07/06/2026
৭ জুন ২০২৬ বিকাল ৪:৩০ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার ও সহিংসতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের সাথে মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা ও পরিবেশ সম্পাদক পারভীন ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা মেহজাদ গালিব, শবনম ফেরদৌসী, ঝুমুর আসমা জুইঁ, ফাহাদুল হক, শাহীনূর আখতার, চৈতালী সমাদ্দার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রশিক্ষক ফরিদ আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কনটেন্ট রাইটার ফারজানা আফরোজ ও আইটি কো-অর্ডিনেটর দোলন কৃষ্ণ শীল, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য প্রজ্ঞা লাবণী সাদিয়া। তারা বলেন আমরা দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে আমরা এপর্যায়ে আসছি। কিন্তু বাস্তবে চলচ্চিত্রে নারীকে উপস্থাপন একটি ক্ষুদ্র জায়গায় গিয়ে পৌছেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা নারীকে পর্দায় উপস্থাপনে নির্মাতাদের সচেতন হতে হবে, নারীর সত্যিকার জীবন সংগ্রাম তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক ধরণের বিচ্ছিন্নতা আছে। ৭০ থেকে ৮০ দশকে নারীর জন্য খুব একটা সুবিধাপূর্ণ অবস্থান ছিলনা। তখন নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা খুব একটা ছিলো না। এখনো সেই সমাজ তৈরি হয়নি নারী সন্ধ্যার পরে কর্মক্ষেত্রে যাবে। নারীদের চলচ্চিত্রকার হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ জরুরি। ৯০ এর দিকে নারী অবাধে চলাফেরা করতে পারলেও এখন সেটি পারছেনা। চলচ্চিত্র শিল্প এখনও পুরুষকেন্দ্রিক। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কাজ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের নিকট প্রচারের জন্য আহ্বান জানান তারা। তারা এসময় আরো বলেন নারীর প্রতি সহিংসতা ইস্যূতে ১০ বছর আগে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা হয়েছে কিন্তু এখনকার নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাগুলো গা শিউরে ওঠার মত। নারী নির্যাতন এর কোন ঘটনা কেবল ভাইরাল হলেই সেবিষয়ে আইনী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন নারী-পুরুষ উভয়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবিউজার হয়ে উঠছে। আমরা এক ভোগবাদী সমাজে ঢুকে গেছি, যা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সমাজে। চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রশিক্ষণে অনেক সংকটের কথা আসলেও চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট তৈরির সময় সংকটের দিকগুলো উপস্থাপন করা হয়না। এজন্য কোন প্রেক্ষিতে গল্পটা বলা হবে, কোন সমস্যা কিভাবে সংবেদনশীলতা বজায় রেখে উপস্থাপন করা হবে এবিষয়ে চলচ্চিত্রকারদের কাজ করতে হবে। ফিল্ম যতটা তৈরি হয় তা দেখার পর পর্যালোচনা হওয়া জরুরি। ছবির নির্মাতাকে দর্শকের সাথে মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে নারী সংগঠনের মত প্ল্যাটফরম গুরুত্বপূর্ণ। নারী আগেও অবহেলিত ছিলো, এখন আছে, নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতার ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিতের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে নারীদের উপর সহিংসতার কিধরণের শাস্তি হবে সেবিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করে জেলাগুলোতে প্রচার করা হলে সচেতনতা বাড়বে। সচেতনতা তৈরির জন্য অনলাইনে কনটেন্ট পোষ্ট করার পর সেখানে নেতিবাচক কমেন্ট আসছে। সোশাল মিডিয়ায় কমেন্ট করার ক্ষেত্রে কমেন্ট সেন্স এর অভাব দেখা যাচ্ছে- এবিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আমাদের কাজ করতে হবে, নেতিবাচক মন্তব্যকে উপেক্ষা করে নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। চলচ্চিত্র নির্মাতা নারীদের চলা সহজ নয়, তারা নানা বাধা ভেঙে সামনে এগিয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও নারী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, দর্শকদের সচেতন করতে শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক কাজ না করে প্রান্তিক জায়গাগুলোতে কাজ করতে হবে
উক্ত মত বিনিময় সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তা সহ প্রায় ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন।
সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অর্থ উপরিষদ ও তথ্য-প্রযুক্তি উপপরিষদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম।