Lost in Bangladesh

Lost in Bangladesh “Move through quiet corners, tracing the unseen and unspoken. Humanity is the human race, which includes everyone on Earth. Spread Love & stay with us.

Every word written, every image framed, holds memory, solitude, and fragments of beauty hiding in forgotten streets, fleeting glances, and what the world lets slip away.” It’s also a word for the qualities that make us human, such as the ability to love and have compassion, be creative, and not be a robot or alien. We are trying to ensure Human Rights of Poor Helpless People specially children's. We dreamt one day we can reach our GOAL!

Dear December, Please Be Kind, My Friend. Be Kind..🌼,☝🏽📍Istanbul, Turkey
30/11/2025

Dear December,
Please Be Kind, My Friend. Be Kind..🌼,☝🏽
📍Istanbul, Turkey

21/11/2025

“আর এই ক্ষুদ্র কীটদের শাস্তি দেওয়ার জন্যে না আমার আসমান থেকে কোনো বাহিনী পাঠানোর প্রয়োজন ছিলো! আম যা করেছি, ওটা ছিল মাত্র বিকট একটা গর্জন, এর ফলে তারা সবাই একদম নিথর, নিস্তব্ধ হয়ে গেলো! তারা হতবম্ব হয়ে এদিকে ওদিকে ছোটাছুটি শুরু করলো”

— সূরা ইয়াসিন, আয়াত ২৮,২৯

Dear November,Please Be Kind, My Friend. Be kind...🌼📍Somewhere in Istanbul
05/11/2025

Dear November,
Please Be Kind, My Friend. Be kind...🌼

📍Somewhere in Istanbul

🟫“কফি এবং আফ্রিকান মুসলিমদের এক নিরব কান্না”এক পরন্ত দুপুরবেলা, যখন তানজানিয়ার এক কফি হাউজে বসে ছিলাম, আর তখনি পেছনের দূ...
26/10/2025

🟫“কফি এবং আফ্রিকান মুসলিমদের এক নিরব কান্না”

এক পরন্ত দুপুরবেলা, যখন তানজানিয়ার এক কফি হাউজে বসে ছিলাম, আর তখনি পেছনের দূরাগত মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসছিল আজানের সুমধুর স্বর, সে এক অদ্ভুত, চমৎকার সময়। চারপাশে আফ্রিকান পুরুষেরা বসে গল্প করছিল, কেউ কেউ ঝিমোচ্ছিল কফির ধোঁয়ার ভেতরে, আর একজন বৃদ্ধ বলছিলেন, “কফি মানেই ধৈর্য, এটা তোমাকে অপেক্ষা করতে শেখায়, যেমন সৃষ্টিকর্তা শেখান।”

আমার মনে হলো, এই কফির কাপ শুধু একখণ্ড স্বাদ নয়, এটা একখণ্ড ইতিহাস, একখণ্ড আত্মা, একটুকরো প্রার্থনা। এই কাপের ভেতর লুকিয়ে আছে শত শত বছর ধরে নিঃশব্দে পুড়ে-পুড়ে খাঁটি হয়ে ওঠা আফ্রিকার মানুষদের গল্প, তাদের হারিয়ে যাওয়া নাম, আর ইসলামের ছায়ায় জন্ম নেওয়া এক বর্ণাঢ্য ধারা।

কফির জন্ম তো ইথিওপিয়ার কাফা অঞ্চলে। একবার এক ছাগলপালক, ‘কালদী’.. দেখল তার ছাগলগুলো এক ধরনের ফল খাওয়ার পর অদ্ভুত রকম চঞ্চল হয়ে উঠছে। সেখান থেকেই শুরু। প্রথমে স্থানীয় সুফি সাধকেরা এই বীজের নির্যাস পান করতেন রাতে জেগে প্রার্থনা করার জন্য। কারণ, কফি তাদের জাগিয়ে রাখত। কফি, সেই অর্থে, ছিল এক ধরণের ধ্যান। এক ধরণের ইবাদত।

আর তারপর ধীরে ধীরে ইয়েমেন, মক্কা, কায়রো হয়ে এটি ছড়িয়ে পড়ে গোটা মুসলিম বিশ্বে। ইউরোপ যখন কফিকে শুধুই এক ধরণের “বিকেলের পানীয়” হিসেবে জানল; তখন আফ্রিকান মুসলমানেরা একে জানত ধ্যানের সঙ্গী, জ্ঞানচর্চার সহচর, আর সূফিদের রাতে জেগে থাকার সাথি। আমি সেইসব ইতিহাস নিয়ে ভাবছিলাম, তখন পাশে বসে থাকা আমার গাইড বললেন,

“এই কফিটা দেখছো? এটা আমাদের মাটি থেকে এসেছে। কিন্তু সারা দুনিয়া আমাদের আর মনে রাখেনি”

তাঁর কণ্ঠে ছিল একধরনের হাহাকার, একধরনের মৌন প্রতিবাদ। বর্তমানে নামীদামি সব ক্যাফে, রেস্টুরেন্টে কফির গায়ে যেসব বড় বড় নাম লেখা থাকে, কলোম্বিয়ান রোস্ট, ইতালিয়ান এসপ্রেসো, ফ্রেঞ্চ প্রেস, আমেরিকানো, কাপুচিনো; কিন্তু সেখানে নেই আফ্রিকান মুসলিমদের নাম। অথচ ইতিহাস বলছে, প্রথম কফি হাউজ তৈরি হয়েছিল ওসমানীয় সাম্রাজ্যে। কনস্টান্টিনোপলে, যেখানে পুরুষেরা বসে কফির সঙ্গে আলোচনা করত রাজনীতি, ধর্ম, সাহিত্য। এইজন্যেই...

“কফি হাউজগুলো একসময় 'জ্ঞানীদের বিদ্যালয়' নামে পরিচিত ছিল”

আজকের ক্যাফেগুলোর “মোডার্ন ল্যাটে” বা “ক্যারামেল ম্যাকিয়াটো” কফি গুলোতে সেই আগেকার আমলের মতন জ্ঞান নেই, ধ্যান নেই, এমনকি গভীরতাও নেই। তবু, সেই আফ্রিকান কফি হাউজে এক দুপুরে বসে, আমি টের পেয়েছিলাম, এই কাপের ভেতরে সময়ের দীর্ঘশ্বাস জমে আছে।

“জানেন, কফি আর ইসলামের সম্পর্কটা কত গভীর.........??”

ইতিহাসে যাকে “ক্বাহওয়া” বলা হতো, সেটাই আজকের কফি। এই শব্দের শিকড় আরবিতে, যার মানে, 'এক ধরনের উত্তেজক পানীয়', কিন্তু অনেক সুফির মতে এর মানে ছিল আত্মার এক ধরণের জাগরণ ইয়েমেনের সুফিরা রাতভর জিকির করতেন, ধ্যানে বসতেন, আর পাশে থাকত কফির পেয়ালা। তাদের বিশ্বাস ছিল, আল্লাহর নাম স্মরণ করতে হলে শরীরকেও সচল রাখতে হয়। কফি ছিল সেই সাধনার শরীরঘনিষ্ঠ অংশ। এমনকি প্রথম কফিশপ তৈরি হয়েছিলও মুসলিম দুনিয়ায়। ১৪৭৫ সালে কনস্টান্টিনোপলের ‘কিভা হান’ নামের দোকানটিকে ধরা হয় ইতিহাসের প্রথম পাবলিক কফি হাউজ। সেখানে একসঙ্গে বসতেন দার্শনিক, ব্যবসায়ী, ধর্মতাত্ত্বিক, কবি, আরও কত মানুষ। তারা কফির পেয়ালার ধোঁয়ার ভেতরে খুঁজতেন সমাজের জটিলতা, রাজনীতির ধাঁধা, ঈশ্বরের ছায়া। পাশ্চাত্য দুনিয়া তখনও জানত না কফির গন্ধ কেমন। তখনও ইউরোপের মানচিত্রে কফি ছিল 'মুসলমানদের পানীয়'। এমনকি রোমান ক্যাথলিক চার্চ একসময় কফিকে “শয়তানের পানীয়” বলে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল। পরে পোপ ক্লেমেন্ট নিজে এক কাপ কফি খেয়ে বলেছিলেন,

“এই শয়তানের পানীয় এতই সুস্বাদু… শুধুমাত্র অবিশ্বাসীদের একচেটিয়া মনোভাবে এই পানীয় ছেড়ে দেওয়াটা দুঃখজনক হবে”

কফি তখনও পুরোপুরি ছিল পূর্বের জিনিস। আর আফ্রিকার বুকেই ছিল তার জন্ম। ইথিওপিয়া, যেখানে অরণ্যের ভেতর গেরিলা লড়াইয়ের মতো মাথা তুলে উঠত কফির বুনো গাছ; সেখানেই কফি প্রথম প্রাণ পেল। আর মুসলমানরাই তাকে প্রথম ভালোবাসা দিল। তবু আজ ইতিহাসের গায়ে এই আফ্রিকান মুসলমানদের নাম নেই। আমরা জানি ‘ব্রাজিলের কফি রপ্তানি’, আমরা শুনি ‘ক্যালিফোর্নিয়ার স্পেশাল রোস্টারির’ গল্প; কিন্তু এই কফি পান করার প্রথার শুরুটা হয় আফ্রিকান দেশ থেকে। তখন এটি ছিল রাতভর ধ্যান, সুফিবাদের প্রার্থনা আর জিকিরের সঙ্গে যুক্ত। আসলে এই গল্পটা একটি “নীরব উত্তরাধিকার”, যা আফ্রিকার কৃষক, মাটি, মানুষের রক্ত, প্রার্থনা আর ইতিহাসের কিছু ভুলে যাওয়া নামের সঙ্গে ঘুরপাক খায়।

