31/12/2023
আমাদের কি হলো? আমরা আজ বিজাতীয় কাফিরদের অনুসরণে ব্যাস্ত হয়ে গিয়েছি, তাদের অনুকরণ করতে উঠেপড়ে লেগেছি! অথচ আমাদের জন্য রয়েছে সর্ব উৎকৃষ্ট দ্বীন কিন্তু তা থাকা সত্বেও আমরা কাফিরদের সংস্কৃতি অনুসরণে ব্যাস্ত।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"
সুরা আল ইমরান, আয়াত : ৮৫
'থার্টি ফার্স্ট নাইট' নামে কাফিরদের নিকৃষ্টতম উৎসব একজন মুসলিম হিসেবে আপনার পালন করা কতটুকু সমীচীন তা আপনার ভাবার বিষয়। নিশ্চয়ই এটা পালন করা অথবা এটা পালনে বাধা না দেওয়ার জন্য কিয়ামতের দিন আপনাকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।
আজ এই অশ্লীলতার রাতে কত যুবক-যুবতীরা অশ্লীলতায় ডুবে রইবে তার হিসেব রয়েছে কি? আফসোস করে বলতে হয়, আজ মুসলমানরাও এসব কাফিরদের সংস্কৃতি অনুসরণে পিছিয়ে নেই। আতশবাজি, নাচ-গান, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, ড্রিংকস থেকে শুরু করে যিনা- ব্যভিচারের মত ফাহেশা কাজে জড়াবে।
আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেন,
"আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে— তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদের পৃথিবীতে ধসিয়ে দিবেন।"
ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০২০
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
যে ব্যাক্তি কোনো বিজাতির অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গন্য হবে।
মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২/৫০
'থার্টি ফার্স্ট নাইট' এর মত বিজাতীয় কাফিরদের সংস্কৃতি অনুসরণ করা মুসলমানদের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত হারাম। আজ কাফিররা মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানারকম ষড়যন্ত্র ও সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত, আজ গাযযার উপর বোমাবর্ষণ হয়, আজ সারাবিশ্বে মুসলমানদের উপর নির্যাতন করা হয়, তাদের উপর বোমাবর্ষণ করা হয়, তা সত্বেও আপনি কিভাবে কাফিরদের সংস্কৃতি অনুসরণ করেন অথবা তাতে বাধা না দিয়ে ঘরের ভিতর ঘাপটি মেরে বসে থাকেন আর বলেন, "ইমানের সর্বনিম্ন স্তর হলো অন্তরে ঘৃণা করা।" এটা কি আল্লাহর সাথে, ইসলামের সাথে উপহাস নয়? আপনার হাত বা জবান কোনটিই চালাতে পারেন না শুধুমাত্র ঘরে বসে মনে মনে জপ করতে থাকেন, "ইমানের সর্বনিম্ন স্তর হলো অন্তরে ঘৃণা করা। আমার এখন কিছুই করার নেই।" অথচ আপনি চেষ্টাই করেননি।
ইবনুল কাইয়্যিম র. বলেন,
"যে ব্যক্তি কোন মানুষকে পাপকর্ম, বিদআত কিংবা কুফরির জন্য অভিনন্দন জানাবে সে নিজেকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির মুখোমুখি করল।"
আহকামু আহলিয যিম্মাহ : ১/৪৪১ ৪৪২