28/09/2026
পৃথিবীর কোনো ধনকুবেরের পক্ষে কি প্রতিদিন ৩০ কোটি টাকা আল্লাহর রাস্তায় দান করা সম্ভব? কল্পনা করলেও তো মাথা ঘুরে যায়। অথচ রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মতকে এমন একটি সহজ আমল শিখিয়ে গেছেন, যা মাত্র কয়েক মিনিটে বসে আদায় করলেই তার সওয়াব কোটি কোটি টাকা সদকা করার চেয়েও বেশি।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ফুফাতো বোন উম্মেহানী (রা.) একদা আল্লাহর রাসুলের দরবারে এসে ব্যাকুল হয়ে আরজ করলেন। বার্ধক্যের ভারে তাঁর শরীর তখন নুয়ে পড়েছে, আগের মতো শক্তি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ইবাদত করার সামর্থ্য আর নেই। তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বললেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! ﷺ- আমি তো বয়োবৃদ্ধ হয়ে গেছি, আমার শরীর ভীষণ দুর্বল। আমাকে এমন একটি সহজ আমল শিখিয়ে দিন, যা আমি এক জায়গায় বসে বসেই আদায় করতে পারি।”
তাঁর এই কথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন—“তুমি ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করো। এটি আল্লাহর রাস্তায় জিন ও লাগামসহ প্রস্তুত করা ১০০টি যুদ্ধের ঘোড়া সদকা করার সমান সওয়াব এনে দেবে।”
আজকের দিনে যুদ্ধ বা চলাচলের জন্য প্রস্তুত ১০০টি উন্নত জাতের ঘোড়ার দাম হিসাব করলে তা কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ মাত্র কয়েক মিনিট ‘সুবহানাল্লাহ’ পাঠ করলেই আল্লাহ বান্দার আমলনামায় সেই পরিমাণ সওয়াব লিখে দেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “১০০ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করো; তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করা ১০০টি গ্রহণযোগ্য উটের চেয়েও উত্তম।” চিন্তা করে দেখুন, আজকের বাজারে এরকম এক-একটি ভালো মানের উটের বাজারমূল্য ঠিক কত টাকা, ১০০টি উটের বহর মানে কী বিপুল অঙ্কের সদকা!
এরপর নবীজি ﷺ আরও বলেন, “১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলো; এটি ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরদের থেকে ১০০ জন দাস মুক্ত করার সওয়াবের সমান হবে।”
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম দাসকে মুক্ত করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে মুক্তকারী ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। এমনকি তার লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকেও রক্ষা করবেন।”
এখন চিন্তা করে দেখুন, কোনো বন্দি মানুষকে কিনে আজাদ করে দেওয়া ঠিক কত বড় পুণ্যের কাজ!
সবশেষে রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন, “আর ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করো; এই তাসবিহর সওয়াব আকাশ ও জমিনের মাঝের সমস্ত শূন্যতাকে কানায় কানায় ভরে দেয়।”
১০০টি ঘোড়া, ১০০টি উট আর ১০০ জন দাস মুক্তির বর্তমান আর্থিক মূল্য হিসাব করলে তা সহজেই ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মাত্র পাঁচ-দশ মিনিট ব্যয় করে এই জিকিরগুলো করলেই আল্লাহ তাআলা সেই বিপুল সওয়াব আপনার আমলনামায় দান করবেন। ইন শা আল্লাহ। এরপরেও কি আমরা চুপচাপ বসে থাকব? হা-হুতাশ জুড়ে দিয়ে বলব, আল্লাহ তো আমাকে সদাকা করারা তাওফিকই দান করেননি?
আপনি চাইলে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও যেন এই সহজ ও মহামূল্যবান জিকিরগুলো নিয়মিত আদায় করতে পারেন, সেজন্য Muslims Day অ্যাপে ডিজিটাল তসবিহ সুবিধা রাখা হয়েছে। অ্যাপের টুলস সেকশনে গিয়ে তাসবীহ কাউন্টার থেকে আজই শুরু করুন আপনার কোটি টাকা সদকা করবার আমল।
হাদিসের রেফারেন্স:
মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর: ২৬৯০৩
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ৩৮১০
সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২৫১৭ ও ৬৭১৫
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.), ‘রাহে বেলায়াত’, অনুচ্ছেদ: সকাল-সন্ধ্যার জিকির (পৃষ্ঠা ৯৭)