07/09/2025
"নতুন বাংলাদেশের ডাকসু ইশতেহার,
বিশ্ব হোক ঢাবির সবার"
আমার প্রতিশ্রুতিসমূহ-
১। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে, বিশ্বের উন্নত দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম প্রণয়ন করতে প্রশাসনকে সহায়তা করবো ইনশাআল্লাহ। যাতে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা যেকোনো দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে যেতে পারে। এবং মাস্টার্সে কেউ বাহিরে স্কলারশিপে যেতে চাইলেও যাতে কোর্স মডিউল ম্যাচ করে।
২। ঢাবিকে "Erasmus Mundus" এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যে প্রসিডিওর শুরু করা দরকার, সেটা প্রশাসনের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। যাতে করে আগামী সেপ্টেম্বর-২৬ ইনটেক থেকেই অনার্সে/মাস্টার্সে পড়ুয়া কোনো স্টুডেন্ট নিজের যোগ্যতায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১-৪ সেমিস্টার পর্যন্ত করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশের ২/৩ টা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে।
৩। USA-Canada তে অবস্থিত ৩০০+ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রামে “Study Loan” এর ব্যবস্থা করে দিবো ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিশেষ স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে দেয়ার ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।
৪। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক শিক্ষামেলা আয়োজন করবো ইনশাআল্লাহ। এই মেলা শুধুমাত্র আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হবে। এতে আমন্ত্রণ জানানো হবে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের, যারা সরাসরি আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করবে। শিক্ষার্থীরা এক জায়গায় বসেই বিশ্বের নানা দেশের সুযোগ-সুবিধা, স্কলারশিপ ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ব্যাপারে জানতে পারবে এবং আবেদন করতে পারবে। এতে আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার দরজা খুলে দেবো আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য।
৫। গবেষণায় আর্থিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনা উৎসাহিতকরণ নিশ্চিত করবো। গবেষণার জন্য ঢাবির বরাদ্দ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করবো। যারা আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করতে চান, তাদেরকে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করব। নতুন স্কলারশিপ ও অনুদানের ব্যবস্থা করবো, যাতে গবেষণায় উৎসাহ বৃদ্ধি পায়।
৬। আন্তর্জাতিক সকল অলিম্পিয়াড ও প্রতিযোগিতায় ঢাবির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবো। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড যেমন বিজ্ঞান, গণিত, ভাষা, প্রযুক্তি ইত্যাদিতে ঢাবির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াবো। অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রস্তুতি সাপোর্ট ও স্পনসরের ব্যবস্থা করবো, যাতে আমরা গর্বের সাথে দেশের মান রক্ষা করে ফিরে আসতে পারি।
৭। নিয়মিত উপকারী সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করবো ইনশাআল্লাহ। কীভাবে বিভিন্ন স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন, রিসার্চ প্রপোজাল কীভাবে লিখবেন, মোটিভেশন লেটার বা এসওপি কীভাবে তৈরি করবেন এসব বিষয়ে নিয়মিত ওয়ার্কশপ করব। শিক্ষার্থীরা সরাসরি জানতে পারবে কিভাবে আন্তর্জাতিক সুযোগ গ্রহণ করতে হয়। পাশাপাশি অভিজ্ঞ গাইড ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে সেমিনার আয়োজন করব।
৮। ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ এবং ফান্ডিং সেল গঠন করবো। আমি একটি বিশেষ টিম গঠন করবো, যারা শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ ও বিভিন্ন গবেষণা ফান্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করবে। উপযুক্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সঠিক গাইডেন্স দিয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করবে সেই টিম।
৯। ইন্টারন্যাশনাল ইন্টার্নশিপ ও ভলান্টিয়ারশিপের সুযোগ বৃদ্ধি করবো। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করব। এতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।
১০। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ ও ইন্টিগ্রেশন নিশ্চিত করবো। ঢাবিতে পড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করব। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াবো, যাতে আমরা একে অপরকে ভালোভাবে বুঝতে পারি।
১১। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করবো। ঢাবির আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা, স্কলারশিপ, সেমিনার ও কর্মশালার তথ্য নিয়মিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপডেট করব। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুবিধাজনক ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করব।
১২। বিদেশি দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যেঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপন করব। এর মাধ্যমে আমরা ঢাবির শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো সুযোগ ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারব।
আমি গত ৪-৫ বছর বাংলাদেশের প্রায় ২৫০-৩০০ ছাত্র-ছাত্রীকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে (আমেরিকা, কানাডা, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালায়শিয়া, তুরস্ক, জার্মানি, সুইডেন, ফিনল্যন্ড, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, হাঙ্গেরি, দুবাই) স্কলারশিপ সহ/ছাড়া প্রসেস করে দিয়েছি, যারা এখন সেসব দেশে আছেন। আমি নিজেই আমেরিকা, কানাডা, দুবাই, মালায়শিয়া এবং তুরস্কে অবস্থিত বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছি, সেখানকার ইন্টারন্যাশনাল অফিসে কথা বলেছি। সেই নেটওয়ার্কগুলোকে কাজে লাগিয়ে ঢাবির হাতে আবার বিশ্বকে নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ।
আমি মুস্তাকীম মাহমুদ রাহীম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করে ঢাবির প্রত্যেকজন শিক্ষার্থীর হাতে আন্তর্জাতিক সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনার মূল্যবান ভোট আমার জন্য শক্তি, যা আমাকে ঢাবি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আসুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নপূরনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশের শপথ নেই। আমি আপনাদের সবার ভোট, সমর্থন এবং দোয়া/আশির্বাদ প্রত্যাশি। আমি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একজন প্রার্থী, শুধুমাত্র আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই, আপনাদের ভোকাল হইতে চাই।
#ডাকসু