18/06/2026
কিছু ভাইয়া-আপুরা সমাজ ও অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য চমৎকার একটা পরামর্শ দিয়ে থাকে। তাঁদের মতে, ফিফার মতো মেগা ইভেন্টগুলো আয়োজন করলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়, যা পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করার পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে।
এছাড়া, ফুটবলের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দাতব্য কার্যক্রম এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও সম্প্রীতি গড়ার যে অনন্য সুযোগ তৈরি হয়, তা নিঃসন্দেহে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। সামগ্রিকভাবে এটি একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও সম্ভাবনাময় পরিকল্পনা। সুন্দর যুগোপযোগী প্ল্যান!!
তাহলে আমরা একটু দেখি, যারা অলরেডি এই প্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে, তাদের দেশে এবং এই খেলার পেছনে আসলে কী চলছে।
১। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আধুনিক দাসপ্রথা (Modern Slavery)
আমাদের অনেকেরই স্বপ্নের মধ্যপ্রাচ্য বা কাতার ২০২২ সালে বিপুল অর্থ ঢেলে আয়োজন করল ফুটবল বিশ্বকাপ। বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো স্টেডিয়াম আর আলোর ঝলকানি। কিন্তু এই আলোর নিচে চাপা পড়া রক্তের ইতিহাসটা কী জানেন?
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian-এর একটি বিখ্যাত অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা যায়, কাতার বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো নির্মাণ করতে গিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রায় ৬,৫০০ এর বেশি শ্রমিক মারা গেছেন। চরম ৪২-৪৫ ডিগ্রি গরম, অস্বাস্থ্যকর আবাসন আর দাসসুলভ খাটুনির কারণে এই বিপুল প্রাণহানি ঘটে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফিফার সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, ফিফা শুধু মুনাফা নিয়ে চিন্তা করে কিন্তু স্টেডিয়াম বা অবকাঠামো নির্মাণে যেসব শ্রমিকদের শ্রম ও জীবন ব্যয় হয়েছে, তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা দিতে ফিফা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ফিফার কাছে এই পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
যাকে আমরা "বিশ্বের মিলনমেলা" বলছি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch (HRW) তার রিপোর্টে একে সরাসরি "Modern Slavery" বা আধুনিক যুগের দাসপ্রথা এবং Wage Theft (শ্রমিকদের বেতন ও ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
রেফারেন্স ১: https://www.theguardian.com/global-development/2021/feb/23/revealed-migrant-worker-deaths-qatar-fifa-world-cup-2022
রেফারেন্স ২: https://www.hrw.org/news/2022/11/07/labour-rights-legacy-of-the-fifa-world-cup
রেফারেন্স ৩: https://www.hrw.org/news/2025/06/12/fifas-world-cup-ignores-child-labor-nightmare
২। অর্থনৈতিক অপচয় ও সাদা হাতি (White Elephants)
পুঁজিবাদী অর্থনীতিবিদরা বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজন করলে দেশের ব্যবসা বাড়ে। ব্রাজিল বিশ্বকাপ ২০১৪ সালে আমাজন জঙ্গলের মাঝে 'মানাউস' শহরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে স্টেডিয়াম বানানো হয়েছিল। এখন সেখানে কোনো খেলা হয় না, স্টেডিয়ামটি স্রেফ পরিত্যক্ত বাস পার্কিং লট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোকে অর্থনীতিতে "White Elephants" বা গলার কাঁটা বলা হয়।
