Asmaul Husna Academy

Call Contact the organization

Asmaul Husna Academy আল্লাহ্‌র সুন্দরতম নাম ও গুণাবলী (Asmaul Husna Therapy) মানসিক ও আত্মিক সুস্থতা অর্জনের সেরা উপায়।

🌿 যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন! 🤍জীবনে কখনো এমন সময় আসে, যখন সামনে কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় না। চারদিক...
22/10/2026

🌿 যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন! 🤍

জীবনে কখনো এমন সময় আসে, যখন সামনে কোনো পথ খুঁজে পাওয়া যায় না। চারদিকে অন্ধকার, বুকভরা দুশ্চিন্তা, চোখে অশ্রু, আর মনে হাজারো প্রশ্ন—

“এখন কী হবে? কোথায় যাব? কীভাবে এই বিপদ থেকে মুক্তি পাব?”

কিন্তু মুমিনের হৃদয়ে তখনো একটি আশার আলো জ্বলতে থাকে। কারণ, তার রব তাকে ভুলে যাননি! ❤️

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে একই সূরায় তিনবার বলেছেন—

📖 ১. সংকট থেকে মুক্তির পথ করে দেবেন

وَمَن يَتَّقِ اللّٰهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।”

— সূরা আত-তালাক: ২

📖 ২. কঠিন কাজ সহজ করে দেবেন

وَمَن يَتَّقِ اللّٰهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার কাজকে সহজ করে দেন।”

— সূরা আত-তালাক: ৪

📖 ৩. গুনাহ মাফ করে প্রতিদান বাড়িয়ে দেবেন

وَمَن يَتَّقِ اللّٰهَ يُكَفِّرْ عَنْهُ سَيِّئَاتِهِ وَيُعْظِمْ لَهُ أَجْرًا

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তাকে দান করবেন মহা পুরস্কার।”

— সূরা আত-তালাক: ৫

🌺 একটু গভীরভাবে ভাবুন!

একই সূরায়, পরপর তিনটি আয়াতে আল্লাহ আমাদের সামনে তাকওয়ার তিনটি মহান প্রতিদান তুলে ধরেছেন—

✨ যখন পথ বন্ধ হয়ে যায়, আল্লাহ পথ খুলে দেন।

✨ যখন কাজ কঠিন হয়ে যায়, আল্লাহ সহজতা দান করেন।

✨ যখন গুনাহের বোঝা ভারী হয়ে যায়, আল্লাহ ক্ষমার দরজা খুলে দেন এবং প্রতিদান বাড়িয়ে দেন।

তাহলে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কি শুধু অর্থ, সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা মানুষের সহযোগিতা?

না! আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো তাকওয়া—আল্লাহর প্রতি এমন সচেতনতা, যা আমাদের গুনাহ থেকে বাঁচায়, তাঁর আদেশ মানতে উদ্বুদ্ধ করে এবং তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে দূরে রাখে।

আপনি হয়তো মানুষের কাছে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারছেন না। হয়তো আপনার দুআর উত্তর আসতে দেরি হচ্ছে। হয়তো আপনি এমন এক সংকটে আছেন, যার সমাধান আপনার কল্পনারও বাইরে।

তবুও হতাশ হবেন না!

আল্লাহর বিধান মেনে চলুন। হারাম থেকে বাঁচুন। মানুষের হক নষ্ট করবেন না। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবেন না। নিজের ভুলের জন্য তাওবা করুন। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন এবং বৈধ উপায়ে চেষ্টা চালিয়ে যান।

মনে রাখবেন, তাকওয়া মানে শুধু আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া নয়; বরং আল্লাহ যা ভালোবাসেন, তা গ্রহণ করা এবং যা অপছন্দ করেন, তা থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা।

আর একটি কথা—আল্লাহর প্রতিশ্রুতির ওপর বিশ্বাস রাখুন, তবে প্রতিদান কখন, কীভাবে এবং কোন রূপে আসবে, তা আল্লাহর হিকমতের ওপর ছেড়ে দিন। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানই যে দুনিয়ায় পাওয়া যাবে, এমন প্রতিশ্রুতি এই আয়াতগুলো দেয় না।

🤲 হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে প্রকৃত তাকওয়া দান করুন। আমাদের সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুলে দিন, আমাদের কঠিন কাজগুলো সহজ করে দিন, আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন এবং আখিরাতে আমাদের মহা পুরস্কার দান করুন। আমিন।

একটি প্রশ্ন নিজের হৃদয়কে করুন:
আমি কি শুধু বিপদ থেকে মুক্তি চাই, নাকি সেই রবের অনুগত বান্দা হতেও চাই, যিনি মুক্তির পথ খুলে দেন?

#তাকওয়া #কুরআনের_আলো #আল্লাহর_ওপর_ভরসা #ইসলামিক_রিমাইন্ডার

🕋 মসজিদে হারামের পবিত্রতা লঙ্ঘন কতটা ভয়াবহ? ইসলামে তা‘যিরের বিধান ও মৃত্যুদণ্ডের ফিকহি ভিত্তিমসজিদে হারাম শুধু একটি মসজ...
20/10/2026

🕋 মসজিদে হারামের পবিত্রতা লঙ্ঘন কতটা ভয়াবহ? ইসলামে তা‘যিরের বিধান ও মৃত্যুদণ্ডের ফিকহি ভিত্তি

মসজিদে হারাম শুধু একটি মসজিদ নয়; এটি মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে পবিত্র স্থান। এখানে ইবাদত, তাওয়াফ ও আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকার কথা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মক্কা ও হারাম শরিফের আশপাশে কিছু বাংলাদেশির অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পতিতাবৃত্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। তবে অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে তা শুধু ব্যক্তিগত পাপের বিষয় নয়; বরং পবিত্র স্থান, মানুষের সম্মান এবং মুসলিম সমাজের নৈতিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধ।

📖 ১. হারাম শরিফে পাপের ভয়াবহতা

আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيهِ وَالْبَادِ ۚ وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

“আর যে ব্যক্তি সেখানে অন্যায়ভাবে অবিচারের মাধ্যমে পাপাচারের ইচ্ছা করে, তাকে আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।”
— সূরা আল-হাজ্জ, ২২:২৫

এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, মসজিদে হারামের বিশেষ মর্যাদা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অন্যায় ও পাপাচারের বিষয়টি সাধারণ স্থানের মতো হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে এ আয়াত নিজে থেকে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করে না। নির্দিষ্ট শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্যান্য শরয়ি দলিল ও ফিকহি বিধানও বিবেচনা করতে হয়।

⚖️ ২. ইসলামে তা‘যির কী?

ইসলামী ফিকহে অপরাধ ও শাস্তির আলোচনায় সাধারণভাবে হুদুদ, কিসাস এবং তা‘যিরের কথা বলা হয়।

তা‘যির (التعزير) হলো বিচারক কর্তৃক কোন অপরাধের জন্য এমন শাস্তি নির্ধারণ করা , যার জন্যে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী কোন হদ বা কিসাসের মতো পূর্বনির্ধারিত শাস্তির বিধান নির্ধারিত নেই। অপরাধের প্রকৃতি, প্রমাণ, পরিস্থিতি, অপরাধীর অবস্থা এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় যোগ্য বিচারিক কর্তৃপক্ষ এই শাস্তি নির্ধারণ করে থাকেন।

তা‘যিরের শাস্তি কতটুকু হবে এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে তা‘যির হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে কি না—এ বিষয়ে ফকিহদের মধ্যে একাধিক মত আছে।

📚 ৩. তা‘যির হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে যাঁরা মত দিয়েছেন

প্রথমত: হানাফি মাজহাবের একদল ফকিহ

হানাফি ফিকহে নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর পরিস্থিতিতে قَتْلٌ سِيَاسَةً—অর্থাৎ জনস্বার্থ ও অপরাধ দমনের বিবেচনায় বিচারিক কর্তৃত্বে মৃত্যুদণ্ডের আলোচনা রয়েছে।

