16/09/2026
সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের কথা হয়তো অনেকেই ভুলে গেছি আমরা। আজকে হঠাৎ নোয়াখালিতে নাম না জানা একটি বাচ্চা ছেলেকে জনসম্মুখে মারধরের ভিডিও দেখে খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। সেই অনুভূতি থেকেই নিচের কথাগুলো লিখতে বাধ্য হলাম।
একটি শিশুকে মারধর করা, সবার সামনে অপমান করা, গালিগালাজ করা, ভয় দেখানো কিংবা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া—এসব কোনোভাবেই “শাসন”, “শিক্ষা” বা “মজা” নয়। এগুলো নির্যাতন এবং শিশুর ওপর গভীর মানসিক ও শারীরিক ক্ষত তৈরি করতে পারে। মানুষের এমন অমানবিক আচরণই একসময় সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধী তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি করে।
আপনি যদি এমন কোনো ঘটনা দেখেন:
✅ দ্রুত শিশুটিকে নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করুন।
✅ পরিস্থিতি গুরুতর হলে দ্রুত পুলিশ/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা সংস্থার কাছে জানান।
✅ ভিডিও করে বিনোদন নেওয়ার পরিবর্তে প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান।
✅ শিশুটির মুখ, নাম, ঠিকানা বা পরিচয় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন না।
✅ নির্যাতিত শিশুকে দোষারোপ বা অপমান না করে নিরাপদ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করুন।
✅ কোনো ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে হেনস্তা বা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ অনুসরণ করুন।
আর এর সঙ্গে আমাদের সমাজে প্রায়ই ঘটে যাওয়া আরও একটি অন্যায়ের প্রসঙ্গে বলি—যেটা আমরা অনেক সময় না জেনেই করে থাকি। বা তৎক্ষনাত ভাবি এটাই বুঝি সঠিক কাজ!
ছোটবেলায় দেখেছি, এখনও দেখি—চোর-ডাকাত বা অপরাধে অভিযুক্ত কাউকে ধরে ফেলার পর তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করা, পেটাতে পেটাতে রক্তাক্ত করে ফেলা, অপমান করা এবং এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সেই নির্যাতনের ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া।
এটাও অন্যায়। এটাও আইনবিরোধী।
কেউ অপরাধ করেছে বলে সন্দেহ হলেই তাকে ধরে গণপিটুনি দেওয়া, অপমান করা বা নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কোনো সাধারণ মানুষের নেই। একজন মানুষ অপরাধী কি না, তার বিচার ও শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব ব্যক্তির নয়—আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার।
অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পরিবর্তে আমরা যদি নিজেরাই বিচারক, পুলিশ ও শাস্তিদাতা হয়ে যাই, তাহলে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে কীভাবে?
আর কোনো নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া মানে শুধু একজন মানুষকে অপমান করা নয়—এটি সেই অপমানকে আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তাই কোনো অপরাধ বা নির্যাতনের ঘটনা দেখলে—
❌ ভিডিও করে বিনোদন নেবেন না।
❌ গণপিটুনিতে অংশ নেবেন না।
❌ অপমানজনক ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেবেন না।
বরং নিরাপদ থাকুন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে খবর দিন।
❌ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না—ভুলেও না।
একটি সভ্য সমাজের পরিচয় শুধু অপরাধ কম হওয়া নয়; অপরাধের বিরুদ্ধেও আমরা আইনসম্মত ও মানবিকভাবে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাই, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
শিশু হোক, অভিযুক্ত ব্যক্তি হোক কিংবা অপরাধের শিকার কেউ—কাউকেই জনতার হাতে অপমান, নির্যাতন বা শাস্তি দেওয়ার বিষয় বানানো উচিত নয়।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হোক।
মানবিকতা বজায় থাকুক।
নির্যাতন ও গণপিটুনি বন্ধ হোক।
আমি আশা করব, বর্তমান সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে জনসচেতনতা তৈরিতে যথাযথ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে এ ধরনের সামাজিক অপরাধ কমিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আরও জোরালো ভূমিকা রাখবে—এটাই প্রত্যাশা।
Ministry of Women and Children Affairs
Ministry of Education, Bangladesh
Bangladesh Police
Bangladesh Television
ধন্যবাদ।
✍️ মাছুম বিল্লাহ
সভাপতি
জুপুয়া প্রবাসী মানব কল্যাণ সংস্থা
#শিশু_নির্যাতন_বন্ধ_হোক
#গণপিটুনি_বন্ধ_হোক
িজের_হাতে_তুলবেন_না
#আইনের_শাসন
#সচেতন_হোন
#শিশুর_নিরাপত্তা
#সচেতন_হোন