15/06/2026
ফিতনা কাকে বলে?
১. আভিধানিক অর্থ ও স্বর্ণের উপমা:
আরবি ভাষায় 'ফিতনা' শব্দের মূল ধাতু হলো 'ফাতানা' (فتن), যার অর্থ হলো কোনো বস্তুকে আগুনের মধ্যে দেওয়া বা জ্বালানো। প্রাচীনকালে স্বর্ণকাররা স্বর্ণের খাঁটিত্ব যাচাই করার জন্য সেটিকে প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুনে পুড়িয়ে দেখতেন। আগুনে পোড়ানোর ফলে স্বর্ণের ভেতরকার ভেজাল বা ময়লাগুলো আলাদা হয়ে যায় এবং খাঁটি স্বর্ণ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনি, মানুষের ঈমানকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ তাআলা তাদের বিভিন্ন বিপদ, আপদ বা প্রলোভনের সম্মুখীন করেন।
২. ঈমানের পরীক্ষা হিসেবে ফিতনা:
কুরআন ও হাদিসের আলোকে 'ফিতনা' বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যা মানুষের ঈমান ও ধৈর্যকে পরীক্ষা করে।
ভেজালমুক্ত করা: যেমন আগুনে পুড়িয়ে স্বর্ণের ভেতর থেকে খনিজ ময়লা দূর করা হয়, তেমনি বিপদ বা ফিতনার সময় মানুষ যখন ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তখন তার ঈমানের দুর্বলতা, মুনাফেকি বা লোকদেখানো অভ্যাসগুলো দূর হয়ে যায়। সে খাঁটি মুমিনে পরিণত হয়।
ঈমানের যাচাই: আল্লাহ তাআলা সূরা আল-আনকাবূতের ২ নম্বর আয়াতে বলেছেন, "মানুষ কি মনে করে যে, তারা একথা বললেই অব্যাহতি পাবে যে, আমরা ঈমান এনেছি এবং তাদের পরীক্ষা করা হবে না?" অর্থাৎ, ঈমানের দাবি করলেই হবে না, বরং সেই দাবি সত্য কি না তা যাচাই করার জন্যই বিভিন্ন ফিতনা বা পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়।
৩. ফিতনার প্রকারভেদ:
ফিতনা শুধু বিপদ নয়, বরং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যও হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, *"আমি তোমাদের পরীক্ষা করি মন্দ ও ভালো দ্বারা।"* (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৫)।
বিপদের ফিতনা: অভাব, অসুস্থতা, ভয় বা হারানো—এগুলো ধৈর্য দেখার পরীক্ষা।
সুখের ফিতনা: সম্পদ, ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা বা ভোগ-বিলাসের প্রাচুর্য—এগুলো মানুষের শুকরিয়া ও অহংকার ত্যাগের পরীক্ষা।
সারকথা:
ফিতনা কোনো গজব বা শাস্তিই কেবল নয়, বরং এটি একটি পবিত্রকরণ প্রক্রিয়া। যে এই প্রক্রিয়ায় নিজেকে ধৈর্যশীল এবং আল্লাহর অনুগত রাখতে পারে, তার ঈমান ও চরিত্র খাঁটি স্বর্ণের মতো আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে। তাই মুমিনের উচিত যেকোনো ফিতনার সম্মুখীন হলে অস্থির না হয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা এবং নিজের আত্মশুদ্ধির সুযোগ গ্রহণ করা।