তানজানিয়ার রাজধানী দার এস সালামের এক কফি হাউজে আমি আর আমার গাইড বসে ছিলাম; এবং আমার গাইডের চোখে যখন আমি তাকালাম, তার দৃষ্টিতে যেন দেখলাম এক নিঃস্ব পুরনো রাজা, যার প্রাসাদ অন্য কেউ দখল করে নিয়েছে। তিনি বললেন,

“এখন সব মানুষ ফ্যাশনের মতো চুমুক দেয় কফিতে। কিন্তু আমাদের জন্য এটা ছিল আত্মা, এক ধরণের ইবাদত”

আমি কাপটা হাতে নিলাম। আর টের পেলাম, সত্যিই, এটা শুধু কফি নয়, এটা 'একটা সভ্যতার চুমুক'। তানজানিয়ার আকাশে তখন হালকা রোদ, কিন্তু বাতাসে লেগে ছিল মেঘের গন্ধ। আমি কফি হাউজের কোণার টেবিলে বসে জানলার বাইরে তাকিয়ে ছিলাম, যেখানে সাদা জামাকাপড় পরে হেঁটে যাচ্ছিলো একজন শিশু, হাতে ছিল সাইকেলের চাকা। দূরে কোথাও আজান হচ্ছিল, ভেসে আসছিল কিছু পাখির ডাক। কফির কাপটা ঠোঁটে তুলে আমি হঠাৎ করেই খুব পুরোনো একটা জিনিস মনে করতে চাইলাম, আমার প্রথম কফি। না, সেটা কোনো রোমান্টিক জায়গা ছিল না; সেটা ছিল শীতলক্ষ্যার পাড়ে বসে, পুরান ঢাকার এক বন্ধুর সাথে ভাগ করে খাওয়া এক কাপ দুধ-কফি, যার স্বাদে যতটা না ছিল ক্যাফেইন, তার চেয়ে বেশি ছিল সন্ধ্যার আলস্য, বন্ধুত্বের নির্ভরতা, আর কৈশোরের প্রথম হারিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা। জীবনে যতবার আমি সত্যি সত্যি কফির স্বাদ পেয়েছি, সেটা শুধুমাত্র জিভে ছিলো না, ছিলো পাঁজরের নিচেও। কফি যদি শুধু জিহ্বার অভিজ্ঞতা হতো, তাহলে তাকে নিয়ে এত কথা বলার কিছু ছিল না। কিন্তু কফি হচ্ছে এমন এক জিনিস, যা কখনও প্রার্থনার মতো, কখনও প্রেমের মতো, কখনও বা বিষাদের মতো করে গায়ে লাগে। যারা দীর্ঘ একাকীত্ব জানে, নিরবতা পছন্দ করে, নিজের মতন করে থাকতে এবং বাঁচতে পছন্দ করে, সবার থেকে আলাদা একা চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে.. তারা বুঝে কফির গন্ধ কেনো এরকম নিরবতা এবং এক প্রকার হাহাকারের কথা বলে।

তানজানিয়ার এই কফি হাউজে বসে আমি হঠাৎ অনুভব করি, এখানে সময় বয়ে যায় না, বরং স্মৃতি জমে থাকে। কফির কাপ শেষ হয়, কিন্তু সময়ের ভেতরে সেই চুমুকটা রয়ে যায়, ঠোঁটের ভাঁজে, নিঃশ্বাসের ঘ্রাণে, মগের গায়ে লেগে থাকা এক বিন্দু কফির ছাপের মতো। পাশের টেবিলে কেউ হাসছে, কেউ পত্রিকা পড়ছে সুহেলি ভাষায়, আর দূরের রাস্তায় একটা ছেলের সাইকেলের বেল বাজছে হঠাৎ করে। আমি বুঝতে পারি, এই কফি শুধু আফ্রিকার নয়, এই কফি আমার, আপনার, সবার। এই কফির প্রতিটা চুমুকে আমি শুনতে পাই অতীতের কোনো ক্ষীণ শব্দ, মায়ের চায়ের কাপ নেড়ে দেওয়া চামচের টুংটাং, কিংবা বাবার গভীর রাত অবধি পড়ার টেবিলে পড়ে থাকা থার্মাস। আমি বুঝতে পারি, এই কফি একটা স্বাদ নয়, একটা প্রতিধ্বনি। একটা হারিয়ে যাওয়া সময়, যা প্রতিবার ঠোঁট ছোঁয়ালেই ফিরে আসে।

তানজানিয়ার সেই কফি হাউজে বসে আমি হঠাৎ নিজেকে দেখে ফেলি যেন আয়নার এক বিপরীত পাশে। আমার সামনে রাখা কাপের ধোঁয়ার ভিতর দিয়ে চলে আসে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার এক ভোর, কুয়াশায় ঢাকা। শীতের সকালে, বাসার বারান্দায় বসে আম্মু রুটির সঙ্গে গরম দুধ-কফি দিতেন, কফির রঙটা হালকা, কিন্তু গন্ধটা ভারী ছিল। তখন আমি জানতাম না ‘ক্যাফেইন’ কী, ‘অ্যাসিডিক নোটস’ কাকে বলে?, বা বারিস্তা কীভাবে কফির জন্য দুধকে নরম ফেনা বানিয়ে দেয়। তখন কেবল জানতাম, এই কফির গন্ধ মানে ‘আমার বাড়ি’, এই স্বাদ মানে, ‘আমার আম্মুর হাতে বানানো এক কাপ কফি’।

আর এখন?

“এখন কফির কাপ সামনে এলেই আমি একটু ভয় পাই”

কারণ এই কাপটা সময়ের মতো, কখনও মিষ্টি, কখনও তেতো, আর কখনও এমন একটা অনুভূতি জাগায়, যেটার নামই আমি ঠিকমতো বলতে পারবো না। তাছাড়া কফির ভিতর জমে থাকে আমার দেখা না হওয়া মানুষদের মুখ, লেখা না হওয়া চিঠির লাইন, ফেরত না আসা ভ্রমণপথ। আমি একেক চুমুকে শুনতে পাই নিজের হারিয়ে যাওয়া অংশগুলোর হাহাকার, যারা আমাকে ছেড়ে গেছে, অথচ, তারা ছেড়ে গিয়েও আমার ভিতরেই থেকে গেছে।

তখন বিকেল ৪টার মতন বাজে। কফি হাউজে আমি এবং আমার গাইড বসে আছি আর গল্প করছি; ঠিক তখনি, সেই ক্যাফেটার ভিতর ঢুকেছিল একটা যুবক, তার পরনে ছিল ছেঁড়া জার্সি, চোখে ছিল ক্লান্তি আর কপালে একরাশ স্বপ্নহীনতা। কফির দাম জিজ্ঞেস করে ফিরে গেলো চুপচাপ, হয়তো তার পকেটে শুধু এক টুকরো পাউরুটির খরচই ছিল। আমি তাকিয়ে থাকলাম তার দিকে অনেকক্ষণ। ভাবলাম, বর্তমানে এই কফির কাপটা কি সত্যিই আমাদের সবার জন্য? নাকি এটা এখন শুধুই এক শ্রেণির আধুনিকতা, এক বিশেষ গোষ্ঠীর রুচিবোধের পরিচায়ক হয়ে গেছে?

আমার সামনে তখন এক কাপ ব্ল্যাক কফি, কোনো দুধ নেই, চিনি নেই, মুছে ফেলা হয়নি তেতোভাব। সেই কফির দিকে তাকিয়ে আমি ভাবি, আমাদের জীবনও কি ঠিক এইরকমই? আমাদের সবার দিনগুলো কি আসলে একেকটা ব্ল্যাক কফি, যেখানে যে যার মতো করে খুঁজে নিচ্ছে নিজস্ব উষ্ণতা?

আমি চুমুক দিই, চোখ বন্ধ করি। ধীরে ধীরে সেই গন্ধ আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় আরও পুরোনো দিনে। এক বিকেলে, এক বইমেলায়, যখন আমি একটি মেয়ের সঙ্গে হাঁটছিলাম হাত ধরাধরি করে, তখন আমরা দু’জনে একসাথে কফি খেয়েছিলাম, স্টাইরোফোম কাপের ভিতর ঢেলে দেওয়া উষ্ণ কিছু। মেয়েটির ঠোঁটে লেগে ছিল কফির ফেনা, আমি চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম, কিছু বলিনি। সেই মুহূর্তটা যেন এখনও আমার গলায় আটকে আছে।

“আজ এত বছর পর সেই কফি কি আবার ফিরিয়ে আনতে পারবে সেই মেয়েটির হেসে উঠা?”

“হয়তো না।”

কিন্তু সে স্মৃতি থেকে আজ আমি পালাতে পারছি না। কারণ কফি কখনওই কেবল একটি পানীয় নয়, এটি একটি দরজা, যা খুললে ভেতর থেকে উঠে আসে আমাদের লুকিয়ে রাখা অতীত।

সেই তানজানিয়ান দুপুরে, কাঠের জানালার ফাঁক দিয়ে ছেঁকে আসা আলো আর কফির ধোঁয়ার ভিতর একসময় আমি একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে গেলাম। চারপাশে কেউ ছিল, অথচ কেউ ছিল না। এমন এক নিঃসঙ্গতা, যা মানুষের ভিড়ে আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এই বোধটা আগে কোথাও হয়েছিল কি? মনে পড়ে না। শুধু মনে পড়ে, ঢাকার ধানমণ্ডির এক ক্যাফেতে একবার বসে ছিলাম, জানলার ধারে, ঠিক এমন বিকেলে। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম, কিন্তু বুঝতে শিখেছিলাম, কফি শুধু একধরণের পানীয় নয়। বরং মানুষের জীবনের প্রত্যেকটা অধ্যায়ের সাথে কফি জড়িত।

আসলে, প্রেমিকেরা খুব কমই কফি পায়। তারা পায় চা, যেখানে দু’জনের ভাগ থাকে, ঠোঁটের ছাপ থাকে, চুমুকের শব্দে একটা বোঝাপড়া থাকে। কিন্তু যারা হারিয়ে গেছে, ছেড়ে এসেছে, ভুলে গিয়েছে বা ভুলে যাওয়ার ভান করছে, তাদের হাতে কফির কাপ থাকে। আর সেই কাপে চুমুক দেয়ার মানে হলো, নিজেকে একটু একটু করে ফিরিয়ে আনা, কিংবা নিজের ভিতরে নেমে আসা অন্ধকার এক ঘর, যার দরজা নেই, কেবল জানালায় হালকা আলোর রেখা। আমি জানি, এমন বহু মানুষ আছে যারা কোনোদিন কাউকে বলে না, তারা একা। কিন্তু তারা প্রতিদিন এক কাপ করে কফি খায়। অফিসের ডেস্কে, ট্রেনের জানালায়, বাসার বারান্দায় বা পুরোনো কোনো কলেজ ক্যাম্পাসে। সেই কফি তাদের কারো হয়ে ওঠে না, তবু তারা খায়। কেন? কারণ কফি সেই অনুভূতিগুলোর জন্য বানানো, যাদের ভাষা নেই। কফি সেই কান্নার মতো, যা গলা দিয়ে বের হয় না, কিন্তু বুক ভিজিয়ে ফেলে।

তানজানিয়ার সেই কফি হাউজটার কোণায় বসে আমি তাকিয়ে থাকি এক বৃদ্ধ দম্পতির দিকে। তারা দুজনেই নীরবে কফি খাচ্ছেন, কেউ কারও দিকে না তাকিয়ে। অথচ তাদের ভিতরে যে শান্তি, তা এতটাই গভীর, যেন পৃথিবীর শেষ কফির দানা তারাই একসঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে। কেউ কথা বলছে না, কেউ হাসছে না, তবু তাদের পাশে বসে আমি অনুভব করি, এই পৃথিবীতে সব প্রেমের শেষ ঠিকানা আসলে নীরবতা। কফির মতোই, যা ঠান্ডা হলেও তার গন্ধ থেকে যায়, যা তেতো হলেও তাতে এক ধরনের মায়া থাকে।

আমি নিজের কাপের দিকে তাকাই। তাতে এখনো অল্প কফি রয়ে গেছে। এই অল্পটুকু কফির ভিতর আমি দেখতে পাই এক হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর চিঠি, সেই মেয়ে যার চোখের ভেতর আমি এক সময় নিজের শান্তি খুঁজতাম, এমনকি দেখতে পাই সেই পুরোনো শহরটাকেও, যেখানে বিকেলে ছোট দোকান থেকে ভেসে আসত জিনজার কফির গন্ধ।

কফির কাপ শেষ হয়ে আসে, আমি শেষ চুমুকটা দিই। জানি, এই কাপটা ফুরিয়ে গেলে হয়তো আবার ফিরে যেতে হবে সেই পৃথিবীতে, যেখানে সবাই তাড়াহুড়োয়, সবাই ক্লান্ত, কেউ কারও কথা শোনে না। কিন্তু এই এক কাপ কফি, এই কয়েক মুহূর্ত, এই নিঃশব্দ বিকেল, আমাকে মনে করিয়ে দেয়, আমি একা নই। আমার মতো আরও কেউ, কোনো এক দূর শহরে, এখনই হয়তো বসে আছে এক কাপ কফি হাতে…

…ভেতরে মেঘ জমে আছে তারও”

কখনো কখনো আমার মনে হয়, পৃথিবীর সব ক্যাফে আসলে একটাই ক্যাফে, শুধু জায়গা বদলায়, দেয়ালের রঙ বদলায়, নাম বদলায়, কিন্তু আবহটা ঠিক একই থাকে। সেই অদ্ভুত ধরণের নিস্তব্ধতা, সেই অল্প আলো-অন্ধকার, সেই কাঠের টেবিলের উপরে রাখা ব্যবহৃত কাপ, আর সেই চেয়ারে বসে থাকা কিছু মানুষ, যারা কথা বলে না, তবু তাদের চোখে থাকে একরাশ অসমাপ্ত বাক্য।

“তানজানিয়ার সেই ক্যাফেতে বসে আমার মনে হয়েছিল, আমি কি তবে আগেও এসেছি এখানে?”

হয়তো কোনো জন্মান্তরে, হয়তো কোনো স্বপ্নে। জানালার পাশে যে গাছটা ছিল, তার ছায়া পড়ে যাচ্ছিল আমার টেবিলের উপর, ঠিক যেমনটা পড়ে একটা নির্দিষ্ট বিকেলে ঢাকার কোনো এক ক্যাফেতে, যেখানে আমি আর আমার ছোটবেলার বন্ধু শেষবার বসেছিলাম। সে এখন কানাডায় থাকে, আর আমি এখানে। কিন্তু আমি জানি, যদি আজ রাতে ওর হাতেও কফির কাপ থাকে, তাহলে আমরা আবার একই সময়ের ভেতর পড়ে যাব, ভৌগোলিক দূরত্বের বাইরে, কিন্তু এক ঘ্রাণের বন্ধনে।

কফির এই আশ্চর্য ক্ষমতা আছে....
সে দূরত্ব মুছে দেয়,
সে অতীত ফিরিয়ে আনে,
সে অনুপস্থিতদের ঠোঁটের তাপ ছুঁইয়ে দেয় আবারও।

আমি অনেকদিন পর বুঝি, আমার জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা আসলে বলা হয়নি। তারা রয়ে গেছে ঠোঁটের ধারে, ঠিক যেমন অর্ধেক চুমুক ফেলে রাখা কফি। বলা হয়নি “ভালোবাসি”, বলা হয়নি “থাকো”, এবং, কখনো কাউকেই বলা হয়নি “তোমার চলে যাওয়া আমাকে এখনও পোড়ায়”। কফির কাপ ধরলে তাই আমার বুক ভার হয়ে ওঠে, কেননা তার ধোঁয়ার ভিতর আমি দেখতে পাই সেইসব কথা, যেগুলো শুধু শুনতে চেয়েছিল কেউ, কিন্তু এখন ও আর নেই।

সেই ক্যাফের এক কোনায় আমি এক বৃদ্ধকে দেখেছিলাম, তার সামনেও ছিল এক কাপ কফি। তিনি কাপের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ, তারপর আস্তে করে বলেছিলেন, “উনার স্ত্রী খুবই উষ্ণ কফি খেতে পছন্দ করতেন”
আমি চমকে উঠেছিলাম। তিনি আর কিছু বলেননি, শুধু ধোঁয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। যেন সেই ধোঁয়ার ভিতর দিয়ে তিনি ছুঁয়ে ফেলছেন এক অনুপস্থিত নারীকে, যার ঠোঁটে গরম কফি লাগলে সে হালকা শিস দিয়ে বলত

“আহা!”

কোনো কবিতা কি পারে এমন স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে?
কোনো ছবি কি পারে এমন এক মুহূর্তকে জীবন্ত করতে?
কেবল এক কাপ কফিই পারে।

তানজানিয়ার সেই বিকেলটা আমার ভিতরে ঢুকে আছে আজও। যখন বাইরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল, আর আমি জানালার পাশে বসে কফির গন্ধে খুঁজে নিচ্ছিলাম আমার ভাঙা অংশগুলো, যেগুলো এখন হয়তো একজন মানুষ হয়ে গেছে, কিংবা কেবল এক শূন্য চেয়ার।

তানজানিয়ার সেই ক্যাফে এখন আমার চোখে কেবল এক কফি হাউজ নয়, ওটা যেন এক সুফিবাদের ঠিকানা, যেখানে সময় একটু থেমে যায়, আর মানুষ নিজেকে ছুঁয়ে দেখে নতুন করে। সেই বিকেলটায় আমি কফির কাপ হাতে বসেছিলাম অনেকক্ষণ। বাইরে হালকা বাতাস, মাঝে মাঝে বৃষ্টির গন্ধ, আর জানালার পাশে রাখা একটা রেডিও থেকে বাজছিল সাড়ে পাঁচ দশকের পুরোনো জ্যাজ, “মাইলস ডেভিস, নিঃশব্দে বাজিয়ে যাচ্ছিল মন ভাঙার অনুশীলন”

একসময় ক্যাফের দরজা খুলে ঢুকেছিল এক তরুণী। তার চোখে ছিল ক্লান্তি, হাতে ছিল একটা নোটবুক, আর পরনে ছিল বাদামি কুর্তা। মেয়েটি কাউন্টার থেকে কফি নিয়ে আমার উল্টো দিকের টেবিলে বসল। আমি তাকে চেনার ভান করিনি, অথচ মনে হচ্ছিল যেন তাকে কোথাও দেখেছি। অথবা হয়তো আমরা সবাই একটু একটু করে একইরকম হয়ে যাই, যারা একা বসে কফি খেতে পছন্দ করে

সে বসে বসে লিখছিল কিছু, হয়তো চিঠি, হয়তো কবিতা, হয়তো কেবল নিজের ভাঙা মনকে সেলাই করে যাচ্ছিল শব্দ দিয়ে। তার নীরবতা আমার দিকে এসে লাগছিল, যেমন কফির গন্ধ এসে লাগে শূন্য দুপুরে। আমি এক মুহূর্তের জন্য চোখ বন্ধ করলাম। মনে হলো, ঢাকার সেই পুরোনো বিকেলগুলো ফিরে এসেছে।

অমুক ক্যাফেতে বসে লিখতাম আমিও, জানালার পাশেই, আড়চোখে তাকিয়ে থাকতাম কাউকে, যাকে বলা হয়নি কোনোদিন,

"তুমি আমার গল্পের পাতার বাইরে থাকলেও, সবটুকুই আসলে তোমাকে নিয়েই”

আমি কফির দিকে তাকিয়ে আবার ভাবি, কেন এই এক পানীয় এত অনুভূতি জাগিয়ে তোলে? চা তো তা করে না।
পানিতো তো কেবল তৃষ্ণা মেটায়। তবে কফির মধ্যে এমন কী আছে যা আমাদের চোখের কোণে কুয়াশা এনে দেয়? হয়তো কারণ, কফি কখনো একা থাকে না, সে সঙ্গে করে নিয়ে আসে একটা জায়গার গন্ধ, একটা মুখের স্মৃতি, একটা বিকেলের ছায়া, একটা হারিয়ে যাওয়া কথার রেশ।

আমার কাপটা শেষ হওয়ার আগেই আমি বুঝি, এই ক্যাফেটা, এই মানুষগুলো, এই নিঃশব্দ গান, সবকিছু আসলে ঠিক যেমন থাকার কথা ছিল, সেইরকমই৷ আর হয়তো, ঠিক এই কারণেই আমি এখানে এসেছি, তানজানিয়ায়, এক নিঃশব্দ দুপুরে, জীবনের সেই না-বলা অধ্যায়টা একটু ছুঁয়ে দেখতে।

তানজানিয়ার সেই ক্যাফেতে আমার কফির কাপ একসময় একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়। তবু আমি কাপটা নামিয়ে রাখি না। তার তলানিতে যেটুকু কফির দাগ জমে থাকে, সেটা দেখেই যেন আমি কিছু ভাবতে থাকি। আসলে সব কফির কাপই একেকটা গল্প, শেষ চুমুক মানেই শেষ অধ্যায় নয়। অনেকসময় সেই ফাঁকা কাপেই থেকে যায় সবচেয়ে বেশি কথা।

এক জীবনে আমরা কত কিছুই তো শেষ করে ফেলি, একটা সম্পর্ক, একটা শহর, একটা বিকেল, একটা গান, আরো কতো কিছু। কিন্তু কিছু জিনিস কখনোই পুরোপুরি শেষ হয় না, কফির মতোই তারা থেকে যায়, তলানিতে, গন্ধে, স্পর্শে। আমরা চলে যাই, কিন্তু তারা রয়ে যায় আমাদের ভিতরে। কখনো মনে হয়, যদি এই ক্যাফে ছেড়ে চলে যাই, তবু আমার ভেতরে থেকে যাবে এখানকার জানালাটা, বাতাসের শব্দ, মেঝেতে পড়া রোদের ছায়া, আর সেই পুরোনো রেডিওর জ্যাজ মিউজিক।

এমনভাবে থেকে যাবে, যেভাবে প্রথম প্রেম থেকে যায় কারও চোখে, যা সে ভুলে যায়, কিন্তু হারায় না।
আর কফি?

সে তো থেকে যায়। স্মৃতির মতো, এক ফোঁটা কান্নার মতো,

অথবা, কোনো এক অচেনা মেয়ের রেখে যাওয়া নোটবুকের ভাঁজে লেখা কবিতার মতো; যা তুমি কোনোদিন খুলে দেখো না, তবু বুকের ডানদিকে তার ভার অনুভব করো।

আমার খুব ইচ্ছে হয়, একদিন ফিরে আসব এখানে। তানজানিয়ার সেই ক্যাফেতে, জানালার ধারে। হয়তো তখন কেউ থাকবে না চেনা, কেউ আর চিনবে না আমায়, তবু আমি একটা কফির কাপ হাতে নেব, বসে পড়ব সেই পুরোনো টেবিলটায়, আর চুপচাপ অপেক্ষা করব, যদি কোথাও থেকে ফিরে আসে কোনো গন্ধ,।যদি বাতাসে ভেসে আসে সেই পুরোনো দিনের এক চুমুক কফি। আর যদি সেখানে লুকিয়ে থাকে আমার পুরোনো আমি।
তখন আমি চোখ বন্ধ করব। আর, নিজেই মনে মনে বলবো,

“এই তো, আমি আছি। আমি এখনো সেই কাপটা রেখেছি, যেটাতে তুমি শেষ চুমুকটা নিতে পারোনি।”
📍Dar es Salaam, Tanzania
Sadman Sakib Ayon
21-7-2023

“আমি ভীষণ ক্লান্ত, অনেক অনেক ক্লান্ত”আমি জানি না কোথা থেকে শুরু করব। হয়তো বলা দরকারও নেই, কারণ কেউ আসলে শুনতে চায় না। তব...
11/10/2025

“আমি ভীষণ ক্লান্ত, অনেক অনেক ক্লান্ত”

আমি জানি না কোথা থেকে শুরু করব। হয়তো বলা দরকারও নেই, কারণ কেউ আসলে শুনতে চায় না। তবু বলি, আমি ভীষণ ক্লান্ত। শুধু শরীরের ক্লান্তি নয়, এমন এক ক্লান্তি যা মনের গভীর থেকে আসে, যা প্রতিদিন একটু একটু করে মানুষকে ফাঁপা করে ফেলে। বাইরে থেকে আমি হয়তো ঠিকই আছি, হাঁটছি, খাচ্ছি, কথা বলছি। কিন্তু ভিতরে আমি যেন ভেঙে পড়া এক বাড়ি, যার দেয়ালগুলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে শুধু ভরসায়, ভেতরে কোনো প্রাণ নেই।
এই ক্লান্তি কারও চোখে পড়ে না। মা ভাবে আমি ঠিক আছি, বাবা ভাবে আমি একটু অলস হয়েছি, বন্ধুরা ভাবে আমি দূরে সরে গেছি। তারা জানে না, আমি প্রতিদিন নিজের সাথে নিজেই যুদ্ধ করছি।

মাঝে-মধ্যে চোখ খুলে সকালে উঠে ভাবি, আজকে হয়তো একটু ভালো লাগবে, কিন্তু হয় না। ঘুম থেকে উঠলেই এক ধরনের ভার বুকের ওপর চেপে বসে। জানালার বাইরের আলোও কেমন যেন কষ্ট দেয়। মনে হয়, এই আলোটা আমার জন্য নয়, এই পৃথিবীটাও নয়। আশেপাশের যা কিছু আছে, তার কিছুই আমার জন্যে নয়!

মানুষ ভাবে, মেন্টাল হেলথ মানে শুধু দুঃখে ভোগা। কিন্তু এটা আসলে এক ধরনের নিঃশব্দ শ্বাসরোধ। তুমি বাইরে হাঁটছো, কারো সাথে কথা বলছো, কিন্তু তোমার ভিতরে কেউ ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে। তুমি হাসছো, কিন্তু তোমার হাসিটা যান্ত্রিক। চারপাশে সবাই স্বাভাবিক, কিন্তু তুমি জানো, তোমার ভেতরের পৃথিবীটা অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

আমার মা-বাবা ভালো মানুষ। তারা আমার জন্য অনেক কিছু করে। কিন্তু তারা বোঝে না। তারা ভাবে, যেহেতু আমার নিজের ঘর আছে, ভালো কলেজ/ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছি, ভালো চাকরি করছি, নিজের টাকায় যা চাই কিনতে পারি, অনলাইনে যখন-তখন নিজের পছন্দের খাবার অর্ডার করে খেতে পারি, তাহলে আমার কষ্ট থাকার কথা নয়। তাদের কাছে মানসিক কষ্ট মানেই অজুহাত। তারা বলে, “তুমি শুধুশুধুই একটু বেশি ভাবছো।” তারা জানে না যে, আমি আসলে ভাবতে চাই না, কিন্তু এই চিন্তাগুলো নিজের মতো করেই আমার মাথায় আসে, নিজের মতো করে আমাকে ভেতর থেকে ছিঁড়ে ফেলে প্রতিটা মুহূর্তে।

বাবা রাতে খবর দেখে বলে, “দেখো, ওদের কী অবস্থা, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, না খেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। আর তুমি কতো ভাগ্যবান।” আমি কিছু বলি না। কারণ এই কথার কোনো উত্তর নেই। আমি জানি, আমার কষ্টের ধরনটা আলাদা। আমার পেট ভরা থাকতে পারে, কিন্তু মনটা খালি। আমার ঘর থাকতে পারে, কিন্তু কোনো আশ্রয় নেই। আমার আশেপাশে মানুষ আছে, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনে না। কেউ আমাকে বোঝার চেষ্টা করেনা।

প্রতিদিন আমি মুখে একটা মুখোশ পরে বাঁচি। বাইরে হাসি, ভেতরে কাঁদি। কখনো কখনো মনে হয়, আমি যদি সত্যি করে বলতাম, “আমি ভালো নেই”, তাহলে কেউ হয়তো বলতো, “ডিপ্রেশন, এসব তো বিদেশিদের সমস্যা, আমাদের দেশে এসব চলে না।” সমাজ এখনো মানতে চায় না যে মানসিক কষ্টও বাস্তব। তারা ভাবে, কষ্ট মানে শুধু শারীরিক অসুখ। অথচ ভিতরের ব্যথাই মানুষকে আস্তে আস্তে শেষ করে ফেলে।

বন্ধুরা মাঝে মাঝে ফোন দিয়ে বলে, “চল ঘুরে আসি”। আমি না করি না। ঘুরতে যাই ওদের সাথে। কিন্তু তখন ওরা জিজ্ঞাসা করে, “তুই এত চুপচাপ হয়ে গেছিস কেন?” আমি বলি, “জানি না।” এই দুইটা শব্দই এখন আমার ঢাল। আমি জানি না ভালো থাকা কাকে বলে, শুধু জানি ‘ভালো আছি’ বললে মানুষ নিশ্চিন্ত থাকে। কেউ গভীরে খোঁজে না, কেউ জানতে চায় না, এই কথার ভেতর কতটা মিথ্যে লুকিয়ে আছে।