Oxford University (Saïd Business School)-এর একটি বিখ্যাত গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৬০ সালের পর থেকে প্রতিটা অলিম্পিক এবং ফুটবল বিশ্বকাপ তাঁদের মূল বাজেটের চেয়ে গড়ে ১৭২% বেশি খরচ করায়, যা আয়োজক দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী চরম ঋণের মুখে ঠেলে দেয়। অথচ সেই টাকা দিয়ে ব্রাজিলের বা আফ্রিকার হাজারো ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত।
রেফারেন্স ৪: BBC News: https://www.bbc.com/sport/football/32073525
রেফারেন্স ৫: Oxford Academic: https://www.ox.ac.uk/news/2020-09-18-olympic-costs-are-comparable-deep-disasters-pandemics-earthquakes-tsunamis-and-war
৩। খেলার আড়ালে দেহ ব্যবসা ও মানব পাচার (Human Trafficking)
খেলা যখন উৎসবের রূপ নেয়, তখন সেই উৎসবের আড়ালে সচল হয় অন্ধকার জগতের সবচেয়ে জঘন্যতম ব্যবসা—মানব পাচার ও দেহ ব্যবসা।
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ এবং ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অফিসিয়াল রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে। বিশ্বকাপের লাখ লাখ পর্যটকদের অনৈতিক চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক ক্রাইম সিন্ডিকেটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সময় প্রায় ৪০,০০০ নারীকে জোরপূর্বক এবং প্রতারণার মাধ্যমে যৌন দাসত্বের জন্য পাচার করা হয়েছিল। খেলা দেখার আনন্দের আড়ালে লাখো নারীর জীবন বিষাক্ত হয়ে যায়।
রেফারেন্স ৬: Reuters: https://www.reuters.com/world/americas/us-puts-brazil-south-africa-human-trafficking-watch-list-2025-09-29/
৪। অপরাধ ঢাকার হাতিয়ার: স্পোর্টসওয়াশিং (Sportswashing)
বিশ্বের বড় বড় একনায়ক, যুদ্ধাপরাধী বা গণহত্যাকারী রাষ্ট্রগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্ববাসীর নজর থেকে আড়াল করার জন্য ফিফা বা মেগা স্পোর্টস ইভেন্টকে বেছে নেয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একে বলা হয় "Sportswashing"।
২০১৮ সালে রাশিয়ায় হলো বিশ্বকাপ। পুতিনের চেচনিয়া যুদ্ধ, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বা ক্রিমিয়া আগ্রাসনের মতো জঘন্য অপরাধগুলো বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার আলোর নিচে সফলভাবে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। কাতার বা রাশিয়ার মতো দেশগুলো নিজেদের ভেতরের কঠোর স্বৈরাচারী আইন ও শ্রম শোষণ ঢাকতে বিপুল অর্থ খরচ করে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের এক 'উদার' ইমেজ তৈরি করে, যা Amnesty International স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করেছে।
রেফারেন্স ৭: Amnesty International: https://www.amnesty.org.uk/knowledge-hub/all-resources/russia-2018-why-human-rights-matter-world-cup/
স্পোর্টসওয়াশিং কী এবং কিভাবে কাজ করে তা জানতে এটি পড়ুন: https://www.humanrights.unsw.edu.au/students/blogs/what-is-sportswashing
৫। জুয়া, বাজি এবং আত্মহত্যার মহামারী
স্বাভাবিক বিনোদন যখন সহজলভ্য থেকে উন্মাদনায় রূপ নেয়, তখন পুঁজিবাদ তার আসল থাবা বসায়। ফিফা বিশ্বকাপের সময় বিশ্বজুড়ে অনলাইন বেটিং বা জুয়া কয়েক হাজার গুণ বেড়ে যায়। ক্রিপ্টো আর অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি তরুণ দ্রুত বড়লোক হওয়ার আশায় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে দেউলিয়া হয়।
আর এই উন্মাদনার শেষ পরিণতি কী? নিজের ঘরের খেয়ে, জমি বেচে ভিনদেশের পতাকা টানানো তরুণ যখন দেখে তার প্রিয় দল হেরে গেছে, তখন সে মানসিক ট্রমা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে বসে!
বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল The Lancet Psychiatry-এর গ্লোবাল রিপোর্টে দেখা গেছে, বড় বড় স্পোর্টস ইভেন্টের পর সাপোর্টারদের মাঝে বিশেষ করে বাংলাদেশ ও লাতিন আমেরিকায় হার্ট অ্যাটাক এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
রেফারেন্স ৮: The Lancet Psychiatry: Sports Events and Su***de Risk (Global Context) https://www.thelancet.com/journals/eclinm/article/PIIS2589-5370(23)00203-1/fulltext
লাস্ট আর একটা টুইস্ট আপনি কি জানেন কেন FIFA প্রতি ৪ বছর পর পর হয়? বিশ্বকাপের এই ৪ বছরের চক্রটি মূলত অলিম্পিক গেমসের প্রাচীন ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত (যাকে 'Olympiad' বলা হয়)।
১৯৩০ সালে যখন প্রথম বিশ্বকাপ শুরু হয়, তখন ফিফা চেয়েছিল অলিম্পিকের ফুটবল ইভেন্টের বাইরে নিজেদের একটি স্বাধীন ও সবচেয়ে বড় একক রাজত্ব তৈরি করতে।
অলিম্পিক যে বছর হয়, তার ঠিক ২ বছর পর বিশ্বকাপ আয়োজন করা হয়। এর ফলে অলিম্পিক এবং বিশ্বকাপের মাঝে কোনো সংঘাত (Clash) হয় না এবং ফিফা পুরো পৃথিবীর মিডিয়ার আলো এককভাবে নিজের দিকে টেনে নিতে পারে।
পুঁজিবাদী অর্থনীতির একটি মূল সূত্র হলো—"যেকোনো জিনিসের সরবরাহ যত কম হবে, বাজারে তার চাহিদাও তত আকাশচুম্বী হবে।" যদি বিশ্বকাপ প্রতি বছর বা ২ বছর পর পর হতো, তবে মানুষের কাছে এর আকর্ষণ বা এক্সাইটমেন্ট কমে যেত।
৪ বছরের এই দীর্ঘ বিরতি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মাঝে এক ধরণের তীব্র ক্ষুধা ও ব্যাকুলতা (Anticipation) তৈরি করে। একে বলা হয় কৃত্রিম অভাব তৈরি করা বা (Creating Artificial Scarcity)
এই কৃত্রিম অভাবকে পুঁজি করে ফিফা স্পন্সরশিপ, টিভি রাইটস এবং বিজ্ঞাপনের দাম হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয়, যা প্রতি বছর আয়োজন করলে কখনোই সম্ভব হতো না।
৪ বছরের এই চক্রের পেছনে যে শুধুই ব্যবসার হিসাব, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো—২০২১ সালে ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রতি ২ বছর পর পর বিশ্বকাপ আয়োজন করার একটি গোপন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলেন। ফিফার লক্ষ্য ছিল প্রতি ২ বছর পর পর আয়োজন করলে তাঁদের রাজস্ব বা ইনকাম দ্বিগুণ (প্রায় ৮.৬ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত) হয়ে যাবে।
কিন্তু ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (UEFA), দক্ষিণ আমেরিকান সংস্থা (CONMEBOL) এবং খোদ খেলোয়াড়েরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন, প্রতি ২ বছর পর খেলা হলে বিশ্বকাপের মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে এবং খেলোয়াড়েরা ক্লান্তিতে মাঠেই মারা যাবেন। তীব্র তোপের মুখে পড়ে ফিফা বাধ্য হয়ে তাঁদের সেই বাণিজ্যিক লোভ সামলে আবার ৪ বছরের নিয়মে ফেরত যায়।
আচ্ছা এবার আসি FIFA নিয়ে বহিরবিশ্বে উন্মাদনা বা ক্রেইজ কি রকম। আমরা যদি একটু বৈশ্বিক মানচিত্রের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাব এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। বিশ্বের অনেক উন্নত বা সচেতন দেশ এই খেলা নিয়ে আমাদের মতো রাস্তাঘাটে মারামারি বা উন্মাদনা করে না।
জার্মানি বা নরওয়ের মতো দেশগুলোতে কাতার বিশ্বকাপের সময় সাধারণ দর্শক, সচেতন নাগরিক এবং বড় বড় ফুটবল ক্লাবগুলো দলমত নির্বিশেষে "Boycott Qatar 2022" আন্দোলন করেছিল। তারা হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে টিভির পর্দা বন্ধ রেখেছিল। তারা স্রেফ ৯০ মিনিটের একটা খেলা দেখার চেয়ে মানুষের 'মানবাধিকার' এবং জীবনের মূল্যকে অনেক বড় মনে করে।
অন্যদিকে চীন ও জাপানের মতো এশিয়ার পরাশক্তি দেশগুলো খেলাধুলার চেয়ে নিজেদের দেশের কর্মক্ষমতা, প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা এবং সময়ের মূল্যকে অনেক বেশি মূল্যায়ন করে। তারা খেলাকে বড়জোর একটা হালকা বিনোদন হিসেবে দেখে—একে কখনো নিজেদের জীবনের নেশা, ধ্যান-জ্ঞান বা অন্ধ উন্মাদনা বানিয়ে ফেলে না।
ঠিক এই জায়গাতেই আমাদের দেশের চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো এবং চরম লজ্জাজনক। আমাদের নিজেদের দেশের ফুটবল র্যাংকিং যখন ১৮০ এর নিচে, যখন আমাদের নিজেদের ফুটবল দল বিশ্বমঞ্চে খেলার যোগ্যতাটুকুও রাখে না তখন আমাদের যুবসমাজ এক অদ্ভুত পলায়নপর মানসিকতায় (Escapism) ভোগে। নিজেদের জীবনের ব্যর্থতা, হতাশা আর কর্মহীনতা ভুলে থাকতে তারা লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার জয়কে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াই বানিয়ে ফেলে।
যেখানে ইউরোপের মানুষ শ্রমিকের অধিকারের জন্য খেলা বর্জন করে, সেখানে বাংলাদেশের তরুণ নিজের বাপের জমি বন্ধক রেখে, ঋণ করে ভিনদেশের হাজার ফুট লম্বা পতাকা বানায়। সামান্য একটা গোল দেওয়া বা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিজের আপন ভাই, বন্ধু আর প্রতিবেশীর বুকে ছুরি চালায়, মুখে নোংরা গালিগালাজ করে। যে দেশের কোটি মানুষ এখনো দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, সে দেশের মানুষ প্রজেক্টরের আলো আর ভিনদেশী দলের জার্সির পেছনে কোটি কোটি টাকা অপচয় করে এক চরম জাহেলিয়াত ও মানসিক দাসত্বের পরিচয় দেয়।
যখন ৯০ মিনিটের একটি খেলা মানুষের বিবেক, সময় ও নীতিবোধকে অবশ করে দেয়, তখন মানুষ আর সাধারণ মানুষ থাকে না; সে পরিণত হয় পুঁজিবাদের এক অন্ধ দাসে। তখন কারও লাগে মধ্যরাতে টিভির সামনে বসে চোখের জিনা, কারও লাগে জুয়া আর বাজির নেশা, আর কারও লাগে ভিনদেশী দলের জন্য নিজের ভাইয়ের রক্ত ঝরানো।
আর এই উন্মাদনা ও নতুন চাহিদা মেটাতে পুঁজিবাদ খুলে বসবে নতুন নতুন সব দোকান। সেখানে সাজানো থাকবে পসরা—স্পন্সরশিপ, কোটি ডলারের জার্সির ব্যবসা, প্রজেক্টরের আলো। এমন সব পসরা যা দেখে বিবেকের তলানিও শিউরে ওঠে। সব মানবতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার লাশের ওপর দিয়ে চলে যায় ফিফা আর পুঁজিবাদের এই পসরার ট্রাক। তাদের প্রয়োজন শুধু মুনাফা আর পুঞ্জীভূত পুঁজি; কার ঈমান গেল, কার জীবন গেল তা দেখার সময় তাদের নেই।
২০০০ বছর আগে রোমান কবি জুভেনাল শাসকদের একটা কুৎসিত মনস্তাত্ত্বিক চক্রান্ত ফাঁস করেছিলেন, যার নাম ছিল "Bread and Circuses" (রুটি ও সার্কাস)। পলিসিটা খুব সিম্পল—জনগণকে সস্তা খাবার (রুটি) আর গ্যালারির হিংস্র বিনোদন (সার্কাস) দিয়ে এমনভাবে বুঁদ করে রাখো, যেন তারা শোষণের বিরুদ্ধে বা নিজেদের আসল অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার চিন্তাই ভুলে যায়।
আজ ২০০০ বছর পর, রোমের সেই পাথুরে রক্তাক্ত কলোসিয়াম রূপ নিয়েছে বিলিয়ন ডলারের আধুনিক ফুটবল স্টেডিয়ামে। চক্রান্তের কাঠামো বদলেছে মাত্র, কিন্তু শোষণের সেই মনস্তত্ত্ব বিন্দুমাত্র বদলায়নি। ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মেগা-ইভেন্টগুলো আসলে আধুনিক সভ্যতার তৈরি করা ‘সামিরীর বাছুর’। এর চোখ ধাঁধানো গ্ল্যামার আর কৃত্রিম হাইপ আমাদের ব্রেন ও অ্যাটেনশনকে হ্যাক করার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে।
সুতরাং, যুবসমাজের নৈতিকতা, মেধা ও আত্মিক মুক্তি এই ক্ষণস্থায়ী ৯০ মিনিটের চামড়ার বলের উন্মাদনায় নেই; এর স্থায়ী সমাধান "হেথা নয়, হেথা নয়; অন্য কোথাও, অন্য কোনো খানে" আর তা কেবলই মহান আল্লাহর দেওয়া চিরন্তন হিদায়াত ও দ্বীনের আলোতে।
লিখা: সানিম মাহমুদ রাতুল
- We Are Muslim Ummah-WAMU
Guardian analysis indicates shocking figure over the past decade likely to be an underestimate