17/05/2026
📜 জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত শিট
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয়।" (সহিহ বুখারি)
🌟 পার্ট ১: এই ১০ দিনের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব১. পবিত্র কুরআনে আল্লাহর শপথমহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফজরে এই ১০টি রাতের কসম খেয়েছেন। আল্লাহ যার কসম খান, তা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।
:وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ
উচ্চারণ: ওয়াল ফাজরি, ওয়া লায়ালিন আশা র।
অর্থ: "শপথ ভোরের, এবং শপথ দশটি রাতের।" (সূরা আল-ফজর, আয়াত: ১-২)২.
এই দিনগুলোর সাধারণ একটি নেক আমলও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার চেয়ে বেশি সওয়াবের।হাদিসের অংশ:
مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ
অর্থ: "এমন কোনো দিন নেই যার আমল জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হবে।" সাহাবিরা জানতে চাইলেন জিহাদের চেয়েও? রাসুল (সা.) বললেন, "হ্যাঁ, জিহাদের চেয়েও উত্তম।" (সহিহ বুখারি)
📝 পার্ট ২: প্রতিদিনের করণীয় ও বিশেষ আমলসমূহ
১.
১ থেকে ৯ই জিলহজ্জ পর্যন্ত রোজা রাখা রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনগুলোতে রোজা রাখতেন। বিশেষ করে ৯ই জিলহজ্জ (আরাফার দিন) রোজা রাখা অত্যন্ত জরুরি।আরাফার রোজার ফজিলত সম্পর্কে হাদিস:
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ
অর্থ: "আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সহিহ মুসলিম)
২.
বেশি বেশি জিকির করা (তাহলীল, তাকবীর ও তাহমীদ)এই দিনগুলোতে চলতে-ফিরতে, উঠতে-বসতে এই জিকিরগুলো বেশি বেশি মুখে উচ্চারণ করতে হবে:
তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ): لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ(আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই)
তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ): الْحَمْدُ لِلَّهِ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)
তাকবীর (আল্লাহু আকবার): اللَّهُ أَكْبر (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)
৩.
তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা৯ই জিলহজ্জের ফজর থেকে ১৩ই জিলহজ্জের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর ১ বার এই তাকবীর বলা ওয়াজিব (পুরুষেরা উচ্চস্বরে এবং নারীরা মনে মনে/নিচুস্বরে বলবেন):আরবি তাকবীর:
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
অর্থ: "আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান, সব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।"
৪.
নখ ও চুল কাটা থেকে বিরত থাকাযাঁরা কুরবানি করার নিয়ত করেছেন, জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজের শরীরের কোনো নখ, চুল বা চামড়া কাটা থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব (উত্তম)।
হাদিস: রাসুল (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে যে কুরবানি করতে চায়, সে যেন জিলহজ্জের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।" (সহিহ মুসলিম)
৫.
১০ই জিলহজ্জ কুরবানি করা সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর ১০ই জিলহজ্জ ঈদের নামাজের পর কুরবানি করা ওয়াজিব। এটি এই ১০ দিনের অন্যতম সেরা আর্থিক ও শারীরিক ইবাদত।
📅 পার্ট ৩: দৈনিক আমল চেকলিস্ট
১.ফরয নামাজ:– ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতের সাথে আদায় করা।
২. নফল ইবাদত:– তাহাজ্জুদ, ইশরাক ও সুন্নাত নামাজগুলো ঠিক রাখা।
৩. রোজা:– ১ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত (কমপক্ষে ৯ তারিখের রোজাটি মিস না করা)।
৪. জিকির:– সারাদিন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার পাঠ করা।
৫. কুরআন তিলাওয়াত:– প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি অংশ তিলাওয়াত করা।
৬. তওবা ও ইস্তিগফার:– বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৭. দান-সদকা:– প্রতিদিন সাধ্যমতো কিছু দান করা।