08/03/2026
🔰রামাদান জিজ্ঞাসা-০৩:
Allah created the Universe. So, He know about everything in the world..then, why the Quran only mention's the animals, fruits and other things that are found in middle east or area nearby. Why not the thing that are found in the other part of world?
(অনুবাদ-আল্লাহ তায়ালা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। তাই, তিনি পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে জানেন.. তাহলে, কুরআন কেন কেবল মধ্যপ্রাচ্য বা তার কাছাকাছি অঞ্চলে পাওয়া প্রাণী, ফল এবং বিভিন্ন সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছে? কেন পৃথিবীর অন্য অংশে পাওয়া সৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়নি?)
✅শরয়ী সমাধান :- ০৩
১. আল্লাহ তায়ালা কেন ঐ সমস্ত প্রাণী বা ফল-ফলাদির কথা কেন পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেননি যা আরববিশ্বের বাইরে পাওয়া যায় সে ব্যপারে তিনিই ভালো জানেন। এই উত্তরটি মুসলমান হিসেবে আমাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও আশংকামুক্ত।
২. আল্লাহ তায়ালা নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সারা পৃথিবীর জন্য পথনির্দেশক হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তবে তিনি যেহেতু মানুষ তাই মানবপ্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তাকে আরবের কুরাইশ বংশে পাঠিয়েছেন। সেই হিসেবে তাঁর দাওয়াতের সর্বপ্রথম সম্বোধিত জাতি ছিলেন আরব জাতির লোকেরা। আর যাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয় তাদের সামনে উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত উপস্হাপনের ক্ষেত্রে তাদের চেনা-পরিচিত জিনিসসমূহ দিয়েই দিতে হয়। যেন বুঝতে সহজ হয়। অন্যথায় দাওয়াতের মাহাত্ম্যই নষ্ট হয়ে যায়। তাই আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন পশু পাখি ও ফলমূল উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আরব অঞ্চললের বাসিন্দাদের জানাশোনার প্রতি লক্ষ রেখেছেন যেন সেগুলো তাদের সহজবোধ্য হয়। আর এই সমস্ত উদাহরণ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, মানুষের সামনে আল্লাহর একাত্বতা ও তাওহীদের প্রমাণ উপস্থাপন করা। তাই যে কোন জিনিস বা বস্তু দ্বারা এই উদ্দেশ্য
অর্জন হয় সেই জিনিস দিয়েই উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।সাথে সাথে এই কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, পবিত্র আল কুরআন কোন তত্ত্বীয় গ্রন্থ নয় যে, সেখানে প্রতিটি বস্তুর কথা উল্লেখ না করলে তার প্রামাণিকতা নষ্ট হয়ে যায়। বরং কুরআন নাজিলের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষকে তাওহীদের পথে আনা এবং আল্লাহর বিধিনিষেধের সীমা রেখা মানবজাতিকে জানিয়ে দেওয়া। সে উদ্দেশ্যটি যে বিষয়গুলোর মাধ্যমে অর্জন হবে কুরানে শুধু ততটুকুই উল্লেখ করা হয়েছে।
والله أعلم بالصواب
৩. এটির আরো একটি উত্তর হলো, কুরআনে বর্ণিত পশুপাখি বা ফলাফলাদিরতে গভীর চিন্তা ও মনোযোগ দিলে যেভাবে আল্লাহর তাওহীদের স্বীকৃতি অনায়াসেই চলে আেেস ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টি যেগুলো কুরআনে উল্লিখিত হয় নাই সেগুলোতেও যদি একই পদ্ধতি অনুসরণ করে গবেষণা করা হয় তাহলে আল্লাহর পরিচিতি সহজেই লাভ করা যায়। তাই এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পরিচিতি লাভ করা। নির্দিষ্ট কোন প্রাণী, বৃক্ষ বা ফলকে মহিমান্বিত করা উদ্দেশ্য নয়। এটি তাফসীরের এই বিখ্যাত মূলনীতির মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়-
"العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب"
"বিধান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভিত্তি হলো শব্দের ব্যাপকতা, কারণের সুনির্দিষ্টতা নয়"।
অর্থাৎ,কোনো আয়াত বা হাদীস নাজিল হওয়ার পেছনে যে নির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনা থাকে, হুকুমটি শুধুমাত্র সেটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
ঐ আয়াত বা হাদীসে ব্যবহৃত শব্দগুলো যত ব্যাপক অর্থ বহন করে, হুকুমটি সেই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
والله أعلم بالصواب