EcoVoice

EcoVoice "Through the Proper Uses of the Elements of Nature, We Pledge to Make the Earth Inhabitable."

BNMPC Eco Club
13/07/2026

BNMPC Eco Club

12/07/2026

স্কুল, বন্ধুত্ব ও পরীক্ষা বৃষ্টির দিনে.....
১২/০৭/২০২৬

12/07/2026

বৃষ্টির দিনে স্কুলে....
১২/০৭/২০২৬

12/07/2026

আজ আকাশের মন খারাপ
১২/০৭/২০২৬

26/06/2026

ের_শেষে, আমার আশ্রয়
পুরাতন বইয়ের দোকান...............
========================

পৃথিবীর অসংখ্য বিস্ময়—হিমালয়-এর সুউচ্চ শৃঙ্গ, গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ-এর অনন্য জীববৈচিত্র্য, আমাজন-এর গভীর অরণ্য, ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্ক-এর বিস্ময়, কিংবা লাদাখ-এর নৈঃশব্দ্য—সবই মানুষকে মুগ্ধ করে। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা এসবের কোনোটিই নয়।

আমার সবচেয়ে প্রিয়, সবচেয়ে আপন জায়গা হলো পুরাতন সেকেন্ড-হ্যান্ড বইয়ের দোকান।
ধুলোমাখা মলাট, সময়ের দাগ লেগে থাকা হলুদাভ পৃষ্ঠা, কারও হাতে লেখা নাম কিংবা পাতার ভাঁজে আটকে থাকা পুরোনো কোনো স্মৃতি—এসব যেন শুধু বই নয়, একেকটি জীবন্ত ইতিহাস।

এমন দোকানে ঢুকলেই মনে হয় আমি যেন নিজেকেই নতুন করে খুঁজে পাই। প্রতিটি তাক, প্রতিটি বইয়ের স্তূপ যেন অজানা কোনো অভিযানের আহ্বান জানায়। সেখানে বই খোঁজার আনন্দ শুধু পড়ার জন্য নয়; বরং হারিয়ে যাওয়া চিন্তা, স্মৃতি আর অনুভূতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য।

পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র অ্যাড্রিনালিন রাশ আমি অনুভব করি এখানেই—যখন অগণিত বইয়ের ভিড়ে হঠাৎ খুঁজে পাই বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত কোনো বই, কিংবা এমন কোনো অমূল্য গ্রন্থ যা হয়তো আর কোথাও পাওয়া যাবে না। পুরাতন বইয়ের দোকান তাই আমার কাছে শুধু একটি স্থান নয়; এটি এক নীরব আশ্রয়, যেখানে অতীত, জ্ঞান আর অনুভূতি মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য জগৎ।

মুহম্মদ আনোয়ার সাদাত
২৬/০৬/২০২৬

26/06/2026

#বাংলাদেশ_বিমান_বাহিনী_জাদুঘর_পরিদর্শন ❤️
২৬/০৬/২০২৬

16/06/2026

#পাওয়ার_উন্মত্ততায়_হারিয়ে_ফেলা
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সত্য............

মানুষের জীবন মূলত চাওয়া-পাওয়ার এক অন্তহীন যাত্রা। জন্মের পর থেকেই মানুষ কিছু না কিছু অর্জনের স্বপ্ন দেখে—ভালো ফলাফল, অর্থ, সম্মান, সফলতা, ক্ষমতা কিংবা সুখী জীবনের আকাঙ্ক্ষা। এই পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু অনেক সময় এই “পাওয়ার উন্মত্ততা” মানুষকে এতটাই অন্ধ করে দেয় যে, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসগুলোই অজান্তে হারিয়ে যায়।

আজকের পৃথিবীতে মানুষ সাফল্যের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে সম্পর্কের উষ্ণতা ভুলে যাচ্ছে। অর্থ উপার্জনের ব্যস্ততায় বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটানো হয় না, বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া হয় না, এমনকি নিজের মনকেও শোনা হয় না। মানুষ ভাবে—“আরেকটু সফল হই, আরেকটু প্রতিষ্ঠিত হই, তারপর সব ঠিক করে নেব।” কিন্তু সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। একসময় দেখা যায়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো পেছনে ফেলে আমরা কেবল অর্জনের হিসাব নিয়েই ব্যস্ত থেকেছি।

শৈশবের সরল আনন্দ, পরিবারের হাসিমুখ, মায়ের ডাক, গ্রামের পথ, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো বিকেল—এসবই জীবনের প্রকৃত সম্পদ। অথচ বড় হওয়ার প্রতিযোগিতায় আমরা এগুলোকে তুচ্ছ মনে করি। পরে যখন জীবন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন মানুষ বুঝতে পারে—যে জিনিসগুলোকে অবহেলা করেছিল, সেগুলোই ছিল সবচেয়ে মূল্যবান।

