18/07/2026
আরবী ভাষায় আবুল ফজল ফয়জী 'তাফসিরে ছাওয়াতিউল ইলহাম' বা তাফসিরে বে-নেকাত বিন্দুবিহীন রচনা করেছেন এবং উর্দু ভাষায় করাচীর মাওলানা ওয়ালী রাজি কর্তৃক লিখিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী 'হাদিয়ে আলাম' গ্রন্থটিও নোক্তাবিহীন জীবনীগ্রন্থ। আশ্চর্যের ব্যাপার যে, আরবী ২৯টা অক্ষরের মধ্যে ১৫টি অক্ষরই নোক্তা বা বিন্দুযুক্ত। উর্দুতে ৩৬টি অক্ষর থেকে ১৮টি অক্ষরই বিন্দুযুক্ত। আরবী বর্ণমালা থেকে ১৫টি অক্ষর বাদ দিয়ে মাত্র ১৪টি অক্ষর দ্বারা এবং উর্দুতে ৩৬টি অক্ষর থেকে মাত্র ১৮টি অক্ষর দ্বারা বিশাল তাফসির ও জীবনীগ্রন্থ তাঁরা রচনা করতে পেরেছেন অথচ বাংলা বর্ণমালার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ মিলে ৪৮টি অক্ষর, তার মধ্যে মাত্র চারটি অক্ষর হল বিন্দুযুক্ত। তবুও এই চারটি অক্ষর বাদ দিয়ে বাকি ৪৪টি অক্ষর দ্বারা গ্রন্থ রচনা আজ পর্যন্ত কেউ করেছে বলে জানা যায়নি।
ঠিক এই শূন্য জায়গাটিতেই কলম ধরেছেন বিশিষ্ট আলেম, গবেষক মাওলানা নুরুদ্দিন ফতেহপুরী। হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে নিয়ে পাকিস্তান হওয়ার আগ পর্যন্ত ইতিহাস তিনি সংগ্রহ করেছেন এবং রচনা করেছেন কোন প্রকার বিন্দুযুক্ত অক্ষর ছাড়াই। অর্থাৎ 'র' 'য়' 'ড়' 'ঢ়' এই চারটি বিন্দুযুক্ত অক্ষর বাদ দিয়ে বাকি ৪৪টি অক্ষর দিয়ে তিনি ৩২ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন। ইতিহাসগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন 'তারিখে ফেরেশতা', স্যার সৈয়দের 'আসারু স্বানাদীদ', আবুল ফজল ফয়জীর 'আইনে আকবরী'। তাওয়ারিখে হিন্দ, তাওয়ারীখে বাঙালা ইত্যাদি গ্রন্থ থেকেও তিনি সাহায্য নিয়েছেন। পাকিস্তান ও পরবর্তী সময়ের তথ্য বিভিন্ন বই-পুস্তক, ইতিহাস ও সংবাদপত্র থেকে এবং স্বাধীনতা ও তার পরবর্তী ইতিহাস তিনি নিজের স্মৃতিচারণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি সংবাদপত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। উক্ত বইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং তার পরবর্তী সময়ের অনেক দুর্লভ তথ্যও বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন।
বইটিতে বিন্দুযুক্ত অক্ষর এড়াতে গিয়ে যদিও কিছু কৃত্রিমতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবুও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস হিসেবে পাঠকের জন্য সুখপাঠ্য হবে বলেই আশা করি।
বইটির নাম 'বাংগালী ও বাংলাদেশ'।
বশির মেসবাহর প্রচ্ছদে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে অক্টোবর ১৯৯৫ সালে।