Maizbhandari Academy

Call Website Contact the organization

Maizbhandari Academy Managing Trustee, SZHM Trust. irrespective of caste, creed, gender and religion. Phil./PhD. levels to the competent candidates. will be organized.

Maizbhandari Academy is a non-political, non-communal, benevolent, altruistic, humane and Maizbhandari Philosophy-based research, publication, social service and development-oriented organization. A Brief Background of the Establishment of Maizbhandari Academy: The Maizbhandari Philosophy is introduced in light of the inherent implications and essence of Islam for the welfare and the emancipation of the global humanity both in the worldhere and the world hereafter. The true nature of Maizbhandari Philosophy introduced by Hazrat Gausul Azam Mowlana Shah Sufi Syed Ahmad Ullah Maizbhandari (K) which aims at the emancipation of global mankind and the attainment of nearness to God. To disseminate the core ideology regarding maizbhandary philosophy and it's implication in human society in this critical juncture of time in the minds of the common people, it is very essential to undertake extensive programmes on research and publications and productive, pragmatic and creative human welfare-oriented multi-dimensional activities to inspire the people to be free from all sorts of prejudices and to be imbued with the true spirit and ideas of Maizbhandari Philosophy. With this in the view, Maizbhandari Academy was established in February 11, 2002 with the patronage of Alhaj Syed Mohammad Hasan (M.J.A.), Sajjadanshin, Gausia Huq Manzil, Maizbhandar Darbar Sharif, Chittagong, Bangladesh. The Basic Aims and Objectives of Maizbhandari Academy:
(a) To work for the spread of Maizbhandari Philosophy;
(b) To inspire and motivate the people irrespective of sex, caste, creed and religion about the ideas of Maizbhandari Philosophy;
(c) To enable the people possess ideal character and divine virtues;
(d) To make an attempt to encourage the people to establish true, decent and healthy society. (e) To establish peace, unity and cordial relations among the people of all categories like social worker, teachers and students, doctors, intelligentia, lawyers, businessman, labourers etc. Maizbhandari Academy has undertaken the following programmes with a view to implementing its above aims and objectives:
(i) The basic research and publication activities on Maizbhandari Philosophy will be intensified. The stipend/scholarship will be awarded for research on Maizbhandari Philosophy at the M. (ii) Seminar and international conferences on Maizbhandari Philosophy and Sufism, presentation of mystic songs, reception to the man of virtue and spiritual personality, social workers, Islamic thinkers etc., debates and intellectual dialogue, roundtable conference on Maizbhandari Philosophy, Sufism and Islam etc. (iii) Stipends/Scholarships for poor and meritorious students and financial assistance for establishing educational institutions will be provided. (iv) Efforts will be made for eradications of poverty and with this end in view, different service-oriented and developmental schemes will be undertaken. (v) An ideal library will be established to spread knowledge about Islam and Maizbhandari Philosophy. (vi) Different programmes will be undertaken to celebrate different important national and international days and events. (vii) Measures will be undertaken to publish journals, magazines, books, translated books etc. on Maizbhandari Philosophy on regular basis.

23/09/2026

কবিয়াল রমেশ শীল রচিত 'পাকে গাওছে ভাণ্ডারী সুলতান মাওলানা,
খালেক মালেক তুমি রহিম রব্বানা।’- এর বিশ্লেষণমূলক আলোচনা

অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল
এমফিল গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সুফিয়ানা ৪৪তম পর্ব, তারিখ-১৮-০৪-২০২৬ইং

