23/01/2026
ইস্তিগফার সম্পর্কে মোটামুটি জেনেছেন। আজ আমরা আলোচনা করবো— ইস্তিগফার করার উত্তম সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে।
(১) প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর—
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ফরজ) নামাজের পর তিনবার ইস্তিগফার পড়তেন। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ১২২১]
(২) শেষ রাতে, ফজরের আগে—
আল্লাহ সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের প্রশংসায় বলেন, ‘‘তারা রাতে সামান্য সময়ের জন্যই নিদ্রায় যেতো এবং রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) করতো।’’ [সুরা যারিয়াত, আয়াত: ১৭-১৮]
(৩) কোনো বৈঠক শেষে এবং অজুর পর—
দু‘আটি আমরা ইস্তিগফারের বাক্যাবলীর পর্বে আলোচনা করবো, ইনশাআল্লাহ। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৪৮৫৭; ইমাম নাসায়ি, আস-সুনানুল কুবরা: ৯৯০৯ (মাওকুফ); হাদিস দুটো সহিহ]
(৪) নামাজের সিজদায়—
এই দু‘আটিও সামনে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৭৯৪]
(৫) দুই সিজদার মাঝখানে—
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মাঝখানে পড়তেন: রাব্বিগফিরলি, রাব্বিগফিরলি। [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১০৬৯; হাদিসটি সহিহ]
(৬) নামাজে সালাম ফেরানোর পূর্বে—
এই দু‘আটিও আসবে, ইনশাআল্লাহ্। এটি দু‘আ মাসুর নামে পরিচিত। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৮৩৪]
(৭) হতাশা ও কষ্টের মুহূর্তে—
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে, আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।” [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৫১৮; ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ৭৬৭৭; হাদিসটির একজন বর্ণনাকারীর পরিচয় অজানা, তাই মুহাদ্দিসগণের মাঝে এর বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে কাছাকাছি অর্থে বিভিন্ন আয়াত ও সহিহ হাদিস রয়েছে]
(৮) গুনাহ করে ফেললে—
হাদিসে কুদসিতে এসেছে, “ইবলিস তার রবকে বললো, আপনার সম্মানের শপথ! আমি আদম-সন্তানকে পথভ্রষ্ট করতেই থাকবো, যতক্ষণ তাদের মধ্যে রুহ থাকে। আল্লাহ বলেন, আমার সম্মান, আমার বড়ত্ব ও আমার উচ্চ অবস্থানের শপথ! আমিও তাদের ক্ষমা করতেই থাকবো, যতক্ষণ তারা আমার নিকট ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করবে।” [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১১২৩৭; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৬১৭; হাদিসটি হাসান]
(৯) সম্পদ অথবা সন্তান চাইতে এবং দুনিয়ার (বৈধ) ভোগ উপকরণ কামনায়—
কুরআন কারিমে এসেছে, ‘‘(নুহ আ. বললেন) অতঃপর আমি বললাম, তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি দেবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’’ [সুরা নুহ, আয়াত: ১০–১২]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘আর, তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকে ফিরে আসো। তাহলে, তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় (মৃত্যু) পর্যন্ত (দুনিয়াতে) উৎকৃষ্ট ভোগ-উপকরণ উপভোগ করাবেন এবং প্রত্যেক (আমলকারী) মর্যাদাশীলকে (আখিরাতে) প্রাপ্য মর্যাদা দেবেন। আর যদি তোমরা বিমুখ হয়ে থাকো, তবে আমি তোমাদের উপর এক মহা-দিবসের শাস্তির আশঙ্কা করছি।’’ [সুরা হুদ, আয়াত: ০৩; ব্রাকেটে উল্লেখিত ব্যাখ্যা তাফসিরে ইবনে কাসির: ২/৪৩৬ ও তাফসিরে আদওয়াউল বায়ান হতে]
(১০) যেকোনো নেককাজ শেষে—
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেক কাজ ছিলো মক্কা বিজয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনের পরিপূর্ণতা। এই কাজের পর তাঁকে ইস্তিগফার পড়তে বলা হয়েছে। [দেখুন: সুরা আন নাসর, আয়াত: ১-৪]
(১১) অন্তরের বক্রতা ও সংকীর্ণতা দূর করে এবং অন্তরকে আল্লাহমুখী করে:
রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আমার অন্তর (আল্লাহর স্মরণ হতে) বাধাপ্রাপ্ত হয়, (তাই) আমি দিনে শতবার ইস্তিগফার করি।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৬৭৫১]
(১২) বিপদ ও আজাবের সময়—
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারিমে বলেন, ‘‘আল্লাহ কখনই তাদের উপর আজাব দেবেন না, যতক্ষণ আপনি (নবিজি) তাদের মাঝে অবস্থান করবেন এবং তারা ইস্তিগফার করা অবস্থায়ও তাদের উপর আজাব অবতীর্ণ করবেন না।’’ [সুরা আনফাল, আয়াত: ৩৩]
(১৩) লাইলাতুল কদরে—
আমরা সামনে এই দু‘আটি আলোচনা করবো, ইনশাআল্লাহ্। [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩৮৫০; হাদিসটি সহিহ]
#ইস্তিগফার