রাতে ঘুম আসে না। শুয়ে থাকি, রুমের সিলিং এর দিকে তাকিয়ে থাকি। অন্ধকার ঘর, নিঃশব্দ চারপাশ, দূরে কুকুরের ডাক। মাথার ভেতরে তখন কত চিন্তা আসে, অতীত, ভুল, ভয়, অনুশোচনা, আরেকটা নিরর্থক আগামীকাল। কখনো মনে হয়, এই রাতটুকু পার করা যেন একটা পাহাড় টপকানোর মতো। প্রতিটি মিনিট টেনে নিয়ে যায়, যেন কেউ গলা চেপে ধরে রেখেছে। আমি জানি, আমার সমস্যা বাস্তব। কিন্তু এই সমাজে সেটা বলা মানে নিজেকে হাস্যকর করে তোলা। সবাই তোমাকে বোঝাতে আসবে, মন খারাপ করে না থেকে ঘুরে আসো, বই পড়ো, ইতিবাচক চিন্তা করো। কিন্তু তারা জানে না, আমি প্রতিদিন নিজের ভিতরে আটকে আছি। আমি এমন এক দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যেটা কেউ দেখতে পায় না, শুধু আমি অনুভব করি।

আমি রাস্তায় বের হই, দেখি মানুষজন কত স্বাভাবিকভাবে হাসে, খায়, ভালোবাসে, ঝগড়া করে, বাঁচে। আমি তাদের হিংসে করি না, কিন্তু মনে হয়, আমি কেন পারি না ওদের মতো হতে? কেন আমি এমন একটা জায়গায় আটকে আছি যেখান থেকে বের হওয়া যায় না? আমি চেষ্টা করি, প্রতিদিন করি, কিন্তু পারি না। আমি জানি না কখন আমি আবার পুরোপুরি মানুষ হবো। কবে আমি আমার জীবনের এই লুপ থেকে বেড় হবে যেখানে প্রতিটা দিনই একই দিন হবে না। যেখানে নতুনত্ব থাকবে। হাসি থাকবে, কান্না থাকবে, থাকবে আনন্দ এবং ভালোবাসা।

এই সমাজ কোনো মানুষিক সমস্যায় ভোগা মানুষকে বুঝতে চায় না। তারা করুণা করে, উপহাস করে, বা উপদেশ দেয়। কেউ পাশে বসে শুধু বলে না, “আমি আছি।” তারা ভাবে, কিছু বললেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আমি জানি, কিছুই ঠিক হয় না। কষ্টগুলো থাকে, শুধু চেহারা বদলায়।

আমি এখন আর বেশি কিছু চাই না। শুধু একটু শান্তি চাই। এমন একটা সকাল চাই যেদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হবে, বাঁচতে ভালো লাগছে। এমন একটা দিন চাই যেদিন নিজেকে বোঝাতে হবে না যে আমি ঠিক আছি। কিন্তু এই চাওয়াটাই এখন যেন অনেক দূরের ব্যাপার।

আমি ক্লান্ত। ভীষণ ক্লান্ত। শরীরের ক্লান্তি নয়, জীবনের ক্লান্তি। এমন এক ক্লান্তি, যা কারও সামনে বলা যায় না। কারণ এই সমাজে ক্লান্তি দেখানো দুর্বলতা। সবাই শক্ত মানুষ হতে চায়। সবাই হাসতে জানে, কাঁদতে জানে না। তাই আমিও শিখে গেছি লুকিয়ে থাকতে, হাসতে, অভিনয় করতে।

তবু গভীরে কোথাও এখনো একটা আশা আছে, হয়তো একদিন কেউ শুনবে, কেউ বুঝবে। হয়তো একদিন কেউ আর বলবে না, “তোমার তো সব আছে, তাহলে কষ্ট কোথা থেকে আসে?” হয়তো একদিন এই সমাজও বুঝবে, মানসিক ক্লান্তিও এক ধরনের অসুখ, যেটা অদৃশ্য হলেও সত্যি।

কিন্তু সেই দিন আসার আগ পর্যন্ত, আমি শুধু বাঁচব এই নিঃশব্দ ক্লান্তির ভেতর। বাইরে মানুষ যেমন ভাবে, তেমনই থাকব, হাসিমুখে, শান্ত দেখাতে। আর ভিতরে ধীরে ধীরে নিভে যাব নিজের মতো করে। কারণ আমি ভীষণ ক্লান্ত, অনেক অনেক ক্লান্ত।

————
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৩ শতাংশ শিশু-কিশোর মানসিক রোগে আক্রান্ত, যা মোট সংখ্যার হিসেবে প্রায় ৩ কোটি।
এই ৩ কোটি মানুষের না বলা কথাই হলো —“ আমি ভীষণ ক্লান্ত, অনেক অনেক ক্লান্ত”.
Sadman Sakib Ayon
12-10-2025
Istanbul, Turkey

10/09/2025

আমার কালকে আয়া সোফিয়া মসজিদে উনাকে দেখে অনেক ইচ্ছা করতেছিলো, উনার সাথে গিয়ে কথা বলি যে কি হইছে! কিন্তু আমি জানি, Every day, every single second, we have to fight our own battles. And that is the harsh and cruel reality of this modernized world. :"'(
But I will raise my hands in prayer to Allah☝🏽, asking Him to embrace every soul who quietly bears the weight of life’s hidden sorrows, untold pains, and silent struggles.. For those whose tears fall unseen, whose cries go unheard, yet who still brave the world with a quiet smile... May Allah SubhanahuWa'tala☝🏽 gently lift every burden from their hearts, soothe the deepest aches of their souls, and dissolve every shadow of sorrow, leaving behind a peace so tender and profound that it settles softly within, like the quietest, most comforting whisper of His mercy..🌼,☝🏽
Because Allah has promised us: “Verily, with hardship there is ease.” (Surah Al-Inshirah, Ayat 6)☝🏽

04/08/2025

“Masakali: The Sound of A.R. Rahman's Era”

“A Letter to Israel”Dear Israel,You have launched war after war, missiles, sieges, tanks, sanctions. And yet, you stand ...
31/07/2025

“A Letter to Israel”

Dear Israel,

You have launched war after war, missiles, sieges, tanks, sanctions. And yet, you stand defeated by a barefoot child holding a stone. Not because you lack power, but because you lack truth. Not because they have weapons, but because they have Allah☝🏽

You have the media, they have the Martyrs. You have the world’s silence, they have the Qur’an’s promise.

“Do not think that Allah is unaware of what the wrongdoers do.”
—(Surah Ibrahim, 14:42)

You think victory is land. But Palestine is not land, It is blood, faith, prayer, and memory. You can take a home, But not Al-Aqsa. Because Al-Aqsa was never in their hands, It's always been in our hearts.

“Glory be to the One Who took His servant by night from Masjid al-Haram to Masjid al-Aqsa.”
—(Surah Al-Isra, 17:1)

You kill their children in the streets. But remember, those who die with “La ilaha illallah” on their lips do not die in vain.

“Do not say of those who are killed in the path of Allah that they are dead. Rather, they are alive, but you do not perceive.”
—(Surah Al-Baqarah, 2:154)

You are fighting people who fast with empty plates and still say “Alhamdulillah.” You are fighting women who bury their children and whisper, “Inna lillahi wa inna ilayhi raji’un.” You are fighting the orphans of martyrs who rise and say, “Labbaik ya Aqsa.”

“If you help the cause of Allah, He will help you and make your steps firm.”
—(Surah Muhammad, 47:7)

You think you are winning because the world fears you. But they fear none but Allah☝🏽. This is why you cannot win. Because the people of Palestine are not alone. Their tears are not wasted.
Their graves are not empty. And their prayer has not gone unheard.

“Indeed, Allah defends those who believe.”
—(Surah Al-Hajj, 22:38)

IT WAS PALESTINE. IT IS STILL PALESTINE. AND IT WILL FOREVER BE PALESTINE.

Because you cannot bury land whose sky cries out, “Subhan Allah.” You cannot erase a people whose last breath is “La ilaha illallah.” And you cannot conquer a future that is written in the ink of divine promise.

🇵🇸 Palestine lives. Not on maps. But in every Sajdah, every tear, every heartbeat that whispers,
“We will return, in shaa Allah.”☝🏽




“To Plant A Garden Is To Believe In Tomorrow”..🌼—Audrey Hepburn (1955)
30/07/2025

“To Plant A Garden Is To Believe In Tomorrow”..🌼
—Audrey Hepburn (1955)

চলো এখানে বসে গল্প করি..🌼📍Bingol Province, TurkeyIn the name of Allah SubhanahuWa'tala☝🏽 The Eternal. The Absolute. The ...
29/07/2025

চলো এখানে বসে গল্প করি..🌼

📍Bingol Province, Turkey

In the name of Allah SubhanahuWa'tala☝🏽 The Eternal. The Absolute. The One☝🏽

মাইলস্টোন স্কুল ট্রাজেডিতে এখন আমাদের কী করা উচিত...?জুলাই ২১, সাল ২০২৫মাইলস্টোন স্কুল, উত্তরা, ঢাকাএদিন যেই ভয়ংকর ঘটনাক...
23/07/2025

মাইলস্টোন স্কুল ট্রাজেডিতে এখন আমাদের কী করা উচিত...?

