysis,” Philosophical Transactions of the Royal Society A, vol. 379, no. 2212, 2021, doi: 10.1098/rsta.2020.0255. [Online]. Available: https://doi.org/10.1098/rsta.2020.0255
[3] Nobel Prize Outreach, “Wilhelm Conrad Röntgen—Facts,” NobelPrize.org, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.nobelprize.org/prizes/physics/1901/rontgen/facts/
[4] Nobel Prize Outreach, “Willem Einthoven—Facts,” NobelPrize.org, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.nobelprize.org/prizes/medicine/1924/einthoven/facts/
[5] R. P. Zambuto, “Clinical engineers in the 21st century,” IEEE Engineering in Medicine and Biology Magazine, vol. 23, no. 3, pp. 37–41, May–Jun. 2004, doi: 10.1109/MEMB.2004.1317980. [Online]. Available: https://doi.org/10.1109/MEMB.2004.1317980
[6] International Federation for Medical and Biological Engineering, “History of IFMBE,” accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://ifmbe.org/about-ifmbe/history-of-ifmbe/
[7] International Federation for Medical and Biological Engineering, “Clinical Engineering Division,” accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://ifmbe.org/organisation-structure/divisions/clinical-engineering-division/
[8] J. R. Landoll and C. A. Caceres, “Automation of data acquisition in patient testing,” Proceedings of the IEEE, vol. 57, no. 11, pp. 1941–1953, Nov. 1969, doi: 10.1109/PROC.1969.7440. [Online]. Available: https://doi.org/10.1109/PROC.1969.7440
[9] World Health Organization, Medical Equipment Maintenance Programme Overview. Geneva, Switzerland: WHO, 2011, ISBN: 978-92-4-150153-8. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789241501538
[10] J. O. Wear, “Certification in the United States, Canada and Asia,” Global Clinical Engineering Journal, special issue, pp. 15–22, 2018. [Online]. Available: https://globalce.org/index.php/GlobalCE/article/download/29/9
[11] American College of Clinical Engineering, “Clinical Engineering Certification,” ACCE News, Jul. 1999. [Online]. Available:https://accenet.org/resources/Newsletters/ACCENewsJuly1999.pdf
[12] American College of Clinical Engineering, “Our History,” ACCE, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://accenet.org/about/Pages/History.aspx
[13] Healthcare Technology Certification Commission, Certification Handbook—2026 Virtual Edition. HTCC, Jan. 2026. [Online]. Available:https://accenet.org/CECertification/Documents/HTCC_Certification_Handbook_2026_%202.4.26%20Final_Clean.pdf
[14] AAMI Certification Institute, “Certifications,” Association for the Advancement of Medical Instrumentation, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://aami.org/certifications/
[15] World Health Organization, Human Resources for Medical Devices: The Role of Biomedical Engineers. Geneva, Switzerland: WHO, 2017, ISBN: 978-92-4-156547-9. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789241565479
[16] World Health Organization, “Trainings for Medical Devices,” WHO, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.who.int/teams/health-product-policy-and-standards/assistive-and-medical-technology/medical-devices/management-use/trainings
[17] World Health Organization, Health Technology Assessment of Medical Devices, 2nd ed. Geneva, Switzerland: WHO, 2025, ISBN: 978-92-4-011087-8. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789240110878
[18] World Health Organization, Development of Medical Device Policies, 2nd ed. Geneva, Switzerland: WHO, 2025, ISBN: 978-92-4-011440-1. [Online]. Available: https://www.who.int/publications/i/item/9789240114401
[19] Directorate General of Health Services, Health Bulletin 2008. Dhaka, Bangladesh: DGHS, Ministry of Health and Family Welfare, 2008. [Online]. Available:https://old.dghs.gov.bd/licts_file/images/Health_Bulletin/HealthBulletin2008.pdf
[20] World Bank, Bangladesh Health Sector Support Project: Project Appraisal Document. Washington, DC, USA: World Bank, 2017. [Online]. Available: https://documents1.worldbank.org/curated/en/509301501466454241/txt/BANGLADESH-HSSP-PAD-07112017.txt
[21] World Health Organization Bangladesh, “Strengthening National Regulatory Authority,” WHO, accessed Jul. 12, 2026. [Online]. Available: https://www.who.int/bangladesh/activities/strengthening-national-regulatory-authority

Address

Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Clinical Engineering Association-Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Clinical Engineering Association-Bangladesh:

Shortcuts

Share