11/09/2026
What Got You Fooled, Young Soul?
তুমি কি কখনো নিজেকে জিজ্ঞেস করেছো, তুমি আসলে কী চাও? নাকি তুমি শুধু সেটাই চাইছো, যেটা তোমাকে চাওয়ানো হয়েছে? যে জীবনকে তুমি স্বপ্ন বলছো, যে সফলতাকে তুমি অর্জন মনে করছো, যে স্বাধীনতাকে তুমি মুক্তি ভাবছো, সেগুলোর সংজ্ঞা কি সত্যিই তোমার নিজের? নাকি ছোটবেলা থেকেই তোমার চারপাশের সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিনোদন, বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক পরিবেশ ধীরে ধীরে তোমার চিন্তার একটা কাঠামো তৈরি করে দিয়েছে, যার ভেতরেই তুমি এখন নিজের ইচ্ছাগুলোকে চিনতে শিখেছো? সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, মানুষ যখন অন্যের দেওয়া চিন্তাকে নিজের চিন্তা মনে করতে শুরু করে, তখন সে আর বুঝতেই পারে না যে সে প্রভাবিত হচ্ছে। তাই প্রশ্নটা তোমার জন্যই, young soul, what got you fooled?
তোমাকে বলা হয়েছে তুমি স্বাধীন। তোমার জীবন তোমার, তোমার সিদ্ধান্ত তোমার, তোমার শরীর তোমার এবং তোমার ইচ্ছাই তোমার সত্য। তুমি কী পরবে, কেমন দেখতে হবে, কোন শরীরকে attractive মনে করবে, কী কিনবে, কোথায় ঘুরবে, কী ধরনের relationship চাইবে, কেমন lifestyle অনুসরণ করবে এবং কোন জিনিসকে successful life মনে করবে, এসবের অনেক কিছুই তুমি নিজে আবিষ্কার করোনি। এগুলোর বড় একটি অংশ তোমার সামনে বারবার উপস্থাপন করা হয়েছে, যতক্ষণ না সেগুলো তোমার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। তোমাকে বলা হয়েছে be yourself, অথচ একই সঙ্গে প্রতিদিন তোমাকে বোঝানো হচ্ছে যে তুমি যথেষ্ট নও। তোমার চেহারা যথেষ্ট সুন্দর নয়, তোমার পোশাক যথেষ্ট modern নয়, তোমার ফোন যথেষ্ট নতুন নয়, তোমার জীবন যথেষ্ট exciting নয়, তোমার income যথেষ্ট বেশি নয়। ফলে তুমি নিজের জীবনের শান্তি খুঁজতে গিয়ে এমন এক দৌড়ে ঢুকে পড়ো, যেখানে finish line-টাই ক্রমাগত সামনে সরতে থাকে।
তোমার insecurity-কে বাজার একটি সুযোগে পরিণত করেছে। তুমি নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাই নতুন product দরকার। শরীর নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাই নতুন routine দরকার। জীবন নিয়ে অসন্তুষ্ট, তাই নতুন experience দরকার। অন্যের জীবন দেখে নিজেকে ছোট মনে হচ্ছে, তাই আরও কিছু অর্জন দরকার। এভাবেই dissatisfaction ধীরে ধীরে consumption-এর fuel হয়ে ওঠে। তুমি ভাবছো তুমি নিজের উন্নতির জন্য ছুটছো, কিন্তু কখনো কখনো হয়তো তুমি শুধু সেই feeling থেকে পালাচ্ছো যে তুমি যথেষ্ট নও। আর এই জায়গাতেই beauty culture, lifestyle culture এবং social media culture তোমার চিন্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তোমাকে শুধু জিনিস বিক্রি করা হয় না, তোমার সামনে একটি identity বিক্রি করা হয়। বলা হয়, এই জিনিসটি ব্যবহার করলে তুমি আরও desirable হবে, এই lifestyle গ্রহণ করলে তুমি আরও successful হবে, এই appearance অর্জন করলে তুমি আরও valuable হবে। ধীরে ধীরে তুমি নিজের মূল্যকে নিজের চরিত্র দিয়ে নয়, নিজের presentation দিয়ে মাপতে শুরু করো।
তারপর আসে hustle culture। তোমাকে বলা হয় সবসময় busy থাকো, ঘুম কমাও, কাজ বাড়াও, প্রতিদিন নিজেকে improve করো, থেমে যেও না, rest নিও না, কারণ অন্য কেউ তোমার চেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিশ্রামও অপরাধের মতো মনে হতে থাকে। তুমি কাজ করছো, কারণ তোমার লক্ষ্য আছে; আবার লক্ষ্য অর্জনের পর নতুন লক্ষ্য তৈরি করছো, কারণ থামলে মনে হচ্ছে তুমি পিছিয়ে যাচ্ছো। একসময় তুমি নিজেকেই একটি project বানিয়ে ফেলো। নিজের জীবনকে অনুভব করার বদলে তুমি নিজের productivity track করো। যদি তুমি জানোই না তুমি কোথায় যেতে চাও, তাহলে আরও দ্রুত দৌড়ানোর অর্থ কী? গন্তব্য ভুল হলে গতি তোমাকে শুধু আরও দ্রুত ভুল জায়গায় পৌঁছে দেবে।
