03/02/2026
শবে বরাত আছে কি নেই, এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত থাকলেও এ রাত সম্পর্কে একটি হাদিসের গ্রহনযোগ্যতার ব্যপারে প্রায় সব আলিমই একমত। যে হাদিসের মর্মার্থ মোটামুটি এরকম যে, এ রাতে আল্লাহর সাথে শিরককারী ব্যক্তি এবং হিংসুক ছাড়া সবাইকেই মাফ করে দেয়া হয়।
আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন, এত এত গুনাহ থাকতে হিংসার গুনাহটা কেন উল্লেখ করা হলো? এটা এত বড় গুনাহ কীভাবে হলো যে, অন্য সব পাপীকে ক্ষমা করা হবে, শুধু হিংসুক ছাড়া।
আসলে হিংসা মুলত এমন এক আগুন যার কারনে শুধু একজন/দুইজন নয়, বরং পরিবারের পর পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।
কেউ যদি ভাল জব করে, যদি সে একটি সুখি পরিবার বিলং করে, কারো যদি কিছু টাকা পয়সা হয়, হিংসুকের অভাব থাকে না তার। এই হিংসার জ্বলনে কিছু মানুষ এতটাই নীচে নেমে যায় যে, কোন ভাবেই যদি ক্ষতি করা সম্ভব না হয়, শেষ পর্যন্ত ব্ল্যাক ম্যাজিকের আশ্রয় নেয়। এরকম বহু মানুষ ও পরিবারকে নিজ চোখে দেখেছি, কোন কিছুর অভাব ছিল না একসময় তাদের, কিন্ত কারো দ্বারা এই ব্ল্যাক ম্যাজিকের শিকার হয়ে দোযখসম কষ্ট ভোগ করছে তারা আজ।
কারো সুখ সহ্য হবে না। কারো ভাল থাকাকে মানতে পারবে না। এমন কি কেউ যদি কোনদিন একটি ভাল পোষাকও পড়ে, এই রোগের রোগীরা সেটাও মানতে পারে না।
এই কারণেই হিংসা শুধু একটি ব্যক্তিগত গুনাহ নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। হিংসুক নিজে জ্বলে, আবার তার আগুনে অন্যদেরও পোড়ায়। নিজের অন্তরকে সে এতটাই অন্ধ করে ফেলে যে, আল্লাহ যে নে‘আমত কাউকে দিয়েছেন, সেটাকেই সে নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মনে করে। অথচ সে ভুলে যায়—রিযিক, সম্মান, সুখ–সবই আল্লাহর ফয়সালা; এতে কারো ভাগ কমে গিয়ে আরেকজন বেশি পায় না।
হিংসা ঈমানকে নিঃশব্দে খেয়ে ফেলে। আমল বাহ্যিকভাবে ঠিক থাকলেও অন্তরের এই পচন মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই শবে বরাতের মতো ক্ষমার রাতে, যেখানে পাহাড়সম গুনাহও মাফ হতে পারে, সেখানে হিংসুকের নাম আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে—যাতে আমরা বুঝতে পারি, এই গুনাহ কতটা ভয়ংকর।
আল্লাহ তাআলা আমাদের উত্তম তাওফিক দিন। আমরা যেন কাউকে ভালো থাকতে দেখলে আলহামদুলিল্লাহ বলতে পারি, কারো উন্নতিতে কষ্ট না পেয়ে দোয়া করতে শিখি। আমরা যেন ভুলে না যাই—অন্যের নে‘আমতে চোখ দিলে নিজের নে‘আমতও বরকতহীন হয়ে যায়।
–মুহতারাম শায়খ Rizwanul Kabir হাফি.