কাইয়ুম চৌধুরীর (১৯৩২- ২০১৪) বাংলাদেশের চিত্রশিল্পের প্রসারে কাইয়ুম চৌধুরী একজন পথিকৃৎ। তাঁর জন্ম ফেনীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী ছিলেন সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তা, মা সরফুন্নিসা চৌধুরানী ছিলেন গৃহিণী। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব-কৈশোরে কাইয়ুম ঘুরেছেন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নড়াইল, সন্দ্বীপ, নোয়াখালী, ফেনী, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহসহ বাংলাদেশের নানা জায়গায়, পড়েছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। এই ঘোরাঘুরি
র ফলে বাংলার প্রকৃতি ও তার বৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচয় ঘটে কাইয়ুমের। তিনি ১৯৬০ সালে তাহেরা খানমের সঙ্গে পরিণয়-বন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি ছিলেন ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়া প্রথম পাঁচজন ছাত্রীর একজন।
সকল মাধ্যমেই তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। বিশেষত তেলরং, জলরং, গোয়াশ, প্যাস্টেল ও অ্যাক্রিলিকে করা তাঁর অজস্র কাজে তিনি যে বৈশিষ্ট্যের ও শৈলীর ছাপ রেখে গেছেন, তা এদেশের চিত্রকলায় অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তিনি গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে মৃত্যুকাল অবধি লব্ধজ্ঞান, অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে এদেশের বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণকে এমন এক উচ্চস্তরে নিয়ে গেছেন, যা হয়ে উঠেছে বিশ্বমানের, শিল্পসুষমামণ্ডিত ও আধুনিকতার প্রকাশে উজ্জ্বল। এছাড়া অসংখ্য নিমন্ত্রণপত্র এবং দীর্ঘবাদনের কয়েকটি প্রচ্ছদেও তাঁর শিল্পিত শক্তিময়তার প্রকাশ আছে। বৈচিত্র্যে ও শিল্পমূল্যে গ্রন্থের এইসব প্রচ্ছদ অসামান্য হয়ে উঠেছে।
তাঁর মানস গঠনে প্রকৃতির ভূমিকা অসামান্য। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলতেন- প্রকৃতি আমার প্রথম শিক্ষক। তাঁর আঁকায়, রেখায়, লেখায় সব ক্ষেত্রে বাংলার নদীমেখলা প্রকৃতি ও মানুষের মনোরম ছবি ফুটে উঠেছে।সংস্কৃতির সকল শাখায় তাঁর সহজ বিচরণ ছিল। তিনি কবিতা লিখতেন। সাহিত্য, সংগীত ও চলচ্চিত্র নিয়ে তাঁর আগ্রহের অন্ত ছিল না এবং এই সকল ক্ষেত্রের শুদ্ধ ও পরিশীলিত চেতনাকে ধারণ করেই তাঁর শিল্প-সৃজন হয়ে উঠেছিল গহন ও গভীর।
তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, সুফিয়া কামাল পদক, আলতাফ মাহমুদ পদক সহ বিভিন্ন পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন। শিল্পকলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ২৯ বার। ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল বুক সেন্টার আয়োজিত প্রচ্ছদ প্রদর্শনীতে পেয়েছেন স্বর্ণপদক।