Waheed Electricians’ Welfare Foundation - WEWF

Call Contact the organization

Waheed Electricians’ Welfare Foundation - WEWF ছিন্নমূল ও অবহেলিত ইলেকট্রিশিয়ানদের জন্য একটি মানবিক উদ্যোগ

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।ঢাকা শহরের ট্রাফিকজ্যামে গাড়িগুলো ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। জানালার কাঁচে টোকা পড়ল টুং করে-“ভাই একটু ...
20/10/2025

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।
ঢাকা শহরের ট্রাফিকজ্যামে গাড়িগুলো ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। জানালার কাঁচে টোকা পড়ল টুং করে-
“ভাই একটু দান করেন, আল্লাহ ভরসা।”
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে একজন হিজরা - চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা লালচে রঙ, কিন্তু চোখ দুটো নিভে যাওয়া প্রদীপের মতো নিস্তেজ। চালকের আসনে বসা মানুষটি বিরক্ত হয়ে জানালা তুলে দিলেন। গাড়ির পেছনে বসা শিশু চুপ করে তাকিয়ে রইল সেই মুখটার দিকে, যে আসলে হাসছে, কিন্তু চোখের ভেতরে ভাঙা কাচের মতো ব্যথা লুকিয়ে আছে।
তার নাম রুহি। বয়স তিরিশের কাছাকাছি। ছোটবেলায় বুঝতেই পারেনি, সে অন্যদের মতো নয়। স্কুলে সবাই তাকে নিয়ে হাসত, শিক্ষক তাকে আলাদা বেঞ্চে বসাতেন। একদিন তার বাবা বলেছিলেন,
“তোর জন্য আমাদের মুখ দেখানো দায় হয়ে গেছে।”
সেদিনই রুহি ঘর ছেড়ে চলে যায়। তারপর থেকে রাস্তাই তার বাসা, ট্রেনের কামরাই তার আশ্রয়।
আমরা প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখি - রাস্তা, বাজার, দোকান কিংবা গাড়ির জানালায় হিজরাদের চাঁদা দাবি, হাততালি, গালাগাল। আমরা বিরক্ত হই, মুখ ফিরিয়ে নিই। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছি, তারা কেন এমন পথে যেতে বাধ্য হয়?
সমাজ তাদের জায়গা দেয়নি।
নারী ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন - এসব কথার মাঝে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো পড়ে থাকে পরিত্যক্ত হয়ে।
শিক্ষা, দক্ষতা, চাকরি - সব জায়গায় বঞ্চিত তারা।
আমরা যদি ভেদাভেদ না করে তাদেরকে সুযোগ দিতাম, তাহলে তারা মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির পথে যেতে বাধ্য হতো না।

🌿 মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থার আলো: হায়্যা ‘আলাল ফালাহ’ প্রকল্প
এই অবহেলিত মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা - “হায়্যা ‘আলাল ফালাহ’ প্রকল্প”।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, সমাজের প্রতিটি স্তরে “ফালাহ” অর্থাৎ কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা।
এখানে মসজিদ আর কেবল নামাজের স্থান নয় - এটি হচ্ছে সমাজের কেন্দ্রবিন্দু, একটি সম্পূর্ণ কমিউনিটি সিস্টেম।
এই প্রকল্পের আওতায় এখন প্রতিটি মসজিদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে:
👉 শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র
👉 বয়স্কদের সেবাকেন্দ্র
👉 আর নতুন সংযোজন হিসেবে “তৃতীয় লিঙ্গ পুনর্বাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র।”

রুহির জীবনে আলো ফেরে এই কেন্দ্রের হাত ধরেই।
একদিন মসজিদের ইমাম সাহেব তাকে রাস্তা থেকে ডেকে নেন। রুহি ভয় পায় - ভাবল, হয়তো তাড়িয়ে দেবে।
কিন্তু ইমাম হাসলেন, বললেন,
“তুমি মানুষ। আল্লাহর সৃষ্টি। এখানে তোমার জায়গা আছে।”
রুহিকে পাঠানো হলো কেন্দ্রটিতে।
সেখানে সে শিখলো সেলাই, হস্তশিল্প, ডিজাইন।
তার মতো আরও দশজন তৃতীয় লিঙ্গ নারী সেখানে কাজ শিখছে -
কেউ খাবার রান্না করে, কেউ শিখছে কম্পিউটার অপারেশন, কেউ আবার স্থানীয় স্কুলে শিশুদের গান শেখায়।
মসজিদ থেকে সংগৃহীত দানের অর্থ - সমাজের ধনী শ্রেণি যেটি স্বেচ্ছায় দেয় - এই কেন্দ্রগুলোর খরচ চালায়।
কিন্তু এই দান শুধুই করুণা নয়।
এটি এক বিনিয়োগ - একটি নিরাপদ, নৈতিক, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের বিনিয়োগ।
কারণ আজ যে মানুষ সমাজচ্যুত, যদি তাকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া যায়, সেই কাল সমাজের জন্য কল্যাণের দূত হয়ে দাঁড়াবে।
আজ রুহি আর রাস্তায় হাততালি দেয় না।
সে এখন নিজের বানানো কাপড় বিক্রি করে।
মসজিদের পাশে এক ছোট্ট ঘরে তার নিজস্ব টেইলার্স দোকান। নাম দিয়েছে “আল-ফালাহ ক্রিয়েশনস।”
প্রতিদিন নামাজ শেষে ছোট্ট শিশুদের হাসির শব্দ ভেসে আসে, রুহি মাথা তুলে বলে -
“আগে আমি শুধু টোকা দিতাম মানুষের জানালায়, এখন টোকা দিই নিজের ভাগ্যের দরজায়।”
এই হল হায়্যা ‘আলাল ফালাহ’ প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য।
এটি শুধু নামাজের আহ্বান নয়, এটি এক আহ্বান -
সমাজের প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নেওয়ার,
অবহেলিতদের প্রতি হাত বাড়ানোর,
আর আল্লাহর সৃষ্টি প্রতিটি প্রাণকে মর্যাদার আসনে বসানোর।
যেদিন আমাদের প্রতিটি মসজিদ এমন হবে,
সেদিন রুহির মতো কেউই আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে “চাঁদা” চাইবে না।
তারা নিজের সম্মানেই বাঁচবে, নিজের শ্রমেই গড়বে নিজের “ফালাহ্” - নিজের কল্যাণ। 🌿

একটি কাল্পনিক গল্প-
তবু এমন গল্প সত্যি করতেই আমরা কাজ করি।
Waheed Electricians' Welfare Foundation.
সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
২৬ রবিউস সানি ১৪৪৭ হিজরী
৪ কার্তিক ১৪৩২

20/07/2025

ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসানে করণীয়, কথার ফুলঝুরি ও আশ্বাস পদ্ধতি পরিহার দরকার

নাবিলের বয়স মাত্র এগারো। এই বয়সে যেখানে তার হাতে থাকা উচিত ছিল রঙিন স্কুল ব্যাগ, বইয়ের পাতায় স্বপ্ন আঁকা কলম, সেখানে তার...
09/07/2025

নাবিলের বয়স মাত্র এগারো। এই বয়সে যেখানে তার হাতে থাকা উচিত ছিল রঙিন স্কুল ব্যাগ, বইয়ের পাতায় স্বপ্ন আঁকা কলম, সেখানে তার হাতে প্রতিদিন সকালে উঠে ধরা পড়ে একটি ভারী হাতুড়ি।
নাবিল ইট ভাঙে। সকাল থেকে দুপুর, আবার কখনো কখনো বিকেল পর্যন্ত। ইট ভেঙে পাওয়া সামান্য পয়সা দিয়েই চলে তাদের সংসার। কারণ, নাবিলের মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বাবা ছিল না কোনও দিনই; হয়তো ছিল, কিন্তু কোনো দিন দায়িত্ব নেয়নি। আর তার ছোট ভাইয়ের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব এখন পুরোপুরি নাবিলের কাঁধে।
একদিন কাজ করতে করতে পাশের স্কুল মাঠের ফাঁক দিয়ে ভেসে এল কিছু শিশুর হাসির শব্দ। তারা খেলছে, দৌড়াচ্ছে, কেউ একজন বল ছুড়ে দিচ্ছে অন্যজনকে। নাবিল দাঁড়িয়ে পড়ল। অপলক চোখে দেখতে লাগল। খুব ছোটবেলায় সে নিজেও স্কুলে গিয়েছিল, মনে পড়ে বইয়ের পাতা ও সেই নতুন ব্যাগের গন্ধ। কিন্তু সেসব এখন শুধুই স্মৃতি।

এই গল্প আমাদের সমাজের বহু অবহেলিত শিশুর জীবনের প্রতিচ্ছবি। তবে এই কষ্টের মধ্যেও এখন এক নতুন সম্ভাবনার আলো দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু, যদি আমরা সত্যিকারের একটি মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে এই চিত্র একেবারেই বদলে যাবে।
তখন মসজিদ হবে কেবল নামাজের জায়গা নয়, হবে সম্পূর্ণ একটি সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো।

যদি আমরা এই সমাজব্যবস্থা গড়তে পারি, তাহলে-
👉মসজিদের আওতায় গড়ে উঠবে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র (Child Rehabilitation Centers),
যেখানে নাবিলের মতো শিশুদের জন্য থাকবে খাবার, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং মানসিক যত্নের পরিপূর্ণ ব্যবস্থা।
👉মুয়াজ্জিন, ইমাম ও মসজিদের কমিউনিটি লিডাররা শুধু নামাজে সীমাবদ্ধ থাকবেন না,
তারা হবেন সমাজের অভিভাবক, যারা পথহারা শিশুদের পথ দেখাবেন।
👉সমাজের বিত্তবানরা আর শুধু পাথরে মোড়ানো দানকুঠুরিতে দান করবেন না,
বরং তারা অর্থ দেবেন শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার পেছনে।
আসল প্রশ্ন: বিত্তবানরা তাদের টাকা কেন দেবেন?

কারণ, এই সমাজব্যবস্থায় সুরক্ষা ফিরবে তাদের নিজের জীবনেও।
তারা জানবেন-
“আজ আমি একজন এতিম শিশুকে সহায়তা করছি,
কাল এই সমাজ আমার বৃদ্ধ বয়সে আমাকে দেখবে।”

“আমার বৃদ্ধ বয়সে আমাকে কে দেখবে?”
এই ভয় থেকেই আমরা সম্পদ জমাই, নিরাপত্তা খুঁজি।
কিন্তু মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠলে সেই নিরাপত্তা মসজিদই দেবে।
তখন আর কেউ একা থাকবে না, দুর্নীতিতে লিপ্ত হবে না, দারিদ্র্য নিয়ে অপরাধে জড়াবে না।

তাহলে নাবিলের গল্প কীভাবে বদলে যাবে?
যদি এই সমাজব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা যায়,
তাহলে একদিন একজন ইমাম সাহেব নাবিলকে দেখবেন ইট ভাঙতে।
তিনি এগিয়ে যাবেন, কথা বলবেন।
তারপর নাবিল ভর্তি হবে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
তার পিঠে আবার বইয়ের ব্যাগ ফিরবে,
সে ক্লাসে যাবে, খেলবে, হাসবে, এবং বড় হয়ে সে সমাজের বোঝা নয়: সম্পদ হয়ে উঠবে।

সারসংক্ষেপে:
If we can establish a mosque-centered social system,
then we will return school bags to children’s backs,
restore dignity to mothers’ lives,
ensure food for the hungry,
and build a future where no one fears growing old alone.
মসজিদ তখন আর শুধু নামাজের জায়গা হবে না,
হবে সমাজের অভিভাবক, নিরাপত্তা কবচ, ও আশার আলো।
এবং ঠিক তখনই আমরা বলতে পারব:
"হাইয়া আলাল ফালাহ্" বাস্তবায়িত হয়েছে।

একটি কাল্পনিক গল্প-
তবু এমন গল্প সত্যি করতেই আমরা কাজ করি।
Waheed Electricians' Welfare Foundation - WEWF.
বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
১৪ মহররম ১৪৪৭ হিজরি
বুধবার, ২৫ আষাঢ় ১৪৩২

08/07/2025

উন্নত বিশ্বে যেখানে ৭০% শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায়, সেখানে বাংলাদেশে এই হার মাত্র ১৬%। শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও লক্ষ্যভ্রষ্ট নীতির কারণে এক যুগেও অগ্রগতি হয়নি উল্লেখযোগ্য।

06/07/2025

জনসংখ্যা যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তবে সেটাই একটি দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে, নয়তো তা হয়ে উঠতে পারে গুরুতর বোঝা।

রাবেয়ার জীবনটা সহজ ছিল না কখনোই। ছোট্ট একটা ঘরে তিন বছরের ছেলে রাকিবকে নিয়ে দিন কাটাতেন তিনি। স্বামী আকবর মিয়া মারা গেছে...
02/07/2025

রাবেয়ার জীবনটা সহজ ছিল না কখনোই। ছোট্ট একটা ঘরে তিন বছরের ছেলে রাকিবকে নিয়ে দিন কাটাতেন তিনি। স্বামী আকবর মিয়া মারা গেছে রাকিবের জন্মের ছয় মাসের মাথায়। আকবর ছিল একজন রিকশাচালক। রাস্তায় একদিন দুর্ঘটনায় পড়ে তার মৃত্যু হয়। রাবেয়ার তখন মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে।
প্রথম দিকে প্রতিবেশীরা কিছুটা সহানুভূতি দেখিয়েছিল। কিন্তু ক'দিন পর সবাই যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ল। রাবেয়ার সামনে তখন একটাই পথ খোলা ছিল, মানুষের বাসায় কাজ করা। সকালে বেরিয়ে একটার পর একটা বাসায় কাজ করে বিকেলের দিকে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরতেন।
কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। বাসায় কাজ করতে গেলে ছোট্ট রাকিবকে সঙ্গে নিতে চাইলে গৃহকর্ত্রীরা রাজি হতো না। "এই বাচ্চাকে নিয়ে আসবেন না আপা, ঝামেলা হয়," এই কথাটা শুনতে শুনতে রাবেয়ার কান পঁচে গেল। কী করবেন বুঝতে না পেরে বাধ্য হয়ে তিনি রাকিবকে নিজের ঘরে একা রেখে যেতেন। মাঝেমধ্যে পাশের ঘরের ভাবিকে বলতেন, "ভাবি, একটু রাকিবের দিকে খেয়াল রাখবেন।" ভাবি মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেও নিজের কাজের মধ্যে এতটাই ব্যস্ত থাকতেন যে রাকিবের দিকে খেয়াল রাখার সময় পেতেন না।
দিন যেতে লাগল। রাবেয়া সকালে কাজে বেরিয়ে যেতেন, বিকেলে ফিরে দেখতেন রাকিব রাস্তার ছেলেদের সঙ্গে খেলছে। শুরুতে তেমন গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন, ছেলেটা একটু বড় হচ্ছে, খেলাধুলা করাটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা টের পেলেন যখন রাকিব একদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরল না। রাবেয়া পাগলের মতো তাকে খুঁজতে বের হলেন। অবশেষে গভীর রাতে পাশের গলির একটা বস্তির সামনে রাকিবকে পেলেন। চোখ লাল, শরীর ঢুলুঢুলু।
- "রাকিব! তুই এখানে কী করছিস?"
রাকিব মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। তার শ্বাসে এক অদ্ভুত গন্ধ। রাবেয়া ভয় পেয়ে গেলেন। "তুই কী নেশা করেছিস?"
রাকিব কিছু বলল না। তার পকেট থেকে একটা ছোট্ট প্যাকেট বেরিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। গাঁজা। রাবেয়া অবিশ্বাস ভরে তাকিয়ে রইলেন।
- "তোর এই অবস্থা হলো কীভাবে?"
রাকিব ফুঁপিয়ে কেঁদে বলল, "মা, আমি তো একা থাকতাম। যাদের সাথে খেলতাম, তারা আমাকে বলত নিলে ভালো লাগবে। আমিও নিয়ে নিতাম…"
রাবেয়ার পা ঠান্ডা হয়ে এল। বুঝতে পারলেন, তিনি ছেলেকে পথভ্রষ্ট হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। পরের দিন রাকিব আর স্কুলে গেল না। রাবেয়া জোর করেও পাঠাতে পারলেন না। একদিন রাকিবের নামে চুরি আর মাদকের অভিযোগ এলো। আর কয়েক বছর পর রাকিব বড় হয়ে গেল এক নামকরা কিশোর গ্যাংয়ের লিডার।
রাবেয়ার মাথায় হাত। এ জীবনে ছেলেকে আর ফেরানো যাবে না, এটাই মনে হচ্ছিল।

মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা:

রাবেয়া যখন এই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছিলেন, তখন এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেব তার খোঁজ নিলেন। তিনি রাবেয়াকে ডেকে বললেন, "বোন, তোমার সমস্যা আমরা সবাই মিলে সমাধান করব। মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা আমাদের জন্য একটা আশার আলো।"
রাবেয়া অবাক হয়ে বললেন, "কিন্তু আমি তো গরিব। আমার জন্য কীভাবে…"
ইমাম সাহেব হাসলেন। বললেন, "শুনো, মসজিদের আশপাশের ৫০টি পরিবার নিয়ে আমরা একটা সমাজ তৈরি করছি। এই সমাজের নিয়ম হলো:

👉 ধনী মানুষরা তাদের আয়ের ১০% মসজিদের তহবিলে দান করবেন।
কিন্তু ধনী মানুষরা কেন দান করবেন?

কারণ মসজিদভিত্তিক সমাজই এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে। হয়তো শুনে অবাক হচ্ছো? ভাবছো, ধনী মানুষরা কেনই বা তাদের উপার্জনের অংশ দান করবেন? কারণ মানুষের মনে সবসময় একটা ভয় কাজ করে, বৃদ্ধ বয়সে কে আমাকে দেখবে?

আমরা যতই বলি, "আল্লাহ ভরসা," কিন্তু দিন শেষে মনের মধ্যে একটা চিন্তা থেকেই যায়, আমার বৃদ্ধ বয়সে আমাকে কে দেখবে? ছেলেমেয়েরা কি আদৌ আমার খেয়াল রাখবে? নাকি আমি একা হয়ে যাব? এই ভয় থেকেই মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়তে চায়। যখন সেই পাহাড় গড়া শেষ হয়, তখন অভ্যাসবশত সেই সম্পদ জমিয়ে রাখতে চায়। আর এই ফাঁকে শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। তখন মানুষ অবৈধ পথে উপার্জনে লিপ্ত হয়।

কিন্তু যদি মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাহলে এই ভয় আর থাকবে না। কারণ সমাজ জানবে-

➡️ আমার যদি কিছু হয়, মসজিদ আমার দায়িত্ব নেবে।
➡️ আমি বৃদ্ধ হলে মসজিদ আমাকে দেখবে।
➡️ আমার সন্তান যদি পথভ্রষ্ট হয়, মসজিদ তাকে ফিরিয়ে আনবে।
➡️ আমার স্বামী মারা গেলে বা আমি কর্মক্ষম না থাকলে মসজিদ আমাকে আশ্রয় দেবে।

এভাবেই মসজিদভিত্তিক সমাজভিত্তিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব। আল্লাহ দিনে পাঁচবার সালাহ্-এর পাশাপাশি ফালাহ্ (কল্যাণ) এর কথা বলেছেন। এই কল্যাণ যদি আমরা মসজিদ থেকে নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে মানুষ আর সম্পদের পাহাড় গড়তে চাইবে না।

👉 একজন কাজের বুয়া, গার্মেন্টস কর্মী বা কর্মজীবী মহিলা তার সন্তান রেখে কাজে যায়। তার সন্তান স্কুলে যায় না, মাদ্রাসায় যায় না। রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে একসময় অপরাধে জড়িয়ে যায়। যদি মসজিদের ইমাম এই শিশুদের দায়িত্ব নেন, মসজিদের পাশে একটা কক্ষ তৈরি করে তাদের দেখাশোনা করেন, তাহলে এই শিশুরা আর কখনোই কিশোর গ্যাংয়ে জড়াবে না। তারা আর মাদকাসক্ত হবে না। বরং তারা বড় হয়ে সমাজের জন্য আদর্শ মানুষ হবে।

👉 একজন বৃদ্ধ বাবা-মা যখন একা হয়ে যাবেন, তখন মসজিদ যদি তাদের দায়িত্ব নেয়, তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে তারা নিশ্চিন্ত থাকবেন। তারা অবৈধ পথে উপার্জনের চিন্তা করবেন না। সমাজে আর দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না।