জুলাই ২১, সাল ২০২৫
মাইলস্টোন স্কুল, উত্তরা, ঢাকা

এদিন যেই ভয়ংকর ঘটনাকি ঘটেছে তা আমরা কোনোদিন ভুলতে পারবো না। ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলের এক ক্লাসরুমে বিধ্বস্ত হয়ে ঢুকে পড়ে একটি ফাইটার বিমান। আর সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অনেক নিষ্পাপ শৈশব। আর যারা শারীরিকভাবে অক্ষত থেকেছে, তাদের ভেতরটা পুড়ে গেছে নীরবে। ভয় ওদের শরীর নয়, মনে লেগে আছে। ঘুম ভেঙে কেঁদে ওঠে, খাতা খুললে আগুন মনে পড়ে, টিফিন বক্স দেখলেই মনে পরে বন্ধুর মুখ। আর যারা হাসপাতালে আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন, আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ বডি ঝলসে যাওয়ার যেই কষ্ট, চিৎকার কোনো ভাবেই এগুলো বুঝানো সম্ভব না।

কিন্তু একসময় তারা সুস্থ হবেন ইনশাআল্লাহ, নিজের বাসায় ফিরবেন। কিন্তু নিজের চোখে দেখা এই ভয়,
এই মানসিক দহন, ওদের ছোট্ট হদয়ে, ছোট্ট ছোট্ট চোখে ঢুকে গেছে। ওরা হয়তো এখনো এই ভয় বোঝে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সেটাই ওদের ভেঙে দিচ্ছে। এই ভয়, এই ট্রমা, এই মানসিক দহন যদি আমরা ওদের ভেতর থেকে সরাতে না পারি, তাহলে ওরা কখনোই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না।

“এইজন্যে এখন সব কিছুর আগে, সবচেয়ে জরুরি যেটা — তা হলো বাচ্চাদের মেন্টাল কাউন্সেলিং করা”

আর হ্যাঁ, এটা অবশ্যই সবাই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরার পরে।

একটা খেলনা পাখি যদি হঠাৎ ঝলসে যায়, ওড়ার জায়গায় পড়ে থাকে ছাই হয়ে; তখন শুধু ডানা পোড়ে না, পোড়ে বিশ্বাস। এই বাচ্চাগুলোর ভেতর থেকে সেই পোড়া বিশ্বাসকে ফিরিয়ে আনার জন্য দরকার সাইকোলোজিক্যাল সাপোর্ট। চাই মমতা, ধৈর্য, গভীর মনোযোগ, এবং ভালোবাসা।

এইজন্যে আমি অনুরোধ করবো — সাইকিয়াট্রিস্ট, ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট, ট্রমা থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর, এবং যারা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন, আপনারা সবাই একসাথে এখনই এগিয়ে আসুন। সরকারি, বেসরকারি, বিদেশি বিভিন্ন এনজিও, এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ, যে যেভাবে পারেন, হাত বাড়িয়ে দিন।

মাইলস্টোন স্কুলে যদি একটি আলাদা “ট্রমা কাউন্সেলিং ইউনিট” গড়ে তোলা যায়, যেখানে নিষ্পাপ বাচ্চাগুলো যেই ভয়ংকর আগুন নিজের চোখে দেখেছে, যারা বাঁচলেও অনেক কিছু হারিয়েছে, মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছে , এবং এই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশুদের অর্থাৎ যারা আহত শিক্ষার্থী আছে, তাদের সবাইকে বিনামূল্যে মানসিক চিকিৎসা দেওয়া হবে, তাহলে হয়তো আমরা কিছুটা দায়িত্ব পালন করতে পারবো।

“একটা শিশুর মন আগুনের চেয়ে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শরীরের ক্ষত শুকিয়ে যায় — কিন্তু মনে যে দাগ পড়ে, তা সারাজীবন শুকায় না।”

নাহ! এই কাজ সরকার একা করতে পারবে না। শুধু হাসপাতাল দিয়ে চলবে না। পত্রিকায় ছবি ছাপা, ফেসবুকে পোস্ট লিখে আর কাঁদলে হবে না। আমাদের দরকার এখন কেউ একজন ওদের পাশে বসে, চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করবে,

—“তুমি কেমন আছো মা?”
—“তুমি কেমন আছো বাবা?”

বাচ্চাদের কাউন্সেলিং মানে ওদেরকে এক এক করে আলাদা ভাবে জিজ্ঞেস করা—
—“তুমি এখন কেমন অনুভব করছো বাবা?”
—“তোমার কি কিছু মনে পড়ে বারবার মা?”
—“তোমার কি ঘুম আসে না মা?”

আর তারপর, চুপ করে শুধু ওদের বলার সুযোগ করে দেওয়া। ওদের মনে যা আছে, ভয়ভীতি, কান্না, কষ্ট, মানে যা লুকিয়ে আছে ছোট্ট হৃদয়ে, সব বলুক। আর, আমরা চুপ করে শুধু শুনবো। কারণ বাচ্চাদের চোখে এখনো আগুনটা বেঁচে আছে। আমরা যদি না নিভাই, তাহলে এই আগুন একটা গোটা প্রজন্মকে পুড়িয়ে ফেলবে।

এই কথাগুলো বলা মানে ওদের বুক থেকে আগুন নামানো। আর এই মেন্টাল কাউন্সিলিং একবার না, বারবার। যতদিন লাগে, যতবার লাগে, যত ঘন্টার সেশন লাগে, যতক্ষণ লাগে, যতজনকে দরকার হয়, যতদিন দরকার হয়, ততদিন!

আমরা যদি সত্যি চাই, যেন এই বাচ্চারা আবার হেসে উঠবে, খেলবে, দৌড়াবে, ক্রিকেট, ফুটবল খেলতে গিয়ে ব্যথা পাবে, হোমওয়ার্ক করবে একদম আগে যেরকম ছিলো, ঠিক সেরকম হাসিখুশি লাইফ আবার লিড করবে, তাহলে আমাদের শুধু ওদের বাঁচিয়ে তোলাই না, ওদের মনটাকে আবার নতুন করে সাজিয়ে দিতে হবে।

এটাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
আমাদের, সবার, গোটা বাংলাদেশের।

_________
এবার শেষ করি, এই দুর্ঘটনায় যারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, সেই নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর কথা দিয়ে—

এশার নামাজে সিজদাহ্তে ছিলাম, হঠাৎ মনে হলো আল্লাহ সুবাহানাহু'ওয়া'তায়ালা আমার সাথে কথা বলছেন, এবং পরম করুণাময় যেটা আমাকে বললেন—
“এই ছোট্ট ছোট্ট প্রজাপতিরা এখন খুব ভালো আছে। এই কঠিন, নোংরা, কষ্টের পৃথিবী থেকে মুক্তি পেয়ে মাইলস্টোন ট্রাজেডির সবাই এখন জান্নাতুল ফেরদৌসে হাসতেছে, খেলতেছে, দৌড়াচ্ছে, লাফাচ্ছে।”

ওদের পছন্দের সবকিছু এখন ওদের কাছে আছে— আইসক্রিম, চকলেট, চিপস, কেক, বার্গার, ললিপপ, মিল্কশেক, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই… রঙিন বেলুন, স্টিকার, লেগো, কার্টুন প্রিন্টেড বটল, খেলনা গাড়ি, পুতুল, স্পাইডার-ম্যান, এলসা, বেন টেন… আর আছে ছোট মাছ, খরগোশ, বিড়াল, ওদের আদরের পোষা প্রাণী। ওদের আবার আলাদা আলাদা নামও রাখা হয়েছে। এমনকি ওদের এই কর্মকান্ডে ফেরেশতারাও মুগ্ধ হয়ে গেছে।

ওরা এখন এসব নিয়ে খেলে, ছবি আঁকে, খায়, ঘুমায়; মন যা চাচ্ছে, ঠিক তাই করছে। সবার চোখেমুখে শুধুমাত্র আনন্দ। আর, সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো.. ওদের খিলখিল হাসিতে জান্নাতুল ফেরদৌস আরো রঙ্গিন হয়ে উঠেছে। ওরা এখন আছে জান্নাতুল ফেরদৌসে নিরাপদ এক শান্তির জগতে। এবং আমি স্বয়ং আল্লাহ ওদের দেখভাল করবো৷

~Sadman Sakib Ayon

“মাইলস্টোন স্কুল ট্রাজেডি যেনো Rang De Basanti সিনেমার প্রতিচ্ছবি”বাচ্চাদের আল্লাহর ফেরেশতা বলা হয়। মাইলস্টোন স্কুলের ছো...
22/07/2025

“মাইলস্টোন স্কুল ট্রাজেডি যেনো Rang De Basanti সিনেমার প্রতিচ্ছবি”

বাচ্চাদের আল্লাহর ফেরেশতা বলা হয়। মাইলস্টোন স্কুলের ছোট্ট বাচ্চাগুলো জানে না রাজনীতি কাকে বলে। তারা বোঝে না বিএনপি কী, আওয়ামী লীগ কী, জামাত-শিবির বা এনসিপি কারা। তারা জানে না রাষ্ট্র মানে কী, জানে না বরাদ্দ বাজেট কোথায় যায়। তারা শুধুমাত্র জানে কাগজ দিয়ে কীভাবে প্লেন বানাতে হয়, জানে ছাদের উপর উঠে সেই কাগজের প্লেন আকাশে ছুঁড়ে দিতে হয়। তারা জানে টিফিন বক্সে মজাদার খাবার থাকলে recess-এ বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে খেতে হয়। তারা জানে বকাঝকা দিলে চোখে পানি আসে, আর আদর করলে সেই কান্না থেমে যায়।

কিন্তু আজকে?? তারা আর এই দুনিয়াতেই নেই৷ তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে ঠিক সেই বিমানে আগুনে, যার শব্দে তারা হাসত। যার গতির দিকে তাকিয়ে বলত, “ওই যে যুদ্ধবিমান!” কিন্তু তারা জানতো না, একটা আসল যুদ্ধবিমান, যেটা আকাশে উড়ছিলো প্রশিক্ষণের জন্য, সেটা হঠাৎ করে ফেটে পড়তে পারে ঠিক তাদের স্কুলের মাথার ওপর।
তারা জানতো না, পুরনো মেশিনের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বোতাম একদিন ওদেরই শরীরে আগুন লাগিয়ে দেবে। যেমন করে রাষ্ট্র দগ্ধ করে আমাদের প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে, ধোঁয়ার মতো, নিঃশব্দে, লাশ রেখে যায় আর, রেখে যায় হাজারো প্রশ্ন....

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,
“এই মৃত্যু কি প্রাকৃতিক?”

