03/09/2026
সাভারে ৭ বছরের শিশুর ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ: আমরা বিচার চাই
সাভারে একটি আবাসিক মাদ্রাসায় মাত্র ৭–৮ বছর বয়সী শিশুর ওপর দীর্ঘ ছয় মাস ধরে যৌন নির্যাতনের যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা শুধু হৃদয়বিদারক নয়, মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের একটি ভয়াবহ চিত্র।
একজন বাবা-মা তাদের কলিজার টুকরা সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ এবং কোরআনের হাফেজ করার আশায় মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে শিশুটিকে ওই আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। ফজরের নামাজ থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত তার পড়াশোনার সময় ছিল। বাবা সপ্তাহে একদিন সন্তানের সঙ্গে দেখা করতেন এবং শুক্রবার ছুটিতে তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতেন।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভর্তি হওয়ার প্রায় ২০–২১ দিন পর থেকেই কয়েকজনের কুনজরে পড়ে শিশুটি। শুরু হয় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
অভিযোগ রয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় রোজার দিন সন্ধ্যায় প্রায় ২০ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থী প্রথমবার শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে। শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী সুযোগ নিয়ে তাকে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি শিক্ষকদের জানানো হলেও পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষকও এই নির্যাতনে জড়িত হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই—টানা প্রায় ছয় মাস শিশুটিকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
একপর্যায়ে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বাবা পরিচিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
একটি শিশু তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে—অভিভাবক বিশ্বাস করছেন, সেখানে তার সন্তান নিরাপদ। কিন্তু যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে সেই বিশ্বাসের জায়গাতেই ঘটেছে এমন ভয়াবহ নির্যাতন।
তাহলে একজন অভিভাবক কাকে বিশ্বাস করবেন? সন্তানকে কোথায় নিরাপদে রাখবেন?
জানা গেছে, এ ঘটনায় চারজন শিক্ষক ও ছয়জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে কেউ হাফেজ, কেউ হাফেজ/মাওলানা এবং কেউ মাওলানা হিসেবে পরিচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—
কোনো ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক অবস্থান কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু সুরক্ষা, কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের ভয়াবহ অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
আমাদের দাবি
১. ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে।
২. তদন্তে যারাই জড়িত প্রমাণিত হবে, তাদের পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৩. শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. শিশুটির পরিবারকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে হবে।
৫. আবাসিক মাদ্রাসাসহ সকল আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষার জন্য কার্যকর নীতিমালা ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. আইনের ফাঁকফোকর বা প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে যেন কোনো অপরাধী পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
একটি শিশুর শৈশব কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
অপরাধীর পরিচয় নয়—অপরাধের বিচার হোক।
মানুষের জন্য আইনি সহায়তা (MAJAS)
মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন