31/03/2022
আপনার জন্যই লিখেছি। অনেক সময় লেগেছে তথ্যগুলো একত্রিত করতে এবং সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে তাই আপনাকে পড়তেই হবে..!
★মন ভালো নেই আপনার?! ★
‘The Golden Gate Bridge’ এর নাম শুনেছেন? ব্রিজটি আমেরিকার স্যান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত। সুইসাইডের জন্য খুবই বিখ্যাত। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এখানে গড়ে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে। আমেরিকা! কত মানুষের স্বপ্নের আমেরিকা। সেখানে বাতাস নিতে পারলে নাকি জীবনে আর কোন দুঃখ কষ্ট থাকে না। অথচ ‘ American Foundation for Su***de Prevention ’ — এর দেয়া তথ্যমতে, আমেরিকায় প্রতিদিন প্রায় ১২৩ জন মানুষ সুইসাইড করে।
বর্তমান বিশ্বের সুপার পাওয়ার আমেরিকা। সারা বিশ্বে শান্তির ফেরি করে বেড়ায়। প্রযুক্তি, শিক্ষা, সম্পদ— সবই নাকি তার আছে। তারপরেও কি যেন নেই!
~ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন, ★“প্রত্যেক মানুষের অন্তরে রয়েছে অস্থিরতা, যা কেবল আল্লাহর কাছে ফিরে গেলেই ঠিক করা সম্ভব। ★প্রত্যেক মানুষের অন্তরে এক শূন্যতা রয়েছে, সেটা কেবল আল্লাহর কাছে ফিরে গেলেই দূর করা সম্ভব। ★প্রত্যেক মানুষের অন্তরে রয়েছে ভয় আর উৎকণ্ঠা, যা কেবল আল্লাহর কাছে আশ্রয় নিলেই দূর করা সম্ভব।
★আর প্রত্যেক মানুষের অন্তরেই রয়েছে হতাশা, যেটা কেবল আল্লাহর ওপরে সন্তুষ্ট হলেই দূর করা সম্ভব।”
এই বস্তুবাদী দুনিয়া আমাদের শেখায় আমরা যত বেশি ভোগ করতে পারবো, তত বেশি সুখী হব। তাই ভোগের জন্য ছুটতে থাকো। সারা জীবন সম্পদের পাহাড় করেও তাই একদিন মনে হয় কি যেন নেই! এক অপূর্ণতা রয়ে গেছে। এ অপূর্ণতা আল্লাহর কাছ থেকে দূরে থাকার। আল্লাহকে বাদ দিয়ে এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার পূজা করার।
এই অপূর্ণতা কোন কিছু দিয়েই পূরণ হবে না। সুন্দরী স্ত্রী দিয়ে না। ডুপ্লেক্স বাড়ি দিয়ে না। আইফোন, রোলেক্স, মার্সিডিজ— সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী আনন্দ দেবে। অনেকটা ড্রাগের মতো।তারপরে হৃদয়ের কোন এক কোণে জমে থাকা শূন্যতাটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে নিজেকে খুব একা একা লাগবে। এই জীবনটা অর্থহীন মনে হবে।
তাই ফিরতে হবে আল্লাহর কাছে। আচ্ছা তার কাছে ফিরলেই কি আবার জীবনটা রূপকথার মত সুখী হয়ে যাবে? মোটেও না। দুঃখ কষ্ট তো আসবেই। আসবে কঠিন কিছু পরীক্ষা। কিন্তু কোথা থেকে যেন দানবীয় শক্তি আসবে সেই কষ্টগুলোর মুখোমুখি হবার। তপ্ত মরুভূমিতে সূর্যের দিকে তাকিয়ে “আহাদুন আহাদ ” বলার।
যেমনটা রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “মুমিনের ব্যাপারটা খুবই আশ্চর্যজনক। যখন তার সাথে ভালো কিছু ঘটে, তখন সে কৃতজ্ঞ হয় আর এটাই তার জন্য উত্তম। আর যখন তার কোন ক্ষতি হয়, তখন সে সবর করে আর এটাও তার জন্য উত্তম।”
তাই হুজুর হয়ে গেলেই যে, আর মন খারাপ হবে না, বিষন্ন লাগবে না ;ব্যাপারটা কখনোই এমন না। তবে আল্লাহর উপর ভরসা করে একজন মুমিন সেই কষ্টগুলোর মুখোমুখি হতে পারে। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “একজন মুমিন কি মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে পারে?” উনি জবাবে বলেছিলেন, “অবশ্যই সে বিভিন্ন মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে পারে। সে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। অতীতের ব্যাপারে তার মনে আফসোস সৃষ্টি হতে পারে।”
হুট করেই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়। খুব বিষন্ন লাগে। এ বিশাল পৃথিবীতে নিজেকে খুব একা একা লাগে। তবে সে একা সময়েও রাসূল (সাঃ)- এর একটি নসীহা আমাদের সাথে আছে। তিনি আমাদের বিষন্নতা দূর করার জন্য একটি ওষুধের কথা বলে গেছেন।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “যদি কেউ বিষণ্ন হওয়ার পর বলে,
‘ আল্লাহ গো, আমি তো তোমারই দাস। তোমার দাসের পুত্র আমি। আমি পুত্র তোমারই এক দাসীর। আমার কপাল তোমার হাতে। আমার উপর তোমার নির্দেশ অবশ্যই কার্যকর হবে। আর আমার ব্যাপারে তুমি যে ফায়সালাই দাও না কেন, সেটাই সঠিক। আমি তোমার কাছে চাচ্ছি, তোমার প্রতিটা নামের উসীলায়।যে নাম তুমি নিজের জন্য রেখেছ। কোন কিতাবে নাযিল করেছ। কাউকে শিখিয়েছ অথবা নিজের জন্যই রেখে দিয়েছ।(আল্লাহ গো,) তুমি কুরআনকে বানিয়ে দাও আমার হৃদয়ের প্রশান্তি। আমার বক্ষের জ্যোতি। দুঃখের অপসারণকারী। আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী।’
তবে আল্লাহ্ তার বিষণ্ণতা ও দুঃখ দূর করে দেবেন আর (অন্তরটা) আনন্দ দিয়ে পূর্ণ করে দেবেন।” সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন,
“হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কি এই কথাগুলো শেখা উচিত না? ” রাসূল (সাঃ) বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। যে কেউ এই কথাগুলো শুনবে, তার এটি শেখা উচিত। ”
সংশয়বাদীরা হয়তো এই হাদিসটি শুনে ভুরু কুঁচকে বলবে, “তাহলে মানুষ এত টাকা খরচ করে চিকিৎসা করায় কেন? এই দু'আটি পড়লেই তো পারে।” তবে আমরা তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছি। আমাদের জন্য তার কথাই যথেষ্ট। আর যারা সত্যিই মন দিয়ে বুঝে বুঝে এই দু'আ পড়েছে, তারা অবশ্যই এই দু'আর উপকারিতার কথা স্বীকার করবেন।
শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “ মানুষের ঈমান দুর্বল হয়ে গেছে। আজ তারা শরিয়াহতে যে আরোগ্যের কথা বলা হয়েছে, তা গ্রহণ করতে আগ্রহী নয়। শরিয়াহতে যে আরোগ্যের কথা বলা হয়েছে তার চেয়ে তারা ওষুধের উপরেই বেশি ভরসা করে। কিন্তু যখন কারো ঈমান দৃঢ় থাকে,৷ শরিয়াহর এই আরোগ্যগুলো সম্পূর্ণ কার্যকর হয়।এমন কি ওষুধের চেয়েও এটি ভালো কাজ করে।”
বর্তমান পৃথিবীতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ সুইসাইড করে। এদের মধ্যে অনেকেই সমাজের এলিট ক্লাসের লোক। সব থেকেও কি যেন নেই তাদের। আমি আমার অতি ক্ষুদ্র জীবনে কখনো কোন ঈমানদার মানুষকে সুইসাইড করতে দেখিনি। সুইসাইড করার কথা শুনিওনি। কারণ তারা আল্লাহর উপর ভরসা করে। তাই তখন আর কষ্ট হলে সুইসাইড করতে ইচ্ছা করবে না। মনে হয় এই জীবন আর কদিনের? একদিন ক্লান্তি শেষে বিশ্রাম নেব।
আর একটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখবেন, “ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আপনার উপরে এমন কোনো বিধান বা বিষয় আরোপ করবেন নাহ যা আপনি বহন করতে অক্ষম।” তাই একটু ধৈর্য্য ধারণ করুন। আপনার জন্য তিনি আসমান থেকে রিয্বিক এবং সাহায্য পাঠাবেন।আপনার বাবা মায়ের কাছে কোনো কিছু চাওয়ার পর নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আর আপনার রবের কাছে চাওয়ার পর বা বলার পর কি একটু নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন নাহ?! আপনার রব তো আপনাকে আপনার বাবা-মায়ের থেকেও বেশি ভালোবাসেন। আর এই কথাটা আপনি নিজেও স্বীকার করেন। তাহলে রবের প্রতি ভরসার কথা উঠলে এতোটা আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে যান কি করে!?হয়তো ভাবছেন সমস্যা সমাধানের তো কোনো পথ দেখতে পাচ্ছি নাহ। চিন্তা করবেন নাহ। তাঁর উপর ভরসা করুন।তিনি যেভাবেই হোক আপনাকে সাহায্য করবেন। কিভাবে সাহায্য করবেন এইটা তাঁর ব্যাপার। কেন, আপনি সূরা গাফির পড়েন নাই!? আল্লাহ তাআ'লা বলেছেন, অবশ্যই আমি রাসূলদেরকে এবং মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবন ও বিচার দিবসে সাহায্য করবো।তাহলে টেনশন কিসের!? তিনি তো আপনাকে সাহায্য করার ব্যাপারে ওয়াদা দিয়েছেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আর তাছাড়া আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছু আপনার জন্য দুআ করতেছে! দিন রাত ২৪ ঘণ্টা। তাহলে এতো অস্থিরতা কেন?! শান্ত হোন.! আর লম্বা করে বুকভরে শ্বাস নিন। আল্লাহ তাআ'লা সবকিছু ঠিক করে দিবেন। কারণ আপনার রবের সাহায্য অতিব নিকটে।
আমরা আল্লাহর কাছে চাই যেন উনি সেই দিনটা আমাদের দুই জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন বানিয়ে দেন যেদিন আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব। জান্নাতে তাঁর দেখা পাবো।
© Md Hosen Ali - মুয়ায