👉 ইমাম সাহেবের ভূমিকা হবে সমন্বয়কারী হিসেবে। যেমন কারো বাবা মারা গেলে, মসজিদের দায়িত্ব হবে সমাজের ৪০টি ঘরের মানুষকে জানানো—"আজ থেকে এই পরিবারের দায়িত্ব আমাদের। আপনারা প্রত্যেকে মাসে ১০% করে ইনকাম মসজিদের তহবিলে দেবেন। সেখান থেকে তাদের খরচ চলবে।"

👉 কালকে আমি বা আপনি মারা গেলে, আমাদের দায়িত্বও মসজিদ নেবে। আমি যদি বৃদ্ধ হই এবং আমাকে দেখার কেউ না থাকে, তাহলে ঐ ১০% দানের তহবিল থেকেই আমার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হবে।
এইভাবে যখন হাইয়ালাল ফালাহ (কল্যাণের আহ্বান) বাস্তবায়ন হবে, তখন আর কেউই অবৈধ পথে উপার্জন করতে চাইবে না। আর তখন সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদকাসক্তি, কিশোর গ্যাং... সবকিছুই ধীরে ধীরে মুছে যাবে।

রাবেয়া প্রথমে সংশয়ী ছিলেন। কিন্তু ইমাম সাহেব এবং সমাজের লোকদের পরামর্শে তিনি রাকিবকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করলেন। মুয়াজ্জিন সাহেব নিজে রাকিবকে দেখাশোনা করতে লাগলেন। রাকিব প্রথমে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সে স্বাভাবিক হয়ে উঠল।

সেখানে রাকিব নতুন বন্ধু পেল। তার মাদকাসক্তির চিকিৎসা হলো। মনোবৈজ্ঞানিক পরামর্শক তাকে ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দিলেন- মাদকের পথ তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মসজিদ কমিটির লোকজন তাকে কোরআন শেখানোর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় মনোযোগী করে তুললেন। ধীরে ধীরে রাকিব বদলে যেতে লাগল।

রাকিব বড় হয়ে মাদকের পথ ছেড়ে দিল। এখন সে নিজেই অন্য পথভ্রষ্ট কিশোরদের ঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। সে ইমাম সাহেবকে বলেছিল,
"আমাকে যেভাবে সমাজ বাঁচিয়েছে, আমি এখন অন্যদের বাঁচাতে চাই।"

মসজিদ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার সফলতা
একটা মসজিদভিত্তিক সমাজ কেমন হতে পারে তা রাবেয়া নিজের চোখে দেখলেন। এখন আর সমাজে কোনো মা ভয় পায় না যে তার সন্তান পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। মসজিদের আশ্রয়ে প্রতিটি শিশু নিরাপদ। ধনী-গরিবের ব্যবধান কমে এসেছে।
👉 এখন আর কোনো মা তার সন্তানকে একা রেখে কাজে যায় না।
👉 কেউ না খেয়ে থাকে না।
👉 মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাং সমাজ থেকে প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে।
👉 বেকার যুবকরা পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
👉 সমাজে শান্তি আর নিরাপত্তা ফিরে এসেছে।
ইমাম সাহেব এখনো প্রতিদিন আজানের পর বলেন-
👉 হাইয়ালাল সালাহ্ (নামাজের জন্য এসো)
👉 হাইয়ালাল ফালাহ্ (কল্যাণের জন্য এসো)
রাবেয়া এখন নিজের সন্তানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমান। কারণ তিনি জানেন, মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা তার সন্তানকে শুধু নিরাপত্তাই দেয়নি, বরং তাকে একটি নতুন জীবন দিয়েছে।

এটি একটি কাল্পনিক গল্প-
তবু এমন গল্প সত্যি করতেই আমরা কাজ করি।
Waheed Electricians' Welfare Foundation.

Address

Plot No/16, Road No-01, Block/A, Chandgaon R/A, Chadgaon Chattogram-
Chittagong
4212

Opening Hours

Monday 08:00 - 20:00
Tuesday 08:00 - 20:00
Wednesday 08:00 - 20:00
Thursday 08:00 - 20:00
Saturday 08:00 - 20:00
Sunday 08:00 - 20:00

Telephone

+8801813590492

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Waheed Electricians’ Welfare Foundation - WEWF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Waheed Electricians’ Welfare Foundation - WEWF:

Shortcuts

Share