Bankers' Alliance of Bangladesh

Website Contact the organization

Bankers' Alliance of Bangladesh Bankers' Alliance of Bangladesh is a non-profit organisation that represent This is a networking page for the Banker community of Bangladesh.

We, a group of young bankers of different banks of Bangladesh, were planning to do something which would play a role to develop banking expertise of bankers and consequently play a further positive role in banking sector and economy of Bangladesh as well. We were seeking a platform to shape our dream which would help us be a true/practical part of building digital Bangladesh. Bankers' Alliance of Bangladesh is that platform which was formally inaugurated at Boat Club, Chittagong on 8th August, 2015

The basic objectives of the organisation are:

(i) to develop a bankers community and establish a strong platform for Bankers. (ii) to develop bonding among members & expanding public relations through involvement of Bankers of all level. (iii) to disseminate knowledge on banking and financial services through publication of journals, newsletters and by organising lectures, seminars, etc. ;

(iv) to undertake any other activity incidental to, and facilitating, the achievement of the basic objectives of the Bankers' Alliance of Bangladesh as mentioned above.

17/09/2026

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে আমানতও জমা হচ্ছে। নগদ ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ জমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রমও চলছে। এতে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গতি ফেরার পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংকটির ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর—এই নয় দিনে আমানত ও অন্যান্য হিসাবে মোট ২ হাজার ২০ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৮১ জন গ্রাহক নগদে ৭৬২ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থায় ৬০ হাজার ২৩৩ জন গ্রাহক ১ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছেন।

এ ছাড়া নতুন করে ২৪ হাজার ৯৬৫টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এসব হিসাবধারী ইতোমধ্যে ৩০৩ কোটি টাকা জমা দিয়েছেন। নতুন হিসাব খোলা ও আমানত জমার এই প্রবণতা ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহের চিত্র তুলে ধরছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, ৭ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমানত ও অন্যান্য হিসাবে ২ হাজার ২০ কোটি টাকা এসেছে। নিয়মিত স্কিম, আমানত ও উত্তোলনের কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে। অনুমোদন পাওয়ার পর কিছু গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে টাকা উত্তোলন করেননি। পরে উত্তোলন করবেন বলে তারা ব্যাংককে জানিয়েছেন।

ব্যাংকটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটির কার্যক্রম ও আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। লেনদেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়া আমানতকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

10/08/2026

ক্যাশ কাউন্টারের কাজ প্রায় শেষ। হঠাৎ হাতে একটি সংবাদপত্র নিয়ে ম্যানেজারের কক্ষে ঢুকলেন সিনিয়র অফিসার রাশেদ।

রাশেদ: স্যার, একটা খবর দেখেছেন?

রোকন: কী খবর, রাশেদ?

রাশেদ: বরিশালের এক কৃষক প্রায় দুই লাখ টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়িতে রাখা সেই টাকা ইঁদুর আর উইপোকা কেটে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে!

রোকন: আহা! একজন কৃষকের সারাজীবনের সঞ্চয়… চোখের সামনে এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া সত্যিই খুব কষ্টের।

রাশেদ: স্যার, কিন্তু একটা প্রশ্ন আছে। ওই টাকাগুলো কি তাহলে পুরোপুরি মূল্যহীন?

রোকন: না, সবসময় তা নয়। এখানেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—ক্ষতিগ্রস্ত নোট মানেই মূল্যহীন নোট নয়।

রাশেদ: মানে ইঁদুরে কাটা নোটও বদলানো যেতে পারে?

রোকন: কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই। তবে নোটের অবস্থা, কতটুকু অংশ অবশিষ্ট আছে, নোটটি আসল কি না—এসব বিষয় নির্ধারিত নিয়মে যাচাই করা হবে।

রাশেদ: তাহলে প্রথমে কোথায় যেতে হবে? ধরুন, একজন গ্রাহকের ১,০০০ টাকার নোট ইঁদুরে কেটে ফেলেছে। তিনি কী করবেন?

রোকন: প্রথম কাজ—নোটটি ফেলে দেবেন না।
যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নিয়ে যেতে পারেন। ব্যাংক নোটটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় নিতে পারে এবং দাবিযোগ্য নোট হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পাঠাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যাংক শাখাগুলোকে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের বিনিময় এবং দাবিযোগ্য নোটসংক্রান্ত সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

রাশেদ: অর্থাৎ গ্রামের একজন মানুষকে ঢাকায় ছুটে যেতে হবে—এমন নয়?

রোকন: একদম ঠিক। স্থানীয় তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকেই প্রক্রিয়াটি শুরু করা যেতে পারে।

রাশেদ: স্যার, এই জায়গাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন, ১,০০০ টাকার নোটের ৯৫ শতাংশ অংশ অক্ষত আছে। তাহলে?

রোকন: যদি নোটটি একক ও অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে থাকে এবং ৯০ শতাংশের বেশি অংশ বিদ্যমান থাকে, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী নোটের সম্পূর্ণ মূল্যমান পরিশোধ করা হতে পারে।

রাশেদ: অর্থাৎ ১,০০০ টাকার নোট হলে ১,০০০ টাকা?

রোকন: হ্যাঁ—নিয়মের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।

রাশেদ: আর যদি ৮০ শতাংশ থাকে?

রোকন: তাহলে ৭৫ শতাংশ মূল্য। অর্থাৎ ১,০০০ টাকার নোট হলে ৭৫০ টাকা।

রাশেদ: আর ৬০ শতাংশ?

রোকন: তাহলে ৫০ শতাংশ মূল্য—অর্থাৎ ৫০০ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের প্রবিধানে একক, অবিচ্ছিন্ন নোটের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশের বেশি অংশ থাকলে পূর্ণ মূল্য, ৭৫–৯০ শতাংশ থাকলে ৭৫ শতাংশ এবং ৫১–৭৫ শতাংশ থাকলে ৫০ শতাংশ মূল্য দেওয়ার বিধান রয়েছে। ৫১ শতাংশের কম থাকলে দাবি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

রাশেদ: কিন্তু নোট যদি কয়েক টুকরো হয়ে যায়?
স্যার, ইঁদুর তো আর নিয়ম মেনে নোট কাটে না! যদি ১,০০০ টাকার নোটটি দুই-তিন টুকরো হয়ে যায়?

রোকন: হ্যাঁ, সেক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করতে হবে। নোটের খণ্ডগুলো একই আসল নোটের অংশ কি না, নোটের বৈশিষ্ট্য ও নিরাপত্তা চিহ্ন শনাক্ত করা যাচ্ছে কি না—এসব দেখা হবে। বিশেষ করে খণ্ডিত নোটের ক্ষেত্রে সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় অংশ ও নোটের সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের প্রবিধানে একাধিক খণ্ডের বিশেষ পরিস্থিতির জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।

রাশেদ: অর্থাৎ টুকরোগুলো ফেলে দেওয়া যাবে না?

রোকন: কখনোই না! একটি টুকরোও যদি থাকে, সেটি সংরক্ষণ করুন এবং ব্যাংকে নিয়ে যান। তবে সব নষ্ট নোটের টাকা পাওয়া যাবে না।

রাশেদ: স্যার, তাহলে কি যে কোনো ছেঁড়া নোট দিলেই টাকা পাওয়া যাবে?

রোকন: না। এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটা মানুষ করে।
নোটটি আসল হতে হবে এবং এর বৈশিষ্ট্য যাচাইযোগ্য হতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা, ছেঁড়া বা ছিদ্র করা নোটের দাবি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। আবার নোটের বিভিন্ন অংশ ভিন্ন নোটের সঙ্গে জোড়া লাগানো বা নোটের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও দাবি বাতিল হতে পারে।

রাশেদ: অর্থাৎ ইঁদুরে কাটা আর মানুষ ইচ্ছা করে কাটা—দুটো এক বিষয় নয়?

রোকন: ঠিক তাই। প্রকৃত দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নোটের জন্য নিয়ম আছে; কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে নোট নষ্ট করে টাকা দাবি করার সুযোগ নেই।

🐀 এবার ফিরে আসি বরিশালের কৃষকের ঘটনায়।

রাশেদ: স্যার, তাহলে ওই কৃষক কী করবেন?

রোকন: তিনি তার কাটা নোটগুলো যতটা সম্ভব অক্ষত অবস্থায় সংগ্রহ করে কোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নিয়ে যেতে পারেন। ব্যাংক নোটগুলো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাবির জন্য পাঠাতে পারে। আর যদি নোটগুলো দাবিযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মূল্য ফেরতের সিদ্ধান্ত হবে।

রাশেদ: তাহলে তার দুই লাখ টাকা থেকে কত টাকা ফেরত আসবে—এটা কি এখনই বলা যাবে?

রোকন: না। নোটের প্রতিটি খণ্ড পরীক্ষা না করে নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা সম্ভব নয়। কারণ প্রতিটি নোটের কতটুকু অংশ অক্ষত আছে, নোটের নম্বর ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করা যাচ্ছে কি না এবং নোটটি আসল কি না—এসব যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—সময়।

রাশেদ: স্যার, দাবি করার পর কি সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যায়?

রোকন: সব ক্ষেত্রে নয়। দাবিযোগ্য নোটের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনে নোটের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ মতামতও নেওয়া যেতে পারে।

রাশেদ: অর্থাৎ একটু সময় লাগতে পারে?

রোকন: অবশ্যই। কারণ এখানে শুধু টাকা দেওয়া নয়—আসল নোট, নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং ক্ষতির মাত্রা যাচাই করা হয়।

রাশেদ: স্যার, সাধারণ মানুষ তো শুধু নোটের ছবি আর নম্বর দেখে। ব্যাংকাররা কী কী দেখে?

রোকন: অনেক কিছু। নোটের কাগজের বৈশিষ্ট্য, সিরিয়াল নম্বর, নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, ইন্টাগ্লিও প্রিন্টিং, রং পরিবর্তনকারী কালি, মাইক্রোটেক্সটসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হতে পারে।

রাশেদ: তাহলে নোট যত বেশি ছেঁড়া হবে, যাচাই তত গুরুত্বপূর্ণ?

রোকন: ঠিক তাই। কারণ ব্যাংকের দায়িত্ব শুধু গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা নয়; একই সঙ্গে মুদ্রার নিরাপত্তা ও আর্থিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাও রক্ষা করা।

রাশেদ: তাহলে বাড়িতে টাকা রাখা কি নিরাপদ? স্যার, একটা কথা বলুন—এত বড় অঙ্কের টাকা বাড়িতে রাখা কি ঠিক?

রোকন: এটাই এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
ধরুন, একজন কৃষক বছরের পর বছর পরিশ্রম করে ২ লাখ টাকা জমালেন। তিনি ভাবলেন— “বাড়িতেই থাকুক, দরকার হলে হাতের কাছে পাব।” কিন্তু এক রাতে ইঁদুর এসে কয়েক হাজার টাকার নোট কেটে দিল।
আর উইপোকা এসে কয়েক মাসের সঞ্চয়ের ওপর চালিয়ে দিল তার দাঁত!

রাশেদ: তাহলে টাকা শুধু চোরের কাছ থেকেই নয়—ইঁদুরের কাছ থেকেও ঝুঁকিতে!

রোকন: হা হা… ঠিকই বলেছ। তবে বিষয়টি হাসির নয়, রাশেদ। টাকা যত কষ্টে অর্জিত, সংরক্ষণও তত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে প্রয়োজনীয় অল্প নগদ রাখা যেতে পারে। কিন্তু বড় অঙ্কের সঞ্চয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদে রাখা অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত।

রোকন:রাশেদ, একটা কথা মনে রেখো— “ছেঁড়া নোট মানেই টাকা শেষ নয়, কিন্তু সঞ্চয় বাড়িতে রেখে ঝুঁকিতে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।” আজ যে কৃষকের দুই লাখ টাকা ইঁদুর-উইপোকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ঘটনা আমাদের জন্য শুধু একটি সংবাদ নয়। এটি একটি আর্থিক সচেতনতার শিক্ষা।

নোট নষ্ট হলে—
১. নোটের কোনো অংশ ফেলে দেবেন না।
২. নিজে থেকে টুকরোগুলো জোড়া লাগিয়ে পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না।
৩. নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করুন।
৪. নোটের সত্যতা ও ক্ষতির মাত্রা যাচাই করতে দিন।
৫. দাবিযোগ্য হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দাবি উপস্থাপন করুন।
৬. আর বড় অঙ্কের নগদ টাকা দীর্ঘদিন বাড়িতে না রেখে নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রাখুন।

রাশেদ: স্যার, আজকের আলোচনার পর একটা কথাই মনে হচ্ছে— “টাকা উপার্জন করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, টাকাকে নিরাপদে রাখাও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ।”

রোকন: একদম ঠিক। কারণ— একটি নোট হয়তো কাগজ, কিন্তু তার পেছনে লুকিয়ে থাকে কোনো কৃষকের ঘাম, কোনো শ্রমিকের পরিশ্রম, কোনো বাবার সন্তানের ভবিষ্যৎ, কোনো মায়ের সঞ্চয়ের স্বপ্ন।

রাশেদ: আর সেই স্বপ্ন যেন ইঁদুরের দাঁতে, উইপোকার ক্ষুধায় কিংবা অসতর্কতার কারণে হারিয়ে না যায়।

রোকন: এই তো আসল ব্যাংকিং শিক্ষা। “সঞ্চয় করুন—কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, সঞ্চয়কে নিরাপদে রাখুন।”

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের Bangladesh Bank Note Refund Regulations, 2025 এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান তালিকাভুক্ত রয়েছে।

নোট: ক্ষতিগ্রস্ত নোটের মূল্য ফেরত পাওয়া স্বয়ংক্রিয় বা নিশ্চিত নয়; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নোটের অবস্থা, সত্যতা, অবশিষ্ট অংশ ও প্রযোজ্য বিধানের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে।

07/08/2026

একটি ব্যস্ত সকাল। শাখায় নতুন গ্রাহকদের ভিড়। অপারেশন ম্যানেজার সাইফুল নিজের ডেস্কে বসে দিনের কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন। এমন সময় নতুন ব্যাংকার শহিদুল একটি হিসাব খোলার ফাইল হাতে নিয়ে এগিয়ে এল।

শহিদুল: স্যার, একটা বিষয় বুঝতে পারছি না। আমরা যখন গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি আর ঠিকানা যাচাই করি, সেটাই কি CDD?

সাইফুল (হেসে): না শহিদুল, এটাই যদি সব হতো, তাহলে CDD-এর এত গুরুত্ব থাকত না। CDD মানে শুধু পরিচয়পত্র দেখা নয়; বরং একজন গ্রাহকের আর্থিক পরিচয়, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং ঝুঁকির মাত্রা বোঝার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া।

শহিদুল: তাহলে একটু সহজ করে বলবেন?

সাইফুল: ধরো, একজন মানুষ তোমার কাছে এসে বলল, "আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।" তুমি কি শুধু তার নাম জেনেই তাকে বিশ্বাস করবে?

শহিদুল: অবশ্যই না। তার সম্পর্কে আরও জানতে চাইব।

সাইফুল: ঠিক তাই। ব্যাংকও একই কাজ করে। গ্রাহকের নাম জানাই যথেষ্ট নয়। জানতে হয়— তিনি কে? কোথায় থাকেন? কী করেন? আয়ের উৎস কী?
কেন ব্যাংকে হিসাব খুলছেন? কী ধরনের লেনদেন করবেন? তার লেনদেন কি ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

এই পুরো যাচাই-বাছাইয়ের নামই Customer Due Diligence (CDD)।

এমন সময় একজন নতুন গ্রাহক কাউন্টারে এলেন।
তিনি বললেন, "আমি একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে চাই।"

সাইফুল: আচ্ছা শহিদুল, এবার বলো আমরা কী কী তথ্য নেব?

শহিদুল: জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা...

সাইফুল: ভালো। কিন্তু আরও জানতে হবে— তিনি কী পেশায় আছেন? মাসিক বা বার্ষিক আয় কত?
আয়ের উৎস কী? মাসে আনুমানিক কত টাকা জমা বা উত্তোলন করবেন? দেশীয় নাকি বিদেশি লেনদেন করবেন? ব্যবসা থাকলে সেটি কী ধরনের?

শহিদুল: ওহ! অর্থাৎ শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, তথ্য যাচাইও করতে হবে।

সাইফুল: একদম ঠিক। কারণ কাগজে যা লেখা থাকে, বাস্তবেও সেটি সত্য কি না, সেটাই নিশ্চিত করা CDD-এর অন্যতম কাজ।

কিছুক্ষণ পর আরেকজন গ্রাহক এলেন। তিনি বললেন, "আমি ছোট একটি মুদি দোকান চালাই।" কাগজপত্রে দেখা গেল মাসিক আয় মাত্র ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু হিসাব খোলার সময় তিনি জানালেন, প্রতি মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা জমা হবে। শহিদুল একটু অবাক হয়ে সাইফুলের দিকে তাকাল।

শহিদুল: স্যার, এখানে তো কিছু একটা মিলছে না!

সাইফুল: এই জন্যই CDD দরকার। যখন ঘোষিত আয় আর প্রত্যাশিত লেনদেনের মধ্যে বড় অমিল দেখা যায়, তখন ব্যাংক অতিরিক্ত যাচাই করে। প্রয়োজনে অর্থের উৎসের প্রমাণ, ব্যবসার কাগজপত্র বা অন্যান্য সমর্থক নথি চাওয়া হয়। এ ধরনের উচ্চ ঝুঁকির গ্রাহকের ক্ষেত্রে Enhanced Due Diligence (EDD) প্রয়োগ করা হয় এবং তার লেনদেন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

শহিদুল: তাহলে CDD-এর সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য কী?

সাইফুল: চারটি বিষয় মনে রাখবে— প্রথমত, প্রকৃত গ্রাহককে শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি কমানো। তৃতীয়ত, গ্রাহকের Risk Profile নির্ধারণ করা। চতুর্থত, AML/CFT এবং KYC নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।

শহিদুল: তাহলে KYC আর CDD কি এক জিনিস?

সাইফুল: না। KYC হলো পুরো প্রক্রিয়া। আর CDD হলো KYC-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সম্পর্কের উদ্দেশ্য বোঝা হয়। এরপরও গ্রাহকের লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাতে অস্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

দিন শেষে শহিদুল নোটবুকে লিখে রাখল— "ব্যাংক শুধু টাকা রাখে না; বিশ্বাসও রক্ষা করে। আর সেই বিশ্বাসের প্রথম ধাপই Customer Due Diligence (CDD)। একজন গ্রাহকের পরিচয়, আয়ের উৎস, লেনদেনের উদ্দেশ্য ও ঝুঁকি ভালোভাবে না জেনে হিসাব খোলা মানে ব্যাংকের জন্য অজানা ঝুঁকিকে আমন্ত্রণ জানানো। তাই একজন দক্ষ ব্যাংকারের প্রথম দায়িত্ব—গ্রাহককে শুধু চিনে নেওয়া নয়, সঠিকভাবে বুঝে নেওয়া।"

মনে রাখুন CDD = Customer Due Diligence

সহজ সূত্র: Know the Customer → Understand the Business → Verify the Source of Income → Assess the Risk → Monitor the Transactions
এটাই একজন দক্ষ ব্যাংকারের নিরাপদ ব্যাংকিংয়ের মূলমন্ত্র।

05/08/2026

ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের ব্যস্ত সকাল। কফির কাপ হাতে বসে আছেন দুই ব্যাংকার—অনিরুদ্ধ ও শোভন।

শোভন: অনিরুদ্ধ ভাই, একটা বিষয় অনেকেই জিজ্ঞেস করেন—Call Money আসলে কী? এটা কি সাধারণ ঋণের মতো?

অনিরুদ্ধ (হেসে): না, একদমই না। ধরো, তুমি আজ অফিসে বের হওয়ার সময় মানিব্যাগ নিতে ভুলে গেছো। দুপুরে জরুরি প্রয়োজনে আমার কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা ধার নিলে, আর পরদিন সকালে পুরো টাকা ফেরত দিলে। ঠিক এই ধারণাটাই ব্যাংকিংয়ে বড় আকারে Call Money।

অনিরুদ্ধ: Call Money হলো একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্য একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মাত্র এক কার্যদিবসের (Overnight) জন্য অর্থ ধার দেয় বা ধার নেয়। পরবর্তী কার্যদিবসেই মূল অর্থ ও সুদ পরিশোধ করা হয়। এটি Interbank Money Market-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ব্যাংকের Liquidity Management-এর প্রধান হাতিয়ার।


শোভন: ব্যাংকের তো এত টাকা থাকে! তাহলে ধার নেওয়ার দরকার হয় কেন?

অনিরুদ্ধ: এটাই সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা। একটি ব্যাংকে প্রতিদিন হাজার হাজার লেনদেন হয়।
কেউ কোটি কোটি টাকা তুলে নেয়। বড় বড় RTGS, BEFTN, EFT বা চেক ক্লিয়ারিং হয়। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত Cash Reserve Requirement (CRR)-ও ঠিক রাখতে হয়। ফলে দিনের শেষে কোনো ব্যাংকের হাতে সাময়িকভাবে নগদ অর্থের ঘাটতি হতে পারে। সেই অস্থায়ী ঘাটতি পূরণ করতেই Call Money ব্যবহৃত হয়।


শোভন: একটা বাস্তব উদাহরণ দিলে বুঝতে সুবিধা হবে।

অনিরুদ্ধ: ধরো— আজ A ব্যাংক থেকে বড় একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ২০ কোটি টাকা তুলে নিল। এদিকে আজই ব্যাংকটির আরও কয়েকটি বড় পেমেন্ট করতে হবে। দিন শেষে দেখা গেল—
➡️ A ব্যাংকের সাময়িকভাবে ২০ কোটি টাকার তারল্য ঘাটতি হয়েছে। অন্যদিকে B ব্যাংকের হাতে অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে। তখন— B ব্যাংক Call Money Market- এর মাধ্যমে A ব্যাংককে মাত্র এক দিনের জন্য ২০ কোটি টাকা ধার দিল। পরদিন সকালে—A ব্যাংক মূল টাকা ও এক দিনের সুদ পরিশোধ করে দিল। ব্যস, সমস্যার সমাধান!

শোভন: তাহলে Call Money Market বলতে কী বোঝায়?

অনিরুদ্ধ: এটি এমন একটি Interbank Money Market, যেখানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের অতিরিক্ত অর্থ অন্য ব্যাংকের সাময়িক ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করে। অর্থাৎ— "যার কাছে আজ অতিরিক্ত টাকা আছে, সে যার আজ প্রয়োজন তাকে এক দিনের জন্য ধার দেয়।" এভাবেই পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য সচল থাকে।

শোভন: এই ঋণের সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হয়?

অনিরুদ্ধ: যে সুদের হারে ব্যাংকগুলো এই এক দিনের অর্থ ধার নেয়, সেটিই Call Money Rate। এটি স্থির নয়। প্রতিদিন বাজারে— তারল্য বেশি থাকলে সুদের হার কমে। তারল্য সংকট হলে সুদের হার বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন আন্তঃব্যাংক লেনদেনের Call Money-এর তথ্য ও গড় সুদের হার প্রকাশ করে।


শোভন: সংক্ষেপে বৈশিষ্ট্যগুলো বলুন তো।

অনিরুদ্ধ:
✔️ মেয়াদ মাত্র ১ দিন (Overnight)
✔️ শুধুমাত্র ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেন
✔️ কোনো দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নয়
✔️ খুব দ্রুত অর্থের ব্যবস্থা করা যায়
✔️ সুদের হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়
✔️ ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম

শোভন: ব্যাংকগুলো কোথায় ব্যবহার করে?

অনিরুদ্ধ: Call Money সাধারণত ব্যবহৃত হয়— দৈনিক নগদ ঘাটতি পূরণে, CRR বজায় রাখতে, বড় অঙ্কের পেমেন্ট নিষ্পত্তিতে, RTGS/BEFTN/EFT লেনদেন সম্পন্ন করতে, Liquidity Management-এ
দিনের শেষে ট্রেজারি ব্যালেন্স ঠিক রাখতে।

শোভন:এর সবচেয়ে বড় সুবিধা কী?

অনিরুদ্ধ:
✅ ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয় না।
✅ গ্রাহকের লেনদেন স্বাভাবিক থাকে।
✅ সাময়িক অর্থসংকট দ্রুত দূর হয়।
✅ পুরো Money Market আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।

শোভন: কোনো ঝুঁকি আছে?

অনিরুদ্ধ: অবশ্যই।
❌ সুদের হার প্রতিদিন ওঠানামা করে।
❌ এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য উপযুক্ত নয়।
❌ বাজারে তারল্য সংকট দেখা দিলে Call Money Rate দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

শোভন:শেষে একটা রিভিশন করে দিন।

অনিরুদ্ধ:
✔️ মেয়াদ: ১ দিন (Overnight)
✔️ বাজার: Money Market
✔️ অংশগ্রহণকারী: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
✔️ উদ্দেশ্য: Liquidity Management
✔️ সুদের হার: Call Money Rate
✔️ ঋণগ্রহীতা: অন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান
✔️ ঋণদাতা: অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান

শোভন: আজ বুঝলাম, Call Money কোনো সাধারণ ঋণ নয়; এটি পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার "জরুরি অক্সিজেন"।

অনিরুদ্ধ (হেসে): ঠিক তাই। একজন মানুষের যেমন রক্ত চলাচল বন্ধ হলে শরীর অচল হয়ে যায়, তেমনি ব্যাংকগুলোর মধ্যে Call Money-এর প্রবাহ না থাকলে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই Call Money শুধু এক দিনের ঋণ নয়—এটি ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য, আস্থা ও কার্যকারিতা ধরে রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

04/08/2026

ইয়াসিন: রাশেদ ভাই, একটা বিষয় কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না। আগে তো মানুষ একটা বেতন দিয়েই পুরো মাস সংসার চালাত। এখন দেখি বেতন পাওয়ার এক সপ্তাহ না যেতেই অনেকের অ্যাকাউন্ট প্রায় খালি! আসলে কী হচ্ছে?

রাশেদ: খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছ, ইয়াসিন। অনেকেই মনে করেন, শুধু বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে বলেই এমন হচ্ছে। কিন্তু আসল চিত্রটা আরও বড়। এর পেছনে একসঙ্গে কাজ করছে মূল্যস্ফীতি, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা, উচ্চ সুদহার, কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতা এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা।

ইয়াসিন: ধরুন আমার বেতন এক লাখ টাকা। তাহলে আগের মতোই তো থাকার কথা। সমস্যা কোথায়?

রাশেদ: কাগজে-কলমে বেতন একই থাকলেও বাস্তবে তার মূল্য কমে গেছে। ধরো, চার বছর আগে যে বাজার করতে ১০০ টাকা লাগত, এখন একই বাজার করতে প্রায় ১৪০ টাকা বা তারও বেশি লাগছে। অথচ অধিকাংশ মানুষের বেতন সেই হারে বাড়েনি। অর্থাৎ তোমার আয় হয়তো একই আছে, কিন্তু খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এটাই অর্থনীতির ভাষায় প্রকৃত আয় (Real Income) কমে যাওয়া।

ইয়াসিন: কিন্তু খবর তো দেখি—মূল্যস্ফীতি কমছে!

রাশেদ: এখানেই অনেকের ভুল ধারণা। মূল্যস্ফীতি কমেছে মানে জিনিসপত্রের দাম কমেছে—এটা নয়।
এর মানে হলো, দাম আগের মতো দ্রুত বাড়ছে না।
ধরো, গত বছর চালের দাম ১০ টাকা বেড়েছিল। এবার বাড়ল ৩ টাকা। অর্থাৎ দাম কমেনি, শুধু বাড়ার গতি কমেছে। তাই বাজারে গিয়ে মানুষ এখনও আগের চেয়ে বেশি দামই দিচ্ছেন।

ইয়াসিন: আরেকটা বিষয় বুঝি না। কৃষক কম দামে বিক্রি করেন, কিন্তু শহরে এসে দাম তিন গুণ হয়ে যায় কেন?

রাশেদ: কারণ পণ্যটি কৃষকের হাত থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর আগে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করে। প্রতিটি ধাপে যুক্ত হয় কমিশন, পরিবহন ব্যয়, গুদাম খরচ, অতিরিক্ত লাভ, কখনও অনিয়ম বা চাঁদাবাজির খরচও। ফলে কৃষক ন্যায্য দাম পান না, আবার ভোক্তাও বেশি দাম দেন।

ইয়াসিন: সরকার তো অনেক সময় আমদানিতে শুল্ক কমায়। তাহলে বাজারে তার প্রভাব পড়ে না কেন?

রাশেদ: কারণ সেই সুবিধা অনেক সময় ভোক্তার কাছে পৌঁছায় না। দীর্ঘ সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্বল বাজার তদারকি, সীমিত প্রতিযোগিতা এবং আগের বেশি দামে কেনা পণ্যের মজুত—এসব কারণে দাম কমতে সময় লাগে।

ইয়াসিন: সুদের সঙ্গে আবার বাজারের সম্পর্ক কী?

রাশেদ: অবশ্যই আছে। যখন ব্যাংক ঋণের সুদ বেড়ে যায়, তখন ব্যবসায়ীদের উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।
ফলে তারা সহজে পণ্যের দাম কমাতে পারেন না। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগও কমে যায়, কর্মসংস্থানও ধীর হয়ে পড়ে।

ইয়াসিন: এখন দেখি অনেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারও ক্রেডিট কার্ড দিয়ে করছেন।

রাশেদ: কারণ আয় আর ব্যয়ের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। বেতন শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনেকেই বাধ্য হয়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। তবে মনে রাখতে হবে, ক্রেডিট কার্ড সাময়িক স্বস্তি দিলেও সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে সেটি ভবিষ্যতের বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইয়াসিন: এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার উপায় কী?

রাশেদ: শুধু মূল্যস্ফীতি কমালেই হবে না। প্রয়োজন—
কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিক করা। অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগী কমানো। বাজারে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো। উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
কর্মসংস্থান ও মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি করা।

ইয়াসিন: তাহলে বুঝলাম, শুধু বেতন বাড়লেই সমস্যার সমাধান হবে না।

রাশেদ: একদম ঠিক। যদি বাজারে জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে কাগজে বেতন যতই বাড়ুক, মানুষের হাতে থাকা টাকার প্রকৃত মূল্য কমতেই থাকবে।

আজ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—"বেতন কত?" নয়।
বরং প্রশ্ন হলো— "এই বেতন দিয়ে মাসের শেষ পর্যন্ত সম্মানের সঙ্গে সংসার চালানো যাবে তো?"

01/08/2026

ইয়াসিন: রাশেদ ভাই, ব্যাংকের ক্রেডিট ফাইল দেখতে গিয়ে একটি শব্দ বারবার চোখে পড়ছে—Pari-Passu Charge। নামটা শুনতে কঠিন লাগে। এটা আসলে কী?