পাওয়ার নেশা মানুষকে কখনও কখনও মানবিকতাহীনও করে তোলে। প্রতিযোগিতার সমাজে মানুষ নিজের স্বার্থকে বড় করতে গিয়ে অন্যের অনুভূতি ভুলে যায়। সফলতার শিখরে পৌঁছেও অনেক মানুষ ভেতরে ভেতরে শূন্য থাকে, কারণ জীবনের শান্তি, ভালোবাসা ও আন্তরিক সম্পর্ক অর্থ বা ক্ষমতা দিয়ে কেনা যায় না।

জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল অর্জনে নয়, বরং অনুভবে। মানুষ কত বড় বাড়ি বানাল, কত অর্থ উপার্জন করল—তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে কতটা ভালোবাসা অর্জন করল, কতজন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারল। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ তার সম্পদ নয়, তার স্মৃতি ও মানবিকতার জন্যই বেঁচে থাকে।

তাই জীবনে সফল হওয়ার চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে, কিন্তু সেই চেষ্টার ভিড়ে যেন আমরা নিজেদের মনুষত্ব, সম্পর্ক ও জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো হারিয়ে না ফেলি। কারণ জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো—সবকিছু পেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ও মুহূর্তগুলো হারিয়ে ফেলা।
Copyright

#লেখক -
মুহম্মদ আনোয়ার সাদাত
সহযোগী অধ্যাপক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ,
পিলখানা, ঢাকা।
২৯ মে ২০২৬ ইংরেজি শুক্রবার

16/06/2026

#ঢাকা: আলো-ঝলমলের আড়ালে নীরব ক্লান্তির নগরী

ঢাকা শহর শুধু ইট, পাথর, কংক্রিট আর যানজটের সমষ্টি নয়; এটি লক্ষ লক্ষ স্বপ্ন, সংগ্রাম, আশা, হতাশা আর অদৃশ্য দীর্ঘশ্বাসের এক বিশাল ক্যানভাস।

দিনের বেলায় এই শহরকে দেখলে মনে হয়, সবকিছু যেন এক অদম্য ছন্দে এগিয়ে চলেছে। রাস্তাজুড়ে গাড়ির স্রোত, ফুটপাতে মানুষের ঢল, আকাশছোঁয়া ভবনের জানালায় ঝলমলে আলো। কিন্তু এই দৃশ্যপটের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অগণিত অপ্রকাশিত গল্প—যেখানে অনেক মানুষ প্রতিদিন নিজের ভেতরের ঝড়কে হাসিমুখের মুখোশ দিয়ে ঢেকে রাখে।

কেউ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় জর্জরিত, কেউ অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে, কেউ আবার বর্তমানের ভারে নুয়ে পড়েছে। এই শহরে অনেকেই আছে, যারা প্রতিদিন মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায়, অথচ নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারে না। তাদের চোখে স্বপ্ন আছে, কিন্তু সেই স্বপ্নের আকাশে প্রায়ই জমে ওঠে উদ্বেগের কালো মেঘ।

ঢাকা যেন এক অদ্ভুত নদী—যেখানে সবাই স্রোতের সঙ্গে ভেসে চলেছে, কিন্তু খুব কম মানুষই জানে, তাদের গন্তব্য কোথায়। এখানে হাসির শব্দ অনেক, অথচ হৃদয়ের প্রশান্তি বিরল। এখানে সামাজিক যোগাযোগের ব্যস্ততা আছে, কিন্তু মনের সংযোগের অভাব প্রকট। এখানে হাজার মানুষের ভিড়েও একজন মানুষ নিজেকে নিঃসঙ্গ দ্বীপের মতো অনুভব করতে পারে।

এই শহরের রাতগুলোও বড় বিচিত্র। নিয়ন আলোর ঝলকানিতে ঢাকা পড়ে যায় বহু মানুষের অশ্রু। ক্যাফের টেবিলে জমে ওঠে গল্প, কিন্তু অনেক বুকের ভেতর জমে থাকে না বলা কথার পাহাড়। শহর যেন এক বিশাল মঞ্চ, যেখানে সবাই অভিনয় করে যাচ্ছে—কেউ সফলতার, কেউ সুখের, কেউ স্বাভাবিক থাকার।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ঢাকা মানুষকে শক্ত হতে শেখায় না; বরং ভেঙে পড়েও চলতে শেখায়। এখানে মানুষ কান্নাকে নীরবতায় রূপ দিতে শেখে, হতাশাকে ব্যস্ততায় লুকাতে শেখে, আর একাকীত্বকে হাসির আড়ালে সাজিয়ে রাখতে শেখে।

হয়তো এ কারণেই আজকের সময়ে এই শহরের সবচেয়ে দামী সম্পদ কোনো বিলাসবহুল গাড়ি, উঁচু ভবন বা বড় চাকরি নয়; বরং একটু মানসিক শান্তি, কিছু নির্ভরতার মানুষ, আর এমন একটি আশ্রয়—যেখানে ক্লান্ত হৃদয় নির্ভয়ে বলতে পারে, “আমি ভালো নেই।”