#সুফিয়ানা #মাইজভাণ্ডারী #কালাম

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস:⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:🗓️ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ ...
23/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস:
⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. বুধবার:
💠 “গাউসুল আযম শাইখ আবু মীর মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানী (ক.)”-এর ওফাত দিবস স্মরণে পবিত্র ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদাহুম’।
📗 গাউসুল আযম শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী (ক.) হলেন একজন সুন্নি মুসলিম ধর্মপ্রচারক, তপস্বী, মরমী, আইনজ্ঞ এবং হাম্বলী মাযহাবের ধর্মতত্ত্ববিদ।তিনি ইসলাম ধর্মে অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ইসলামের অন্যতম প্রচারক হিসাবে সুবিদিত। সুফিরা তাঁকে 'বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী' নামে ব্যক্ত করেন। আধ্যাত্মিকতায় উচ্চমার্গের জন্য বড়পীর, ইরাকের অন্তর্গত 'জিলান' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করায় জিলানী, সম্মানিত হিসাবে আবু মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন প্রভৃতি উপাধি ও নামেও তাকে সম্বোধন করা হয়।
🖋️ নাম:
সম্মানসূচক মুহিউদ্দিন অনেক সুফিদের কাছে "ধর্মের পুনরুজ্জীবক" হিসাবে তাঁর মর্যাদা নির্দেশ করে। গিলানি (আরবি আল-জিলানী) তাঁর জন্মস্থান, গিলানকে বোঝায়।
🟢 জন্ম:
শাইখ আব্দুল কাদের জিলানী (ক.) হিজরি ৪৭০ সনের রমজান মাসের ১ তারিখে বাগদাদ নগরের জিলান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবু সালেহ মুছা জঙ্গী এবং মাতার নাম সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তাঁর পিতা ছিলেন ইমাম হাসান ইবনে আলী (রাদ্বি.)’র বংশধর ও মাতা ছিলেন ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রাদ্বি.)’র বংশধর।
🎓 শিক্ষা:
তিনি তাঁর জন্মের প্রদেশ গিলানে প্রাথমিক জীবন কাটিয়েছেন। ১০৯৫ সালে আঠারো বছর বয়সে তিনি বাগদাদে যান। সেখানে তিনি আবু সাঈদ মুবারক মাখযুমী এবং ইবনে আকিলের অধীনে হাম্বলী মাযহাব অধ্যয়ন করেন। তিনি আবু মুহাম্মদ জাফর আল-সাররাজের কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন। শিক্ষা শেষ করে তিনি বাগদাদ ত্যাগ করেন। তিনি ইরাকের মরুভূমিতে পঁচিশ বছর তপস্যা করেন।
🖋️ ধর্ম প্রচার:
শিক্ষা-দীক্ষায় পূর্ণতা অর্জনের পর তিনি নিজেকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজে নিয়োজিত করেন। বিভিন্ন মাহফিলে তিনি ইসলামের আদর্শ যুক্তিপূর্ণ ভাষায় বর্ণনা করতেন। তার মহফিলে শুধু মুসলমান নয়, অনেক অমুসলিমও অংশগ্রহণ করতেন। তাঁর বক্তব্য শুনে অনেক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
🎓 সুফিবাদের কাদেরিয়া তরিকা (সুফি তরিকা):
তিনি কাদেরিয়া তরিকা প্রতিষ্ঠা করেন, এর অনেকগুলি শাখার সাথে, বিস্তৃত, বিশ্বের বিভিন্ন অংশে এবং এটি যুক্তরাজ্য, আফ্রিকা, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, বলকান, রাশিয়া, ফিলিস্তিন, চীন, এবং পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকায় পাওয়া যাবে।
📚 বই:
তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ের পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
* কিতাব সিরর আল-আসরার ওয়া মাযহার আল-আনওয়ার (রহস্যের গোপন বই এবং আলোর প্রকাশ)
* ফুতুহ আল গাইব (অদৃশ্যের রহস্য)
* ক্বসীদায়ে গাউসিয়া
* আল-ফুয়ুদাত আল-রব্বানিয়া (প্রভুর অনুগ্রহের প্রকাশ)
* পনেরোটি চিঠি: খামসাতা 'আশারা মাকতুবান
* কিবরিয়াত এ আহমার
* জান্নাত ও জাহান্নামের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
* মহিমান্বিত প্রতিভাস (আল-ফাতহ আর-রব্বানী)
🛑 ওফাত বরণ:
হিজরী ৫৬১ সালের ১১ রবিউসসানী হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (ক.) ওফাত লাভ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর ওফাত দিবস সারা বিশ্বের সূফীরা প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন এবং তাঁর ওফাত দিবস ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহুম হিসেবে পরিচিত। প্রতি আরবি মাসের ১০ তারিখ দিবাগত রাত গেয়ারভী শরীফ পালন হয়।
