14/05/2026
গাউসে জমান সৈয়্যদ মুহাম্মাদ তৈয়্যব শাহ (রা.)'র নূরানী তাকরিরঃ বদ আক্বিদার লোক থেকে কোরআন-হাদিসের বয়ান শুনা প্রসঙ্গে!
গাউসে জমান আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রা.) সূরা মায়েদার ৫৫ ও ৫৬ নং আয়াতের তাফসির করতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে বলেন,
"একদা একজন বড় আলেম ও ইমামের নিকট এক ব্যক্তি এসে অনুমতি চেয়ে বললো, 'আমি আপনার সামনে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করবো, এর একটা আয়াত পড়বো, তারপর সেতার তরজুমা বলবো এবং তাফসির করবো।' তিনি বললেন 'না, তোমার জন্য অনুমতি নেই।' অতঃপর সে বললো, 'তবে আমি একটা হাদিস পাঠ করবো এবং তার তরজুমা করবো।' তখন তিনি (ইমাম সাহেব) বললেন 'না, তোমার জন্য অনুমতি নেই।' অতঃপর উপস্থিত লোকেরা বললো, 'হুজুর! যদি লোকটা ভুল বলতো তবে আপনি শুদ্ধ করে দিতেন। তবে তো তখন বুঝতে পারতেন। তা না করে একিবারে অনুমতি দিলেন না। এর কারণ কি?' তিনি বললেন, 'কথা হচ্ছে লোকটা বদ আক্বিদার। তার নিকট থেকে কিছু শুনে যদি আমার ঈমানে অণু পরিমাণ পার্থক্যও আসে তবে আমি বরবাদ হয়ে যাবো। আমি তো ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে যাব। কাজেই তার থেকে কোরআনের আয়াত শ্রবণ করার কি প্রয়োজন আছে? এ বদ-আক্বিদার নিকট থেকে হাদিস শুনার প্রয়োজনই বা কি? আমার কোন প্রয়োজন নেই।' এটাই সঠিক পন্থা যে, বদ আক্বিদা লোকদের থেকে দুরে সরে থাক এবং সৎ লোকদের সঙ্গ অবলম্বন কর। তাঁদের সঙ্গি হয়ে যাও। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ ফরমাচ্ছেন, 'নিশ্চয় তোমাদের বন্ধু, তোমাদের সাহায্যকারী হচ্ছেন আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মোমিনগণ আর যারা আল্লাহকে, আল্লাহর রাসুলকে এবং নামায, যাকাত আদায়কারী এবং রুকুকারী, মোমিনগণকে ভালোবাসে তাঁরাই আল্লাহর দল। আর আল্লাহর দলই বিজয়ী।' তাঁরাই আল্লাহর জামাত, তাঁরা সর্বত্র বিজয়ী থাকবেন।"
উল্ল্যেখ্য, হুজুর কেবলা (রা.) তৎসময়ে বাদে ফজর পবিত্র কোরআনুল কারিমের তাফসির করার মাধ্যমে যে নুরানী বয়ান করতেন, উপরে বর্ণিত বয়ানটি তার অংশবিশেষ মাত্র।
★সূত্রঃ নূরানী তাকরির(অনুবাদ), পৃষ্টা-৩৯, কৃত মাওলানা এম. এ মান্নান/ আল্লামা হযরত তৈয়্যব শাহ (র.)'র জীবনী গ্রন্থ, পৃ-১২৫,
আগামী ১৫যিলহজ্ব এই মহান মাতৃ গর্বের অলির ৩৪তম পবিত্র সালানা ওরশ মোবারক ,,,,,,,