31/08/2025
অনেকক্ষণ ধরে বিভিন্ন পোস্ট দেখতেছি, আসল ঘটনায় ফোকাস খুব কম পোস্টেই করা হচ্ছে।
আগে আমার অবস্থান টা ক্লিয়ার করি আমার বাসা মাছবাজারের ওই গলিতেই, ঘটনাস্থলে আমার আব্বু আম্মু ছিলো, আমি কোনো জোবরাবাসি না, আমার বড় পরিচয় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট বলেই একতরফা ভাবে কথা বলবো এই নীতি আমার না, ঘটনা যা সত্য সেটা জানা দরকার, এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিলো।
আগের সব ঘটনা এখানে টানছিনা, কারণ এখানকার লোকাল রিকশা সিএনজিওয়ালা গুলার দোষ আছে অনেক, এদের যাবতীয় দোষ গত রাতের ঘটনার বিষয় না।
গত রাতে মেয়েটা দেড়ি করে বাসায় আসে, নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর। দারোয়ান তখন ঘুমিয়ে গিয়েছিলো তালা দিয়ে। মেয়েটা যখন আসে তখন দারোয়ান গেট খোলার পর মেয়েটার সাথে রাফ ব্যবহার করে, আর মেয়েটা রেগে থাপ্পড় দিয়ে দেয়, তারপর দারোয়ানও মেয়েটাকে থাপ্পড় দেয়, বুকে লাথি দেয়, এসব শোরগোল শুনে আমার আব্বু আম্মু সহ আসে পাশের বিল্ডিংয়ের মানুষজন বাইরে আসে, মেয়েটা নিজের মুখে তখন স্বীকার করসে সে রেগে আগে থাপ্পড় মেরেছে, কথা হলো মেয়েটা বাবা মায়ের সাথে থাকলে এত রাত করে করে বাড়ি ফিরতে পারতো? আর মুখে মুখে কথাবার্তা হতো, প্রয়োজনে উপর থেকে মেয়ের রুমমেটদের আনতো কথা বলার জন্য, বা সকাল হলে এই দুর্ব্যবহার নিয়ে কিছু করতো, তা না করে বাবা বয়সি বয়স্ক লোককে থাপ্পড় কেনো দিবে এই ২৪ ২৫ এর ছোট্ট মেয়ে। যাক রাগের মাথায় ঘটনা ঘটে গেছে একটা, আমার আব্বু আম্মু সহ এরিয়ার মানুষজন বললো সকালে এটা মিটমাট করা হবে, এত রাতে ঘটনা না বাড়াতে। কিন্তু তাদের কথা আগুন লাগলে সাথে সাথে পানি দিতে হয় তাই এখনই সব বিহিত করতে হবে। ততক্ষণে দারোয়ান সরে যায়, তার যেহেতু দোষ আছে তাই তারও মাইর খাওয়ার ভয় আছে, তাকে পেলে ছাত্ররাতো আর সালাম করতোনা, গতরাতে যে নাবুঝে,সব না জেনে ভাঙচুর আগ্রাসন দেখালো, তাকে পেলে তো ওখানে মেরে ভর্তা করতো। দারোয়ানের গ্রামের মানুষ, তার বাড়ির লোকেশন এখানকার মানুষের জানার কথা না, বাড়ির ঠিকানা বলতে না পাড়ায় ছেলেরা সমানে এই এলাকার লোকজনকে গালাগালি করলো, তারপর কিছু ছাত্র দারোয়ানকে ধাওয়া করতে এত রাতে একটা অচেনা গ্রামে গিয়ে ইট পাটকেল খেলো, আইন বিভাগের একজন আহত হলো, এত রাতে ধাওয়া করতে করতে গ্রামে যাওয়ার কোনো দরকার ছিলোনা, কারণ গ্রামের মানুষ ওই দারোয়ানের পক্ষেই থাকবে, আর একেতো রাত, তারউপর চিপাচাপা গলি তাদের পরিচিত না, পানিতে নেমে কুমিরের সাথে লড়াই তাও রাতে, আহত হওয়ার ঝুঁকিতো থাকবেই, তারপর এটাকে কেন্দ্র করে দলে দলে ছাত্র আসা শুরু হলো। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি ফল গ্রামবাসীও নিজেদের সেফটির জন্য মসজিদে এনাউন্স করে মানুষজন ডাকা শুরু করলো, আপনারা নিজেদের গ্রামের কথা ভেবে দেখেন, ডাকলে আপনারা যাবেননা! তারাতো আসল ঘটনা জানতো না, আর এত আপডেটও না যে ঘটনা মিনিটে মিনিটে পোস্ট দিবে, তবে মারমুখি কিছু গ্রামবাসী যারা এলাকার পাতি নেতা, ক্ষমতাবান মনে করে নিজেদের তারা বের হয়ে আসছে, বাকিরা ভয়ে বের হয়নাই। তবে আসিফ ভিলার সামনে যে গ্রামের স্থানীয় গুন্ডাগুলা মারসে, এটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই শোধ তুলতে চাইসে ছাত্রদের উপর, তারা ভার্সিটির স্টুডেন্টদের পছন্দ করে না, তাই সুযোগ পেয়ে এমন করলো, তাদের বিচার হওয়া দরকার, ওই এলাকার ছেলেগুলা অনেক খারাপ, আমি পার্সনালি অনেকবার টিজিংয়ের শিকার হয়েছি। এরপরতো ছাত্রদের উপর কয়েকদফা আক্রমণ হলো। এখানে ঘটনা মুল ঘটনা থেকে সরিয়ে চাকসু আর ফেমাস হওয়ার নেশায় ছাত্রদের অচেনা গ্রামে এনে বিপদে ফেললো কিছু ....। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী আসার পর ছাত্ররা অনেক গ্রামবাসীর দোকানপাট, বাসার জানালা এসব ভাঙচুর করলো, ভাঙচুর করতে করতে মাছবাজারের ঘটনা সিকদার পাড়া পর্যন্ত গেলো, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হলো তাদের বেশিরভাগের দোষ ছিলোনা, ঘটনা জানেওনা, এই কাজটা ঠিক হয়েছে?
ঘটনার সূত্রপাত এর প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য:
আমি জানিনা কোন ফুটেজখোর বা ফেমাস হওয়ার নেশায় কারা সামান্য ঘটনাকে এত বড় করে ছাত্রদের রাগ কে কাজে লাগিয়ে ভাঙচুর আর গ্রামবাসিকে উত্তেজিত করে ছাত্রদের মাইর খাওয়ালো। তবে এটা সঠিক বিচার হওয়া দরকার উভয়পক্ষেরই।
আর মেয়েটা আর দারোয়ান কে সামনা সামনি এনে সত্য ঘটনা টা তুলে ধরা হোক। কিছু বাড়িয়ে রাঙিয়ে কথা বলার জন্য, আর কারো ফেমাস হওয়ার নেশার জন্য ঝামেলা এত বড় হয়েছে।
© Tasnim Farzana Khan