30/09/2026
হে আমার প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোন! একটু থমকে দাঁড়িয়ে কি ভাববেন—আমরা কোন পথে চলছি? যে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার পেছনে আমরা ছুটছি, তা কি আসলেই আমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা? একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, প্রতিদিন আমরা জেনে বা না জেনে এমন কিছু করছি না তো, যা আমাদের অজান্তেই জাহান্নামের অতল গহ্বরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে?
মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় আমাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন:
وَمِنْ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِيْنٌ
"মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোকও রয়েছে, যারা আল্লাহর পথ থেকে (মানুষকে) বিচ্যুত করার জন্য অজ্ঞতাবশত অসার ও অবান্তর কথাবার্তা (গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র) কিনে নেয় এবং আল্লাহর পথকে উপহাস করে। এদের জন্যই রয়েছে চরম অবমাননাকর শাস্তি।"
— (সূরা লুকমান, আয়াত: ০৬)
শুধু তাই নয়, সমাজের বুকে যারা আজ আধুনিকতার নামে, বিনোদনের নামে কিংবা নিছক মজার ছলে নোংরামি আর অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের পরিণাম কত যে ভয়াবহ, তা জানিয়ে রব্বুল আলামীন বলেন:
اِنَّ الَّذِیْنَ یُحِبُّوْنَ اَنْ تَشِیْعَ الْفَاحِشَةُ فِی الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ فِی الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةِ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ
"যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার ঘটানো পছন্দ করে, নিশ্চয়ই তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।"
— (সূরা আন-নূর, আয়াত: ১৯)
আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে আমাদের প্রিয় নবী, দুজাহানের সর্দার হযরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতের এই করুণ অবস্থার কথা বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। হযরত আবু মালেক আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
لَيَكُوْنَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّوْنَ الْحِرَ وَالْحَرِيْرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ
"অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমি পোশাক, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে (গান-বাজনা) হালাল মনে করবে।"
— (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৫৯০)
*একটু ভেবে দেখুন.......
ব্যক্তির গোপন পাপ কেবল ঐ ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে। মানুষটি যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়, তার সেই ব্যক্তিগত পাপের অস্তিত্বও হয়তো মুছে যায়।
কিন্তু প্রকাশ্য পাপ? তা একটি জীবন্ত বিষবাষ্প! এটি একটি পুরো জাতিকে ধ্বংস করে দেয়, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মরণব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ে।
প্রিয় ভাই ও বোন আমার! দুনিয়ার এই সস্তা বিনোদনের (নাচ,গান, কনসার্ট,মুভি নাইট, ফ্ল্যাশ মব প্রভৃতি) মোহে পড়ে আমরা যেন এমন কোনো কাজ না করি, যার কারণে হাশরের ময়দানে কোটি কোটি মানুষের সামনে একটি জাতিকে ধ্বংসের কারিগর হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হয়। সেই দিন আল্লাহর তীব্র ক্রোধ আর অপমানের শাস্তি আমরা কীভাবে সইব?
সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। চোখ থেকে মোহ আর গাফলতির পর্দা সরিয়ে এখনই ফিরে আসার সময়। আসুন, আল্লাহর দরবারে চোখের জল ফেলে তাওবা করি।
হে দয়াময় আল্লাহ! আপনি আমাদের ভেতরের ও বাইরের, গোপন ও প্রকাশ্য সমস্ত গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমাদের অন্তরগুলোকে পবিত্র করুন এবং অশ্লীলতার এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচিয়ে আপনার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করে নিন। আমীন।