20/03/2025
কাফিরদের বিরুদ্ধে দুই ধরনের জি()হা()*
১. আক্রমণাত্মক জি()হা()* (যেখানে শত্রুকে তার নিজ এলাকায় আক্রমণ করা হয়):
এক্ষেত্রে কাফিররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য একত্রিত হয় না। এই জিহাদ তখন ফরযে কিফায়া হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় স্বল্প সংখ্যক (যথেষ্ট) মু’মিনদের, যাতে তারা সীমানা রক্ষা এবং কুফ্ফারদের ভূমি আক্রমণ করতে পারে। আল্লাহর (দ্বীনের) শত্রুদের অন্তরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্য বছরে অন্তত একবার একটি সৈন্যদলকে শত্রুদের ভূমিতে প্রেরণ করা উচিত। এটি হল ইমামের(খলীফার) দায়িত্ব যে, তিনি বছরে এক অথবা দু’বার জিহাদের উদ্দেশ্যে একটি সৈন্যদল গঠন করবেন এবং তাদেরকে জিহাদের ময়দানে প্রেরণ করবেন। সর্বোপরি, এটি হল মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর একটি দায়িত্ব যে, তারা এই কাজে ইমামকে সহযোগীতা করবে আর তিনি যদি এই সৈন্যদল না প্রেরণ করেন; তাহলে তিনি গুনাহের মধ্যে লিপ্ত হবেন।
হাসিয়াত বিন আবেদীনঃ ৩/২৩৮
এ ধরনের জিহাদের ব্যাপারে আলিমগণ বলেছেন, “আক্রমণাত্মক জি()হা()দ* হল জিযিয়া[ জিজিয়াঃ ইসলামী রাষ্ট্রে কাফিরদের নিরাপত্তার জন্য দেয়া কর বিশেষ।] আদায়ের জন্য।” যে সকল আলিমগণ দ্বীনের শারীয়াহ সম্পর্কে ইলম রাখেন তাঁরাও বলেছেন, “জি()হা()* হল এমন একটা দাওয়াহ্ যার মধ্যে শক্তি আছে এবং এটি হল একটি আবশ্যক দায়িত্ব যা সকল সম্ভাব্য উপায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সেখানে শুধু মাত্র মুসলিমরা অথবা যারা আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করে তারাই অবস্থান করে।”
হাসিয়াহ আশ শিরওয়ানী এবং ইবনে আল কাসিম (তুহ্ফা আল-মুহতায আলাল-মিনহাজ ৯/২১৩)
২. আত্মরক্ষামূলক জি()হা()দ*
এটি হল আমাদের ভূমি হতে কাফিরদের বের করে দেয়া, যা ফারদ-আ’ইন, অর্থাৎ সবার জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য। সকল প্রকার আবশ্যকীয় কর্তব্য গুলোর মধ্যে এটি হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যদি নিম্নের অবস্থাগুলো দৃষ্ট হয়ঃ
(ক) যদি কাফিররা মুসলিমদের ভূমিতে প্রবেশ করে।
(খ) যদি দু’টি বাহিনী যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি এসে দাড়ায় এবং একে অপরকে আহ্বান করতে শুরু করে।
(গ) যদি খলিফা কোন ব্যক্তি অথবা জনগণকে আহ্বান জানায় তাহলে অবশ্যই বেরিয়ে পরতে হবে।
(ঘ) যদি কাফিররা মুসলিমদের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে বন্দী করে ফেলে।
মুসলিম ভুমির প্রতিরক্ষা করা- শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রহঃ