কারণ, মানুষ শুধু বেঁচে থাকার জন্য বাঁচে না; মানুষ বাঁচে শান্তির জন্য, ভালোবাসার জন্য, আর এমন কিছু সম্পর্কের জন্য, যেখানে তার নীরবতাও ভাষা হয়ে ওঠে। ঢাকা শহর যতই ব্যস্ত হোক, যতই নির্দয় গতিতে ছুটুক, শেষ পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের হৃদয় খুঁজে ফেরে সেই ছোট্ট প্রশান্তির ঠিকানা—যেখানে জীবন কেবল টিকে থাকার নাম নয়, সত্যিকার অর্থে বেঁচে থাকার নাম।
#লেখক :
মু. আনোয়ার সাদাত
সহযোগী অধ্যাপক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ,
বিজিবি সদর দপ্তর, পিলখানা, ঢাকা।
Copyright

16/06/2026

#জোনাকি
"অন্ধকারের বুকে জ্বলা হারিয়ে যাওয়া নক্ষত্র"

একসময় গ্রামের সন্ধ্যা নামত জোনাকির আলোয়। বাঁশঝাড়, ঝোপঝাড়, পুকুরপাড় কিংবা স্যাঁতসেঁতে পতিত জমিতে অসংখ্য জোনাকি যেন পৃথিবীর বুকে নেমে আসা ক্ষুদ্র নক্ষত্রের মেলা বসত। আজ সেই দৃশ্য ক্রমশ স্মৃতির পাতায় বন্দী হয়ে যাচ্ছে।

কুমিল্লায় ঈদ উপলক্ষে গ্রামে বেড়াতে এসে হঠাৎ কয়েকটি জোনাকি চোখে পড়ল। ক্ষুদ্র প্রাণীগুলোর
মৃদু আলো যেন শৈশবের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে ফিরিয়ে আনল। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই মনে হলো—হয়তো আমরাই শেষ প্রজন্ম, যারা প্রকৃতির এই অলৌকিক আলোকশিল্পীকে নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য পাচ্ছি।

জোনাকি (Firefly) আসলে মাছি নয়; এটি বিটল গোত্রের একটি পতঙ্গ। এর বৈজ্ঞানিক পরিবার Lampyridae। পৃথিবীতে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি প্রজাতির জোনাকি রয়েছে। এদের শরীরে থাকা বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ লুসিফেরিন (Luciferin), এনজাইম লুসিফেরেজ (Luciferase) এবং অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় এক ধরনের শীতল আলো, যাকে বিজ্ঞানীরা Bioluminescence বা জীবদীপ্তি বলেন।

এই আলো কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়; এটি তাদের ভাষা, প্রেমপত্র এবং পরিচয়ের সংকেত। অন্ধকারে আলো জ্বেলে জোনাকি তার সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো সেই সংকেতকে ম্লান করে দিচ্ছে। শহর ও গ্রামে বেড়ে চলা আলোক দূষণ (Light Pollution) তাদের প্রজনন প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

জোনাকির বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন ভেজা মাটি, ঘাসে ঢাকা জমি, ঝোপঝাড়, বনাঞ্চল এবং জলাভূমি। অথচ নগরায়ন, বন উজাড়, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে তাদের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এখন খুব কম জোনাকি দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় অল্পসংখ্যক জোনাকি এখনও টিকে আছে, কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র আলোকবাহক আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সৌন্দর্য সবসময় বড় কিছুর মধ্যে নয়, কখনও কখনও ক্ষুদ্র একটি আলোর ঝিলিকেও লুকিয়ে থাকে মহাবিশ্বের বিস্ময়। জোনাকি হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি পতঙ্গের বিলুপ্তি নয়; হারিয়ে যাওয়া একটি সংস্কৃতি, একটি শৈশব, একটি সন্ধ্যার নীরব জাদু।

তাই জোনাকি চোখে পড়লে কিছুক্ষণ থেমে যান। মন ভরে দেখুন। হয়তো একদিন আমাদের সন্তানদের
কাছে জোনাকি হবে কেবল বইয়ের ছবি বা গল্পের চরিত্র। আর আমরা বলব—একসময় বর্ষার সন্ধ্যায়, গ্রামের অন্ধকার আকাশের নিচে, পৃথিবীর বুকে ছোট ছোট নক্ষত্র উড়ে বেড়াত।

"জোনাকি শুধু একটি পোকা নয়, সে প্রকৃতির লেখা এক টুকরো আলোককবিতা। অন্ধকারে জ্বলে ওঠা এই ক্ষুদ্র নক্ষত্রগুলো হারিয়ে গেলে নিভে যাবে আমাদের শৈশবেরও একখণ্ড আকাশ।"
#লেখক
মু. আনোয়ার সাদাত
সহযোগী অধ্যাপক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ,
বিজিবি সদর দপ্তর,পিলখানা, ঢাকা।
Copyright

Address

Batachow(Borobari). Natherpetua, Monohorganj
Cumilla
3570

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when EcoVoice posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share