27/09/2026
🔷 রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের জন্ম ইতিহাস 🔷
১। 🔶 সলফেরিনো যুদ্ধ — ১৮৫৯
১৮৫৯ সালের ২৪ জুন, ইতালির সলফেরিনোতে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৬ ঘন্টায় যুদ্ধে হাজার হাজার সৈন্য নিহত ও আহত হন। সেখানে মৃত বা মৃতপ্রায় মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০,০০০। যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের করুণ অবস্থা দেখে সুইস মানবহিতৈষী জীন হেনরি ডুনান্ট মর্মাহত হন এবং স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় আহতদের সেবা করেন। এবং স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ছিলেন সবাই নারী।
২। 🔶 ডুনান্টের মানবিক উদ্যোগ — ১৮৫৯
সলফেরিনোর অভিজ্ঞতার পর ১৮৫৯ সালেই ডুনান্ট উপলব্ধি করেন যে যুদ্ধের সময় আহতদের শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে মানবিক সেবা দেওয়া প্রয়োজন। এই চিন্তাই পরবর্তীতে রেড ক্রস আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।
৩। 🔶 A Memory of Solferino — ১৮৬২
১৮৬২ সালে ডুনান্ট তাঁর সলফেরিনোর অভিজ্ঞতা নিয়ে A Memory of Solferino বইটি প্রকাশ করেন। এতে তিনি প্রতিটি দেশে আহতদের সেবার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গঠন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আহত ও সেবাদানকারীদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
৪। 🔶 Committee of Five — ১৮৬৩
১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৩ সালে জেনেভায় পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি বৈঠকে বসে, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (ICRC)-এর ভিত্তি হয়ে ওঠে। এই পাঁচজন ছিলেন জেনারেল গিয়োম-অঁরি দ্যুফুর, গুস্তাভ ময়নিয়ের, জীন হেনরি ডুনান্ট, ড. লুই আপিয়া ও ড. থেওদোর ময়নোয়ার।
৫। 🔶 আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও রেড ক্রসের প্রতিষ্ঠা — ১৮৬৩–১৮৬৪
১৮৬৩ সালের অক্টোবরে জেনেভায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং জাতীয় রেড ক্রস সোসাইটি গঠনের ধারণা সুসংগঠিত হয়। এরপর ২২ আগস্ট ১৮৬৪ সালে প্রথম জেনেভা কনভেনশন গৃহীত হয়, যা যুদ্ধাহতদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি তৈরি করে।
৬। 🟣 জীন হেনরি ডুনান্ট —( ১৮২৮-১৯১০)
৮ মে ১৮২৮ সালে জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে জীন হেনরি ডুনান্ট জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০১ সালে তিনি প্রথম নোবেল শান্তি পুরস্কারের একজন যৌথ প্রাপক হন। তিনি ৩০ অক্টোবর ১৯১০ সালে সুইজারল্যান্ডের হাইডেনে মৃত্যুবরণ করেন।
৭। 🟥 বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস — ৮ মে
ডুনান্টের জন্মদিন ৮ মে উপলক্ষে প্রতিবছর ৮ মে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস পালিত হয়। দিনটি মানবতা, মানবিক সেবা ও স্বেচ্ছাসেবার চেতনাকে স্মরণ করার বিশেষ দিন।
৮। 🟩 আন্দোলনের ৭টি মৌলিক নীতি — ১৯৬৫
১৯৬৫ সালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের ৭টি মৌলিক নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়। এগুলো হলো—
১. মানবতা
২. পক্ষপাতহীনতা
৩. নিরপেক্ষতা
৪. স্বাধীনতা
৫. স্বেচ্ছামূলক সেবা
৬. একতা
৭. সর্বজনীনতা।
৯। 🇧🇩 বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি — ১৯৭৩
৩১ মার্চ ১৯৭৩ সালে, রাষ্ট্রপতির আদেশ নং- ২৬, ১৯৭৩ (President’s Order No. 26 of 1973) অনুযায়ী বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটি গঠিত হয়, যার কার্যকারিতা ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে পূর্বপ্রযোজ্য করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ সালে এটি ICRC-এর স্বীকৃতি লাভ করে এবং ২ নভেম্বর ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের সদস্য হয়। পরে ৪ এপ্রিল ১৯৮৮ সালে, Act No. 25 of 1988 অনুযায়ী নাম ও প্রতীক রেড ক্রস থেকে রেড ক্রিসেন্টে পরিবর্তিত হয়।
❤️ সলফেরিনোর যুদ্ধক্ষেত্রের মানবিক উদ্যোগ থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ বিশ্বব্যাপী মানুষের সেবায় নিবেদিত—রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন মানবতার এক অনন্য প্রতীক।
Bangladesh Red Crescent Society(BDRCS)
BDRCS Volunteers
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঝিনাইদহ ইউনিট।