30/04/2026
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌐 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে জিলকদ মাস:
⏳ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ১১ই জিলকদ: হযরত মাওলানা খাজা সৈয়দ নূর মুহাম্মদ বদায়ূনী নকশবন্দি (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
💠 হযরত মাওলানা খাজা সৈয়দ নূর মুহাম্মদ বদায়ূনী (রহ.) ছিলেন নকশবন্দিয়া ত্বরিকার একজন অত্যন্ত উচ্চস্তরের বুযুর্গ এবং মহান সুফি সাধক। তিনি দিল্লির অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর তাকওয়া, পরহেজগারি ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার জন্য পরিচিত ছিলেন।
✅ জীবন ও আধ্যাত্মিকতা:
🟢 পরিচয়: তিনি ছিলেন সাইয়্যেদ, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধর।
🟢 শিক্ষাজীবন: তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর শিক্ষক মুহাম্মদ শরীফের (ইন্তেকাল ১১২৪ হিজরি) কাছে ইসলামী জ্ঞান অর্জন সম্পন্ন করেন।
🟢 আধ্যাত্মিক খিলাফত: তিনি হযরত খাজা শাইখ মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন সিরহিন্দি (রহ.)-এর মুরিদ ও খলিফা ছিলেন। এছাড়া, হযরত হাফিজ মুহাম্মদ মহসিন দেহলভী (রহ.) থেকেও তিনি খিলাফত লাভ করেন।
🟢 তাকওয়া: তিনি চরম পরহেজগার ছিলেন এবং ধনীদের খাবার কখনো খেতেন না। কারো বই ধার নিলে তিনি তা পড়ার আগে তিন দিন অপেক্ষা করতেন, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে ধনীদের সাহচর্য বইতেও অন্ধকার নিয়ে আসে।
কারামত ও অবদান
🟢 আধ্যাত্মিক ক্ষমতা: বলা হয়ে থাকে, তাঁর কাশফ (আধ্যাত্মিক দর্শন) এতো শক্তিশালী ছিল যে, যা মানুষ খালি চোখে দেখতে পেত না, তিনি তা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেখতেন।
🟢 কারামত: একবার এক মহিলার হারিয়ে যাওয়া মেয়েকে তিনি ধ্যানের মাধ্যমে জিনদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে এনেছিলেন।
🟢 প্রধান খলিফা: তাঁর অন্যতম প্রধান খলিফা ছিলেন হযরত শামসুদ্দীন মির্জা মাযহার জান-ই-জানা দেহলভী (রহ.), যিনি পরবর্তী সময়ে নকশবন্দিয়া ত্বরিকার বড় ইমাম হন।
✅ ওফাত ও মাজার শরিফ
🟢 ওফাত: তিনি ১১ জিলকদ ১১৩৫ হিজরি (১৩ আগস্ট ১৭২৩ খ্রিস্টাব্দ) ইন্তেকাল করেন।
🟢 মাজার: তাঁর মাজার শরিফ ভারতের দিল্লিতে হযরত খাজা নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.)-এর মাজারের কাছে অবস্থিত।
লক্ষ লক্ষ নকশবন্দিয়া অনুসারী আজও তাঁর আধ্যাত্মিক ফয়েজ বা আধ্যাত্মিক শক্তি অনুভব করেন।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।