13/05/2026
💎 সূরা আর-রহমান: ৩১ বার একই প্রশ্ন, কিন্তু উত্তর কি আমাদের জানা?
কুরআনের এমন একটি সূরা আছে, যাকে বলা হয় ‘আরুসুল কুরআন’ বা কুরআনের বধূ (সৌন্দর্য)। সেটি হলো সূরা আর-রহমান। এই সূরাতে আল্লাহ তাআলা একটি বিশেষ আয়াত মোট ৩১ বার পুনরাবৃত্তি করেছেন:
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
উচ্চারণ: ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাযযিবান।
অর্থ: "অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?"
আল্লাহ কেন বারবার এই প্রশ্ন করছেন? কারণ আমরা বড় অকৃতজ্ঞ। আমরা নিয়ামত ভোগ করি, কিন্তু দাতার কথা ভুলে যাই। চলুন দেখে নিই এই সূরার গভীর কিছু দিক:
☀️ ১. মহাকাশের নিখুঁত শৃঙ্খলা
আয়াত: الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ
উচ্চারণ: আশ-শামসু ওয়াল কামারু বিহুসবান।
অনুবাদ: "সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী চলে।" (সূরা রহমান: ৫)
ভাবনা: প্রতিদিন সূর্য উঠছে, পৃথিবী আলোকিত হচ্ছে। এটা কি এমনিতেই? মহাবিশ্বের এই সূক্ষ্ম গণিত যদি সামান্য এদিক-সেদিক হতো, তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত। অথচ আমরা একে 'স্বাভাবিক' মনে করে শুকরিয়া ভুলে যাই।
🌱 ২. প্রকৃতির সিজদাহ
আয়াত: وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ
উচ্চারণ: ওয়ান-নাজমু ওয়াশ-শাজারু ইয়াসজুদান।
অনুবাদ: "তৃণলতা ও বৃক্ষরাজি সিজদাবনত থাকে।" (সূরা রহমান: ৬)
ভাবনা: যে গাছ থেকে ফল খাচ্ছেন, যে শস্যে ক্ষুধা মেটাচ্ছেন—তারা প্রত্যেকেই তাদের স্রষ্টার প্রতি অনুগত। সৃষ্টির প্রতিটি কণা সিজদায় রত, অথচ সৃষ্টির সেরা হয়ে আমরা কি আলহামদুলিল্লাহ বলছি?
🌊 ৩. দুই সমুদ্রের বিস্ময়কর মিলন
আয়াত: مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ 🔘 بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ
উচ্চারণ: মারাজাল বাহরাইনি ইয়ালতাকিয়ান। বাইনাহুমা বারযাখুল লা ইয়াবগিয়ান।
অনুবাদ: "তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন যারা পরস্পর মিলিত হয়; কিন্তু তাদের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।" (সূরা রহমান: ১৯-২০)
ভাবনা: আধুনিক বিজ্ঞান যা আজ প্রমাণ করেছে, কুরআন তা ১৪০০ বছর আগেই বলে দিয়েছে। লোনা ও মিঠা পানির এই সহাবস্থান আল্লাহর এক নিপুণ কারিশমা।
💎 ৪. সমুদ্রের গোপন সম্পদ
আয়াত: يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجَانُ
উচ্চারণ: ইয়াখরুজু মিনহুমাল লু’লুউ ওয়াল মারজান।
অনুবাদ: "উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।" (সূরা রহমান: ২২)
ভাবনা: আল্লাহ আমাদের শুধু বাঁচার উপকরণ দেননি, দিয়েছেন সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্যও। সমুদ্রের অতল অন্ধকার থেকেও তিনি আমাদের জন্য মূল্যবান রত্ন বের করে আনেন।
🏡 ৫. মুত্তাকীদের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার
আয়াত: وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ
উচ্চারণ: ওয়ালিমান খা-ফা মাকা-মা রাব্বিহি জান্নাতান।
অনুবাদ: "আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত।" (সূরা রহমান: ৪৬)
ভাবনা: আল্লাহ দয়া করে আমাদের জন্য জান্নাত রেখেছেন। তাও একটি নয়, দুটি! এর চেয়ে বড় নিয়ামত আর কী হতে পারে?
🛑 আমাদের করণীয় কী?
রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন জিনদের এই সূরাটি পড়ে শুনিয়েছিলেন, তখন প্রতিবার "ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাযযিবান" শোনার পর তারা বলত:
"হে আমাদের রব! আপনার কোন নিয়ামতকেই আমরা অস্বীকার করি না।" (তিরমিযী: ৩২৯১)
আমরা কি আজ থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫টি নিয়ামতের জন্য আলাদা করে শুকরিয়া জানাতে পারি?
✅ নিশ্বাস নিতে পারছি — আলহামদুলিল্লাহ।
✅ সুস্থ আছি — আলহামদুলিল্লাহ।
✅ পরিবার সাথে আছে — আলহামদুলিল্লাহ।
✅ রিজিকের ব্যবস্থা আছে — আলহামদুলিল্লাহ।
✅ ইসলাম ও ঈমান পেয়েছি — আলহামদুলিল্লাহ।
মনে রাখবেন: "যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নিয়ামত) বাড়িয়ে দেব।" (সূরা ইবরাহীম: ৭)
💬 মন্তব্য করুন: সূরা রহমানের এই ৫টি নিয়ামতের মধ্যে কোনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলল? (১/২/৩/৪/৫)