19/09/2025
গত বছরের— ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর, ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল পাহাড়ি জনগণের জীবনে। শহীদ "জুনান চাকমা", "রূবেল ত্রিপুরা", "ধনরঞ্জন চাকমা" ও "অনিক কুমার চাকমা" সেনাবাহিনীর ব্রাশফায়ারে ও সেটেলার বাঙালিদের হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন। আজ সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ পর্যন্ত এই হত্যাযজ্ঞের কোনো বিচার আমরা পাইনি, কোনো দোষীকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। সঠিক বিচার আমরা পাইনি।
এমনকি রক্তে ভেসে যাওয়া পাহাড়ের মাটিও যেন আজ প্রশ্ন করছে— “এই নিপীড়িত জুম্ম জাতি কবে ন্যায়বিচার পাবে? কবে শেষ হবে এই রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন?”
পাহাড়ের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিপীড়ন, হত্যা, দমন-পীড়ন, ভূমি লুণ্ঠন ও রাষ্ট্রীয় অন্যায়ের শিকার হয়ে আসছে। প্রতিনিয়ত আমাদের রক্তে পাহাড়ের মাটি ভিজে যাচ্ছে, প্রতিটি ঘরে ঘরে শোকের আগুন জ্বলছে। অথচ দমন-পীড়নের এই দীর্ঘ ইতিহাস যেন অচলায়তনে পরিণত হয়েছে।
আজ আমরা প্রশ্ন করি— আর কত মায়ের বুক খালি হবে? আর কত ভাই-বোনের রক্ত ঝরবে? আর কত বছর আমরা অন্যায়ের শেকল বয়ে বেড়াবো?
এই রাষ্ট্র সবসময় আমাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভেবে অবহেলা করেছে। আমাদের অস্তিত্ব, সংস্কৃতি ও জমি রক্ষার আন্দোলনকে দমন করার জন্যই বারবার হত্যা ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু মনে রাখতে হবে— রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার কোনোদিন দমন করা যায় না। শহীদ জুনান, রুবেল, ধনরঞ্জন ও অনিকের রক্ত বৃথা যাবে না। তাদের আত্মত্যাগ পাহাড়ি জাতির মুক্তির সংগ্রামে নতুন প্রেরণা হয়ে থাকবে।
আমরা দৃঢ় কণ্ঠে বলি— পাহাড়ে আর কোনো হত্যাযজ্ঞ চলবে না! নিপীড়িত জাতির মুক্তি অবধারিত! আমাদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটা পাহাড়ি জাতির স্বাধীনতার অঙ্গীকার বহন করে!
এই শোকের দিনে আমরা শুধু শহীদদের স্মরণ করছি না, আমরা শপথ নিচ্ছি— ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত, পাহাড়ের প্রকৃত স্বাধীনতা না আসা পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবেই।