itsaboutislam.com

itsaboutislam.com আর সত্যকে তোমরা মিথ্যার পোশাক পরিয়ো না বা সত্যকে গোপন কর না, অথচ তোমরা জানো।( 2:42)

আসসালামু আলাইকুম #বর্তমান_সময়ে_শিক্ষার_উদ্দেশ্য_ও_লক্ষ্য #প্রশ্ন: বর্তমানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও অন্...
20/03/2025

আসসালামু আলাইকুম
#বর্তমান_সময়ে_শিক্ষার_উদ্দেশ্য_ও_লক্ষ্য

#প্রশ্ন: বর্তমানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করছি; আর এত সব প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি সত্ত্বেও এগুলো ঐসব বিজ্ঞ আলেমদের মত আলেম তৈরি করতে সমর্থ হয় নি,
যেসব আলেম পূর্ববর্তী সময়ে মসজিদসমূহে অবস্থিত শিক্ষার আসর থেকে তৈরি হয়েছেন; চাই এই সামর্থ্য জ্ঞানগত দিক থেকে হউক, অথবা ফিকহ শাস্ত্রের ব্যাপারে হউক ...; অথবা সেই সামর্থ্য কথোপকথন ও বিতর্কের ক্ষেত্রে হউক ... সুতরাং এ ক্ষেত্রে কারণগুলো কি কি?

#উত্তর: কোনো সন্দেহ নেই যে, পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বর্তমান সময়ের ইলম বা জ্ঞানের মান কম। তবে আমরা ঢালাওভাবে সকল মানুষের ব্যাপারে বলি না যে, তাদের জ্ঞানগত মান (standard) দুর্বল; কারণ, আল্লাহর শুকরিয়া (আলহামদুলিল্লাহ) এখনও অনেক মানুষ পাওয়া যাচ্ছে, যাঁরা তাঁদের জ্ঞানে ও কর্মে শ্রেষ্ঠ;

*****তবে বর্তমান সময়ে শিক্ষার দুর্বলতার বিষয়ে আমার অভিমত হল, এটা শিক্ষার দুর্বলতা নয়, কেননা বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বেকার সময়ের শিক্ষাপদ্ধতির মতই; সুতরাং বর্তমান সিলেবাসটি (কারিকুলাম) অবিকল আগের সিলেবাসটিই; কিন্তু আমার দৃষ্টিতে শুধু পাঠ করাই সব কিছু নয় ...;

*****কারণ, পাঠ করা হচ্ছে জ্ঞানের চাবিকাঠি ও দরজা মাত্র ..., আর পূর্বের আলেমগণ তাদের পুরো জীবনটাই অতিবাহিত হয়েছে পঠন—পাঠন ও অধ্যয়নের মধ্য দিয়ে, তারা শ্রেণীকক্ষে বা শিক্ষার আসরে যে শিক্ষা গ্রহণ করতেন, তার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতেন না, বরং তারা অধ্যয়ন ও আলোচনা-পর্যালোচনা সার্বক্ষণিক অব্যাহত রাখতেন।

****আর স্বতঃসিদ্ধ কথা হল, আলোচনা ও অধ্যয়নের মাধ্যমেই জ্ঞান বৃদ্ধি পায়; অপরদিকে বর্তমানে যে বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে, তা হল অধিকাংশ শিক্ষার্থী উঁচু রেঙ্ক ও উন্নত মানের ফলাফল অর্জন করে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিতাব ও জ্ঞানের সাথে তাদের নেই কোনো সম্পর্ক।

****বস্তুত: এ পদ্ধতিতে জানা-বিষয়াদির মৃত্যু ঘটে; কারণ, বিদ্যা হচ্ছে চারাগাছের মত, যখন তুমি তার পরিচর্যা করবে, তখন তা বড় হবে এবং ফল দেবে; আর যদি তুমি তার যত্ন না নাও, তবে তার পরিণতি হল মৃত্যু এবং ধ্বংস ...;

***আর আমলের দিক বিচারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলেমগণ ছিলেন সৎকর্মশীল আলেম এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রতি একনিষ্ঠ, যারা আল্লাহকে ভয় করতেন। আর এই গুণটি আমাদের এই যুগের শিক্ষার্থীদের মাঝে খুব কমই পরিলক্ষিত হয়। সব মানুষের ব্যাপারে খারাপ ধারণা না পোষণ করেও বলা যায় যে, খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই রয়েছে যারা তাদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে।
অথচ একমাত্র আমলই ইলম (জ্ঞান) কে পরিশুদ্ধ ও পরিবর্ধণ করে;

#আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ إِنَّمَا يَخۡشَى ٱللَّهَ مِنۡ عِبَادِهِ ٱلۡعُلَمَٰٓؤُاْۗ ﴾ [فاطر: ٢٨]
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে।” - (সূরা ফাতির: ২৮);
*****সুতরাং আলেমগণ হলেন আল্লাহভীরু ব্যক্তিবর্গ। সালাফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেন, ইলম দুই প্রকার: এক প্রকার হল ভাষাগত বা মৌখিক ইলম, আর এটা আল্লাহর বান্দাদের উপর তাঁর দলিল-প্রমাণাদি; আর অপর প্রকার হল আন্তরিক ইলম, আর এটাই হল বিশুদ্ধ জ্ঞান, যে জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ভয়কে বৃদ্ধি করে;
আর তারা এই আয়াতটির দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
﴿ إِنَّمَا يَخۡشَى ٱللَّهَ مِنۡ عِبَادِهِ ٱلۡعُلَمَٰٓؤُاْۗ ﴾ [فاطر: ٢٨]
“আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী, তারাই কেবল তাঁকে ভয় করে।” - (সূরা ফাতির: ২৮)।
শাইখ আল-ফাওযান
ফতোয়া (فتاوى): ২ / ১৩৫ (ঈষৎ পরিবর্তিত)

আসসালামু আলাইকুম
19/03/2025

আসসালামু আলাইকুম

সবার প্রতি দ্বিনী দাওয়াত৫ম সিএফসি ইসলামিক কনফারেন্স'২০২৪তারিখ: ২৫ ডিসেম্বর (সরকারি বন্ধ)স্থান: জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ...
09/12/2024

সবার প্রতি দ্বিনী দাওয়াত
৫ম সিএফসি ইসলামিক কনফারেন্স'২০২৪

তারিখ: ২৫ ডিসেম্বর (সরকারি বন্ধ)

স্থান: জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গন, ওয়াসা মোড়, চট্টগ্রাম।

সময়: বিকাল ৩ টা হইতে।

29/11/2024

আসসালামু আলাইকুম
🌼গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় 👇👇

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া বলেন, যে ব্যাক্তি আমল ব্যাতিত ইলমের দিকে আহ্বান করে সে পথভ্রষ্ট। আর যে ব্যাক্তি ইলম বিহীন আমলের দিকে আহ্বান করে সেও পথভ্রষ্ট। এদের চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট সে ব্যাক্তি যে,বিদয়াতের পথে ইলম অন্বেষণ করে। ফলে সে আল কুরআন ও সুন্নাহ বহির্ভূত কাজ করে এবং ধারনা করে যে এটাই ইলম, অথচ সেটা অঞ্জতা। অনুরূপভাবে যে ব্যাক্তি বিদআতিদের পন্থায় ইবাদত করে সে ইসলামি শরিয়াতের বহির্ভূত আমল করে এবং ধারণা করে যে, সে ইবাদত করছে অথচ সেটা ভ্রষ্টতা।
(মাজমাউল ফাতাওয়া ১১/২৭পৃঃ)

আসসালামু আলাইকুম #মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক আছে যারা অন্যকে উপহাস করে হাসি তামাশার করে , অর্থাৎ নিজেকে সে অনেক বড় মনে কর...
26/10/2024

আসসালামু আলাইকুম
#মানুষের মধ্যে এমন কতক লোক আছে যারা অন্যকে উপহাস করে হাসি তামাশার করে , অর্থাৎ নিজেকে সে অনেক বড় মনে করে। যার কারনে তার মধ্যে অহংকার ও হিংসা কাজ করে।

#কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আজকে আপনি যাকে নিয়ে হাসছেন, তামাশা করছেন একদিন এমন সময় আসবে, অন্য লোকে আপনাকে নিয়ে হাসি তামাশা করবে।

#আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন,
وَمِنْ شَرّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
‘আপনি বলুন, হিংসুকের অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই, যখন সে হিংসা করে’ (ফালাক্ব ৫)।

#عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لاَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئًا إِلاَّ رَجُلاً كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتَّى يَصْطَلِحَا.
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূল (ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের সমস্ত দরজা খুলে দেয়া হয় এবং মুশরিক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করা হয়। তবে এমন ব্যক্তি নয় যে তার ভাইয়ের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ রাখে। ফেরেশতাদের বলা হয় সংশোধন হওয়া পর্যন্ত তাদের অবকাশ দাও’
(মুসলিম মিশকাত হা/৫০২৯; বাংলা ৯ম খণ্ড, হা/৪৮০৯ ‘আদব’ অধ্যায়)।

#অবশেষে একটি কথা বলতে হচ্ছে। আপনার অহংকার আপনাকে সমাজ থেকে এক ঘরে করে দিবে।

আসসালামু আলাইকুম #সামনে আসছে মুসলিম উম্মার একটি বিশেষ ঈদঃ ঈদুল আযহা। আর এই ঈদে মুসলিম উম্মাহ পশু কুরবানি দিবে তাই জেনে ন...
07/06/2024

আসসালামু আলাইকুম
#সামনে আসছে মুসলিম উম্মার একটি বিশেষ ঈদঃ ঈদুল আযহা।
আর এই ঈদে মুসলিম উম্মাহ পশু কুরবানি দিবে তাই জেনে নেওয়া যাক #পশু_যবেহর_নিয়ম_পদ্ধতি

*****কুরবানী এক ইবাদত। যা তার নির্ধারিত সময় ছাড়া অন্য সময়ে সিদ্ধ হয় না। এই কুরবানীর সময় দশই যুলহজ্জ ঈদের নামাযের পর। নামাযের পূর্বে কেউ যবেহ করলে তার কুরবানী হয় না এবং নামাযের পর ওর পরিবর্তে কুরবানী করা জরুরী হয়।

***জুনদুব বিন সুফ্য়্যান আল-বাজালী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে কুরবানীতে উপস্থিত ছিলাম। তিনি যখন নামায সমাপ্ত করলেন তখন কতক ছাগ ও মেষকে দেখলেন যবেহ করা হয়ে গেছে। অতঃপর বললেন, “যে ব্যক্তি নামাযের পূর্বে যবেহ করেছে, সে যেন ওর পরিবর্তে আর এক পশু যবেহ করে। আর যে ব্যক্তি যবেহ করে নি, সে যেন আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করে।”
ঈদের খুতবায় নবী (সাঃ) বলেন, “আজকের এই দিন আমরা যা দিয়ে শুরু করব তা হচ্ছে নামায। অতঃপর ফিরে গিয়ে কুরবানী করব। অতএব যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের সুন্নাহ (তরীকার) অনুবর্তী। আর যে ব্যক্তি (নামাযের পূর্বে) কুরবানী করে নিয়েছে, তাহলে তা মাংসই; যা সে নিজের পরিবারের জন্য পেশ করবে এবং তা কুরবানীর কিছু নয়।”(বুখারী , মুসলিম ১৯৬১নং)

*****আর আফযল এটাই যে, নামাযের পর খুতবা শেষ হলে তবে যবেহ করা। যে ব্যক্তি ভালরূপে যবেহ করতে পারে তার উচিত, নিজের কুরবানী নিজের হাতে যবেহ করা এবং অপরকে তার দায়িতক্ষ না দেওয়া।

*****যেহেতু আল্লাহর রসূল (সাঃ) স্বহস্তে নিজ কুরবানী যবেহ করেছেন। এবং যেহেতু কুরবানী নৈকট্যদানকারী এক ইবাদত, তাই এই নৈকট্য লাভের কাজে অপরের সাহায্য না নিয়ে নিজ কর্মবলে লাভ করা উত্তম।

***** ইমাম বুখারী (রঃ) বলেন, ‘আবু মূসা (রাঃ) তাঁর কন্যাদেরকে আদেশ করেছিলেন যে, তারা যেন নিজের কুরবানী নিজের হাতে যবেহ করে।’(ফাতহুল বারী ১০/১৯)

****পক্ষান্তরে যবেহ করার জন্য অপরকে নায়েব করাও বৈধ। যেহেতু এক সময়ে নবী (সাঃ) নিজের হাতে তেষট্টিটি কুরবানী যবেহ করেছিলেন এবং বাকী উঁট যবেহ করতে আলী (রাঃ)-কে প্রতিনিধি করছিলেন।(মুসলিম)

