10/04/2025
আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে 'হামাস' নামটি উচ্চারিত হলেই অনেকের চোখের সামনে ভেসে উঠে একটি চরমপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন এর চিত্র। আন্তর্জাতিক হলুদ মিডিয়া ও প্রভাবশালী ইসলামফোবিক রাষ্ট্রের চালানো প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে এই চিত্রটি আঁকা হয়েছে যা সম্পূর্ণরূপে একপাক্ষিক এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কুটচালের অংশ।
হামাসের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৭ সালে, প্রথম ইন্তিফাদার সময় যখন ফিলিস্তিনের জনগণ ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শুরু করে (মূলত বাধ্য হয়) এই সংগঠনটির রুট সেই প্রতিরোধ আন্দোলনের ভেতর, যেখানে একটি জাতি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, স্বাধীনতার জন্য, দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিল।
'জঙ্গি' এবং 'বিদ্রোহী' — এই দুটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য শুধু শব্দগত বা অর্থগত নয়, তাৎপর্যমূলক।
জঙ্গি হলো সেই গোষ্ঠি যারা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। আর বিদ্রোহী হলো তারা, যারা রাষ্ট্রীয় বা বৈদেশিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালায়। হামাস হাজারো ফিলিস্তিনির উপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিক্রিয়া। যেখানে রোজ ফলে নির্যাতনের স্টিমরোলার,যেখানে রোজ নিহত করা হয় হাজার হাজার নারী ও শিশুকে, যেখানে নিজ ভূমিতে জনগণ বন্দি সেখানে প্রতিরোধ কি কাম্য নয়?
এই প্রতিরোধ সবসময় নিখুঁত হয়না। হামাসের কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভুল হয়েছে, নিরীহ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে—এ সত্য অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু সেটির বিচার হতে হবে যুদ্ধের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, ইতিহাসকে পাশে রেখে। যেখানে ইসরাইল রোজ রোজ প্রতিনিয়ত মানবতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছে সেখানে হামাসের হাতে গুটি কয়েক মানুষ নিহত আহত হলে সেটা নিয়ে মানবতার বুলি আওড়ালে সেটা মানবতারই উপহাস।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একই ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো স্বাধীনতা সংগ্রাম কখনো বা জঙ্গি কর্মকাণ্ড বলে বিবেচিত হয় শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থ বিবেচনা করে কোন প্রকার নৈতিকতার মানদণ্ডে নয়।
হামাস জঙ্গি নয়। তারা সেই বিদ্রোহের নাম যারা দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের উপর হওয়া অত্যাচার অবিচারের প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ফিলিস্তিনিদের আর্তনাদ শুনতে শিখতে হবে তাদের বোবা কান্না বুঝতে শিখতে হবে তা না হলে আমরা শুধুমাত্র একপাক্ষিক ন্যারাটেভের এর শীকার ছাড়া আর কিছু হতে পারবনা!
Jawadur Rashid Wasee
Activist, Movement of Al Quds