23/05/2026
Confession No-737
কলেজ জীবনের কিছু অনুভূতি থাকে, যেগুলো কাউকে সহজে বলা যায় না। বুকের ভেতর চুপচাপ জমে থাকে। প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হয়, কিন্তু মুখে এসে আর বলা হয় না। আমার গল্পটাও তেমনই—একটা নীরব ভালো লাগার গল্প।
আমাদের কলেজে একটা মেয়ে আছে। একই ক্লাসে পড়ি, একই গ্রুপে আছি। প্রতিদিন দেখা হয়, কিন্তু কখনো ঠিকভাবে কথা বলা হয়নি। জানি না কেন, ওর সামনে গেলেই আমার বুকটা অদ্ভুতভাবে ধড়ফড় করে। হাত-পা কাঁপে, গলা শুকিয়ে যায়। মাথার ভেতর হাজার কথা ঘুরতে থাকে, কিন্তু সামনে গিয়ে একটা শব্দও বের হয় না।
তবে একটা জিনিস আমি খুব ভালো করে লক্ষ্য করি—ওর হাসি।
ও যখন হাসে, আমার মনে হয় কয়েক সেকেন্ডের জন্য পুরো পৃথিবীটা থেমে গেছে। আশেপাশে কী হচ্ছে, কে কী বলছে—কিছুই আর মাথায় থাকে না। শুধু মনে হয়, এই হাসিটা সারাজীবন দেখেও হয়তো আমার মন ভরবে না।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, আমি প্রথমদিকে ওর নামও জানতাম না।
একদিন পরীক্ষার সময় উপস্থিতির জন্য সাইন নেওয়া হচ্ছিল। আমি মোটামুটি ওর রোল নাম্বারটা জানতাম। সেদিন খেয়াল করলাম, ওই রোলের পাশে একদিন অনুপস্থিত দেখানো। কৌতূহল থেকে নামটার দিকে তাকালাম।
নাম টা নাহয় আপনাদের অজানাই থাক, শুধু এই টা জানেন ওর নামের প্রথম অক্ষর "A" দিয়ে, আর আড্ডা কলেজের।
সেদিন প্রথমবারের মতো আমি ওর নাম জানলাম।
জানি না কেন, নামটা দেখার পর থেকে ভেতরে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, এটা শুধু একটা নাম না—আমার অজানা অনুভূতির একটা পরিচয়।
তারপর থেকে নামটা আমার মাথায় সবসময় ঘুরতে থাকে। ক্লাসে, বাসায়, রাস্তায়… হঠাৎ হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায়।
একদিন কলেজ শেষে আমার বাজারে কাজ ছিল। গাড়িতে উঠে দেখি, ও আর ওর এক বান্ধবীও একই গাড়িতে উঠেছে। পুরো রাস্তা আমি চুপচাপ বসে ছিলাম। শুধু আড়চোখে ওকে দেখছিলাম। ইচ্ছে হচ্ছিল কিছু একটা বলি, কিন্তু সাহস হচ্ছিল না।
বাজারে গিয়ে ভাড়া দেওয়ার সময় ও ড্রাইভারকে ১০০ টাকার একটা নোট দিল। আমি দিলাম ২০০ টাকা। ভাড়া ছিল একজনের ৪০ টাকা করে। তাই আমার ফেরত পাওয়ার কথা ছিল ১৬০ টাকা। ড্রাইভার ওর দেওয়া ১০০ টাকার নোটটার সঙ্গে আরও ৬০ টাকা মিলিয়ে আমার হাতে ফেরত দিল।
আমি চুপচাপ নোটটা আলাদা করে রেখে দিলাম।
কারণ, ওটা তখন আর শুধু একটা ১০০ টাকার নোট ছিল না। ওটার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল আমার নীরব একটা ভালো লাগা। মনে হতো, ওর কোনো একটা ছোট্ট স্মৃতি আমার কাছে আছে।
আমি টাকাটা খরচ করিনি। খুব যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম। দুই-তিন মাস ধরে মানিব্যাগের ভেতর আলাদা করে রাখা ছিল সেটা।
কিন্তু একদিন হাসপাতালে এক রোগীর জরুরি রক্তের দরকার হলো। আমি একজন ডোনার নিয়ে গেলাম। তখন হাতে আর কোনো টাকা ছিল না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সেই ১০০ টাকাটাই খরচ করতে হলো।
টাকাটা দেওয়ার পর আমার ভীষণ খারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল, নিজের খুব প্রিয় একটা স্মৃতি হারিয়ে ফেললাম। যদিও জানতাম, টাকাটা একটা ভালো কাজেই খরচ হয়েছে।
এই পুরো ব্যাপারটা আমি কাউকে বলিনি। কিন্তু একসময় আমার এক বন্ধু সব বুঝে যায়। তারপর ওরও কৌতূহল হয়—মেয়েটা কি কাউকে পছন্দ করে? ওর কি কোনো রিলেশন আছে?
একদিন কাকতালীয়ভাবে আমি কলেজে যাইনি, মেয়েটাও যায়নি। তখন আমার বন্ধু ওর বান্ধবীদের কাছ থেকে কিছু জানার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তেমন কিছু জানতে পারেনি।
তারপর একসময় কেউ নাকি ওকে বলেছিল,
— “তোমাকে একজন পছন্দ করে।”
ও শুধু হেসেছিল।
ও জানত না সেই মানুষটা কে।
তারপর থেকে একটা প্রশ্ন আমাকে প্রায়ই ভেতর থেকে নাড়া দেয়—
“যদি কোনোদিন ও জানতে পারে আমি ওকে পছন্দ করি… তাহলে কি ও আমাকে পছন্দ করবে?”
আজও এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।
কারণ কলেজ লাইফ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু সময় খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ভয় হয়, হয়তো একদিন সবাই আলাদা হয়ে যাব। হয়তো কোনোদিন বলার আগেই সব শেষ হয়ে যাবে।
তবুও একটা জিনিস বদলায়নি।
আজও ওর হাসিটা আমার ভীষণ ভালো লাগে।
এতটাই ভালো লাগে যে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে গিয়ে বলি—
“তুমি মাস্ক পরে থাকো… কারণ তোমার হাসি অন্য কেউ দেখুক, সেটা আমার ভালো লাগে না।”
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজ পর্যন্ত আমি ওর সঙ্গে ঠিকমতো কথাই বলতে পারিনি।
তাই সব কথাগুলো বুকের ভেতরই রয়ে গেছে।
নীরবে।
ঠিক অপ্রকাশিত ভালোবাসার মতো।
আর একটা কথা যদি হে অন্য কারো সাথে রিলেশনে থাকে বা পছন্দ করে। তাহলে আমি নাহয় এই পোর ঘটনা টাকে গল্প হিসেবে দরে নিবো