#যবেহ_করার_সময়_বিশেষ_লক্ষণীয়_ও_কর্তব্য ঃ-

১। পশুর প্রতি দয়া করা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করা।
****আর তা নিম্ন পদ্ধতিতে সম্ভব;
(ক) সেইরূপ ব্যবস্থা নিয়ে যবেহ করা, যাতে পশুর অধিক কষ্ট না হয় এবং সহজেই সে প্রাণত্যাগ করতে পারে।

(খ) যবেহ যেন খুব তীক্ষ্ম ধারালো অস্ত্র দ্বারা হয় এবং তা খুবই শীঘ্রতা ও শক্তির সাথে যবেহস্থলে (গলায়) পেঁচানো হয়।

ফলকথা, পশুর বিনা কষ্টে খুবই শীঘ্রতার সাথে তার প্রাণ বধ করাই উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে দয়ার নবী (সাঃ) বলেন, “অবশ্যই আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর উপর অনুগ্রহ লিপিবদ্ধ (জরুরী) করেছেন। সুতরাং যখন (জিহাদ বা হদ্দে) হত্যা কর তখন উত্তমরূপে অনুগ্রহের সাথে হত্যা কর এবং যখন যবেহ কর তখন উত্তমরূপে অনুগ্রহের সাথে যবেহ কর। তোমাদের উচিত, ছুরিকে ধারালো করা এবং বধ্য পশুকে আরাম দেওয়া।”(মুসলিম ১৯৫৫নং)

#বধ্য পশুর সম্মুখেই ছুরি শান দেওয়া উচিত নয় (মকরূহ)।
যেহেতু নবী (সাঃ) ছুরি শান দিতে এবং তা পশু থেকে গোপন করতে আদেশ করেছেন এবং বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ যবেহ করবে, তখন সে যেন তাড়াতাড়ি করে।”(মুসনাদ আহমাদ ২/১০৮, ইবনে মাজাহ ৩১৭২নং, সহীহ তারগীব ১/৫২৯)

***আর যেহেতু পশুর চোখের সামনেই ছুরি ধার দেওয়ায় তাকে চকিত করা হয়; যা বাঞ্ছিত অনুগ্রহ ও দয়াশীলতার প্রতিকূল।
তদনুরূপ এককে অপরের সামনে যবেহ করা এবং ছেঁচ্ড়ে যবেহস্থলে টেনে নিয়ে যাওয়াও মকরূহ।

২। কুরবানী যদি উঁট হয়, (অথবা এমন কোন পশু হয় যাকে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়), তাহলে তাকে বাম পা বাঁধা অবস্থায় দাঁড় করিয়ে নহর করা হবে। আল্লাহ পাক বলেন, “সুতরাং দণ্ডায়মান অবস্থায় ওদের যবেহকালে তোমরা আল্লাহর নাম নাও।” (কুঃ ২২/৩৬)

******ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের তফসীরে বলেন, ‘বাম পা বেঁধে তিন পায়ের উপর দণ্ডায়মান অবস্থায় (নহর করা হবে)।’(তাফসীর ইবনে কাষীর)
****যদি উঁট ছাড়া অন্য পশু হয় তাহলে তা বামকাতে শয়নাবস্থায় যবেহ করা হবে। যেহেতু তা সহজ এবং ডান হাতে ছুরি নিয়ে বাম হাত দ্বারা মাথায় চাপ দিয়ে ধরতে সুবিধা হবে। তবে যদি যবেহকারী নেটা বা বেঁয়ো হয় তাহলে সে পশুকে ডানকাতে শুইয়ে যবেহ করতে পারে। যেহেতু সহজ উপায়ে যবেহ করা ও পশুকে আরাম দেওয়াই উদ্দেশ্য।

*****পশুর গর্দানের এক প্রান্তে পা রেখে যবেহ করা মুস্তাহাব। যাতে পশুকে অনায়াসে কাবু করা যায়। কিন্তু গর্দানের পিছন দিকে পা মুচ্ড়ে ধরা বৈধ নয়। কারণ, তাতে পশু অধিক কষ্ট পায়।

৩। যবেহকালে পশুকে কেবলামুখে শয়ন করাতে হবে।(আবূ দাঊদ, ইবনে মাজাহ ২/১০৪৩, হাদীসটির সনদে সমালোচনা করা হয়েছে) অন্যমুখে শুইয়েও যবেহ করা সিদ্ধ হবে। যেহেতু কেবলামুখ করে শুইয়ে যবেহ করা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে কোন শুদ্ধ প্রমাণ নেই।(আহকামুল উযহিয়্যাহ ৮৮,৯৫পৃঃ)

৪। যবেহকালে আল্লাহর নাম নেওয়া (‘বিসমিল্লাহ’ বলা) ওয়াজেব। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যদি তোমরা তাঁর নিদর্শনসমূহের বিশ্বাসী হও তবে যাতে (যে পশুর যবেহ করার সময়) আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা আহার কর।” (কুঃ ৬/১১৮) “এবং যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি তা হতে তোমরা আহার করো না; উহা অবশ্যই পাপ।” (কুঃ ৬/১২১)

****আর নবী (সাঃ) বলেন, “যা খুন বহায় এবং যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় তা ভক্ষণ কর।”(বুখারী ২৩৫৬, মুসলিম ১৯৬৮নং)
‘বিসমিল্লাহ’র সাথে ‘আল্লাহু আকবার’ যুক্ত করা মুস্তাহাব। অবশ্য এর সঙ্গে কবুল করার দুআ ছাড়া অন্য কিছু অতিরিক্ত করা বিধেয় নয়। অতএব (কুরবানী কেবল নিজের তরফ থেকে হলে) বলবে, ‘বিসমিল্লাহি অল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা ইন্না হাযা মিন্কা অলাক, আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নী।’
**নিজের এবং পরিবারের তরফ থেকে হলে বলবে,‘---তাকাব্বালমিন্নী অমিন আহলে বাইতী।’ অপরের নামে হলে বলবে, ‘---তাকাকাব্বাল মিন (এখানে যার তরফ থেকে কুরবানী তার নাম নেবে) (মানাসিকুল হাজ্জ, আলবানী ৩৬পৃঃ)

***এই সময় নবী (সাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠ করা বিধেয় নয়; বরং তা বিদআত।(আল-মুমতে ৭/৪৯২)
যেমন ‘বিসমিল্লাহ’র সাথে ‘আর-রাহমানির রাহীম’ যোগ করাও সুন্নত নয়। যেহেতু এ সম্বন্ধে কোন দলীল নেই। যেমন যবেহ করার লম্বা দুআ ‘ইন্নী অজ্জাহ্তু’ এর হাদীস যয়ীফ।(যয়ীফ আবূ দাঊদ ৫৯৭নং)

****যবেহর ঠিক অব্যবহিত পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ জরুরী। এর পর যদি লম্বা ব্যবধান পড়ে যায়, তাহলে পুনরায় তা ফিরিয়ে বলতে হবে। তবে ছুরি ইত্যাদি হাতে নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ায় যেটুকু ব্যবধান পড়ে তাতে ‘বিসমিল্লাহ’ ফিরিয়ে পড়তে হয় না।

*****আবার ‘বিসমিল্লাহ’ শুধু সেই পশুর জন্যই পরিগণিত হবে যাকে যবেহ করার সঙ্কল্প করা হয়েছে। অতএব এক পশুর জন্য ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে অপর পশু যবেহ বৈধ নয়। বরং অপরের জন্য পুনরায় ‘বিসমিল্লাহ’ পড়া জরুরী। অবশ্য ‘বিসমিল্লাহ’ বলার পর অস্ত্র পরিবর্তন করাতে আর পুনরায় পড়তে হয় না।
প্রকাশ যে, যবেহর পর পঠনীয় কোন দুআ নেই।

৫। যবেহতে খুন বহা জরুরী। আর তা দুই শাহরগ (কন্ঠনালীর দুই পাশে দু’টি মোটা আকারের শিরা) কাটলে অধিকরূপে সম্ভব হয়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “যা খুন বহায়, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় তা ভক্ষণ কর। তবে যেন (যবেহ করার অস্ত্র) দাঁত বা নখ না হয়।”(আহমাদ, বুখারী, মুসলিম প্রভৃতি, সহীহুল জামে’ ৫৫৬৫নং)

****সুতরাং রক্ত প্রবাহিত ও শুদ্ধ যবেহ হওয়ার জন্য চারটি অঙ্গ কাটা জরুরী; শাসনালী, খাদ্যনালী এবং পাশর্ক্ষস্থ দুই মোটা শিরা।

