06/08/2025
প্রথম ‘মানববিধ্বংস’ আঘাত : ৬ আগস্টের নির্মম স্বাক্ষর
৬ আগস্ট — ইতিহাসের কলঙ্কিত এক অধ্যায়। বিশ্ব মানবতার স্বঘোষিত রক্ষক ‘আমেরিকা’ এই দিনেই জাপানের নিরীহ মানুষের ওপর নিক্ষেপ করেছিল জঘন্যতম উপহার “লিটল বয়”। মুহূর্তে নির্বিচারে ঝরে যায় প্রায় ৩ লক্ষ প্রাণ।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান গর্বভরে ঘোষণা দেন — মার্কিন বিমান জাপানের “সামরিক ঘাঁটিতে” একটি বোমা ফেলেছে; যা ২০ হাজার টন TNT-এর সমান শক্তিশালী এবং ব্রিটিশ “গ্র্যান্ড স্ল্যাম”-এর তুলনায় দুশো গুণ বেশি বিধ্বংসী।
ট্রুম্যানের কথায় ফুটে ওঠে তিনটি ভয়াবহ সত্য —
১) ‘সামরিক ঘাঁটি’র তকমা লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ নিরীহ নাগরিক হত্যার বৈধতা ঘোষণা
২) মারণাস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রদর্শনে গর্ব
৩) এত বিপুল ‘হত্যাযজ্ঞেও বিন্দুমাত্র অনুশোচনার অনুপস্থিতি’
যাঁরা বলে থাকেন, জাপানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতেই এই আঘাত প্রয়োজন ছিল — তাদের যুক্তি নস্যাৎ করে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের নিজেরই পাওয়া গোপন বার্তা, যেখানে স্পষ্ট ছিল জাপান আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্ব — কমান্ডার ডোয়াইট আইনসেনহাওয়ার, জেনারেল কার্টিস লেমে, জেনারেল কার্টার ক্লার্ক প্রমুখ — এটিকে স্পষ্টভাবে অপ্রয়োজনীয় হামলা বলে অভিহিত করেছেন।
কেবল এখানেই শেষ নয়। ১৯৪৬-এর পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন দেশে সামরিক আগ্রাসন আর অদৃশ্য যুদ্ধের নামে তারা দুই কোটিরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। সত্য বলতে — মানবতাবাদ ও গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে এ এক ভয়ংকর ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’।
মূলত ১৪৯২ সালেই আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী জন্ম ঘটে স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের নির্মূলের মাধ্যমে। প্রায় ৯০% আদিবাসীকে হত্যা করে তারা গড়ে তোলে নতুন উপনিবেশ — যার ভিত্তিই ছিল গণহত্যা।
তাই বলাই যায় —
এই রাষ্ট্রপতিত পতনের মাঝেই লুকিয়ে আছে বিশ্বের নিরীহ মানুষের পরিত্রাণ, মানবতার প্রকৃত মুক্তি। 🇯🇵🕊️
তথ্যসূত্র: চিন্তা অপরাধ (আসিফ আদনান)
#ইতিহাস_পুর্নপাঠ #আমেরিকা #হিরোশিমা #বিশ্বযুদ্ধ
#আসিফ_আদনান #বুকরিভিউ