13/08/2023
প্রাইম ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন তাদের এক অমার্জনীয় দায়িত্বজ্ঞানহীন অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ডিপার্টমেন্টের সদ্য গ্রাজুয়েট ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায়।
ভুক্তভোগী ৪৯ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন,
প্রাইম ইউনিভার্সিটি ল ডিপার্টমেন্ট এর ৪৯তম ব্যাচ ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসের ১ তারিখে ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস করা শুরু করে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাচে ৫৯ জন ভর্তি করায়। আপনারা জানেন যে ২০১৭ সালের এপিলেট ডিভিশনের এক রায়ে প্রতি ব্যাচে ৫০ জনের বেশি ভর্তি করানো পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।৪৯ ব্যাচ যখন এই বিষয়টি ক্লাস টিচার এবং রেজিস্ট্রার অফিসে জানায়, উনারা আশ্বাস দেন - কোন সমস্যা হবে না, আমরা বিষয়টা দেখবো।
তারপর তারা সেই ৫৯ জনের লিস্ট বার কাউন্সিলে পাঠিয়ে দেয়।
এক দেড় বছর পর যখন স্টুডেন্টের সংখ্যা ৫৯ থেকে ৩৯ এ নেমে আসে তখন তারা আইডি আগে পিছে করে
আবার নতুন আইডি কার্ড দেয়।
৪৯ ব্যাচ ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে এবং নভেম্বরে বার কাউন্সিলে ইন্টিমেশন জমা দেয়।
ইন্টিমেশন জমা দেওয়ার এক-দেড় মাসের মধ্যে এপ্লিকেশন এপ্রুভ হয়ে যায়। কিন্তু ৪৯ ব্যাচের দুই মাস পার হয়ে যাওয়ার পরেও যখন এপ্রুভ হয় না তখন বিষয়টা তারা ভার্সিটিকে জানায় এবং প্রশাসন বলে - আমাদের কোন সমস্যা নাই, বার কাউন্সিলের সমস্যা! ছাত্ররা বার কাউন্সিলে গিয়ে যোগাযোগ করলে উনারা বলে - আপনাদের ব্যাচে ৫০ জনের বেশি ভর্তি হয়েছিলো তাই ইন্টিমেশন আটকিয়ে রাখা হয়েছে! ছাত্ররা এর রেমিডি জানতে চাইলে উনারা বলে - রীট করতে হবে, অন্যান্য ইউনিভার্সিটির মত জরিমানা দিতে হবে।
ছাত্ররা যখন রেজিস্ট্রার জব্বারকে রীট করার কথা বলে তখন সে জরিমানার (১০-১৫ লাখ) কথা শুনে ধমক দিয়ে বলে - এইসব রীট ইউনিভার্সিটি করবে না। আমরা বিষয়টা দেখতেছি। আমরা অন্যভাবে হ্যান্ডেল করবো!
তাদের অন্য ভাবে হ্যান্ডেল করার ওয়ে হলো - তারা বার কাউন্সিলকে বুঝাবে যে, ওটা ৫৯ হবে না, ৩৯ জন হবে। বাই মিস্টেক ৩৯ এর জায়গায় ৫৯ হয়ে গেছে এবং ছাত্রদেরও শিখিয়ে দেয় তারা যেন সেম কথা সবাইকে বলে! অথচ বার কাউন্সিলে যখন লিস্ট পাঠানো হয়েছিলো তখন নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, ব্যাসিকালি পুরো চোদ্দগুষ্টির ইনফরমেশন পাঠানো হয়েছিলো। প্রাইম ইউনভার্সিটি বার কাউন্সিলকে গাধা গরু মনে করে, তারা মনে করে এগুলো তারা বারকে বুঝাতে পারবে!
যাইহোক,ছাত্ররাও তাদের বিশ্বাস করেছিলো। প্রতি শুক্রবারই তারা ক্যাম্পাসে আসতো আপডেট শুনতে। তারা প্রত্যেকবার-ই তাদের একই কথা শুনতে হইসে, আমরা কাজ করতেছি, তোমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে!