৬। প্রাণ ত্যাগ করার পূর্বে পশুর অন্য কোন অঙ্গ কেটে কষ্ট দেওয়া হারাম। যেমন ঘাড় মটকানো, পায়ের শিরা কাটা, চামড়া ছাড়ানো ইত্যাদি জান যাওয়ার আগে বৈধ নয়। অনুরূপভাবে দেহ আড়ষ্ট হয়ে এলে চামড়া ছাড়াতে শুরু করার পর যদি পুনরায় লাফিয়ে ওঠে তাহলে আরো কিছুক্ষণ প্রাণ ত্যাগ করা কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যেহেতু অন্যভাবে পশুকে কষ্ট দেওয়া আদৌ বৈধ নয়।

****পশু পালিয়ে যাওয়ার ভয় থাকলেও ঘাড় মটকানো যাবে না। বরং তার বদলে কিছুক্ষণ ধরে রাখা অথবা (হাঁস-মুরগীকে ঝুড়ি ইত্যাদি দিয়ে) চেপে রাখা যায়।

****যবেহ করার সময় পশুর মাথা যাতে বিচ্ছিন্ন না হয় তার খেয়াল রাখা উচিত। তা সত্তেক্ষও যদি কেটে বিচ্ছিন্ন হয়েই যায়, তাহলে তা হালাল হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

*****যবাই করে ছেড়ে দেওয়ার পর (অসম্পূর্ণ হওয়ার ফলে) কোন পশু উঠে পালিয়ে গেলে তাকে ধরে পুনরায় যবাই করা যায়। নতুবা কিছু পরেই সে এমনিতেই মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। আর তা হালাল।

***প্রকাশ থাকে যে, যবেহ করার জন্য পবিত্রতা বা যবেহকারীকে পুরুষ হওয়া শর্ত নয়। যেমন মাথায় টুপী রাখা বা মাথা ঢাকাও বিধিবদ্ধ নয়। অবশ্য বিশ্বাস ও ঈমানের পবিত্রতা জরুরী। সুতরাং কাফের, মুশরিক (মাযার বা কবরপূজারী) ও বেনামাযীর হাতে যবেহ শুদ্ধ নয়।

যেমন যবেহ করার আগে কুরবানীর পশুকে গোসল দেওয়া, তার খুর ও শিঙে তেল দেওয়া অথবা তার অন্য কোন প্রকার তোয়ায করা বিদআত।
প্রকাশ থাকে যে, যবেহকৃত পশুর রক্ত হারাম। অতএব তা কোন ফললাভের উদ্দেশ্যে পায়ে মাখা, দেওয়ালে ছাপ দেওয়া বা তা নিয়ে ছুড়াছুড়ি করে খেলা করা বৈধ নয়।

অভিজ্ঞতার জন্য এই ভিডিওটি দেখতে পাড়েন
- http://bit.ly/2ujNrn9
ডাঃ জাকির নায়েক এর মুখে শুনুন - http://bit.ly/2ujLqaN
-------------

বইঃ কুরবানীর বিধান
লেখকঃ আবদুল হামীদ ফাইযী আল-মাদানী

06/05/2024

আসসালামু আলাইকুম
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মৃতদেরকে গালি দিয়ো না। যেহেতু তারা নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।(অর্থাৎ, তার ফল ভোগ করছে।

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا رواه البخاري

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت قال رسول الله ﷺ لا تسبوا الاموات فانهم قد افضوا الى ما قدموا رواه البخاري
(বুখারী ১৩৯৩)

01/05/2024

আসসালামু আলাইকুম
মানুষের মধ্যে স্পষ্ট কথা বলার অভ্যাস কমে আসছে। খালি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলে। ফলে ভুল বুঝা বুঝির মাত্রা বাড়ছে। এইভাবেই সম্পর্কের মধ্যে দেয়াল সৃষ্টি হয়। অথচ শুধু অস্পষ্টতার কারনে উলটা বুঝে বসে। তাই অনুরোধ যাকেই যা বলুন সরাসরি বলুন সুন্দর ভাবে।

assalamu alaikum Are u ready?
23/01/2024

assalamu alaikum
Are u ready?

Address

BanglBangladesh West Bakalia
Chittagong
4000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when itsaboutislam.com posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to itsaboutislam.com:

Share