19/06/2026
আমাদের মস্তিষ্ক কখনো কখনো বাস্তবতাকে বিকৃত করে দেখে।
ধরুন, একটি প্রেজেন্টেশনে ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন আপনার কাজের প্রশংসা করলো। কিন্তু একজন ছোট্ট সমালোচনা করল। দিন শেষে আপনি কোন কথাটা বেশি মনে রাখলেন?
সম্ভবত সেই একটি মাত্র সমালোচনাই, তাইনা!
অথবা কোনো বন্ধু কয়েক ঘণ্টা ধরে আপনার মেসেজের উত্তর দিল না, আর আপনি ভাবতে শুরু করলেন, “হয়তো সে আমার ওপর রাগ করেছে” বা “আমাকে আর পছন্দ করে না।”
বাস্তবে কী ঘটেছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে এমন কিছু ব্যাখ্যা তৈরি করে, যেগুলো পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে। এই প্রবণতাকেই বলা হয় “Cognitive Distortion”
Cognitive Distortion হলো এমন কিছু চিন্তার ধরণ, যা বাস্তবতাকে বিকৃত করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। তখন আমরা কোনো পরিস্থিতিকে আসল রূপে না দেখে ভয়, উদ্বেগ, হতাশা বা নেতিবাচক বিশ্বাসের প্রভাব দিয়ে দেখতে শুরু করি।
যেমন—
“একবার ব্যর্থ হয়েছি, মানে আমি সবসময়ই ব্যর্থ।”
“সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসেনি, নিশ্চয়ই আমাকে অপছন্দ করে।”
“একটা ভুল করেছি, সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।”
এই চিন্তাগুলো সত্য মনে হলেও, অনেক সময় এগুলো বাস্তবতার পুরো চিত্র নয়।
মজার বিষয় হলো, Cognitive Distortion কোনো দুর্বলতার লক্ষণ নয়। প্রায় প্রত্যেক মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন চিন্তার ফাঁদে পড়ে। সমস্যা তখনই হয়, যখন আমরা এসব চিন্তাকে প্রশ্ন না করেই সত্য বলে মেনে নিই।
তাই কোনো নেতিবাচক চিন্তা মাথায় এলে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন—
“এর পক্ষে সত্যিই কী প্রমাণ আছে?”
“আমি কি পুরো ঘটনাটা দেখছি, নাকি শুধু একটি অংশ দেখছি?”
“একই পরিস্থিতিতে কোনো বন্ধুকে আমি কী বলতাম?”
অনেক সময় একটি প্রশ্নই আমাদের চিন্তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিকৃতিগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
মনে রাখবেন, আপনার প্রতিটি চিন্তাই সত্য নয়। কখনো কখনো আমাদের মস্তিষ্ক গল্প বানায়, আর সেই গল্পকে বাস্তবতা মনে করাই হলো Cognitive Distortion-এর সবচেয়ে বড় ফাঁদ।