এরপর তোমাকে শেখানো হয় success মানে money, status, recognition এবং achievement। ফলে তুমি নিজের মূল্যকে salary, position, followers, possessions কিংবা মানুষের approval দিয়ে মাপতে শুরু করো। অন্যের চোখে তুমি কতটা successful, সেটাই ধীরে ধীরে তোমার নিজের চোখে তোমার মূল্য হয়ে যায়। কিন্তু একজন মানুষের মূল্য কি তার income দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে? তার possession দিয়ে? তার appearance দিয়ে? যদি এমন হয়, তাহলে যার কাছে বেশি আছে সে কি বেশি মানুষ এবং যার কাছে কম আছে সে কি কম মানুষ? এই চিন্তা মানুষকে নিজের ভেতর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে না নিয়ে নিজের image তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
তোমাকে বলা হয়, follow your desires, do whatever makes you happy। কিন্তু desire কি সবসময় সত্যের পথ দেখায়? মানুষ যা চায়, তা কি সবসময় তার জন্য ভালো? যদি মানুষের ইচ্ছাই নৈতিকতার চূড়ান্ত মাপকাঠি হয়, তাহলে একজনের ইচ্ছা যখন অন্যজনের অধিকারের সঙ্গে সংঘর্ষে যাবে, তখন সিদ্ধান্ত নেবে কে? যদি morality সময়ের সঙ্গে মানুষের preference অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়, তাহলে objective right and wrong কোথায় থাকবে? মানুষ কি সত্যিই শুধু একজন isolated individual, যার জীবনের ultimate purpose নিজের ইচ্ছা পূরণ করা? নাকি মানুষ এমন একজন সৃষ্ট সত্তা, যার জীবনের ওপর নিজের চেয়েও বড় কোনো উদ্দেশ্য ও জবাবদিহিতা রয়েছে?
আধুনিক চিন্তা তোমাকে প্রায়ই বলে, নিজের truth তৈরি করো। কিন্তু সত্য কি তৈরি করার জিনিস? যদি প্রত্যেকে নিজের truth তৈরি করে, তাহলে সত্য আর preference-এর মধ্যে পার্থক্য কোথায় থাকে? তুমি যা বিশ্বাস করতে চাও সেটাই যদি সত্য হয়, তাহলে ভুল বলে কিছু থাকবে কীভাবে? এখানেই একজন যুবকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ intellectual journey শুরু হওয়া দরকার। তাকে শুধু জানতে হবে না পৃথিবী কী বলছে, তাকে জানতে হবে কেন বলছে। কোনো ধারণা popular হলেই তা সত্য হয়ে যায় না, আবার পুরোনো হলেই মিথ্যা হয়ে যায় না। তাকে নিজের worldview-এর foundation পরীক্ষা করতে হবে। সে নিজেকে প্রশ্ন করবে, মানুষ কে, মানুষ কেন সৃষ্টি হয়েছে, জীবনের উদ্দেশ্য কী, ভালো-মন্দের মাপকাঠি কোথা থেকে আসবে, স্বাধীনতার সীমা কোথায় এবং মৃত্যুর পর কী?
ইসলাম এই জায়গায় শুধু কিছু ব্যক্তিগত ইবাদতের নির্দেশ দেয় না, বরং মানুষের অস্তিত্বকে একটি সম্পূর্ণ worldview-এর মধ্যে ব্যাখ্যা করে। ইসলাম বলে মানুষ উদ্দেশ্যহীন নয়। সে নিজের অস্তিত্বের মালিক নয়, সে তার স্রষ্টার সৃষ্টি। তাই তার জীবনের অর্থ শুধু pleasure, career, wealth বা social recognition-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে পারে না। তার স্বাধীনতা unlimited desire-এর অনুসরণ নয়। বরং প্রকৃত স্বাধীনতা হলো সেইসব আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক চাপের দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসা, যেগুলো মানুষকে নিজের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যে মানুষ মানুষের approval ছাড়া নিজেকে মূল্যবান মনে করতে পারে না, সে স্বাধীন নয়। যে মানুষ বাজারের তৈরি প্রয়োজন ছাড়া নিজের জীবন কল্পনা করতে পারে না, সে স্বাধীন নয়। যে মানুষ নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে যতই স্বাধীনতার কথা বলুক, তার ভেতরে সে বন্দী।
একজন মুসলিম যুবকের কাছে তাই যৌবন শুধু entertainment-এর সময় নয়, career তৈরির সময়ও শুধু নয়। এটি নিজেকে গড়ে তোলার সময়, জ্ঞান অর্জনের সময়, নিজের চিন্তাকে শুদ্ধ করার সময়, নিজের চরিত্রকে শক্ত করার সময় এবং নিজের জীবনের উদ্দেশ্যকে বুঝে নেওয়ার সময়। সে জানে তার সময়ের মূল্য আছে, তার শক্তির মূল্য আছে, তার জ্ঞানের মূল্য আছে এবং একদিন তার জীবন সম্পর্কে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। সে তাই crowd-এর সঙ্গে শুধু ভেসে যায় না। সে প্রশ্ন করে, পড়ে, চিন্তা করে এবং সত্যকে অনুসরণ করার সাহস রাখে। কোনো ধারণা শুধু সবাই বিশ্বাস করে বলে সে গ্রহণ করে না এবং কোনো ধারণা পুরোনো বলে প্রত্যাখ্যানও করে না। তার কাছে সত্য popularity-এর ওপর নির্ভরশীল নয়।
তাই young soul, তোমার সবচেয়ে বড় বিপদ হয়তো কোনো ব্যক্তি নয়, কোনো প্রতিষ্ঠানও নয়। তোমার সবচেয়ে বড় বিপদ হতে পারে এমন কিছু ধারণা, যেগুলো তুমি কখনো পরীক্ষা করোনি, অথচ সেগুলোর ভিত্তিতেই তুমি নিজের জীবন পরিচালনা করছো। তুমি কেন success চাও, কেন certain lifestyle চাও, কেন নির্দিষ্ট appearance-কে beauty মনে করো, কেন freedom-এর একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা গ্রহণ করেছো, কেন নিজের desire-কে authority মনে করো, এসব প্রশ্ন করার সাহস তোমার থাকতে হবে। কারণ নিজের বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা মানে নিজের বিশ্বাসকে ধ্বংস করা নয়; বরং সত্য হলে তাকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। আর যদি কোনো বিশ্বাস প্রশ্নের সামনে টিকে না থাকে, তাহলে সেটাকে আঁকড়ে ধরে রাখার নাম দৃঢ়তা নয়, সেটা intellectual fear।
তাই একটু নিজেকে প্রশ্ন করো এবং নিজের দিকে তাকাও। তুমি যে স্বপ্নের পেছনে ছুটছো, সেটা কি সত্যিই তোমার স্বপ্ন? তুমি যে সফলতা অর্জন করতে চাও, সেটা কি সত্যিই সফলতা? তুমি যে স্বাধীনতাকে ভালোবাসো, সেটা কি সত্যিই স্বাধীনতা? তুমি যে lifestyle অনুসরণ করছো, সেটা কি সত্যিই তোমাকে মুক্ত করছে, নাকি আরও কিছু পাওয়ার ক্ষুধার মধ্যে আটকে দিচ্ছে? তুমি যে চিন্তাগুলোকে নিজের বলে মনে করছো, সেগুলো কি সত্যিই তোমার নিজের চিন্তা? নাকি তুমি শুধু এমন একটি পৃথিবীর প্রতিধ্বনি, যে পৃথিবী তোমার হয়ে বহু আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দিয়েছে কী চাইতে হবে?
তোমার যৌবন endless scrolling, superficial validation, artificial beauty, empty competition এবং endless consumption-এর মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার মতো তুচ্ছ নয়। তুমি শুধু consumer নও, তুমি শুধু employee নও, তুমি শুধু individual নও। তুমি এমন একজন মানুষ, যার অস্তিত্বের একটি উদ্দেশ্য আছে এবং যার সামনে একটি জবাবদিহিতার দিন আছে। পৃথিবী তোমাকে হাজার রকম পরিচয় দেবে, হাজার রকম স্বপ্ন দেখাবে এবং হাজার রকম সত্যের দাবি করবে। তোমার কাজ হলো সবকিছুর পেছনে অন্ধভাবে ছুটে যাওয়া নয়। তোমার কাজ হলো স্থির হওয়া, চিন্তা করা, প্রশ্ন করা এবং সত্যকে খুঁজে নেওয়া।
কারণ সত্যিকারের জাগরণ তখনই শুরু হয়, যখন তুমি প্রথমবার নিজের মাথার ভেতরের শব্দগুলোকে প্রশ্ন করো। আর হয়তো সেদিন তুমি বুঝতে পারবে, তোমাকে সবচেয়ে বেশি বোকা বানিয়েছে কোনো একজন মানুষেরই পরিকল্পনা বরং এমন কিছু ধারণা, যেগুলোকে তুমি এতদিন প্রশ্নহীনভাবে নিজের বলে মেনে নিয়েছিলে। তাই প্রশ্নটা অন্য কাউকে নয়, আজ নিজেকেই করো, What got you fooled, young soul? আর যদি সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তোমার পুরোনো অনেক বিশ্বাস ভেঙে যায়, ভয় পেয়ো না। কারণ মিথ্যা ধারণা ভেঙে সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া পরাজয় নয়। সেটাই হয়তো তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় জাগরণ।