মে অথবা জুন মাসের দিকে ভার্সিটি বার কাউন্সিলের সচিবকে প্রাইমে ফ্যাক্টলি হিসাবে নিয়োগ দেয়, উনি প্রতি শুক্রবার ৫৭ এবং ৫৮ ব্যাচের ক্লাস নেন। উনাকে নিয়োগ দেয়ার পিছনে কারণ ২টা। উনাকে দিয়ে ক্লাসও নেয়ানো যাবে আর তেলটেল মেরে আমাদের এপ্লিকেশন এপ্রুভও করানো যাবে ফ্রি। রীটে গিয়ে জরিমানা কে দেয়? এক ঢিলে দুই পাখি। এইসব চিকনা থার্ড ক্লাস মার্কা বুদ্ধি সম্ভবত প্রাইমের মাথা থেকেই বের হয়।
যাইহোক, উনারা বারের সচিবের সাথে কথা বলতেই ভয় পান। এমন বিহেভ করেন মনে হয় উনি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর!
২৩ শে জুন, ২০২৩ তারিখে ৪৯ ব্যাচের সবাই ভার্সিটিতে যায় এবং সেদিন মীর শাহাবুদ্দীন বার কাউন্সিলের সচিবের সাথে ১ ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। কি বৈঠক করেছেন উনি আর সচিব জানেন, যাই হোক, বৈঠকের পর শাহাবুদ্দিন ছাত্রদের সকলকে ডেকে বলে - তোমাদের কাজ হয়ে গেছে, ঈদের পর তোমাদের এপ্লিকেশন এপ্রুভ হয়ে যাবে। আমরা খুশি মনে চলে আসি। জুন গেল, জুলাই গেল, আগস্ট আসলো, ফর্ম ফিলাপের ডেটও দিলো এখনো এপ্লিকেশন এপ্রুভড হলো না।
ছাত্ররা কুকুরের মতো ঘুরতেছে বার কাউন্সিল থেকে ইউনিভার্সিটি থেকে কোর্ট থেকে আইনজীবী, কিন্তু কোনো সমাধান পায় নাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বর্তমান এক শিক্ষার্থী বলছেন,
এরপরের কিছু ব্যাচেও এই বিশ্ববিদ্যালয় বেশি লাভের আশায় বার কাউন্সিল এর বেধে দেওয়া নিয়ম অমান্য করে ৫০ এর অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করায় এবং ছাত্রদের জীবনগুলোকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে কি অবস্থা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। ল তে ভর্তি হইতে গেলে টাকা কিন্তু ৬ লাখ লাগে!
আদতে কয়েকটা নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশের প্রায় সকল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র ব্যবসার স্বার্থে তাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, ছাত্রদের সুবিধা-অসুবিধা তাদের কিছুই যায় আসে না। আর এদের নিয়ে কথা বলতে শিক্ষা সচেতন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও অনীহা দেখায়, কারণ এখানে কথা বলে লাভের থেকে ক্ষতি বেশি হয়।
পরিশেষে এইটা বলতে চাই অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে যতটুকু সম্ভব দাড়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আসেন আমরা সবাই এক হয়ে প্রতিবাদ জানায়।
৪৯ তম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী বলছেন,
যারা বলতাছেন যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করতাছি। আপনারা যদি এলএলবি পাশ করে বার কাউন্সিলর Exam দিতে পারবেন কিনা তা যদি অনিশ্চত থাকেন আপনারা কি করতেন। প্রশ্ন রেখে গেলাম আপনাদের কাছে। পুলার সম্মানিত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সহ সকল সিনিয়র ভাইদের কাছে আমরা বলতে চাই বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সাথে অন্যায় করতাছে।আমরা ৯ মাস ধরে ওদের কাছে যাইতাছি ওরা কোনো সমাধান করেনি।বলছে তোমাদের ম্যাসেজ না আসলে বারকাউন্সিল exam ই হবেনা।ফরমফিলাপ তো তারিখ দিয়া দিলো এখন আমরা কি করবো।আমরা কি এখন পড়ালেখা করবো নাকি এগুলা নিয়া দৌড়াবো আপনারা বলেন।কারো বাড়ি যশোর, কারো বাড়ি নড়াইল, কারো বাড়ি ফরিদপুর। তার পরেও তারা এগুলা উপেখা করে তাদের পেছনে দৌড়াতাছে।এখনো কোন সমাধান করেনি।আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী হিসাবে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা আশা করি আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোট সর্বদা সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সমর্থন ও সহযোগিতা করে আসছে। প্রাইম ইউনিভার্সিটির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে আমরা বলতে চাই, আমরা আপনাদের পাশে আছি। যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার।