12/04/2026
সত্যিই আজ মুসলিম-উম্মাহর জন্য খিলাফাহ'র বড়ো প্রয়োজন।😓
বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র কি আসলেই সফল?
বর্তমান বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলতে হয় যে, গণতন্ত্র আজ এক চরম ব্যর্থ শাসন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে।যে ব্যবস্থার মূলমন্ত্র ছিল 'জনগণের শাসন', সেখানে আজ জনগণের কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।বর্তমানের তথাকথিত গণতান্ত্রিক কাঠামোতে আমরা দেখছি কেবল 'সংখ্যার খেলা', যেখানে গুণগত মান বা মেধার কোনো স্থান নেই।ক্ষমতার লোভে রাজনৈতিক দলগুলো সমাজকে এমনভাবে বিভক্ত করে দিচ্ছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ঐক্যের চেয়ে বিদ্বেষই বেশি প্রকট হয়ে উঠছে।নির্বাচন এখন আর সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার নয়, বরং এটি বড় বড় পুঁজিপতি আর প্রভাবশালীদের ব্যবসায়িক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে।যার হাতে অর্থ আর পেশিশক্তি আছে, দিনশেষে গণতন্ত্র তার ইশারায় নাচছে।আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা ও উন্নয়নমূলক কাজগুলো মাসের পর মাস ঝুলে থাকে।নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আজ কেবল ভোট দেওয়ার দিনেই সীমাবদ্ধ।
এমতাবস্থায়, গণতন্ত্রের এই চরম অস্থিরতা ও ব্যর্থতার বিপরীতে একটি ইনসাফপূর্ণ শাসন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আজ বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে।মানুষের তৈরি এই ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে 'খিলাফত' ব্যবস্থা হতে পারে এক চূড়ান্ত সমাধান।খিলাফত কেবল কোনো রাজনৈতিক কাঠামো নয়, বরং এটি আল্লাহ প্রদত্ত একটি জীবনবিধান যেখানে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে স্রষ্টার আইনের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালিত হয়।এই ব্যবস্থায় শাসক জনগণের কাছে নয়, বরং সরাসরি আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকেন, যা প্রকৃত সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করে।আধুনিক গণতন্ত্র যেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ায় এবং দুর্নীতির জন্ম দেয়, সেখানে খিলাফত ব্যবস্থা তার নৈতিক ভিত্তি ও কঠোর জবাবদিহিতার মাধ্যমে মানবতার মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিত করতে সক্ষম। বর্তমানের এই ঘুণে ধরা ও ব্যর্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মুক্তির জন্য খিলাফত ব্যবস্থার পুনর্জাগরণ নিয়ে আজ আমাদের গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।