04/06/2026
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের চেয়েও কি বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মু. নজরুল ইসলাম বেশি শক্তিশালী?
দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত নজরুল ইসলাম তার নিজ প্রতিষ্ঠানের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং প্রকাশ্যে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে যদি তার কোনো ভিন্নমত বা আপত্তি থেকে থাকে, তবে সেটি প্রাতিষ্ঠানিক ফোরামে উপস্থাপন করাই ছিল শোভন ও পেশাদার আচরণ। কিন্তু তিনি সেই পথ পরিহার করে ফেসবুককে বেছে নিয়েছেন, যেখানে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং দলীয় অবস্থানকে প্রতিষ্ঠা করাই যেন তার প্রধান লক্ষ্য।
একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা যখন প্রকাশ্যে নিজের প্রতিষ্ঠানের অবস্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তখন তা শুধু ব্যক্তি মতামতের বিষয় থাকে না; বরং দেশের আর্থিক খাত সম্পর্কে জনগণের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতা তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক বক্তব্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া কোনোভাবেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।
এরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বসে আর্থিক খাতকে অস্থিতিশীল করার পরিবেশ তৈরি করে, বিদেশি মহলের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার জন্য সরকারের উচিত হবে এ ধরনের দলকানা, লেজুড়বৃত্তিক এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিরপেক্ষ ও পেশাদার লোকেরাই থাকার দাবি রাখে।
মানুষ বিশ্বাস করে—ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে রাষ্ট্র বড়। কিন্তু নজরুল ইসলামের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তার কাছে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের চেয়েও দলীয় এজেন্ডা বড়।
রাষ্ট্রের স্বার্থের ঊর্ধ্বে কোনো ব্যক্তি নয়, কোনো দলও নয়।
লজ্জা নজরুল ইসলামের জন্য। লজ্জা সেই মানসিকতার জন্য, যা রাষ্ট্রের চেয়ে দলকে বড় মনে করে।