01/04/2026
আপনি একজন নারী,আপনার কাছে কয়েকটি প্রশ্ন...
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই পৃথিবীতে আপনাকে একজন নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার এটা সৌভাগ্য যে,আল্লাহ তা'আলা একান্ত অনুগ্রহ করে আপনাকে মুসলিম মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু মুসলিম নারী হিসেবে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জানার জন্য আপনি কি কোনো চেষ্টা করেছেন? আল্লাহ তা'আলা আপনার প্রতি পর্দা বাধ্যতামূলক করেছেন। কিন্তু আপনি পর্দা মেনে চলেছেন? বরং যেসব মুসলিম নারী পর্দা করেছে আপনি তাদেরকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছেন।পর্দার কথা যারা বলছে,তাদেরকে আপনি প্রগতির শত্রু মনে করছেন।
বিউটি পার্লার থেকে মেকআপ করে আপনি রাস্তায় আবেদনময়ী ভঙ্গিতে চলাফেরা করছেন, এমন পোষাক আপনি পরিধান করছেন যে,আপনার দেহ সৌষ্ঠব সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়ে উঠে। এক শ্রেণির কামার্ত পুরুষ আপনার প্রতি কাম তাড়িত দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। আপনার কারণে অসংখ্য পুরুষ চরিত্রহারা হচ্ছে। লজ্জা হলো নারীর ভূষণ, আপনি লজ্জার সেই বাঁধন ছিন্ন করে নিজেকে আধুনিকা প্রমাণের জন্য অনাবৃতা হয়েছেন। আল্লাহতা'আলা একমাত্র পুরুষের জন্য যেসব কাজ নির্বাচিত করেছেন,আপনি সমঅধিকারের নামে নিজেকে সেসব কাজে জড়িত রেখে নিজের মূল্যমান হ্রাস করেছেন।
মুহূর্ত কালের জন্য আপনি পরকালের চিন্তা করেননি এবং মৃত্যু যে কোনো মুহূর্তে আপনার দিকে ছোবল দিতে পারে, এ চিন্তাও আপনি করেননি। এভাবে প্রগতির নামে গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে চলেছেন, হঠাৎ করে আপনি মৃত্যুমুখে পতিত হলেন। এ অবস্থায় চিন্তা করে দেখুন তো,আপনার আত্মীয়-স্বজন আপনার লাশ নিয়ে কি করবেন?
আপনার নামের পূর্বে মুসলিম শব্দটি থাকার কারণে আপনাকে শেষ গোছল দেয়ার জন্য যে স্থান নির্বাচন করা হবে, সে স্থানটি পর্দায় আবৃত করা হবে। কোনো পরপুরুষকে আপনার লাশ দেখতে দেওয়া হবে না। এখন আপনাকে কাফন পরানো থেকে কবরে নামানো পর্যন্ত পর্দার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ একজন মুসলিম নারীর জন্য জীবিতকালীন পর্দার বিধান ছিলো, এখন আপনার মৃত্যুর পর সেই বিধান অনুসরণ করা হবে।
এবার আপনি চিন্তা করে দেখুন তো আপনি জীবিতকালে মুহূর্তের জন্য পর্দা করেননি,যারা পর্দা করতো তাদেরকে বিদ্রুপ করেছেন, প্রগতির শত্রু, সেকেলে, আনকার্লচার্ড ইত্যাদি বিশেষনে বিশেষিত করেছেন।
এরপর আপনাকে যখন কবরে নামানো হবে তখন বলা হবে,তোমাকে আল্লাহর নামে এবং রাসূলের দলের ওপর রাখা হলো।
আপনি চিন্তা করে দেখুন তো, আপনাকে যারা কবরে নামাবে এবং উক্ত কথাগুলো বলবে,তাদের কথা বলার সাথে আপনার জীবন-যাপন পদ্ধতির কি কোনো সাদৃশ্য ছিল?
কারণ আল্লাহর রাসূলের দলে তো ঐ নারীরাই স্থান পাবে, যারা পৃথিবীতে কুরআন-হাদীসের বিধান অনুসরণ করেছেন।
এমন প্রশ্নগুলো আপনি জীবিতকালেই আপনার বিবেককে করুন। আপনার বিবেক যদি আপনাকে নেতিবাচক জবাব দেয়,তাহলে এখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন, এখন কুরআন-হাদীসের বিধান অনুসরণ করে জীবনকে বদলে দিবেন, রূপ-যৌবনের অহংকার না করে এবং তা প্রদর্শনীর পণ্য না বানিয়ে আল্লাহকে ভয় করে তাঁর নির্দেশ অনু্যায়ী জীবন গড়ুন।
📖আল্লাহ মৃতদেহ নিয়ে কি করবেন/পৃষ্ঠা২৩-২৪।
মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী রাহিমাহুল্লাহ।