24/08/2026
🕯️ ৯ম রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস
এ শুধু সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেওয়ার গল্প নয়,
এ এক জাতির দীর্ঘ রক্তাক্ত নির্বাসনের ইতিহাস।
দফায় দফায় আগুন জ্বলেছে, ঘর পুড়েছে, মানুষ মরেছে। কেউ সীমান্তে পৌঁছেছে, কেউ পৌঁছাতে পারেনি; কেউ কারাগারে বন্দী, কেউ নির্যাতনের অন্ধকারে, আর কত নামহীন মানুষ সাগরের অতলে হারিয়ে গেছে—যাদের কোনো কবর নেই, কোনো জানাজা নেই, শুধু উত্তাল সমুদ্রই যেন তাদের শেষ ঠিকানা। গত এক দশকে সমুদ্রপথে প্রায় ৫,০০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজের কথা উঠে এসেছে।
যারা বেঁচে আছে, তারাও কি সত্যিই বেঁচে আছে?
কেউ শরণার্থী শিবিরে রেশন-নির্ভর জীবনে, কেউ বন্দিত্বে, কেউ পাচারকারীর হাতে, কেউ অপমান আর অনিশ্চয়তার বোঝা কাঁধে নিয়ে। এমনকি ২০২৪ সালেও ২,৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশের বাইরে আটক ছিল বলে জানিয়েছে UNHCR
সবচেয়ে নির্মম সত্য—
আজ যেন মানুষ নয়, আমরা একটি ‘সংকট’ হয়ে গেছি; যেন একটি পণ্য—যাকে কখনো এক সীমান্ত থেকে অন্য সীমান্তে সরানো হয়, কখনো দর-কষাকষির টেবিলে তোলা হয়, আর কখনো মানবিক সহায়তার হিসাবের পাতায় গোনা হয়।
দুমুঠো রেশনের ভাতের বিনিময়ে জীবন থেমে থাকতে পারে না।
মানুষের মর্যাদা কোনো রেশন কার্ডে মাপা যায় না।
শিশুর ভবিষ্যৎ কোনো ত্রাণের প্যাকেটে বন্দী থাকতে পারে না।
আমরা পৃথিবীর বোঝা হতে চাই না।
আমরা করুণা চাই না—চাই অধিকার।
চাই নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, মর্যাদা, নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচার।
আজ আমাদের প্রশ্ন একটাই—
আর কত মৃত্যু হলে পৃথিবীর নীরবতা ভাঙবে?
আর কত প্রজন্ম নির্বাসনে কাটালে মানবতা আমাদের মানুষ হিসেবে দেখবে?
আমাদের ভুলে যাবেন না।
আমাদের কেবল বাঁচিয়ে রাখবেন না—
আমাদের মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিন।
🕊️ We Remember. We Honour. We Demand Justice.