বইবাহিক

বইবাহিক Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বইবাহিক, Youth Organization, Chittagong.

মে দিবস: শুধু ছুটি নয়, সচেতনতার আহ্বানআজ মে দিবস। আমরা অনেকেই দিনটিকে শুধুমাত্র একটি ছুটি হিসেবে দেখি—একটা দিন যেখানে অফ...
01/05/2025

মে দিবস: শুধু ছুটি নয়, সচেতনতার আহ্বান

আজ মে দিবস। আমরা অনেকেই দিনটিকে শুধুমাত্র একটি ছুটি হিসেবে দেখি—একটা দিন যেখানে অফিস নেই, ক্লাস নেই, একটু বিশ্রাম, একটু আলসেমি। কিন্তু আমরা কি একবারও ভাবি, এই ছুটির পেছনে কত রক্ত, কত সংগ্রাম, কত ত্যাগ লুকিয়ে আছে?

১৮৮৬ সালের শিকাগোর শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রমের দাবিতে যে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তারা কি কল্পনা করতে পেরেছিলেন যে, একদিন পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ তাদের এই লড়াইকে স্মরণ করে ছুটি নেবে—কিন্তু প্রশ্ন করবে না আজকের শ্রমজীবীদের অধিকার কতটা নিরাপদ?

আমরা কি জানি, এখনো আমাদের চারপাশে কত মানুষ ন্যায্য মজুরি পান না? কত শিশুশ্রম চলছে আড়ালে? গার্মেন্টস থেকে শুরু করে নির্মাণশ্রমিক—প্রতিদিন কত শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, কিন্তু তাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই, স্বাস্থ্যসেবা নেই, সুরক্ষা নেই।

আমাদের প্রশ্ন করা দরকার—কে তৈরি করছে এই বিলাসী শহর, আর কে পাচ্ছে তার সুফল?

মে দিবসের প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে আমাদের শুধু "শুভ মে দিবস" বললেই চলবে না। দরকার সচেতন হওয়া, প্রশ্ন তোলা, ন্যায্যতা দাবি করা। শ্রমিক শুধু কারখানায় নয়—আজকের তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষক, ফ্রিল্যান্সার, ডেলিভারি বয়, এমনকি হোমমেকারও একেকজন শ্রমিক, যাদের অধিকার নিয়ে কথা বলাও এই দিনের প্রকৃত চেতনা।

আজ প্রশ্ন তুলি—শ্রমের মর্যাদা কি কেবল বইয়ের পাতায়? নাকি আমাদের নীতিনির্ধারণেও?

সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদুর নাম ‘বই পড়া’। আর কোনো জাদুর এমন সাধ্য নেই যে দু মলাটের ভেতরে অন্য এক পৃথিবীর সন্ধান দেয়। ...
22/04/2025

সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদুর নাম ‘বই পড়া’। আর কোনো জাদুর এমন সাধ্য নেই যে দু মলাটের ভেতরে অন্য এক পৃথিবীর সন্ধান দেয়। মলাটবন্দী, জাদুমাখা ছোট ছোট অক্ষরগুলো হয়ে ওঠে মুক্তির প্রতীক। কখনো এই অক্ষরে চেপে ঘুরে আসি লস এঞ্জেলস থেকে,কখনো বা নর্থ পোল। অতি পরিচিত বিছানায়, বালিশে হেলান দিয়ে কখনো ঝাঁপ দিচ্ছি পাহাড় থেকে, কখনো বা ডুব দিচ্ছি সাগরতলে। কখনো ছুটছি শত্রুর পেছনে কখনো বা বন্ধুর হাত ধরে।

মাটির উঠোনের এক প্রান্তে বসে কখনো ঘুরে বেড়াচ্ছি সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে কখনো বা সঙ্গী হচ্ছি মোগলদের। বাহাদুর শাহ পার্কে প্রহসনের বিচার দেখে বন্ধ করে ফেলছি চোখ। আবার শাহজাহানের সাথে হেঁটে হেঁটে দেখছি তাজমহলের নির্মাণযজ্ঞ। কখনো হাজির হচ্ছি দেশভাগ আর দাঙ্গার সময়ে। ব্যথাতুর হৃদয়ে দেখছি চিরচেনা মাটি,নদী,ঘর,প্রেম ছেড়ে মানুষের চলে যাওয়া। কখনোবা আতঙ্কে, অবিশ্বাসে চেয়ে চেয়ে দেখছি ধর্মের নামে মানুষ হ ত্যা।

দু’মলাট কখনো নিয়ে যাচ্ছে আরণ্যকের অরণ্যে, কখনো যাচ্ছি বুনো পশ্চিমের দুনিয়ায়। আরণ্যকে যেমন সবুজ আর সুন্দরের হাতছানি দেখে মুগ্ধ হচ্ছি,তেমনি বুনো পশ্চিম দেখাচ্ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। সাই সাই করে ছুটছে বুলেট। নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখছি গান ফাইট। ছলকে উঠছে বুকের রক্ত। আবার সবশেষে ঘোড়ায় চেপে ঘুরে বেড়াচ্ছি পশ্চিমের বুনো সৌন্দর্যে।

কালো কালো অক্ষর কখনো হাতছানি দেয় রহস্য সমাধানের। তখন প্রাণ হাতে নিয়ে দুর্ধর্ষ সব অপরাধীর পেছনে ছুটতে হয়। সামলাতে হয় মুহুর্মুহু আক্রমণ। কিন্তু হাল ছাড়িনা কখনো। সমাধান করে তবেই ক্ষান্ত দেই। কখনো আবার এই অক্ষরগুলোই আটপৌরে যাপিত জীবনের গল্প শোনায়। যে আমি আগের বইয়ে পৃথিবীর বিরুদ্ধে হওয়া বিশাল চক্রান্ত বানচাল করে দিয়েছি সেই আমিই তখন যাপিত জীবনের চক্রে কুপোকাত হয়ে যাই।

অক্ষর আর বাক্যের হাত ধরে কখনো হাজির হই ৭১ এর বাংলাদেশে। ঐ তো টি-৩৩ বিমান নিয়ে ছুটছেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান৷ চোখ ফেরাতেই দেখি অপারেশন জ্যাকপটে ধ্বংস হচ্ছে একের পর জাহাজ। সেসব বিস্ফোরণের শব্দ বুকে এসে লাগে। বিস্মিত হয়ে দেখি ক্র‍্যাকপ্লাটুনের দস্যি ছেলেদের ঝটিকা অপারেশন। শঙ্কায় শুকিয়ে আসে মুখ। রাগে,ঘেন্নায় হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আসে রাজা-কারদের কর্মকাণ্ড দেখে। সবকিছুর শেষে সাক্ষী হই বিজয়ের৷

মলাটবন্দী অক্ষরগুলো কখনো নিয়ে যায় সুদূর থেকে সুদূরে। ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘামতে ঘামতে, ঠিকই পৌঁছে যাই তিব্বতের কোনো গুম্ফায়। এদিকে কপালের ঘাম মুছি তো ওদিকে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা কমানোর জন্য পান করি থুকপা। কখনোবা সিলেটের ছোট্ট এক গ্রাম থেকে পৌঁছে যাই আইসল্যান্ড বা নরওয়েতে। হাঁ হয়ে দেখি অরোরার সৌন্দর্য। গলার মাফলারটা ভালো করে পেছিয়ে নিতে ভুল করিনা একদম।

দু মলাটের পৃথিবী কখনো আবার একেবারে পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে নিয়ে যায়। নতুন গ্রহে কেমন করে মানুষ বাঁচবে সেই লড়াই দেখি। আবার কখনো একটানে পৌঁছে যাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। স্তম্ভিত হয়ে দেখি বোমাগুলো সবার আগে পড়ছে মানুষের হৃদয়ে। ধ্বসে পড়তে দেখি পারস্পরিক বিশ্বাস,সম্প্রীতি আর সহমর্মিতার মজবুত দেয়াল।

কখনো দেখা যায় হাতে তুলে নিয়েছি একটা আত্মজীবনী। তন্ময় হয়ে নিচ্ছি জীবনের শিক্ষা। আমার হাতের মুঠোয় তখন কেবল বই নয়। হাতের মুঠোয় তখন একটা মানুষের গোটা জীবন,অভিজ্ঞতা,উত্থান পতন,স্বপ্ন আর বেদনার আখ্যান। একটা গোটা জীবন দু মলাটে আর কে দিতে পারে আমায়?

কখনো আবার ডুব দিয়েছি মানুষের শুরুর ইতিহাসে। দেখেছি আমাদের পূর্বপুরুষদের গুহার দেয়ালে ছবি আঁকতে। ঐ তো, সারাদিনের শিকার শেষে অন্ধকারকে ভয় পেয়ে গুটিসুটি মেরে গুহার ভেতর ঘুমিয়ে পড়লেন তারা। তাদের টিকে থাকার লড়াই আমায় জানিয়ে দেয়, কেবলমাত্র অভিজ্ঞরাই এখানে টিকে থাকবে। তাদের ইতিহাস জানান দিচ্ছে,সংঘবদ্ধ থাকার শক্তির ব্যাপারে। বিশ্বাস রাখতে বলছে একতায়।

আর কোন জাদু আমার পূর্বপুরুষের কাছে পৌঁছে দিত পারতো আমায়? কোন জাদু আমাকে একটানে নিয়ে যেতে পারে ইস্তানবুল, প্যারিস, হিমালয় কিংবা আমাজনের গভীরে? আর কোন জাদুবলে আমি ঘুরে বেড়াতে পারি গোটা পৃথিবীময়? আর কোন জাদুতে আমি দর্শক হয়ে ঘুরে বেড়াতে পারি ইতিহাসের পাতায় পাতায়? কোন জাদু আমার চোখে এনে দিতে পারে এমন বিস্ময়,আনন্দে ভরিয়ে তুলতে পারে মন খারাপের দিনগুলো? একমাত্র বই সেটা পারে। সেজন্যই বই পড়ার চেয়ে বড় জাদু আর হয়না। নতুন বইয়ের ঘ্রাণের চেয়ে মাদকতাময় ঘ্রাণ ও আর পাওয়া যাবে না কোথাও।

অনেকে জিজ্ঞেস করে, বই পড়ি কেন। উঁহু, একদমই জ্ঞান লাভের জন্য নয়। পড়তে ভালো লাগে তাই পড়ি। এইসব ভ্রমণ ভালো লাগে তাই পড়ি। চরিত্রগুলো বন্ধুর মতো আগলে রাখে তাই পড়ি। ছোট্ট একটা গ্রামে বসে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে পৌঁছে যেতে পছন্দ করি, তাই পড়ি। আর মুফতে কিছু জ্ঞান লাভ হলে সেটা বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হয়। সবাইকে বিশ্ব বই দিবসের শুভেচ্ছা। বই হোক সবসময়ের সঙ্গী।

©Sarafat Noor Chowdhury

যেখানে মানবতা থেমে যায়, সেখানে শুরু হয় ফিলিস্তিনের গল্প। শিশুদের কান্না আর ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে যেন এক অপার্থিব...
06/04/2025

যেখানে মানবতা থেমে যায়, সেখানে শুরু হয় ফিলিস্তিনের গল্প। শিশুদের কান্না আর ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে যেন এক অপার্থিব সাহস।
পত্রিকার পাতা ছাড়িয়ে আজ প্রতিটি ইনসানের কষ্টের গল্প হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিন। এ লড়াই শুধুই এক ভূখণ্ডের নয়—এ লড়াই মানবতার, স্বাধীনতার।

আমরা কলম হাতে, হৃদয়ভরা ব্যথা নিয়ে বলছি-
FROM THE RIVER TO THE SEA, PALESTINE WILL BE FREE.

আকাশের তারাদের মাঝে দীপ্তিমান হয়ে উঠেছে ছোট্ট একফালি চাঁদ। উৎসব তাই প্রতিটি ঘরে, চলছে পরদিনের সেমাই-পোলাও-বিরিয়ানির আয়োজ...
30/03/2025

আকাশের তারাদের মাঝে দীপ্তিমান হয়ে উঠেছে ছোট্ট একফালি চাঁদ। উৎসব তাই প্রতিটি ঘরে, চলছে পরদিনের সেমাই-পোলাও-বিরিয়ানির আয়োজন।

অথচ তারাদের মতো রক্তভেজা স্মৃতি আজো জ্বলজ্বল করছে শহরের প্রতিটি ইট-পাথরে। কত মায়ের ঈদের চাঁদখানা হারিয়ে গেছে, কত বাবার কান্না থেমে গেছে নীরব যন্ত্রণায়। ঈদের নতুন পোশাকের বদলে কারো বুকে রয়ে গেছে বুলেটের ক্ষত, কারো হাত আঁকড়ে আছে হারিয়ে যাওয়া স্বজনের স্মৃতি। তবু সময় থেমে থাকে না—ঈদ আসে, ঈদ যায়।

নামাজ শেষে সেইসব শহিদদের কবর জিয়ারতে স্মরণ করি তারুণ্যের অবদান। অকৃত্রিম ভালোবাসায় জড়িয়ে নেই সকলকে। ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেই হাসি-কান্নার এই জন্মভূমিতে।

ঈদ মোবারক!

আগুনের সিঁড়ি বেয়ে যে সূর্য ওঠে, তাকে ঢেকে রাখা যায় না। একাত্তরের ধূলিধূসর রণক্ষেত্রে যে বজ্রনিনাদ উঠেছিল, তার প্রতিধ্বনি...
25/03/2025

আগুনের সিঁড়ি বেয়ে যে সূর্য ওঠে, তাকে ঢেকে রাখা যায় না। একাত্তরের ধূলিধূসর রণক্ষেত্রে যে বজ্রনিনাদ উঠেছিল, তার প্রতিধ্বনি আজও প্রতিটি রক্তকণায়, প্রতিটি শিরায় শিরায় প্রবাহিত। তিতুমীর-প্রীতিলতার এই ভূখণ্ড কেবল একটি দেশ নয়, এ এক মহাকাব্য—যেখানে স্বাধীনতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি রচিত হয়েছে বুকের তাজা রক্তে।

আমরা সেই অগ্নিসন্তান, যে আগুন একবার জ্বলে উঠলে তাকে নির্বাপিত করার সাধ্য নেই কোনো বুলেটের। না ছিলো ৭১ এ, না ২৪ এ।

অগ্নিঝরা মার্চের আজকের এই দিনে তাই সকলকে জানাই স্বাধীনতার শুভেচ্ছা!

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বইবাহিক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share