🟢 জন্মদিন এবং ওফাত দিবস উদ্‌যাপন:
১ রমজান গাউসুল আযম আবদুল কাদের জিলানী (ক.)’র জন্মদিন হিসাবে উদযাপিত হয় এবং তাঁর ওফাত বার্ষিকী ১১ রবিউস সানিতে পালিত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে, তাঁর উরস বা ওফাতবার্ষিকীকে গেয়ারভী শরীফ বা সম্মানিত দিবস বলা হয়।
📓 [তথ্যসূত্র: বাংলা উইকিপিডিয়া]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস:⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:🗓️ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ ...
22/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস:
⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি:
💠 পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য সাইয়েদা ফাতিমা বিনতে মূসা আল-কাজিম (রা.)-এর ওফাত দিবস।
📗 পরিচয় ও জন্ম:
• নাম: ফাতিমা বিনতে মুসা (যিনি সুপরিচিত 'ফাতিমা আল-মাসুমা' নামে)।
• বংশ পরিচয়: তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফা আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলি (ক.) এবং মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমাতুজ জাহরা (রা.)-এর বংশধর (আহলে বাইত)।
• পিতা: হযরত ইমাম মুসা আল-কাজিম (রা.)।
• ভাই: হযরত ইমাম আলি আর-রিদা (রা.)।
• জন্ম: তিনি ১৭৩ হিজরি সনের ১লা জিলকদ মদিনা শরিফে জন্মগ্রহণ করেন।
🖋️ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক বিচ্ছেদ:
ফাতিমা আল-মাসুমা এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেন (আনুমানিক ৭৯০ খ্রিস্টাব্দ) যখন আব্বাসীয় শাসক হারুন উর-রশিদের সাথে হযরত আলির (ক.) বংশধরদের চরম রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল।
• পিতার কারাবাস: সাধারণ ইতিহাস গ্রন্থ অনুসারে, ফাতিমার শৈশবেই তার পিতা ইমাম মুসা আল-কাজিমকে বাদশা হারুন উর-রশিদ মদিনা থেকে বন্দি করে ইরাকে নিয়ে যান এবং ৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি কারাগারেই ইন্তিকাল করেন।
• ভাইয়ের অভিভাবকত্ব: পিতার ইন্তিকালের পর ফাতিমা তাঁর বড় ভাই হযরত আলি আল-রিদার (রা.) (ইমাম রেজা) তত্ত্বাবধানে মদিনায় বেড়ে ওঠেন। তাঁদের মধ্যে গভীর পারিবারিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক ছিল বলে ঐতিহাসিক বিবরণীগুলোতে উল্লেখ পাওয়া যায়।
🖋️ মদিনা থেকে ইরান যাত্রা ও ঐতিহাসিক পটভূমি:
১. ভাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা: ২০১ হিজরি সনে তাঁর ভাই ইমাম আলী আর-রিদা (রা.) তৎকালীন আব্বাসীয় শাসক আল-মামুনের নির্দেশে মদিনা ছেড়ে ইরানের খোরাসানে (তুস বা বর্তমান মাশহাদ) চলে যান। ভাইয়ের দীর্ঘ বিরহে ফাতিমা বিনতে মুসা (রা.) মদিনা থেকে খোরাসানের উদ্দেশ্যে একটি কাফেলা নিয়ে রওনা হন।
২. সাভেহ শহরে অসুস্থতা: যাত্রাপথে ইরানের 'সাভেহ' নামক স্থানে পৌঁছালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি জানতে চান যে কোয়ম (Qom) শহরটি সেখান থেকে কত দূরে, কারণ তৎকালীন সময়ে কোয়ম ছিল মহানবি (সা.)-এর বংশধরদের প্রতি অনুরক্ত ব্যক্তিদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
🖋️ কোয়ম আগমন ও ওফাত:
• কোয়মে অভ্যর্থনা: তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়ে কোয়ম শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে শহরে নিয়ে আসেন। সেখানে 'মুসা ইবনে খাজরাজ আশআরি' নামক এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
• ওফাত: কোয়ম শহরে আসার মাত্র ১৭ দিন পর, হিজরি ২০১ সনের ১০ই রবিউস সানি (মতান্তরে ১২ই রবিউস সানি) তিনি ওফাত লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর।
🖋️ ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বর্তমান অবস্থা:
• দাফন ও মাজার: ওফাতের পর তাঁকে কোয়ম শহরের 'বাবেলান' নামক একটি বাগানে দাফন করা হয়, যা বর্তমানে তাঁর নামানুসারে একটি বিশাল ঐতিহাসিক মাজার কমপ্লেক্সে রূপ নিয়েছে।
• সর্বজনীন শ্রদ্ধা: মাযহাব নির্বিশেষে সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে তিনি একজন অত্যন্ত মহীয়সী, জ্ঞানবতী এবং ধর্মপ্রাণ নারী হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। ইতিহাসে তাঁর আত্মত্যাগ ও জ্ঞানচর্চার গভীর প্রশংসা করা হয়েছে।
১. বিখ্যাত উপাধি ও সেগুলোর অর্থ:
পবিত্র আহলে বাইতের এই মহীয়সী নারীর বেশ কিছু অর্থবহ উপাধি রয়েছে, যা তাঁর উচ্চ মর্যাদা ও নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের সাক্ষ্য দেয়:
• আল-মাসুমা (Al-Masuma): এর অর্থ "পবিত্রা", "নিষ্পাপ" বা "ত্রুটিহীন"। জাগতিক লোভ-লালসা, পাপাচার এবং সমস্ত সামাজিক কলুষতা থেকে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছিলেন বলে তাঁকে এই নামে ডাকা হয়।
• কারিমা আহলে বাইত (Karimat Ahl al-Bayt): এর অর্থ "আহলে বাইতের সম্মানিত বা উদার নারী"। মানুষের প্রতি তাঁর অসীম দয়া, দানশীলতা এবং উদারতার কারণে এই উপাধি দেওয়া হয়।
• আত-তাকিয়্যাহ (Al-Taqiyyah): এর অর্থ "পরহেযগার" বা "খোদাভীরু"। মহান আল্লাহর ইবাদতে সর্বদা নিমগ্ন থাকা এবং গভীর তাকওয়ার কারণে তিনি এই উপাধিতে ভূষিত হন।
• আল-আলিমা (Al-Alimah): এর অর্থ "মহাজ্ঞানী" বা "বিদুষী নারী"। তাঁর সমসাময়িক যুগের নারীদের মধ্যে দ্বীনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় তিনি অনন্য উচ্চতায় ছিলেন।
• আত-তাহেরাহ (Al-Tahirah): এর অর্থ "পরম পবিত্র"। তাঁর চারিত্রিক শুদ্ধতা ও আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ এই উপাধিটি।
২. জ্ঞানের গভীরতা: ঐতিহাসিক বিবরণ
সৈয়দা ফাতিমা আল-মাসুমা (রা.) কেবল ইবাদত-বন্দেগিতেই মশগুল ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম শীর্ষ নারী স্কলার বা ইসলামী চিন্তাবিদ। ইসলামের ইতিহাস ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান নিয়ে বেশ কিছু ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায়:
• শৈশবেই জটিল প্রশ্নের সমাধান: ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুসারে, একবার দূর-দূরান্ত থেকে একদল মুসলিম কিছু জটিল ধর্মীয় ও ফিকহী প্রশ্নের উত্তর জানতে মদিনায় তাঁর পিতা ইমাম মুসা আল-কাজিম (রা.)-এর বাড়িতে আসেন। কিন্তু তখন তাঁর পিতা ও ভাই কেউই বাড়িতে ছিলেন না। কাফেলার মানুষজন নিরাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তা দেখে মাত্র অল্প বয়সী বালিকা সৈয়দা ফাতিমা (রা.) কাগজের টুকরোয় সেই জটিল প্রশ্নগুলোর নির্ভুল সমাধান লিখে তাঁদের হাতে দেন। পরবর্তীতে তাঁর পিতা ইমাম মুসা আল-কাজিম (রা.) এই ঘটনা জানতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং মেয়ের প্রজ্ঞার প্রশংসা করেন।
• হাদিসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (রাবী): হাদিস শাস্ত্রে তাঁর স্থান অত্যন্ত উচ্চে। ইসলামের ইতিহাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বংশধারা থেকে যে ক'জন নারী অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যতার সাথে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁদের অন্যতম। বিশেষ করে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিদায় হজ্জের ভাষণ ও আহলে বাইতের মর্যাদা সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের সূত্রে তাঁর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে।
• কোয়ম শহরের জ্ঞানকেন্দ্রে রূপান্তর: ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর পবিত্র মাজারকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে ইরানের 'কোয়ম' (Qom) শহরটি একটি ছোট এলাকা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষা ও হাদিস চর্চার কেন্দ্রে (Seminary) পরিণত হয়। তাঁর এই আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাগত উত্তরাধিকার আজও বিশ্বজুড়ে গবেষকদের অনুপ্রাণিত করে।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

20/09/2026

সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মতানৈক্য ছিল কিন্তু মতবিরোধ ছিল না।

আলোচক: ড. মুহাম্মদ আবুল হোসাইন
সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশবিদ্যালয়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম🌎 ইসলামের ইতিহাসঐতিহ্যে রবিউস্ সানি মাস:⌛ "সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা"🗓️ ০৮ রবিউস্ সানি ১৪৪...
20/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌎 ইসলামের ইতিহাসঐতিহ্যে রবিউস্ সানি মাস:
⌛ "সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা"
🗓️ ০৮ রবিউস্ সানি ১৪৪৮ হিজরী:
💠 প্রিয়নবী (দ.) এর বংশধর (আহলে বাইতের সদস্য) ইমাম হাসান ইবনে আলী আল-আসকারী (র.)-এর জন্ম দিবস।
তাঁর পূর্ণ নাম: হ়াসান ʾইবনে ʿআলী ʾইবনে মুহ়ম্মদ ʾইবনে ʿআলী ʾইবনে মুসা ʾইবনে জাʿফ়র ʾইবনে মুহ়ম্মদ ʾইবনে ʿআলী ʾইবনে হ়োসেন ʾইবনে ʿআলী।
📗 ইমাম হ়াসান ʾইবনে ʿআলী আল-ʿআসকারী (৮৪৬ – ৮৭৪) ছিলেন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন বংশধর। তিনি সুফিবাদী মুসলমানদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকে আবু মুহম্মদ নামেও ডাকা হয়। তিনি সামরিক শহর সামাররায় বসবাস করতেন বিধায় তাঁকে সাধারণত আল-ʿআসকারী (আরবিতে ʿআসকার শব্দের অর্থ সৈনিক) নামে ডাকা হয়। আল-ʿআসকারী নার্জিস খাতুনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাঁর জীবনের দীর্ঘকালই আব্বাসীয় শাসক কর্তৃক গৃহবন্দী অথবা কারাবন্দী অবস্থায় কাটান। তাঁকে ২৮ বছর বয়সে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতামিদের নির্দেশে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয় এবং সামাররায় দাফন করা হয়।
🛑 তাঁর মাজার ইরাকের টাইগ্রিস নদীর পূর্ব পাড়ে সামাররা শহরের আল-আসকারী মসজিদের পাশে তাঁর পিতা হযরত ইমাম ʿআলী ʾইবনে মুহ়ম্মদ আল-হাদী, ʿআলী আন-নক়ী (রা.)’র পাশে।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস:⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:🗓️ আজ ০৩ রবিউস সানি ১৪...
15/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস:
⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ আজ ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি:
শাহ কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
শাহ কারামত আলী জৌনপুরী, অথবা কেরামত আলী জৌনপুরী, ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দির একজন সমাজ সংস্কারক, হানাফি মাযহাবের অনুসারী ফকিহ। তিনি ওয়াজ-নসীহত করে মানুষকে ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি আহবান করতেন। তিনি মূলত বাংলা ও আসাম অঞ্চলে ধর্মপ্রচার করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা ৪০-এরও বেশি।
🖋️ জন্ম ও বংশ:
মোহম্মদ আলী মোগল সাম্রাজ্যের জৌনপুরের মোল্লাটোলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবূ ইব্রাহীম শেখ মোহম্মদ ইমাম বখশ ছিলেন জৌনপুর কলেক্টরেটের একজন সেরেস্তাদার এবং শাহ আব্দুল আজীজ মুহদ্দিছে দেহলবীর অন্যতম শিষ্য। কথিত আছে যে তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিকের বংশধর ছিলেন। তিনি ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুন, ১২১৫ হিজরীর ১৮ মুহাররাম জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর তার বাবা তার নাম রেখেছিলেন মোহম্মদ আলী, কথিত আছে পরবর্তীতে তাঁর কারামত দেখে জনসাধারন তাকে কারামত আলী নামে অভিহিত করে। তিনি তাঁর নিজের বইসমূহে নাম লিখতেন ‘আলী জৌনপুরী’ অথবা ‘আলী জৌনপুর মশহুর (খ্যাত) কারামত আলী’।
🎓 শিক্ষাজীবন:
কারামত আলী জৌনপুরী তার বাবার নিকট প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর মওলানা কুদরতুল্লাহ রুদলবী ও মওলানা আহমদুল্লাহ এনামীর নিকট হাদীছ শরীফ ও অন্যান্য তালীম অর্জন করেন।
📗 ভ্রাম্যমাণ মাদরাসা:
কারামত আলী জৌনপুরীর কর্মজীবনের সিংহভাগ সময় ধর্মীয় প্রচারণামূলক কাজের স্বার্থে বাংলা ও আসাম অঞ্চলে নৌভ্রমণ করতে হতো। এ জন্য তিনি একটি ভ্রাম্যমাণ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এ মাদ্রাসাটি ছিল বড় একটি নৌকার মধ্যে। শিক্ষার্থীরা নৌকাতেই থাকতেন, কারামত আলী জৌনপুরী তাদের ব্যয়ভার বহন করতেন এবং নিয়মিত শিক্ষাদান করতেন।
✅ সমকালীন রাজনীতিতে অবস্থান:
কারামত আলী হাজী শরীয়তউল্লাহ প্রবর্তিত ফরায়েজি আন্দোলনের বিরোধী ছিলেন। ফরায়েজিরা ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষকে দারুল হরব হওয়ার অজুহাতে জুমা ও ঈদের নামায আদায় করত না। পক্ষান্তরে কারামত আলী মনে করতেন ভারতবর্ষ যদিও দারুল ইসলাম নয়, তবে দারুল হরবও নয়। বরং ভারতবর্ষ হচ্ছে দারুল আমান। কারণ ব্রিটিশরা মুসলমানদেরকে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে দেয়। এ বিষয়ে তিনি ফরায়েজিদের সাথে বিতর্ক করে তার মত প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
🛑 ওফাত লাভ:
ওয়াজ নসীহত ও ধর্মপ্রচারের সুবাদে কারামত আলী নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, আসাম, রংপুর এবং আরও অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল সফর করেন। সফরকালীন অবস্থায় ১৮৭৩ সালে রংপুরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে তিনি ওফাত লাভ করেন। রংপুরে মুনশিপাড়া জামে মসজিদের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
📓 তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে।

শীঘ্রই প্রকাশিত হচ্ছে- SZHM Trust প্রকাশন ‘আলোকধারা বুকস’এর নতুন অনুবাদ গ্রন্থ ‘সাব'য়ে সানাবিল’মূল: মীর সৈয়দ আবদুল ওয়াহি...
14/09/2026

শীঘ্রই প্রকাশিত হচ্ছে- SZHM Trust প্রকাশন ‘আলোকধারা বুকস’এর নতুন অনুবাদ গ্রন্থ
‘সাব'য়ে সানাবিল’

মূল: মীর সৈয়দ আবদুল ওয়াহিদ বিলগিরামী
ভাষান্তর: এস.এম.এম. সেলিম উল্লাহ

মুদ্রিত মূল্য: ৭৭৭৳

বিক্রয় মূল্য: ৪৫০৳

প্রি-অর্ডার করতে যোগাযোগ করুন-
01647-533084

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম✅ ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস :💠 ০৩ রবিউস সানি:🔷 হযরত শাহ্ কেরামত আলী জৌনপুরি (রহ.)...
12/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
✅ ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউস সানি মাস :
💠 ০৩ রবিউস সানি:
🔷 হযরত শাহ্ কেরামত আলী জৌনপুরি (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
💠 ৮ রবিউস সানি:
🔷 প্রিয়নবী (দ.) এর বংশধর (আহলে বাইতের সদস্য) ইমাম হাসান ইবনে আলী আল-আসকারী (র.)-এর জন্মদিবস।
💠 ১০ রবিউস সানি:
🔷 প্রিয়নবী (দ.) এর বংশধর (আহলে বাইতের সদস্য) ইমাম মুসা আল-কাজিম (রা.)-এর কন্যা সৈয়দা ফাতিমা বিনতে মুসা আল-কাজিম আল-মাসুমা (রা.)-এর ওফাত দিবস।
💠 ১১ রবিউস সানি:
🔷 গাউসুল আযম হযরত শেখ সৈয়দ আবু মীর মুহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী (র.)-এর ওফাত দিবস।
💠 ১৮ রবিউস সানি:
🔷 সুলতান-উল-মাশায়েখ, মেহবুব-এ-ইলাহী, শেখ খাজা সৈয়দ মুহাম্মদ নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ:)'এর জন্মদিবস।
💠 ২২ রবিউস সানি:
🔷 শেখ আল আকবর হযরত শাইখ মুহিউদ্দিন ইবনুল আরবী (র.)-এর ওফাত দিবস।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউল আউয়াল মাস:⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:🗓️ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪...
05/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউল আউয়াল মাস:
⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:
💠 শায়খ মোহাক্কিক আবদুল হক মোহাদ্দিস দেহলভী (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
🖋️শায়খ আবুল মজিদ আবদুল হক বিন সাইফুদ্দীন দেহলভী (রহ.)-এর ওফাত দিবস বুখারি (৯৫৮ হিজরি/১৫৫১ খ্রিঃ - ১০৫২ হিঃ/১৬৪২ খ্রিঃ) একজন স্বনামধন্য ইসলামী পণ্ডিত ও জগতশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ছিলেন। ভারতের মধ্যে ইসলাম প্রচারে তথা ইলমে হাদিস-এর প্রচার চর্চায় তার অবদান অবিস্মরণীয়।
✅ জন্ম:
শায়খ মোহাক্কিক আবদুল হক মোহাদ্দিস দেহলভী ৯৫৮ হিজরি সনে মুতাবিক ১৫৫১ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লি তে জন্ম গ্রহণ করেন ।
🎓 শিক্ষার্জন:
বিশ বাইশ বছর বয়সে তিনি ইলমে দ্বীন - এর যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হন।. ৯৯৬ হিজরি / ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ' হেজাজ ' গমন করেন এবং কয়েক বছর পর্যন্ত হারামাইন শরিফাইন (ফজিলত পূর্ণ পবিত্র দুই মসজিদ) - এর যুগ-মহাত্মন আউলিয়াকিরাম ও যুগশ্রেষ্ঠ উলামায়েকিরামের সান্নিধ্য লাভ করেন । বিশেষ করে শায়খ আবদুল ওয়াহাব মুত্তাকি; খলিফায়ে শায়খ আলী মুত্তাকি - এর মুল্যবান সাহচর্য্যের মধ্য দিয়ে তিনি 'ইলমে হাদিস' - এর পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেন ।
📗 দ্বীনি খেদমতে অবদান:
এ উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের চর্চা , প্রচার-প্রসারের ইতিহাসে যুগ বিভাজন নিরিক্ষায় চতুর্থ যুগের বর্ণনা লিখতে গিয়ে মুফতি আমিমুল ইহসান বলেন, - এই যুগের সবচে বেশি উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব দু'জন । এক. শায়খ আহমদ সেরহিন্দী (রহ.)। দুই. শায়খ আবদুল হক দেহলভী (রহ.) । শায়খ আবদুল হক দেহলভী সম্পর্কে শায়খ আহমদ সেরহিন্দী তাঁর 'মাক্তুবাতে' লিখেন যে , হিন্দুস্থানে হাদিস-এর বীজ বপন করেন শায়খ আবদুল হক দেহলভী । তিনি দিল্লিতে দরসে হাদিস পেশ করতেন। সাধারণ লোকদের সুবিধার্থে ফার্সি ভাষায় 'মিশকাত'-এর ব্যখ্যাগ্রন্থ লিখেন। গ্রন্থটির নাম 'আশশায়াতুল লুমুয়াত'। 'মিশকাত'-এর আরেকটি ব্যখাগ্রন্থ আরবি ভাষায় লিখেন যার নাম হল 'আল লুমুয়াত শরহে শাফারুস সায়াদাত'। এছাড়া তিনি দ্বীনি খেদমতের লক্ষ্যে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন ।
🎓 বাইআত ও খিলাফত:
প্রথমে তিনি তার সম্মানিত পিতার নিকট 'বাইআত' হন । এরপর কাদিরিয়া ছিলছিলায় মুছা পাক শহিদ মুলতান (রহ.) - এর হাতে ' বাইআত ' হন । তাছাড়া তিনি মক্কা মোকার্‌রমাতে অবস্থান কালে শায়খ আবদুল ওয়াহাব মুত্তাকি (রহ.) - এর নিকট ' বাইআত ' হয়েছিলেন । সেখান থেকে চিশতিয়া , কাদিরিয়া ও শাজেলিয়া ছিলছিলায় নীত হন এবং মদিনা মুনাওয়ারাতে তিনি ইজাজত লাভ করেন।
তিনি হারামাইন শরিফাইন থেকে ফিরে এসে খাজা বাকি বিল্লাহ্‌ (রহ.) - এর নিকট নক্শে‌বন্দিয়া ছিলছিলায় বাইআত হন । আর এটা ছিল শায়খ আবদুল কাদির জিলানি (রাহ্‌) - এর রুহানি ইঙ্গিত।
📚 রচনাবলী:
* আশিআতুল লুমআত শরহে মিশকাত
* মাদারেজুন নবুওয়াত
* জুয্‌বুল কুলুব
* আখবারুল আখিয়ার
* জুব্‌দাতুল আসার
* মিফতাহুল ফতুহ
* মা সাবাতা মিনাস্ সুন্নাহ্‌ ফি আইয়ামিস সুন্নাহ্‌
* রেসালায়ে যারবুল আকদাম
* দেওয়ান
* মাক্তুবাত
* তাকমিলুল ইমান (ফার্সি)
✅ সুযোগ্য পুত্র:
শায়খ আবদুল হক (রহ.) স্বীয় ছেলে শায়খ নুরুল হক-কে যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে যে শিক্ষাদান করেন পরবর্তীতে ছেলে বিজ্ঞ মুহাদ্দিস হিসেবে গড়ে ওঠেন । পিতৃ-সান্নিধ্যের পাশাপাশি বিজ্ঞ উস্তাদের কাছ থেকেও জ্ঞান লাভ করেন । শিক্ষার্জনের পর ফলস্বরূপ তার ছেলেও সহিহ বুখারির বিস্তৃত এক ব্যখ্যাগ্রন্থ ফার্সি ভাষায় লিপিবদ্ধ করেন , যার নাম 'তায়সীরুল বারী'। তিনি সহিহ মুসলিম-এরও 'মানবাউল ইলম' নামক ফার্সি ভাষায় একটি ব্যখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। ছেলের এই কীর্তি বস্তুত শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস সাহেবের ইলমে হাদিস চর্চার অভিষ্ঠ লক্ষ্যের পূর্ণতার প্রমাণ বহন করে এতে কোন সন্দেহ নাই ।
🖋️ ছাত্র:
শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) -এর অসংখ্য ছাত্র তার নিকট থেকে শিক্ষার্জন করেছেন এবং তারাও এ উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন । উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম নিচে দেওয়া হল ।
* শায়খ নুরুল হক (হিঃ ১০৭৩) (শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভীর সুযোগ্য ছেলে)।
* খাজা খাওয়ান্দ মুঈনুদ্দীন আল মারুফ হযরত এইশা ।
* মোল্লা সুলাইমান আহমাদাবাদী ।
* মুহাম্মাদ হুসাইন খানী ।
🛑 ইন্তিকাল:
তিনি ১০৫২ হিজরিতে ২২ রবিউল আউয়াল মুতাবেক ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তিকাল করেন। দিল্লীর মেহেরাউলী এলাকায় তাঁর মাজার অবস্থিত ।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউল আউয়াল মাস⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:🗓️ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮...
05/09/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
🌎 ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যে রবিউল আউয়াল মাস
⌛ সোনালী অতীতের কুশলী নির্মাতা:
🗓️ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি:
💠 হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী (রহ.)-এর ওফাত দিবস।
হযরত ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী (১৮১৭ - ১৮৯৯) ছিলেন চিশতী সুফি ত্বরিকার একজন ভারতীয় মুসলিম সুফি পণ্ডিত। তাঁর শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ কাসিম নানুতাউই , রশিদ আহমদ গাঙ্গোহী এবং আশরাফ আলী থানউই। ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহে , তিনি থানা ভবনে মুসলিমদের ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ।
✅ জীবনের প্রথমার্ধ
হযরত ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী ১৮১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের নানৌতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুহাম্মদ আমিন তাঁর নাম রাখেন ইমদাদ হোসেন। তবে শাহ্ মুহাম্মদ ইসহাক তাঁর নাম রাখেন ইমদাদুল্লাহ।
সাত বছর বয়সে, শিশু ইমদাদুল্লাহ তাঁর মাকে হারান যিনি তাঁর উইল লিখেছিলেন যে তাঁর পরে কেউ তার বাচ্চাকে স্পর্শ করবে না এবং সেই সাত বছরে ইমদাদুল্লাহকে তাঁর কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছিলেন; এটি একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায় যে কেউ ইমদাদুল্লাহর শিক্ষার যত্ন নেয়নি। এরপর তিনি নিজে নিজে কুরআন মুখস্থ করতে শুরু করেন কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হন। ১৬ বছর বয়সে, তিনি শিক্ষা অর্জনের জন্য মামলুক আলী নানুতাবির সাথে দিল্লি যান।
🖋️ ধর্মীয় কাজ এবং ভ্রমণ:
আঠারো বছর বয়সে, নাসিরুদ্দিন নকশবন্দী তাঁর বাইয়াত গ্রহণ করেন। পরে তিনি চিশতি-সাবিরি সুফি ত্বরিকার একজন দীক্ষার্থী হিসেবে মিয়াঁজির (নূর মোহাম্মদ ঝানঝনভী) কাছে শিক্ষালাভ করতে যান, কিন্তু মিয়াঁজির ইন্তিকালের পর তিনি সাময়িকভাবে আধা-সন্ন্যাসী হয়ে পড়েন। ছয় মাস ধরে মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ানোর পর তিনি মদীনা ভ্রমণের তীব্র আকাঙ্ক্ষায় কাবু হয়ে পড়েন । ১৮৪৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি বানারসে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি হজ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর মাজার জিয়ারতের জন্য অটোমান আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
হজ শেষ হওয়ার পর, হযরত ইমাদাদুল্লাহ্ ইসহাক মুহাজির মক্কী এবং অন্যান্যদের সাথেই থেকে যান। শাহ তাঁকে জানান যে, মদিনায় হজ করার পর, তার ভারতে ফিরে আসা উচিত। সাইয়্যিদ কুদরতুল্লাহ বানারসী মক্কী তার বেশ কয়েকজন মুরিদকে তাঁর সাথে মদিনায় পাঠান।
✅ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম
থানা ভবনে, স্থানীয় সুন্নিরা হযরত ইমদাদুল্লাহকে তাদের নেতা ঘোষণা করে। ১৮৫৭ সালের মে মাসে ইমদাদুল্লাহর বাহিনীর সাথে ব্রিটিশদের মধ্যে শামলীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
✅ শিষ্যরা:
শিষ্যদের মধ্যে রয়েছেন:
* মাওলানা পীর সৈয়দ শাহ মুহাম্মদ মেহের আলী কাদরী কুম্মাইসি রহ
* আহমদ হাসান আমরোহি
* আসগর হুসাইন দেওবন্দী
* আশরাফ আলী থানভি
* মুহাম্মদ কাসিম নানুতাউই
* রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহী
* মুহাম্মদ আনোয়ারুল্লাহ ফারুকী
* মুহাম্মদ ইয়াকুব নানুতাউই
* মাহমুদ হাসান দেওবন্দী
* মাওলানা বদরুদ্দীন ফুলওয়ারভী
* সাইয়্যিদ মুহাম্মদ আবিদ
* নাজিব আলী চৌধুরী
🟢 বিবাহ
হযরত ইমদাদুল্লাহ্ মুহাজির মক্কী (রহ.) ৪৮ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন। তাঁর প্রথম স্ত্রীর ইন্তিকালের পর, তিনি একজন অন্ধ বিধবাকে বিয়ে করেন। যেহেতু তিনি অন্ধ ছিলেন, তাই তিনি সমস্ত গৃহস্থালির কাজ পরিচালনা করতে পারতেন না, তাই তিনি তাঁকে অন্য একজন স্ত্রী গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন যাতে সমস্ত গৃহস্থালির কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর হযরত ইমদাদুল্লাহ্ তৃতীয়বার বিয়ে করেন। তার তিন স্ত্রীর কারোরই সন্তান হয় নি।
🖋️ সাহিত্যকর্ম
তাঁর বইগুলির মধ্যে রয়েছে:
* ফয়সলা হাফত মাসআলা
* কুল্লিয়াত-ই-ইমদাদিয়া
* হাশিয়া মাথনাভি মৌলানা রুমি : এটি রুমি কর্তৃক রচিত মাথনাভি-ই মা'নভির উপর ফারসিতে লেখা একটি টীকা । ইমাদাদুল্লাহর জীবদ্দশায় মাত্র দুটি অংশ মুদ্রিত হতে পেরেছিল। বাকি অংশ তাঁর ইন্তিকালের পরে মুদ্রিত হয়েছিল।
* গিজা-এ-রুহ্ (আত্মার পুষ্টি): হযরত ইমাদাদুল্লাহ্ ১২৬৪ হিজরিতে এই বইটি লিখেছিলেন। মিয়াঁজি নূর মোহাম্মদ ঝানঝানভির বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এতে ১৬০০টি কবিতা রয়েছে।
* ইকলীলুল কুরআন (আরবীতে তাফসীর কুরআন)। তাজ অফসেট প্রেস পূর্বে আকিল প্রেস নাজিরপুরা বাহরাইচ দ্বারা প্রথম বাহরাইচে প্রকাশিত
* জিহাদ-এ-আকবর (বৃহত্তর জিহাদ ): তিনি ১২৬৮ হিজরীতে এই বইটি রচনা করেছিলেন। এটি একটি কাব্যিক রচনা যা তিনি ফারসি ভাষায় উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন । এটি ১৭ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এবং ৬৭৯টি পদ রয়েছে।
* মাথনাভি তুহফাতুল উশশাক (মাথনাভি - প্রেমীদের জন্য উপহার): এটি ১৩২৪টি কাব্যিক পদ নিয়ে গঠিত এবং ১২৮১ হিজরিতে সংকলিত হয়েছিল।
* রিসালা দরদ ঘামনাক (বেদনাদায়ক দুঃখের গ্রন্থ): এটি ৫ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট ১৭৫টি শ্লোক।
* ইরশাদ-ই-মুর্শিদ (মুর্শিদের নির্দেশ): এই বইটি চারটি সিলসিলার ওয়াদাইফ , মুরাকাবাত , আওরদ এবং শাজরাত নিয়ে আলোচনা করে । এটি ১২৯৩ হিজরিতে লেখা হয়েছিল।
* জিয়াউল কুলুব (হৃদয়ের ঝলকানি): এই বইটি ফার্সি ভাষায়। হাফিজ মুহাম্মদ জামিনের পুত্র হাফিজ মুহাম্মদ ইউসুফের অনুরোধে তিনি ১২৮২ হিজরীতে মক্কায় এই কিতাবটি রচনা করেন ।
🛑 ইন্তিকাল এবং উত্তরাধিকার:
হযরত ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কী (রহ.) ১৮৯৯ সালে মক্কায় ইন্তিকাল করেন। তাঁকে হযরত রহমাতুল্লাহ্ কাইরানভী আল-হিন্দি (রহ.)’র কবরের পাশে জান্নাত আল-মুআল্লা কবরস্থানে দাফন করা হয় । তাঁর জীবনীমূলক রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে: আশরাফ আলী থানভির ইমদাদুল মুস্তাক ইলা আশরাফুল আখলাক , মুহাম্মদ মুর্তজা খান কানৌজির শামায়েম এমদাদিয়া।
📓 সূত্র: উইকিপিডয়া।

Address

Dew Udayan, Level-12, Bus Terminal Connecting Road, Chandgaon
Chittagong
4212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Maizbhandari Academy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Maizbhandari Academy:

Shortcuts

Share