29/10/2025
পায়ের যত্নে কোন কিছু জানতে চাইলে নীচের কমেন্টে লিখে জানান।
ডায়াবেটিস ফুট কেয়ার সচেতনতা বর্ষ - ২০২৬
ডায়াবেটিসের কারণে পায়ে বিভিন্ন ভয়াবহ জটিলতা দেখা দেয়। এসব জটিলতা পরিহার করতে প্রয়োজন সচেতনতা। ডায়াবেটিক পায়ের এইসব ভয়াবহ জটিলতা পরিহার করার জন্য ডা. অসিত মজুমদার স্যারের উদ্যোগে ডা. অসিত মজুমদার ডায়াবেটিস ও ফুট কেয়ার এর বিশেষ আয়োজন "ডায়াবেটিস ফুট কেয়ার সচেতনতা বর্ষ - ২০২৬"। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এই সচেতনতা কার্যক্রম একযোগে বিশ্বব্যাপী পালনের মাধ্যমে ডায়াবেটিক ফুট রোগীদের জীবনে আসবে এক আমূল পরিবর্তন। সেই প্রত্যাশায় আমাদের শুরু। আশা করি সবারই প্রয়োজন হবে এই সচেতনতা কার্যক্রম। আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন। সুস্থ থাকার সঠিক নিয়ম জেনে নিন। নিজে উপকৃত হোন। অন্যকে উপকৃত হতে সহায়তা করুন।
আমাদের সবার মনে রাখা দরকার - "পঙ্গুত্ব রোধে পায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করা অতীব জরুরী।"
ডায়াবেটিসের কারণে পায়ে বিভিন্ন ভয়াবহ জটিলতা দেখা দেয়, যার মধ্যে প্রধান হলো নিউরোপ্যাথি (স্নায়ুর ক্ষতি), পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (রক্তনালীর রোগ), এবং ডায়াবেটিক ফুট (আলসার, সংক্রমণ, এবং হাড়ের ক্ষয়)। উচ্চ রক্তে শর্করার কারণে স্নায়ু এবং রক্তনালীর ক্ষতি হয়, যার ফলে পায়ে সংবেদন কমে যায়, রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং ক্ষত নিরাময়ে সমস্যা হয়। এই জটিলতাগুলো থেকে গুরুতর সমস্যা যেমন চারকোটের পা এবং এমনকি পা কাটা বা অঙ্গচ্ছেদের মতো গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
প্রধান জটিলতাগুলো হলো:
ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি:
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকার কারণে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর ফলে পায়ে অসাড়তা, ঝিঁঝিঁ ধরা, ব্যথা এবং অনুভূতি কমে যায়।
পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (PAD):
ডায়াবেটিসের কারণে পায়ের রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়।
দুর্বল রক্ত সঞ্চালনের কারণে ক্ষত বা আঘাত সহজে সারে না।
ডায়াবেটিক ফুট:
নিউরোপ্যাথি ও PAD এর মিলিত প্রভাবে এই জটিলতা দেখা দেয়।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পায়ের আলসার, সংক্রমণ এবং হাড়ের ক্ষয়।
সংক্রমণ:
আঘাত বা ক্ষতের দ্রুত চিকিৎসা না করালে এটি জটিল সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।
ছত্রাক সংক্রমণ (যেমন নখের সংক্রমণ) হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
চারকোটের পা:
এটি একটি বিরল কিন্তু গুরুতর অবস্থা যেখানে স্নায়ুর ক্ষতির কারণে পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং বিকৃত হয়ে যায়।
এর ফলে পায়ের আকার বদলে যেতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়:
প্রতিদিন আপনার পা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।
নিয়মিতভাবে পা পরিষ্কার রাখুন এবং সঠিকভাবে শুকিয়ে নিন।
সঠিক মাপের এবং আরামদায়ক জুতো পরুন।
ফুট কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের কলাস, কর্ন বা আঁচিল অপসারণ করার চেষ্টা করবেন না।
নিয়মিতভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
ফুট কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে বছরে কমপক্ষে একবার পা চেক-আপ করাবেন।
পায়ের যত্ন নিয়ে আরো কিছু জানতে চাইলে নীচের কমেন্টে লিখে জানান।
ডা. অসিত মজুমদার প্লাটিনাম হাসপাতাল
পান্থপথ, ঢাকা ০১৭১২৮৯৪৮৩২