রেফারেন্স:

- ইবন নুজাইম, আল-বাহরুর রায়িক, ৫/৪৫; ৬/২৩৪।
- ইবন আবিদীন, রদ্দুল মুহতার, ৪/৬২।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব আলোচনা সব ধরনের পাপের জন্য সাধারণভাবে মৃত্যুদণ্ডের অনুমতি নয়; বরং নির্দিষ্ট অপরাধ ও পরিস্থিতিসাপেক্ষ।

দ্বিতীয়ত: মালিকি মাজহাবের কিছু ফকিহ

মালিকি ফিকহেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে অপরাধের পুনরাবৃত্তি, গুরুতর ক্ষতি এবং জননিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর শাস্তির আলোচনা পাওয়া যায়।

রেফারেন্স:

- আল-মাওয়াক, আত-তাজ ওয়াল-ইকলীল, ৪/৫৫৩।
- ইবন ফারহুন, তাবসিরাতুল হুক্কাম, ২/২৯৭।
- মুহাম্মদ ইলায়শ, মানহুল জলীল, ৯/৩৫৮।

তৃতীয়ত: হাম্বলি মাজহাবের কিছু বর্ণনা

হাম্বলি ফিকহের কিছু গ্রন্থে বিশেষ পরিস্থিতিতে তা‘যির হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের মত উল্লেখ করা হয়েছে।

রেফারেন্স:

- ইবন মুফলিহ, আল-মুবদি‘, ৯/১০০।
- আল-মারদাওয়ি, আল-ইনসাফ, ১০/২৪৯।
- আল-বুহুতি, কাশশাফুল কিনা‘, ৬/১২৬।

চতুর্থত: শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.)

তিনি গুরুতর অনাচার ও জনক্ষতি এমন পর্যায়ে পৌঁছালে, যেখানে অন্য কোনো উপায়ে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, সেখানে মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ—

فَإِذَا كَانَ الْمَقْصُودُ دَفْعَ الْفَسَادِ وَلَمْ يَنْدَفِعْ إِلَّا بِالْقَتْلِ قُتِلَ

অর্থ: “উদ্দেশ্য যদি হয় অনাচার প্রতিরোধ করা, আর হত্যা ছাড়া তা প্রতিরোধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।”

রেফারেন্স:

- ইবন তাইমিয়্যাহ, মাজমূ‘ আল-ফাতাওয়া, ২৮/১০৮–১০৯; তা‘যিরের প্রসঙ্গে আরও দেখুন ৩৫/৪০৬।
- ইবন তাইমিয়্যাহ, আস-সিয়াসাহ আশ-শার‘ইয়্যাহ, পৃ. ৯৯।

পঞ্চমত: ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)

ইবনুল কাইয়্যিমও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে গুরুতর ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য কঠোরতম শাস্তির পক্ষে আলোচনা করেছেন।

রেফারেন্স:

- ইবনুল কাইয়্যিম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ ফিস-সিয়াসাতিশ-শার‘ইয়্যাহ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি অসংখ্য সৌদি প্রবাসী ফেসবুক পোস্ট এর মাধ্যমে জানিয়েছেন মক্কা-মদিনা সহ সৌদি আরবে বাঙালিরা ব্যাপকভাবে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছে।

🔎 মূল কথা: এসব আলেমের বক্তব্যের ভিত্তি হলো—কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে অপরাধের ভয়াবহতা, অপরাধীর পুনরাবৃত্ত আচরণ, জনক্ষতি এবং অপরাধ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন থাকতে পারে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে সব ধরনের পাপের জন্য নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ডের অনুমতি হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়।

⚠️ ৪. তা‘যিরে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মতভেদও রয়েছে

ইসলামী ফিকহে এ বিষয়ে সর্বসম্মতি নেই। ইবন হাযম এবং শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের বহু ফকিহের অবস্থান তা‘যির হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে অধিক সীমাবদ্ধ বা বিরোধিতামূলক।

🇸🇦 ৫. দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাটি

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তা‘যিরের অধীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।

মসজিদে হারামের পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। সেখানে যৌন অনাচার, মানুষের সম্মানহানি কিংবা অন্য কোনো অপরাধকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

আল্লাহ আমাদের পবিত্র স্থানগুলোর সম্মান রক্ষা করার এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকার তাওফিক দিন। আমিন। 🤲

আজারবাইজানে হিজাব বিতর্ক: ইতিহাসের বেদনাবিধুর পুনরাবৃত্তি  🇦🇿🇹🇷​তুরস্কে ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই অন্ধকার দিনগুলোর ...
14/10/2026

আজারবাইজানে হিজাব বিতর্ক: ইতিহাসের বেদনাবিধুর পুনরাবৃত্তি 🇦🇿🇹🇷

​তুরস্কে ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে আছে? যখন হিজাব [حِجَاب] পরিহিত মুসলিম ছাত্রীদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। আজ দীর্ঘ সময় পর, আজারবাইজানের স্কুলগুলো থেকে ভেসে আসা দৃশ্যগুলো আমাদের সেই পুরোনো ক্ষতের কথাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

​একজন মুসলিম হিসেবে এবং ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে এই ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে যে বিষয়গুলো আমাকে গভীরভাবে ভাবায়:

​১. নিয়মের আড়ালে অবিচার [ظُلْم]:
গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আজারবাইজানে স্কুল ইউনিফর্মের নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিয়মে হিজাবকে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবুও কিছু স্কুল প্রশাসন নিজেদের ইসলামোফোবিক মানসিকতার বশবর্তী হয়ে হিজাব পরিহিত মেয়েদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এটি নিছক নিয়ম নয়, বরং নিয়মের অপব্যবহার।

​২. শিক্ষাঙ্গনের ফটকে শিশুদের কান্না:
ভোরে জ্ঞানার্জনের [عِلْم] উদ্দেশ্যে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে যে শিশুরা স্কুলে যায়, তাদের প্রধান ফটক থেকে অপরাধীর মতো ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সহপাঠীদের সাথে হাসিমুখে ক্লাস করার বদলে তারা চোখের জলে বিদায় নিচ্ছে। এই কোমলমতি শিশুদের মনে যে গভীর ট্রমা তৈরি হচ্ছে, তার দায়ভার কে নেবে?

​৩. বীরের আত্মত্যাগের চরম অবমূল্যায়ন:
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে দ্বিতীয় কারাবাখ যুদ্ধের একজন বীর প্রবীণ যোদ্ধার (গাজী) কন্যার সাথে। মাতৃভূমির জন্য যে বাবা নিজের একটি হাত উৎসর্গ করেছেন, আজ সেই স্বাধীন দেশেই তার আদরের কন্যাকে সামান্য এক টুকরো কাপড়ের জন্য শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে! একজন বীরের রক্তের এই কি প্রতিদান?

​৪. ধর্মীয় অনুশাসন বনাম জ্ঞানার্জন:
ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা যেমন প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরজ [فَرْض], তেমনি শালীনতা বা পর্দা রক্ষার্থে হিজাব পরিধান করাও আল্লাহর অলঙ্ঘনীয় বিধান। এই দুটি বিষয় কখনোই সাংঘর্ষিক নয়। প্রশাসন এমন এক কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে একজন ছাত্রীকে তার বিশ্বাস এবং শিক্ষার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

​ইতিহাস সাক্ষী, জুলুম বা অবিচার করে কখনো কোনো জাতির বিশ্বাসের শেকড় উপড়ে ফেলা যায় না। তুরস্কের মেয়েরা যেমন ধৈর্যের [صَبْر] সাথে লড়াই করে তাদের অধিকার আদায় করেছিল, ইনশাআল্লাহ আজারবাইজানের এই বোনেরাও তাদের হকের ওপর অটল থাকবে।

Collected from a Turkish post

22/09/2026

আবূ য়্যা’লা মা’ক্বিল ইবনে য়্যাসার (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, ’’কোন বান্দাকে আল্লাহ কোন প্রজার উপর শাসক বানালে, যেদিন সে মরবে সেদিন যদি সে প্রজার প্রতি ধোঁকাবাজি ক’রে মরে, তাহলে আল্লাহ তার প্রতি জান্নাত হারাম ক’রে দেবেন।’’ (বুখারী ৭১৫১, মুসলিম ৩৮০, ৪৮৩৪)

অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’অতঃপর সে (শাসক) তার হিতাকাঙ্ক্ষীতার সাথে তাদের অধিকারসমূহ রক্ষা করল না, সে জান্নাতের সুগন্ধটুকুও পাবে না।’’ (বুখারী ৭১৫০)

মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’যে কোন আমীর মুসলিমদের দেখাশুনার দায়িত্ব নিল, অতঃপর সে তাদের (সমস্যা দূর করার) চেষ্টা করল না এবং তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হল না, সে তাদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’’ (মুসলিম ৩৮৩, ৪৮৩৬)

⛈️ সব বুঝেও মানুষ পাপ করে কেন?আপনি কি কখনো নিজেকেই প্রশ্ন করেছেন?“আমি তো জানি…”আমি জানি এটা পাপ।আমি জানি আল্লাহ দেখছেন।আ...
22/09/2026

⛈️ সব বুঝেও মানুষ পাপ করে কেন?

আপনি কি কখনো নিজেকেই প্রশ্ন করেছেন?

“আমি তো জানি…”

আমি জানি এটা পাপ।
আমি জানি আল্লাহ দেখছেন।
আমি জানি মৃত্যু আসবে।
আমি জানি একদিন হিসাব দিতে হবে।
আমি জানি এই কাজটা আমাকে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

তবুও কেন সব বুঝেও আমি পাপে লিপ্ত হয়ে যাই?

কেন?

⛈️ মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত অজ্ঞতা নয়।

মানুষ অনেক সময় সত্যটা জানে—কিন্তু সেই সত্য অনুযায়ী বাঁচতে পারে না।

সে জানে আগুন পোড়ায়,
তবুও আগুনের দিকে হাত বাড়ায়।

সে জানে বিষ ক্ষতি করে,
তবুও এক মুহূর্তের আকর্ষণে তা গ্রহণ করে।

সে জানে পাপ হৃদয়কে অন্ধকার করে,
তবুও নফসের একটি ডাকের কাছে নিজের জানা সত্যকে পরাজিত হতে দেয়।

কারণ পাপের মুহূর্তে মানুষ অনেক সময়
চিরস্থায়ী আখিরাতের চেয়ে কয়েক মিনিটের আনন্দকে বেশি বাস্তব মনে করে।

আল্লাহ বলেন—

«بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ۝ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ»

«“বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও; অথচ আখিরাত উত্তম ও অধিক স্থায়ী।”»

—সূরা আল-আ‘লা: ১৬–১৭

⛈️ পাপ কখনো হঠাৎ আসে না…

আগে আসে একটি দৃষ্টি।

তারপর একটি চিন্তা।

চিন্তা থেকে আকাঙ্ক্ষা।

আকাঙ্ক্ষা থেকে কল্পনা।

কল্পনা থেকে সিদ্ধান্ত।

তারপর—

পাপ।

পাপের পর অপরাধবোধ।

অপরাধবোধের পর তওবা।

তারপর কিছুটা সময় ভালো থাকা।

তারপর আবার সেই পুরনো দরজা…

আবার সেই পুরনো পথ…

আবার সেই পুরনো অন্ধকার।

এভাবেই একটি ছোট পাপ
ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়।

অভ্যাস ধীরে ধীরে চরিত্রে ঢুকে যায়।

আর একদিন মানুষ অবাক হয়ে দেখে-

যে পাপ একসময় তাকে কাঁদাত, আজ সেই পাপের পর তার চোখে আর পানি আসে না।

কুরআন এই অবস্থাকে বলেছে—

«رَانَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ»

“তাদের অন্তরের ওপর মরিচা পড়ে গেছে।”

—সূরা আল-মুতাফফিফীন: ১৪

⛈️ কিন্তু এখানেই গল্প শেষ নয়…

আপনি যদি আজও নিজের পাপ নিয়ে কষ্ট পান—

তাহলে আপনার হৃদয় এখনো পুরোপুরি মরে যায়নি।

আপনি যদি পাপ করার পর অনুতপ্ত হন—

তাহলে ফিরে আসার রাস্তা এখনো আছে।

আপনি যদি চোখের পানি লুকিয়ে বলেন—

“হে আল্লাহ, আমি আবার ভুল করেছি…”

তাহলে মনে রাখবেন—

আপনি আল্লাহর দরজা থেকে দূরে নন।

কারণ আল্লাহ বলেন—

«لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ»

«“আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।”»

—সূরা আয-যুমার: ৫৩

⛈️ শয়তান চায় আপনি পাপ করুন।

কিন্তু তার চেয়েও ভয়ংকর হলো—

সে চায় পাপ করার পর আপনি আল্লাহর কাছ থেকে পালিয়ে যান।

সে প্রথমে বলে—

“একবার করো।”

তারপর বলে—

“তুমি তো পাপী হয়েই গেছ।”

তারপর বলে—

“তোমার আর ক্ষমা নেই।”

কিন্তু আল্লাহ বলেন—

“নিরাশ হয়ো না।”

শয়তান বলে—

“তুমি শেষ।”

আল্লাহ বলেন—

“ফিরে এসো।”

শয়তান অতীত দেখায়।

আল্লাহ ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেন।

⛈️ তাহলে মুক্তির উপায় কি?

মুক্তি মানে এই নয় যে—

আপনি আর কখনো হোঁচট খাবেন না।

মুক্তি মানে হলো—

হোঁচট খেলে

কোথায় ফিরতে হবে—তা জানা।

তওবা করুন।

কিন্তু শুধু মুখে নয়—

পাপের দরজাটাও বন্ধ করুন।

যে উপকরণ আপনাকে পাপে নিয়ে যায়— তা সরিয়ে নিন।

যে সঙ্গ আপনাকে পাপে টানে— সেই সঙ্গ বদলে ফেলুন।

যে পরিবেশ আপনাকে দুর্বল করে—সেখান থেকে বেরিয়ে আসুন।

যে সময়টুকু আপনাকে বারবার পাপের দিকে ঠেলে দেয়—সেটিকে কুরআন, সালাত, জিকির, জ্ঞান ও ভালো কাজে ভরে দিন।

⛈️ পাপ থেকে বাঁচতেও আল্লাহর তৌফিক দরকার।

শুধু পাপের ক্ষতি জানা, শাস্তিকে ভয় করা বা নিজের ইচ্ছাশক্তির ওপর ভরসা করলেই মানুষ সবসময় পাপ থেকে বাঁচতে পারে না।

কারণ অন্তরকে স্থির রাখা, নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সঠিক সময়ে হারাম থেকে সরে আসার শক্তি—সবই আল্লাহর দান।

তাই প্রতিদিন আল্লাহর কাছে দোয়া করুন—

“হে আল্লাহ, আমাকে পাপ থেকে বাঁচার তৌফিক দিন। আমার অন্তরকে আপনার আনুগত্যে দৃঢ় রাখুন। আমাকে আমার নফসের হাতে ছেড়ে দেবেন না।”

যে ব্যক্তি নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে আল্লাহর সাহায্য চায়, আল্লাহ তার জন্য হেদায়াত ও সংযমের পথ সহজ করে দেন।

আর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—

⛈️ আল্লাহকে নতুন করে চিনতে শেখা।

যে মানুষ শুধু শাস্তিকে ভয় করে, সে কখনো কখনো একাকী হলে দুর্বল হয়ে যায়।

কিন্তু যে মানুষ আল্লাহকে ভালোবাসতে শেখে—

সে একা ঘরেও তাঁকে মনে রাখে।

সে জানে—

“কেউ আমাকে না দেখলেও, আমার রব আমাকে দেখছেন।”

সে ভাবে—

“এই কয়েক মুহূর্তের আনন্দের জন্য আমি কি আমার রবের নৈকট্য হারাব?”

তখন পাপের সঙ্গে যুদ্ধটা শুধু
“হারাম বনাম হালাল” থাকে না।

এটা হয়ে যায়—

“আমার নফস বনাম আমার রবের প্রতি ভালোবাসা।”

⛈️ যদি আবার‌ও পাপে জড়িয়ে যান?

আবার ফিরে আসুন।

আবার পড়ে গেলে—

আবার উঠুন।

একশবার পড়ে গেলে—

একশ একবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

«كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ»

«“আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর সর্বোত্তম ভুলকারীরা হলো যারা বেশি তওবা করে।”»

—জামে‘ আত-তিরমিযী: ২৪৯৯।

হয়তো আপনার এমন একটি পাপ আছে, যার কথা আপনি কাউকে বলতে পারেন না।

হয়তো বহুবার তওবা করে আবারও সেই পাপে ফিরে গেছেন।

হয়তো নিজের ওপরই আপনার ঘৃণা জন্মেছে।

অযু করে সময় নিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন।

সিজদায় আপনার রবকে বলুন—

«“হে আল্লাহ, আমি দুর্বল।
আমি জানি আপনি আমার রব।
আমি জানি আমি ভুল করেছি।
আমি জানি আমি বারবার ফিরে এসেছি।
কিন্তু আপনার দরজা ছাড়া আমার আর কোনো দরজা নেই।
আমাকে আমার নফসের হাতে ছেড়ে দেবেন না।
আমাকে আবার আপনার দিকে ফিরিয়ে নিন।”»

কাঁদতে পারলে মন খুলে কাঁদুন। কান্না যদি নাও আসে অন্তত ত‌ওবা করে ফিরে আসুন।

কারণ—

আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ কখনো বন্ধ হয় না;
আমরাই কখনো কখনো লজ্জা, পাপ আর হতাশার দেয়াল তুলে সেই পথ থেকে দূরে সরে যাই।

🌿 আপনি যত দূরেই চলে যান—ফিরে আসুন। ফিরে এসে শয়তানের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিন। শয়তান চায় আপনি নিরাশ হয়ে আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে যান।

💞 হতাশ হবেন না, ফিরে আসুন।
আপনার রব এখনো আপনার রব।

আপনার অতীত যত বড়ই হোক,

আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।

🌿 আল্লাহর মনোনীত বান্দা কারা ? আল্লাহ বলেন—«﴿وَسَلَامٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَىٰ﴾“আর শান্তি তাঁর সেই বান্দাদে...
20/09/2026

🌿 আল্লাহর মনোনীত বান্দা কারা ?

আল্লাহ বলেন—

«﴿وَسَلَامٌ عَلَىٰ عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَىٰ﴾
“আর শান্তি তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি, যাদের তিনি মনোনীত করেছেন।”
— সূরা আন-নামল: ৫৯»

মুফাসসিরদের মধ্যে কেউ বলেছেন—এখানে নবী-রাসূল উদ্দেশ্য, কেউ বলেছেন সাহাবায়ে কেরাম, আবার কেউ বলেছেন—নবী ও মুমিনগণ।

তবে তাবে' তাবে'য়ীদের মধ্যে একজন বিখ্যাত মুফাসসীর মুহাম্মদ ইবনুস সায়িব আল-কালবী একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে --

«اصْطَفَاهُمْ لِمَعْرِفَتِهِ وَطَاعَتِهِ»

“আল্লাহ তাদেরকে তাঁর পরিচয় লাভ এবং তাঁর আনুগত্যের জন্য মনোনীত করেছেন।”

কী আশ্চর্য!

আমরা সাধারণত মনে করি—আল্লাহ কাউকে মনোনীত করলে তাকে হয়তো সম্পদ দেন, সম্মান দেন, ক্ষমতা দেন, মানুষের মাঝে পরিচিত করেন।

কিন্তু কুরআনের আলোকে আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর اصطفاء হতে পারে অন্য কিছু—

তিনি তোমাকে এমন একজন বানিয়ে দেন, যে তাঁকে চিনতে চায়।
তাঁর নাম শুনলে যার অন্তর নরম হয়ে যায়।
তাঁর আয়াত পড়লে যে নিজের জীবনকে নতুন করে দেখতে শুরু করে।
গুনাহ করার পর যে মানুষের কাছে নয়—আল্লাহর কাছে ফিরে আসে।
আর সত্য বুঝে গেলে নিজের নফসের বিরুদ্ধে গিয়েও আল্লাহর আনুগত্য বেছে নেয়।

এটাই তো আসল নির্বাচন। ❤️

---

🌿 আল্লাহকে চেনা—এটাই প্রথম উপহার

আল্লাহর পরিচয় লাভ (مَعْرِفَةُ الله) মানে শুধু জানা নয়।

আল্লাহর নাম জানা এক বিষয়,
আর আল্লাহকে চেনা আরেক বিষয়।

“আল্লাহ আর-রহমান”—এটা হয়তো সবার‌ই জানা।

কিন্তু যখন অনেক বিপদে পড়েও বা কষ্টের মাঝেও কেউ মনে রাখে—

«তিনি আর-রহমান—তিনি আমার প্রতি অসীম দয়ালু।»

তখন সে আসলে তাঁর নামকে চিনতে শুরু করেছে।

“আল্লাহ আল-হাকীম”—এটা হয়তো সবার‌ই জানা।

কিন্তু যখন জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত কারো ইচ্ছামতো না হওয়ার পরও সে বলতে পারে—

«“আমার রবের সিদ্ধান্তের মধ্যে অবশ্যই হিকমাহ আছে।”»

তখন সে আসলে আল-হাকীমকে চিনতে শুরু করেছে।

“আল্লাহ আল-গফূর”—এটাও হয়তো সবার‌ই জানা।

কিন্তু নিজের গুনাহের ভারে ডুবে গিয়েও যখন কেউ তাঁর দরজায় ফিরে এসে বলে—

«“আমার রব আমাকে ক্ষমা করতে পারেন।”»

তখন সে আসলে আল-গফূরকে চিনতে শুরু করেছে।

---

🌿 আর আল্লাহর পরিচয়ের পর আসে طاعة — আনুগত্য

আল্লাহকে চেনা যদি অন্তরের আলো হয়,

তাহলে তাঁর আনুগত্য সেই আলোর প্রমাণ।

কারণ সত্যিকারের معرفة মানুষকে বদলে দেয়।

যে জানে আল্লাহ দেখছেন—সে গোপনে নিজেকে সংযত করে।

যে জানে আল্লাহ রিযিকদাতা—সে হারাম উপার্জনের সামনে থেমে যায়।

যে জানে আল্লাহ ক্ষমাশীল—সে তওবা করতে লজ্জা পায় না।

যে জানে আল্লাহ সর্বশক্তিমান—সে মানুষের ভয়কে আল্লাহর ভয় দিয়ে অতিক্রম করে।

যে জানে আল্লাহই তার রব—সে নিজের ইচ্ছাকে সবসময় রবের ইচ্ছার ওপরে রাখে না।

---

🌿 তাহলে “মনোনীত হওয়া” কি কোনো বিশেষ মানুষের বিষয়?

হয়তো আমরা ভাবি—

“আল্লাহ যাদের মনোনীত করেছেন, তারা তো অনেক বড় মানুষ। আমি কোথায়?”

কিন্তু একটু থামুন।

আপনার জীবনে কি কখনো এমন হয়েছে—

অন্য সবাই যখন কোনো গুনাহকে স্বাভাবিক মনে করছে, আপনার অন্তর বলেছে—

“না, এটা আল্লাহ পছন্দ করেন না।”

আপনি কি কখনো এমন কোনো আয়াত শুনে কেঁদেছেন, যা আগে শতবার শুনেছিলেন?

কখনো কি কোনো গুনাহ করার সুযোগ পেয়েও হঠাৎ মনে হয়েছে—

“আল্লাহ তো আমাকে দেখছেন…”

কখনো কি পৃথিবীর সব দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আপনার অন্তর আপনাআপনি বলে উঠেছে—

“আল্লাহর কাছে ফিরে যাই, সব দরজা বন্ধ হলেও তাঁর দরজা খোলা।”

কখনো কি আপনি নিজের ভুল বুঝে অহংকার না করে ক্ষমা চেয়েছেন?

কখনো কি নিজের নফস যা চেয়েছে, তা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহ যা চেয়েছেন তা বেছে নিয়েছেন?

তাহলে এগুলোকে ছোট করে দেখবেন না।

কারণ হেদায়েতের দিকে অন্তরের এই টানও আল্লাহর একটি বিরাট অনুগ্রহ।

---

🌿 সবচেয়ে ভয়ংকর বিপরীত অবস্থাটি কী?

কোন মানুষের কাছে আল্লাহর পরিচয় থাকা, কিন্তু আল্লাহর প্রতি তার আনুগত্য না থাকা।

জানা আছে—কিন্তু মানা নেই। জ্ঞান আছে কিন্তু আমল নেই।

সম্পূর্ণ কুরআন শুদ্ধ করে পড়া আছে, হয়তো মুখস্থও আছে—কিন্তু কুরআনের কাছে আত্মসমর্পণ নেই।

আল্লাহর নাম জানা আছে—কিন্তু বিপদের সময় তাঁর ওপর ভরসা নেই।

ইসলামের বিধান জানা আছে—কিন্তু নিজের আল্লাহর বিধান অনুযায়ী নয় বরং নফসের চাহিদা অনুযায়ী পরিচালিত করে।

এখানেই معرفة-এর সত্যতা পরীক্ষিত হয়।

কারণ প্রকৃত معرفة শুধু তথ্য বাড়ায় না—

মানুষকে বদলায়, ভেতর থেকে।

---

🌿 তাই আজ একটি দোয়া করি

হে আল্লাহ!

আমাদের এমন সম্পদ দিও না, যা আমাদের তোমার থেকে দূরে নিয়ে যায়।

এমন জ্ঞান দিও না, যা আমাদের অহংকারী করে।

এমন সম্মান দিও না, যা আমাদের তোমার বান্দা হওয়ার পরিচয় ভুলিয়ে দেয়।

বরং—

আমাদেরকে তৌফিক দান করো তোমাকে ভালোভাবে চিনতে পারার।

তোমার নামগুলোকে আমাদের হৃদয়ের জীবন্ত বাস্তবতা বানিয়ে দাও।

তোমার রহমত অনুভব করার তাওফীক দাও।

তোমার ভয় অন্তরে সৃষ্টি করো।

তোমার ওপর প্রকৃত ভরসা করার শক্তি দাও।

আর যখন তোমাকে চিনব—

তখন অতি উত্তম ভাবে তোমার আনুগত্য করার তাওফীকও দাও।

কারণ আমরা এমন اصطفاء চাই না, যা শুধু মানুষের চোখে মর্যাদা বাড়ায়।

আমরা সেই اصطفاء চাই—

«اصْطَفَاهُمْ لِمَعْرِفَتِهِ وَطَاعَتِهِ»

“আল্লাহ যাদেরকে তাঁর পরিচয় ও তাঁর আনুগত্যের জন্য মনোনীত করেছেন।”

হে আল্লাহ,

আমাদেরও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নাও। 🤲

«اللهم اصطفنا لمعرفتك وطاعتك، واجعلنا من عبادك الذين اصطفيت.»

“হে আল্লাহ! আমাদেরকে তোমাকে চেনা ও তোমার আনুগত্যের জন্য মনোনীত করো এবং আমাদেরকে তোমার সেই বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো, যাদের তুমি মনোনীত করেছ।”

أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟পাঁচটি প্রশ্ন—একটি হৃদয় কাঁপানো উত্তরকুরআন কখনো কখনো আমাদের এমন প্রশ্ন করে, যার উত্তর খুঁজতে গেল...
18/09/2026

أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟

পাঁচটি প্রশ্ন—একটি হৃদয় কাঁপানো উত্তর

কুরআন কখনো কখনো আমাদের এমন প্রশ্ন করে, যার উত্তর খুঁজতে গেলে মানুষকে নিজের অস্তিত্ব, পৃথিবী, বিপদ, পথহারা জীবন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের রবের দিকে ফিরে তাকাতে হয়।

সূরা আন-নামল (২৭) এর ৬০–৬৪ নং আয়াতে আল্লাহ পরপর পাঁচবার প্রশ্ন করেছেন—

«أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟
“আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?”»

কিন্তু প্রতিবারই এই প্রশ্নের আগে আল্লাহ এমন একটি নিদর্শন তুলে ধরেছেন, যা আমাদের এক‌ই উত্তর দিতে বাধ্য করে। আর তা হলো: আল্লাহ।

---

🌌 তুমি আকাশ-পৃথিবীর দিকে তাকাও

«أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ السَّمَاءِ مَاءً»

“কে আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন?”
— সূরা আন-নামল, ২৭:৬০

একবার শুধু মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাও।

এই বিশাল আকাশ—
এই পৃথিবী—
এই বৃষ্টি—
এই জীবনের অসংখ্য ব্যবস্থা—

এসব কি নিজে নিজেই অস্তিত্বে এসেছে?

তারপর আল্লাহ বলেন—

«أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟»

“আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?”

প্রথমবার এই প্রশ্নটি আল্লাহর সৃষ্টির দিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করল।

---

🌍 পৃথিবীকে অনুভব করো

«أَمَّنْ جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا»

“কে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছেন এবং তার মাঝে নদী প্রবাহিত করেছেন?”
— ২৭:৬১

তুমি যে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আছ—

এটি তোমার কাছে এত স্বাভাবিক যে তুমি কখনো ভাবোই না:

আমি যে পৃথিবীতে নিশ্চিন্তে হাঁটছি, বসছি, ঘুমাচ্ছি—এই পৃথিবীকে এমন বাসযোগ্য করে দিলেন কে?

নদী, পাহাড়, মাটি, পানি—
জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এই অসংখ্য ব্যবস্থা কে সাজিয়েছেন?

আবার প্রশ্ন—

«أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟»

“আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?”

প্রথম প্রশ্ন ছিল—
কে সৃষ্টি করেছেন?

দ্বিতীয় প্রশ্ন—
কে তোমার জন্য সেই সৃষ্টিকে বাসযোগ্য করেছেন?

---

💞 এবার তোমার অসহায় হৃদয়ের দিকে তাকাও

এখানে এসে কুরআনের ভাষা যেন হঠাৎ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করে।

«أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ»

“কে অসহায়ের ডাকে সাড়া দেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং তার বিপদ দূর করেন?”
— ২৭:৬২

ভাবো—

রাত গভীর।

ঘরে সবাই ঘুমিয়ে আছে।

তুমি একা জেগে আছ।

একটি দুশ্চিন্তা তোমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।

মানুষকে বলেছ—
কেউ সমাধান দিতে পারেনি।

চেষ্টা করেছ—
কাজ হয়নি।

সব রাস্তা যেন বন্ধ।

তখন তোমার বুক থেকে একটি শব্দ বেরিয়ে আসে—

“হে আল্লাহ!”

কেন?

কারণ অন্তরের গভীরে তুমি জানো—

মানুষের ক্ষমতারও একটি সীমা আছে।
কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতার কোনো সীমা নেই।

তাই আল্লাহ প্রশ্ন করেন—

«أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟»

“আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?”

এবার প্রশ্নটি আর আকাশ-পৃথিবী নিয়ে নয়।

এবার প্রশ্নটি তোমার ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে।

---

🛣️ তুমি যখন পথ হারিয়ে ফেলো

«أَمَّنْ يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ»

“কে স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমাদের পথ দেখান?”
— ২৭:৬৩

কখনো মানুষ রাস্তায় হারায়।

আবার কখনো মানুষ জীবনেই হারিয়ে যায়।

কোন সিদ্ধান্ত নেব?

কোন পথ সঠিক?

কাকে বিশ্বাস করব?

কীভাবে ফিরে আসব?

কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা?

কোনটি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ?

অন্ধকার যত গভীর হয়, পথপ্রদর্শকের প্রয়োজন তত বেশি হয়।

আর আল্লাহ বলেন—

কে তোমাদের অন্ধকারে পথ দেখান?

তারপর—

«أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟»

“আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?”

যিনি তোমাকে পথ দেখান,
তোমার হৃদয়কে সত্যের দিকে ফেরান—

তাঁর বদলে তুমি আর কার কাছে পথ চাইবে?

---

শেষ পর্যন্ত তুমি কোথায় ফিরবে?

«أَمَّنْ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ»

“কে প্রথমবার সৃষ্টি করে তারপর তাদের পুনরায় সৃষ্টি করবেন?”
— ২৭:৬৪

একদিন এই জীবন শেষ হবে।

যে মানুষ আজ দৌড়াচ্ছে—

একদিন থেমে যাবে।

যে ঘর বানিয়েছে—

একদিন ছেড়ে যাবে।

যে সম্পদ জমিয়েছে—

একদিন অন্যের হয়ে যাবে।

যে শরীরকে এত যত্ন করেছে—

একদিন মাটির কাছে ফিরে যাবে।

কিন্তু এখানেই গল্প শেষ নয়।

যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন,
তিনি আবারও সৃষ্টি করবেন।

মৃত্যুর পর পুনরুত্থান হবে।

তাই শেষবার এক‌ই প্রশ্ন—

«أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟»

“আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?”

তারপর আল্লাহ বলেন—

«قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ»

“বলুন, তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো।”

---

📝 উত্তর একটিই

কে সৃষ্টি করেছেন?

আল্লাহ।

কে জীবনধারণের ব্যবস্থা করেছেন?

আল্লাহ।

কে অসহায়ের ডাক শোনেন?

আল্লাহ।

কে অন্ধকারে পথ দেখান?

আল্লাহ।

কে পুনরায় সৃষ্টি করবেন?

আল্লাহ।

তাহলে—

أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟

আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?

এই প্রশ্নটি শুধু মুশরিকদের উদ্দেশ্যে নয়।

আজ আমার হৃদয়ের কাছেও প্রশ্ন—

যাঁকে আমি সৃষ্টিকর্তা মানি, বিপদে যাঁকে ডাকি, পথ হারালে যাঁর কাছে হেদায়েত চাই, ভবিষ্যৎ যাঁর হাতে, এবং যাঁর কাছেই শেষ পর্যন্ত ফিরে যাব—

তাঁর ভালোবাসার চেয়ে কি কোনো ভালোবাসা বড় হতে পারে?

তাঁর ভয়ের চেয়ে কি কোনো ভয় বড় হতে পারে?

তাঁর ওপর ভরসার চেয়ে কি কোনো ভরসা বড় হতে পারে?

তাঁর আনুগত্যের চেয়ে কি কোনো আনুগত্য বড় হতে পারে?

আমার জীবন যদি হয় তাঁরই দেওয়া—

আমার মৃত্যু যদি হয় তাঁরই নির্ধারিত—

আমার প্রত্যাবর্তন যদি হয় তাঁর কাছেই—

তাহলে আমার ইবাদত কেন অন্য কারও জন্য হবে?

আমার চূড়ান্ত আশা কেন অন্য কারও কাছে থাকবে?

আমার হৃদয়ের সর্বোচ্চ ভালোবাসা কেন অন্য কারও জন্য হবে?

আমার চূড়ান্ত ভরসা কেন সৃষ্টির ওপর হবে?

পাঁচটি প্রশ্ন যেন শেষ পর্যন্ত এসে একটি সত্যের সামনে দাঁড় করায়—

«لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ»

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।

হে আল্লাহ,

আমাদের চোখকে আপনার নিদর্শন দেখার চোখ দিন।

আমাদের বিবেককে সত্য চিনতে দিন।

আমাদের অসহায়ত্বকে আপনার দিকে ফিরে আসার দরজা বানিয়ে দিন।

আমাদের অন্ধকারে হেদায়েত দিন।

আর আমাদের হৃদয়কে এমনভাবে তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত করুন—

যেন জীবনের প্রতিটি প্রশ্নের শেষে আমরা আপনাকেই খুঁজে পাই।

أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ؟

আল্লাহর সাথে কি কোনো উপাস্য আছে?

না—তিনি এক।
তাঁর কোনো শরিক নেই। 🤲🏻

জন্ম নেওয়াই যেন এ দেশে আজন্ম পাপ! (এদেশে নাগরিক সেবার হয়রানি ঠিক কোন লেভেল পর্যন্ত যাইতে পারে এই পোস্ট তার একটা উদাহরণ ...
18/09/2026

জন্ম নেওয়াই যেন এ দেশে আজন্ম পাপ!
(এদেশে নাগরিক সেবার হয়রানি ঠিক কোন লেভেল পর্যন্ত যাইতে পারে এই পোস্ট তার একটা উদাহরণ মাত্র)

আমার ছোট মেয়েটাকে নতুন স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। স্কুলে ভর্তির জন্য তার জন্ম নিবন্ধন লাগবে। তাই মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করতে গেলাম।

গিয়ে শুনলাম, নতুন নিয়ম হয়েছে—বাবা-মা দুজনেরই জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে।

আমার জন্ম নিবন্ধন করা আছে, কিন্তু আমার স্বামীর জন্ম নিবন্ধন করা নেই। ঠিক আছে, তাহলে স্বামীর জন্ম নিবন্ধন করাতে হবে।

আমি ঢাকায় যেখানে থাকি, সেখানকার কমিশনার অফিসে গেলাম। তারা বলল, “উনার জন্মস্থান এখানে নয়। উনার জন্মস্থান যেখানে, সেখানেই জন্ম নিবন্ধন করতে হবে।”

ঠিক আছে। ঢাকার অফিসের কথা মেনে স্বামীর জন্মস্থান যেখানে, সেই গ্রামে গেলাম।

সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা বলল, “উনি তো এখানকার ভোটার না। উনি ঢাকার ভোটার। উনি যেখানের ভোটার, সেখানেই জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। উনি গ্রামে জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন না।”

আমি বললাম, “ভাই, ঢাকা থেকে তো আমাকে বলা হয়েছে উনার জন্মস্থান যেখানে, সেখানেই জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। ঢাকায় করা যাবে না।”

তখন গ্রামের অফিস থেকে বলা হলো, “উনি এখানে জন্ম নিবন্ধন করতে পারবেন, তবে আগে ঢাকা থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে গ্রামের ভোটার হতে হবে।”

ভাবলাম, আচ্ছা, সেটাও করি।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে গেলাম। এবার বলা হলো—শ্বশুর-শাশুড়ির এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন লাগবে।

বললাম, শ্বশুর-শাশুড়ির এনআইডি দিতে পারব। কিন্তু আমার শ্বশুর তো মারা গেছেন।

তখন বলা হলো, “বাবা মারা গেলে বাবার মৃত্যু সনদ লাগবে।”

ঠিক আছে, মৃত্যু সনদই করি।

কিন্তু সেখানেও শুরু হলো আরেক বিরামহীন ভোগান্তি!

আমার শ্বশুর মারা গেছেন প্রায় ১৬ বছর আগে, ২০১০ সালে। তখন মৃত্যু সনদের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তাই স্বাভাবিকভাবেই তখন সেটা করা হয়নি।

এখন ১৬ বছর আগের সেই মৃত্যু সনদ তুলতে গিয়েও শুরু হলো নতুন কাগজপত্র, নতুন নিয়ম, নতুন দৌড়াদৌড়ি।

এদিকে আমার মেয়ের স্কুলে ছুটির সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পরেই তার পরীক্ষা। সব মিলিয়ে উপায় না দেখে আমাকে ঢাকায় ফিরে আসতে হলো।

ঢাকায় ফিরে আবার আমাদের এলাকার কমিশনার অফিসে যোগাযোগ করলাম। বারবার অনুরোধ করে পুরো বিষয়টি খুলে বললাম।

আমি বললাম, “গ্রামে গেলে আমাকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে বলছে। কিন্তু ভোটার চেঞ্জ করতে গিয়ে তো আমার জন্য আরও বড় ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।”

তখন কমিশনার অফিস থেকে আমাকে বলা হলো, “ভোটার চেঞ্জ করার তো কোনো প্রয়োজনই নেই। উনার জন্মস্থান এখানে। উনি ওখানেই জন্ম নিবন্ধন করবেন। একজন মানুষ বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় ভোটার হতে পারেন। তাই শুধু জন্ম নিবন্ধনের জন্য ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

আমি বললাম, “ভাই, তাহলে এখন আমি কী করব? আমাকে একটু বলেন।”

তখন আমাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হলো—

“হ্যাঁ, আমি করে দিতে পারব। তবে একটু বড়সড় খরচ হবে।”

আমি বললাম, “কত টাকা লাগবে?”

তিনি যে পরিমাণ টাকা চাইলেন, সেটা আমার কাছে যথেষ্ট বড় অঙ্কের মনে হলো।

এদিকে আমার মেয়ের ভর্তি ফর্ম জমা দেওয়ার সময়ও আর বেশি নেই—মোটামুটি ১৫ দিনের মতো।

উপায়ান্তর না দেখে বললাম, “ঠিক আছে ভাই, আপনি করে দেন।”

তিনি আমার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিলেন। আমার জন্ম নিবন্ধনের কাগজও নিলেন। আমাদের মধ্যে কথা হলো—প্রথমে আমার স্বামীর জন্ম নিবন্ধন করে দেবেন, এরপর আমার জন্ম নিবন্ধনের কাগজ নিয়ে আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধনও করে দেবেন।

আমি টাকা দিয়ে এলাম। তিনি আমার স্বামীর জন্ম নিবন্ধনের কাজ শুরু করলেন।

এরপর তিনি আমার জন্ম নিবন্ধনের কাগজ চাইলেন। আমি দিলাম।

তিনি বললেন, “আপনার জন্ম নিবন্ধন তো অনেক আগে করা। এটা শুধু ইংরেজিতে আছে। এখন বাংলা-ইংরেজি দুটোই থাকতে হবে।”

আমি বললাম, “ঠিক আছে। ইন্টারনেট থেকেই তো নেওয়া যাবে।”

তিনি অনলাইন থেকে আমার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে তথ্য বের করে আমাকে পাঠালেন—“দেখেন, ঠিক আছে কি না।”

সেখানেই শুরু হলো আরেক বিপত্তি!

আমার ইংরেজি নামের বানান একদম ঠিক আছে। কিন্তু বাংলা নামের বানান সম্পূর্ণ ভুল!

আমার নাম সাবরিনা জান্নাত আরা।

আর সেখানে বাংলায় লেখা হয়েছে—“শুর্বনা জান্নাত আরা।”

আমার বাবার নাম খন্দকার এনায়েত হোসেন।

আর সেখানে বাংলায় লেখা হয়েছে—“খন্দকার এনায়েম হোসেন।”

অর্থাৎ ইংরেজি নাম ঠিক, কিন্তু তার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে বাংলা নাম লেখা হয়েছে!

এখন আবার সেটা সংশোধন করতে হবে।

আমাকে বলা হলো, আমি যেখান থেকে জন্ম নিবন্ধন করেছিলাম, সেই কাউন্সিলর/কমিশনার অফিসে যেতে।

আমি গেলাম। খোঁজ নিয়ে জানলাম, সরকারি ফি নাকি মাত্র একশো থেকে দুইশো টাকার মতো।

সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে গেলাম।

বললাম, “আমার জন্ম নিবন্ধনে নামের বানান ভুল হয়েছে। এটা কীভাবে ঠিক করব?”

আমাকে বলা হলো, “অনলাইন থেকে আবেদন করে আসুন।”

ঠিক আছে। অনলাইনে আবেদন করলাম। আবেদন ফর্ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আবার গেলাম।

এবার আমাকে বলা হলো—

“দুই হাজার টাকা লাগবে।”

আমি অবাক হয়ে বললাম, “দুই হাজার টাকা কেন? এটা তো একশো-দুইশো টাকা সরকারি ফি হওয়ার কথা!”

তারা বলল, ওই টাকায় কাজ হবে না। আর কম টাকায় করলে কতদিন লাগবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আমার কাছে তখন দুই হাজার টাকা ছিল না। আবার ফিরে এলাম।

যে কম্পিউটারের দোকান থেকে আগের কাজগুলো করেছিলাম, সেখানে গিয়ে বললাম, “ভাই, আসলে কি এত টাকা লাগে?”

তারা বলল, “আপা, এত টাকা তো লাগে না। তবে আপনি আমাদের এক হাজার টাকা দিলে আমরা তিন দিনের মধ্যে কাজটা করে দেব।”

আমি বললাম, “আপনারা কাজটা করতে পারবেন?”

তারা বলল, “হ্যাঁ, আমরা করে দেব।”

আমি যেহেতু অফিসে দুই হাজার টাকা চাওয়ার কথা শুনে বিপাকে পড়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে তাদের এক হাজার টাকা দিলাম। তারা আমার নামের সংশোধনের কাজ করে দিল।

এখন একটু চিন্তা করে দেখুন—

আমি এই দেশের একজন নাগরিক। এই দেশেই আমার জন্ম। আমার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। আমার জন্ম নিবন্ধনও আছে।

শুধু আমার ছোট মেয়ের একটা জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে আমাকে কতটা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হলো!

ঢাকা থেকে গ্রাম।

গ্রাম থেকে ঢাকা।

জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোটার পরিবর্তনের কথা।

ভোটার পরিবর্তন করতে গিয়ে মৃত শ্বশুরের ১৬ বছর আগের মৃত্যু সনদের কথা।

এক অফিসে এক কথা, অন্য অফিসে আরেক কথা।

তারপর অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনে নিজের নামের বানান ভুল!

ভুল তথ্য সংশোধন করতে গিয়ে সরকারি ফি আর বাস্তবে চাওয়া টাকার মধ্যে এত পার্থক্য!

সবচেয়ে বড় কথা—এই ভুলগুলো আসলে কীভাবে হয়?

একজন মানুষের ইংরেজি নাম যদি সঠিক থাকে, তাহলে সেই নামের বাংলা রূপান্তর করতে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বানান কীভাবে আসে?

একটি জন্ম নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে এত বড় ভুল কীভাবে মেনে নেওয়া হয়?

এগুলো কি নিছক ভুল?

নাকি কোথাও কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল রেখে পরে সংশোধনের নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়?

আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত করছি না। কিন্তু যদি সত্যিই কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করা হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তদন্ত হওয়া দরকার।

আর যদি সমস্যাটা অদক্ষতা হয়, তাহলে প্রশ্ন হলো—এত গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবার জায়গায় অদক্ষ লোকজনকে কেন রাখা হবে?

মানুষের জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র—এগুলো কোনো সাধারণ কাগজ নয়। এখানে একটি অক্ষরের ভুলও একজন মানুষের ভবিষ্যতে কত বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে, সেটা আমরা সবাই জানি।

দেশের মানুষ এমনিতেই নানাভাবে অতিষ্ঠ।

গ্যাস নেই, বিদ্যুতের সমস্যা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য—সবকিছুর সঙ্গে যখন সরকারি সেবা নিতে গেলেও দিনের পর দিন হয়রানি, ভুল তথ্য, দৌড়াদৌড়ি আর অতিরিক্ত টাকা চাওয়ার অভিযোগ শুনতে হয়, তখন একজন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

সরকারি সেবা কি নাগরিকের অধিকার, নাকি টাকা খরচ করে, পরিচয়-যোগাযোগ ব্যবহার করে এবং দিনের পর দিন ঘুরে তারপর পাওয়ার বিষয়?

জন্ম নিবন্ধন করতে যান—ভোগান্তি।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে যান—ভোগান্তি।

একটি সাধারণ সরকারি কাজ করতে যান—ভোগান্তি।

আর সবশেষে মনে হয়—

এই দেশে নাগরিক হওয়াটাই যেন একটা অপরাধ!

সত্যিই কখনো কখনো মনে হয়—

জন্ম নেওয়াই যেন এ দেশে আজন্ম পাপ!

এই অংশ অবশ্যই পড়বেন...
******* # # # # # # #****🤬😈👿😈🤬😈👿
আরেকটি বিষয় আমি পরিষ্কার করতে চাই। আমি যখন আমার জন্ম নিবন্ধন করেছিলাম, তখন যে ফর্মটি পূরণ করতে হয়েছিল সেখানে বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই আমার নাম সঠিকভাবে লিখে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে সময়ের নিয়ম অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সনদে শুধু ইংরেজি নামই দেওয়া হতো। সেই সময়ের মূল ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন সনদটি এখনো আমার কাছে আছে এবং সেখানে আমার নাম সঠিকভাবে লেখা রয়েছে।

পরবর্তীতে সরকার নিজ উদ্যোগে অনলাইনে নাগরিকদের জন্ম নিবন্ধনের তথ্য বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় আপডেট করেছে। বর্তমান সময়ে আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে যখন আমার পুরোনো মূল সনদ জমা দিতে গেলাম, তখন আমাকে বলা হলো বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার তথ্যসহ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ দিতে হবে।

আমি যখন অনলাইন থেকে সেই সনদ ডাউনলোড করি, তখন দেখতে পাই—আমার ইংরেজি নাম একদম সঠিকভাবে লেখা আছে, কিন্তু আমার বাংলা নামের বানান সম্পূর্ণ ভুল। শুধু আমার নাম নয়, আমার বাবার নামের বাংলা বানানও ভুলভাবে লেখা হয়েছে।

এখানে আমার প্রশ্ন হলো—আমি তো এই ভুল করিনি। আমি যখন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করেছিলাম, তখনই বাংলা ও ইংরেজি দুই নাম সঠিকভাবে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সরকারি তথ্য আপডেট করার সময় যদি ভুলভাবে বাংলা নাম লেখা হয়ে থাকে, তাহলে সেই ভুলের দায় কেন আমাকে বহন করতে হবে?

আজ আমার মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়েছে। সেই কাজ করতে গিয়ে আমার নিজের জন্ম নিবন্ধনের এই ভুল সামনে এসেছে এবং সেটি সংশোধন করতে গিয়ে আমাকে অতিরিক্ত সময়, টাকা ও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ মূল ভুলটি আমার করা নয়।

এখন অনেকে প্রশ্ন করছেন—আমার স্বামীর জন্ম নিবন্ধন আগে করা হয়নি কেন?

আমার স্বামী একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। প্রায় ২৮–৩০ বছর আগে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেছেন এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তাঁর চাকরিতে যোগদান, পাসপোর্ট করা, জাতীয় পরিচয়পত্র করা, এমনকি সরকারি মিশনে বিদেশে যাওয়া—কোনো ক্ষেত্রেই তখন জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল না। আমাদের বড় সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করার সময়ও বাবা হিসেবে তাঁর জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হয়নি।

তখন প্রয়োজনীয় সরকারি নথি হিসেবে এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ অন্যান্য নথি ব্যবহার করেই বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা যেত। জন্ম নিবন্ধন তখন বর্তমান সময়ের মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে যে নথির প্রয়োজনই ছিল না, সেটি আলাদাভাবে করার প্রয়োজন আমরা অনুভব করিনি।

এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী আমার ছোট মেয়ের জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হচ্ছে। তাই আমরা নতুন নিয়ম মেনে আমার স্বামীর জন্ম নিবন্ধন করাতে চাইছি। অর্থাৎ সরকার যখন বলছে জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন, আমরা সেটাই করতে যাচ্ছি। পুরোনো কোনো নিয়ম আঁকড়ে ধরে আমরা বসে নেই।

আমার প্রশ্ন হলো—আগে যখন জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল না এবং এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডসহ অন্যান্য নথি দিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি কাজ সম্পন্ন করা যেত, তখন কেন আমরা অপ্রয়োজনীয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন করব? যদি ২০–৩০ বছর আগেই জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক থাকত এবং অন্য কোনো নথি দিয়ে এই কাজগুলো করার সুযোগ না থাকত, তাহলে নিশ্চয়ই তখনই আমরা জন্ম নিবন্ধন করে নিতাম।

এখন সরকার নতুন নিয়ম করেছে, তাই আমরা সেই নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের নথি হালনাগাদ করছি। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যে নথি অতীতে বাধ্যতামূলক ছিল না, সেটি এখন প্রয়োজন হওয়ায় করতে গেলে একজন নাগরিককে কেন এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরতে হবে? কেন অযথা বিলম্ব, অতিরিক্ত অর্থ এবং হয়রানির মুখোমুখি হতে হবে?

আর একটি বিষয়ও পরিষ্কার করতে চাই—আমার মেয়ের জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন না করানো আমার ভুল। আমি সেটা স্বীকার করছি। কিন্তু আমার মেয়ের জন্মের পর সে গুরুতর অসুস্থ ছিল এবং দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তখন একজন মা হিসেবে আমার প্রধান চিন্তা ছিল আমার সন্তানের জীবন বাঁচানো ও তাকে সুস্থ করে তোলা। জন্ম নিবন্ধনের বিষয়টি তখন আমার মাথায় আসেনি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে—এই ধারণা থেকেই পরে করার কথা ভেবেছিলাম।

তাই আমার বক্তব্যের মূল বিষয় ৪৫ দিনের মধ্যে বিনামূল্যে জন্ম নিবন্ধন করাতে পারিনি—এটা নয়। আমার মূল প্রশ্ন হলো, আমি এখন নিয়ম মেনে জন্ম নিবন্ধন করতে চাইছি, আমার স্বামীও নিয়ম মেনে তাঁর জন্ম নিবন্ধন করতে চাইছেন। তাহলে আমাদের সেই কাজটি সহজভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ কেন থাকবে না?

আমরা আমাদের ভুলের জায়গাগুলো সংশোধন করতে প্রস্তুত। কিন্তু যে ভুল আমরা করিনি, কিংবা যে সময়ে কোনো নথি বাধ্যতামূলক ছিল না বলে সেটি করা হয়নি, সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাদের অপরাধীর মতো দেখতে চাইবেন না।

সরকার নিয়ম পরিবর্তন করবে, নাগরিকরাও সময়ের সঙ্গে সেই নিয়ম অনুযায়ী নিজেদের নথি হালনাগাদ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। আমাদেরও তাই করার চেষ্টা।

আমার একটাই প্রশ্ন—নিয়ম মেনে একটি সরকারি নথি তৈরি বা সংশোধন করতে একজন নাগরিককে এত ভোগান্তির শিকার হতে হবে কেন? আমাদের ভুলগুলো নিয়ে প্রশ্ন করুন, আমরা উত্তর দেব। কিন্তু সেই প্রশ্নের আড়ালে একজন নাগরিক যে বাস্তব হয়রানির শিকার হচ্ছেন, সেটাকেও তো দেখতে হবে।
----------------

ভুক্তভোগীঃ সাবরিনা জান্নাত আরা

Address

Mirpur 60 Feet
Dhaka
1216

Telephone

+8801971970960

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Asmaul Husna Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Asmaul Husna Academy:

Shortcuts

Share