উত্তর হচ্ছে “না”। এই মৃত্যু রাষ্ট্র-নির্মিত। এই মৃত্যু রাজনীতির শেকড়ে পচনের ফল। এই মৃত্যু ইতিহাসের প্রতিধ্বনি।

দুপুর ১:৩০, জুলাই ২১,২০২৫
মাইলস্টোন স্কুল, উত্তরা, দিয়া বাড়ি, ঢাকা।

মাইলস্টোন স্কুলের সেই দুপুরটা আর প্রতিদিনকার দুপুরের মতই। ছুটির সময় বাবা-মা সন্তানদের নিতে স্কুলে এসেছেন। কিন্তু সেদিনকার সকালটা ঠিক স্বাভাবিকই ছিল। কেউ জানত না যে আকাশ থেকে আগুন নেমে আসবে। কেউ ভাবেনি যে প্রশিক্ষণের জন্য উড়ানো একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হবে স্কুলের একেবারে মাথার ওপর।

বিমানটি ছিল F-7। চীনের তৈরি, পুরোনো এক প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। বছরের পর বছর ধরে এই বিমানগুলোর বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলা হলেও সেগুলো আজও আকাশে উড়েছে। এবং, ২০২৫ সালের, জুলাই মাসের ২১তারিখে ঢাকার ভিতরে একটি মানুষবহুল এলাকায়, ফাইটার বিমানটি সরাসরি আছড়ে পড়ে স্কুলের মাঠে। রাষ্ট্র জানতো বিমানটি পুরনো। এটা জানার পরেও কেউ বললো না, “কেনো এখনো এই বিমান দিয়ে প্রশিক্ষণ চালানো হচ্ছে?” এর উত্তর আসলে আমরা সবাই জানি। কিন্তু তারপরেও দিনের পর দিন চুপ থাকি; যা চলছে, তাই চলুক।
আমরা জানি, একদিন পুড়ে মরবে কেউ না কেউ, তারপর নিউজ, তারপর শোক, তারপর ভুলে যাওয়া।

উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলের এই ভয়াবহতার সাথে বলিউডের “Rang De Basanti” মুভির রক্তের রঙটা হয়তো আলাদা, কিন্তু ক্ষোভের রং এক। “ঢাকা, দিয়াবাড়ি”, আর দিল্লির “পালাম এয়ারবেস”, যত দূরত্বই থাকুক, রাষ্ট্রযন্ত্রের নিষ্ঠুর নির্লিপ্ততা আর দুর্নীতির ছায়া দুটো জায়গায়ই অভিন্ন। বাংলাদেশে পলিটিশিয়ানরা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ডিফেন্স বাজেট থেকে, অথচ দিনের শেষে একটা পুরোনো, সীমাবদ্ধ, ক্রুটিপূর্ণ F-7 প্লেন-ই শিশুদের স্কুলে ধ্বংস হয়ে পড়ে! এই বিষাদময়তা হুবহু মিলে যায় “Rang De Basanti” সিনেমার হৃদয়পোড়া, নীরব এক রাগের সঙ্গে।

“Rang De Basanti” মুভির ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ‘অজয় রাঠোর’ যিনি এক মিগ-২১ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন। রাষ্ট্র বলেছিল ‘ট্রেনিং অ্যাক্সিডেন্ট’, মিডিয়া বলেছিল ‘অপারেশনাল ফল্ট’, অথচ তার বন্ধুরা জানত, এই মিগ-২১ প্লেনটি বহু আগেই বাতিল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিরক্ষা বাজেটের নামে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি আর কমিশন বাণিজ্য সেই 'ফ্লাইং কফিন' গুলোকে আকাশে রেখেছিল। তারা একটা অচল সিস্টেমের ভেতরে পড়ে মরেছিল।

“MIG-21 was called a flying coffin,”
—Rang De Basanti

আজকের দিয়াবাড়িতেও তো একই সুর বাজছে। যে দেশের শত শত কোটি টাকা যায় 'নতুন প্রযুক্তি', 'নিরাপদ আকাশ প্রতিরক্ষা', আর ‘মডার্নাইজেশন’ নামের কল্পবিনিয়োগে, সেই দেশে একটা প্রায় ৫০ বছর আগের চীনা প্রযুক্তির F-7 BGI এখনও কেন প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়? কেন সেই বিমানই স্কুলে গিয়ে পড়ে শিশুদের পুড়িয়ে মারে? এই প্রশ্নটা শুধু কফিনের ধোঁয়া নয়, এটা আসলে রাষ্ট্রের বিবেকের ছাই হয়ে যাওয়া।

আরেকটা জায়গায় মিল আছে, “Rang De Basanti” সিনেমার শেষে যখন বন্ধুরা রেডিও স্টেশনে ঢুকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলে, সেই সংলাপগুলো ঠিক যেন আজকের বাংলাদেশে একজন সাধারণ নাগরিকের হৃদয়ের স্পন্দন।

“Kisi ne nahi poocha... ki pilot kaun tha. Kisne plane udaya. Kya usne kuch galti ki? Sabne kaha... ki plane kharaab tha. Phir bhi udane diya gaya.”

__“কেউ জিজ্ঞেস করেনি... পাইলট কে ছিল? কে প্লেনটা উড়িয়েছিল? সে কি কোনো ভুল করেছিল? সবাই শুধু বলল... প্লেনটা খারাপ ছিল। তবুও সেটিকে আকাশে উড়ানো হয়েছিল।”

“Rang De Basanti” আপনি হয়তো সিনেমাটা দেখেছেন, তাই না? এই সিনেমায় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট Ajay Rathod নামের পাইলট যখন মারা যান বিমান বিধস্তে, তার বন্ধুরা তখনো জানতো না, কীভাবে বাঁচিয়ে রাখতে হয় একেকটা মৃত্যুকে। তারা তখনো রাজনীতি করতো না, তারা তখনো চুপ করে গান গাইতো আর পুরনো ব্রিটিশ ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি করতো। কিন্তু যখন বন্ধুর মৃত্যু এল, তারা বুঝতে পারে রাষ্ট্র চুপচাপ থেকে যন্ত্রপাতির ভেতরে হত্যা চালায়।

আমরাও কি এখন ঠিম সেই চুপ করে থাকা বন্ধুদের মতো না? আজকের এই শিশুগুলোর মৃত্যু, এটা দুর্ঘটনা না, এটা পুঞ্জীভূত রাষ্ট্রীয় নীরবতার ফল। এক কথা বললে, “এটা দিনে দুপুরে খুন করা হয়েছে নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকে”.
শুধুমাত্র রাষ্ট্র না। আমরা সবাই এই অপরাধে জড়িত, আমরা সবাই এই রাষ্ট্রের কিছু না বলা সহযোগী।

বাচ্চাগুলো কি কখনো জীবনে ভেবেছিলো, একটা ঘর্মাক্ত দুপুরে স্কুল ছুটির শেষে হঠাৎ আকাশ ভেঙে নামতে পারে আগুনের চাদর? আচ্ছা, তাদের শেষ মুহূর্তে চোখে কী ছিল...??
ভয়....?
বিস্ময়...?
না একটা ফুঁপিয়ে কান্না, যে কান্নার শব্দ আমরা আর কোনোদিন শুনবো না?

আর, সেই আল্লাহর ফেরেশতাদের, নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর দোষ কি ছিল....?? তারা কেবল জন্ম নিয়েছিল এই বাংলাদেশে...?? এইটাই...??

মৃত্যু এসে কখনো চিৎকার করে না। মৃত্যু আসে নিঃশব্দে, ধোঁয়ার কুয়াশার মতো! আর, আমরা মানুষ হয়ে জন্মেছি, এবং, সকল প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মানে সবাই আমরা একদিন মারা যাবোই। কিন্তু তাই বলে এভাবে..?? এতো নির্মম ভাবে..?? এই ছোট্ট ছোট্ট মাছুম বাচ্চাদের এতো কষ্ট দিয়ে..?? কে কখন, কিভাবে মারা যাবেন এইটা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেউই বলতে পারেন না; কিন্তু, রাজধানীর ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে মৃত্যু এসেছে রাষ্ট্রের অনুমতি নিয়েই, সরবরাহ করা পুরনো বিমানে করে!

আজকের মাইলস্টোন স্কুলের ভয়াবহ ঘটনায় সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে সরকারি তথ্য মতে ৩০জনের বেশি শিশুর। তারা কেউ রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ছিল না। তারা কেউ দুর্নীতির রিপোর্ট বানায়নি, কেউ বাজেট আলোচনায় যায়নি। তারা কেবল পড়তে গিয়েছিল। তারা কেবল বাঁচতে চেয়েছিল। তারা কেবল স্কুল মাঠে খেলতে চেয়েছিলো। কিন্তু তারা ভুল করেছিল এই বাংলাদেশ নামক পাষণ্ড রাষ্ট্রে বিশ্বাস করে, এই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে।

তাদের মা-বাবার, আত্মীয়স্বজনের আহাজারিতে হাসপাতালে টিকা থাকা যাচ্ছে না। একদম কঠিন হৃদয়ের মানুষকেও কাঁদাতে বাধ্য করবে ঢাকার হাসপাতাল গুলোর বর্তমান অবস্থা। হাসপাতালে পোড়া শরীর নিয়ে কিছু বাচ্চা এখনো শ্বাস নিচ্ছে। নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর বাবারা হাউমাউ করে কাঁদছে! তাদের মা হাসপাতালের বারান্দায় বসে আল্লাহর কাছে জিজ্ঞেস করছে,
“ওর কী দোষ ছিল, আল্লাহ? কেনো তুমি আমার কলিজাটাকে আমার থেকে নিয়ে গেলে”

আল্লাহ সুবাহানাহু'ওয়া'তায়ালা নিশ্চয় জানেন; এবং আল্লাহর প্লানিং কি, এইটা আমরা কেউই বলতে পারবো না। কিন্তু রাষ্ট্র জানে। রাষ্ট্র বলতে পারবে কি দোষ ছিলো ছোট্ট ৬-৭ বছরের বাচ্চাগুলোর, রাষ্ট্র জানে সে কী করেছিল।
রাষ্ট্র জানে কোন মেশিন কাজ করে না। রাষ্ট্র জানে কীভাবে শত শত কোটি টাকা চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে, আর প্রশিক্ষণে ব্যবহার হয় এমন জিনিস যেটা মিউজিয়ামে রাখার কথা।

