09/06/2026
সাফিয়া একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগদানের মাত্র এক বছরের মাথায় তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং টার্গেট পূরণের দক্ষতার কারণে 'সিনিয়র ম্যানেজার' হিসেবে পদোন্নতি পায়। যেখানে খুশির জোয়ার আসার কথা ছিল, সেখানে সাফিয়ার কানে আসতে শুরু করে বিষাক্ত সব কথা। তার কতিপয় সহকর্মী রটাতে শুরু করে যে সাফিয়া আসলে বসের খুব 'ঘনিষ্ঠ' বা সে তার সাজগোজ আর স্মার্টনেস ব্যবহার করে বসকে 'বিশেষ সুবিধা' দিয়ে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছে। হঠাৎ করেই অফিসের পরিবেশ সাফিয়ার জন্য দমবন্ধ করা হয়ে ওঠে। তার সৃজনশীলতা আর মেধার বদলে সবার আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তার ব্যক্তিগত জীবন আর পোশাক। সাফিয়ার এই পরিস্থিতিটিই হলো কর্মক্ষেত্রে 'স্লাট-শেমিং' (Slut-shaming)-এর একটি নির্মম উদাহরণ।
আমাদের সমাজে নারীর সাফল্যকে অনেক সময় মেধা বা পরিশ্রমের ফসল হিসেবে মেনে নিতে কষ্ট হয়। যখন একজন নারী তার যোগ্যতা দিয়ে উপরে ওঠেন, তখন পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে তার চরিত্রকে আক্রমণ করা হয়। পোশাকের সমালোচনা করা কিংবা বসের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের গুজব ছড়ানো- এগুলো কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থান দুর্বল করার একটি কৌশল।
এই ধরনের আচরণ একজন দক্ষ কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্য ধ্বংস করে দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশ নষ্ট করে। আমাদের বুঝতে হবে, একজন নারীর সাফল্য তার ব্যক্তিগত পছন্দের পোশাক বা তার লিঙ্গের ওপর নির্ভর করে না, বরং তার কাজের গুণমানের ওপর নির্ভর করে। কর্মক্ষেত্রে এমন এক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে কারো চরিত্র নয়, বরং তার যোগ্যতাই হবে মূল মাপকাঠি। আমাদের মনে রাখা উচিত, মেধার কোনো লিঙ্গ হয় না এবং যোগ্যতা কোনো বিশেষ পোশাকের ওপর নির্ভর করে না। আসুন, কর্মক্ষেত্রে এমন এক সংস্কৃতি গড়ে তুলি যেখানে একে অপরের চরিত্র নিয়ে বিচার না করে বরং কর্মদক্ষতাকে সম্মান করা হয়।