এই সবকিছুর মূলে রাষ্ট্র — তারপর রাজনীতি — তারপর আমরা, যারা প্রতিবার শোক পালন করি, তারপর ভুলে যাই। নিষ্পাপ শিশুগুলো চলে গেছে। তাদের আর ফেরানো যাবে না। তারা জানতো না ‘মরণ’ শব্দটা, কিন্তু এখন তারা জানে।

আর আমরা...??
আমরা আবার পোস্ট দেবো।
আবার ধোঁয়া উঠা ভিডিও শেয়ার করবো।
আবার একদিন পর অন্য ট্রেন্ডে মন দেবো।

আর রাষ্ট্র....??
সে আবার বাজেট বানাবে।
আবার জাহাজ কিনবে, বিমান নেবে, কমিশন খাবে।
আবার কেউ মরে যাবে।
আবার কেউ জানবে না কেনো সে মরলো।

একটা রাষ্ট্র যদি শিশুদের রক্ষা করতে না পারে, তাহলে সে আর কী রক্ষা করে..?? আমরা বলি, মানুষ রাষ্ট্র বানায়।
কিন্তু এই বাংলাদেশে মনে হয় রাষ্ট্র মানুষ খায়। চুপচাপ, ধোঁয়ার মতো গিলে ফেলে। একদিন একজন শ্রমিক মরে যায় বৈদ্যুতিক লাইনে, কেউ কিছু বলে না। আরেকদিন এক নারী পুড়ে যায় কারখানায়, কেউ কিছু দেখে না।
আজ শিশুরা পুড়লো। পুড়লো নিজের স্কুলের ক্লাস রুমে। পুড়লো পেনসিল হাতে। পুড়লো এমন এক যন্ত্রের নিচে, যেটা চলার কথা ছিল না, কিন্তু চালানো হচ্ছিল, আর পেছনে লুকানো ছিলো হাজার হাজার কোটি টাকার স্বার্থ।

রাষ্ট্র চুপ করে থাকে।
রাষ্ট্র জানে এর দায় কাদের।
রাষ্ট্র জানে ফাইটার জেটগুলোর যন্ত্রপাতি কবে শেষ হয়ে গেছে।
রাষ্ট্র জানে কোন ব্যবসায়ী কিভাবে কিকব্যাক নিয়ে ক্রয়সংক্রান্ত নথি বদলেছে।
রাষ্ট্র জানে কে কে জেনেও চুপ থেকেছে।
কিন্তু রাষ্ট্র জানে না এই সবকিছুর প্রতিশোধ কীভাবে শোক হয়ে উঠে মানুষের চোখে

ঠিক যেমনটা বলিউডের বিখ্যাত “Rang De Basanti” সিনেমায় একটি জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়। পাইলট মারা যায়। রাষ্ট্র দায় নেয় না। সংবাদে বলা হয় “technical error”, মানুষ বুঝে কিন্তু প্রশ্ন করে না। আর যিনি প্রতিবাদ করেন, তাকে বলা হয়, “দেশদ্রোহী।”

এই সিনেমার এক জায়গায় DJ বলে—

“Zindagi jeene ke do hi tareeke hote hain – ek jo ho raha hai hone do, bardasht karte jao; ya phir zimmedari uthao ussey badalne ki.”

_“জীবন যাপনের দুটো উপায়, একটা হলো যা ঘটছে তা মেনে নেও, আরেকটা হলো দায়িত্ব নিয়ে তা বদলানো।”

মাইলস্টোন ট্রাজেডির পর আমরা কোনটা করলাম?

আমরা যা করলাম তা সবাই জানি, শুধু পোস্ট করলাম, কান্না করলাম, এরপর চুপচাপ সরে যাবো, এবং একদিন সব ভুলে যাবো। আমরা Facebook বা সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করবো, তারপর কাজে যাবো। আমরা টুইটারে স্টেটাস দেবো, তারপর Netflix চালাবো।

আর পলিটিশিয়ানরা?
তারা আবার সংসদে দাঁড়িয়ে বলবে,
"এটি একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা।" রাষ্ট্র যেভাবে প্রতিবার পার পেয়ে যায়, এবারও তেমনি পেরেছে। আর আমাদের শিশুদের জীবন তাদের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের নিচে চাপা পড়ে গেলো।

এফ-৭ ফাইটার বিমানটি বহু আগেই আন্তর্জাতিকভাবে বাতিল হওয়া মডেল। বাংলাদেশে সেটা এখনও প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়। কেনো? কারণ রাষ্ট্রীয় বাজেটের কয়েক হাজার কোটি টাকা চলে যায় উন্নয়নের নামে। কিন্তু সেই টাকায় আধুনিক বিমান কেনা হয় না। কেনো?

কারণ সেই টাকায় রাজনীতি চলে। দল চলে। বিদেশে নতুন নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। আর, মারা যায় আমাদের নিষ্পাপ বাচ্চারা।

এই বিমান নিয়ে প্রশিক্ষণ চালানোই একটি “Planned egligence”। একটা রাষ্ট্র যখন তার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পুরনো অস্ত্র দেয়, সেটা তার ব্যর্থতা। কিন্তু সেই ব্যর্থতার মূল্য যখন একটি শিশুর আগুনে পোড়া পুরা বডিতে জ্বালা সহ্য করতে না পেরে চিৎকারে মিলে, তখন সেটা হত্যাকাণ্ড।

এই ঘটনার দায় শুধু রাজনীতিবিদের নয়। এই দায় আমাদেরও। যারা চুপ ছিলাম, যারা ঘুরে ফিরে শুধু ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছি, যারা সব জেনেও প্রতিবাদ করিনি। প্রতিবার যেই চক্রটা চলে, একটা মৃত্যু — কিছু আহাজারি — কিছু তদন্ত — তারপর আবার নীরবতা।

আমরা সবাই এইচক্রের অংশ। এই চক্র ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছি।

Rang De Basanti সিনেমার সেই দৃশ্যে তারা যখন রেডিও স্টেশন দখল করে বলে,

No country is perfect. It has to be made perfect.”
—Rang De Basanti

এই লাইনটা শোনার পর আমাদের চোখে জল আসে। কিন্তু সেই জল কখনো রাস্তায় নামে না। আমাদের ট্র্যাজেডি সিনেমা হয়ে যায়। আর সিনেমা তো বাস্তবে আসে না, তাই না?

কিন্তু এইবার সিনেমা বাস্তবে নেমে এসেছিল। ছোট ছোট শিশুর গায়ে আগুন ধরে যাওয়াটা সিনেমা না।।একজন বাবার, যিনি তার মেয়ের রক্তে ভেজা জামা হাতে পাগলের মতো ঘুরছিলেন, তার কান্নাটা স্ক্রিপ্ট করা না।
তবু আমাদের রাষ্ট্র স্ক্রিপ্টের মতোই চলে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কে বানাবে এই দেশকে পারফেক্ট? পলিটিশিয়ানরা, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে বিমান কিনে, তারপর ওখান থেকে কমিশন কেটে নেয়? নাকি আমরা, যারা জানি সবকিছু, তবুও ফেসবুকে ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ দিয়ে দায় সেরে ফেলি?

“Khoon maaf nahi karenge”
_“এই রক্তের হিসাব চাই, ক্ষমা নয়।”

Rang De Basanti সিনেমায় এই কথাটা যখন উচ্চারিত হয়, একটা দেশ কেঁপে ওঠে।

আমরা কি সেরকমই কিছু পারবো? নাহ! আমরা পারবো না, যতক্ষণ না একটা লেখা, একটা স্মৃতি, একটা মৃত্যু আমাদের ঘুম ভাঙাতে পারে।

ঢাকার, উত্তরার দিয়াবাড়ির আকাশ এখন শান্ত। যেখানে বিমান বিধস্ত হয়েছে ওইখান থেকে ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের পোড়া জুতাগুলো হয়তো সরানো হয়েছে। কিন্তু সেই গন্ধ, সেই গলিত পলিথিন, সেই অশ্রুর রঙ এখনও বাতাসে লেগে আছে। এইটা কিভাবে সরাবে..??

মাইলস্টোন স্কুলের ট্রাজেডি ছিলো আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। আর আমাদের চুপ থাকা, আমাদের পোস্ট করা, আমাদের কান্না— সব মিলিয়ে এই রাষ্ট্র নিজেই এক Rang De Basanti। তফাত শুধু।এখানে DJ নেই, সুকি নেই।।এখানে শুধু নিষ্পাপ শিশুরা আছে। আর আছে, তাদের মৃত্যুর পরেও জবাব না দেওয়া এক নির্বাক রাষ্ট্র।

সেই নিষ্পাপ বাচ্চাগুলো আর কোনো ফিরে আসবে না। তাদের খিলখিল হাসি আর শোনা যাবে না। তারা কোনোদিন আর আমাদের অভিযোগ শুনবে না। তারা আর কোনোদিন হোমওয়ার্ক করবে না। তারা কোনোদিন বিকেলে ব্যাট-বল, ফুটবল নিয়ে খেলতে যাবে না। তারা আর কোনোদিন বলবে না, “মা, আমার খিদে লেগেছে।”

তাদের জায়গায় থাকবে শূন্যতা। অসংখ্য খালি চেয়ার। একটা ঘুম না আসা রাত। একটা ছেলেমেয়েবিহীন ভবিষ্যৎ।

আর রাষ্ট্র?—

রাষ্ট্র আবার নতুন বিমান কিনবে।
রাষ্ট্র আবার টেন্ডার ছাড়বে।
রাষ্ট্র আবার কমিশন খাবে।
রাষ্ট্র আবার ভুল করবে।

আর আমরা?—

আমরা আবার চুপ থাকবো।

~Sadman Sakib Ayon

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lost in Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Lost in Bangladesh:

Share