রাশেদ: খুব ভালো প্রশ্ন। নতুন ব্যাংকারদের জন্য এটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Pari-Passu একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ "সমান ভিত্তিতে" (Equal Footing) বা "সমান অধিকার" (Equal Ranking)। ব্যাংকিংয়ে Pari-Passu Charge বলতে বোঝায়—একই সম্পদ বা জামানতের ওপর দুই বা ততোধিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমান আইনি অধিকার থাকা। অর্থাৎ, কোনো একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে না।

ইয়াসিন: একটা বাস্তব উদাহরণ দিলে বুঝতে আরও সহজ হবে।

রাশেদ: ধরো, ABC Garments Ltd. একটি নতুন কারখানা নির্মাণ করবে। প্রকল্পের জন্য দরকার ২০০ কোটি টাকা। একটি ব্যাংকের পক্ষে এত বড় ঋণ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই—

ব্যাংক A দিল ১০০ কোটি টাকা,
ব্যাংক B দিল ৬০ কোটি টাকা,
ব্যাংক C দিল ৪০ কোটি টাকা।

ঋণের বিপরীতে কোম্পানিটি তার কারখানার জমি, ভবন ও যন্ত্রপাতি জামানত হিসেবে দিল। এখন প্রশ্ন হলো—এই জামানতের মালিকানা বা চার্জ কার?
উত্তর হলো—তিনটি ব্যাংকেরই সমান (Pari-Passu) চার্জ থাকবে।

ইয়াসিন: যদি কোম্পানিটি ঋণ পরিশোধ করতে না পারে?

রাশেদ: তাহলে আদালতের নির্দেশনা বা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী জামানত বিক্রি করা হবে। ধরা যাক, জামানত বিক্রি করে পাওয়া গেল ১৫০ কোটি টাকা। এখন কোনো একটি ব্যাংক আগে পুরো টাকা নিয়ে যাবে না।
বরং প্রত্যেক ব্যাংক তাদের বকেয়া ঋণের অনুপাতে (Pro-rata basis) টাকা পাবে। এটাই Pari-Passu Charge-এর মূল বৈশিষ্ট্য।

ইয়াসিন: ব্যাংকগুলো কেন এমন ব্যবস্থা করে?

রাশেদ: কারণ এর অনেক সুবিধা রয়েছে—

✅ একটি বড় প্রকল্পে একাধিক ব্যাংক অংশ নিতে পারে।
✅ একটি ব্যাংকের ওপর অতিরিক্ত ঝুঁকি পড়ে না।
✅ একই জামানতের ওপর সবার আইনি অধিকার নিশ্চিত হয়।
✅ বড় শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন সহজ হয়।

ইয়াসিন: সব ঋণেই কি Pari-Passu Charge থাকে?

রাশেদ: না। এটি সাধারণত ব্যবহৃত হয়—
✔ Consortium Financing
✔ Syndicated Loan
✔ Joint Lending Arrangement (JLA)
✔ বড় কর্পোরেট ঋণ ব্যবস্থাপনায়।

ইয়াসিন: এখন আরেকটা প্রশ্ন—First Charge আর Pari-Passu Charge কি একই জিনিস?

রাশেদ: একদমই না। First Charge মানে— একটি ব্যাংক সবার আগে তার পাওনা আদায়ের অধিকার পাবে। অন্যদিকে, Pari-Passu Charge মানে— সব ব্যাংক একই স্তরে থাকবে; কেউ কারও আগে নয়। সবার অধিকার সমান।

📌 Pari-Passu = Equal Footing = Equal Charge = Equal Ranking

📌 একই জামানতের ওপর একাধিক ব্যাংকের সমান অধিকার।

📌 কোনো ব্যাংক অন্য ব্যাংকের তুলনায় অগ্রাধিকার পায় না, যদি না আলাদা চুক্তিতে তা নির্ধারণ করা থাকে।

📌 বড় কর্পোরেট ঋণ, Consortium Financing ও Syndicated Loan-এ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা।

ইয়াসিন: আজ বুঝলাম, Pari-Passu Charge মানে শুধু একই জামানত নয়, বরং সেই জামানতের ওপর সমান আইনি অধিকার নিশ্চিত করা।

রাশেদ: একদম ঠিক। একজন দক্ষ ব্যাংকারের জন্য শুধু ঋণ বিতরণ জানাই যথেষ্ট নয়; জামানতের আইনি কাঠামো বোঝাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি সঠিক Charge Structure-ই ভবিষ্যতে ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

📖 ব্যাংকিং পাঠশালার মূল কথা: "ঋণ দেওয়া সহজ, কিন্তু নিরাপদ ঋণ দেওয়াই একজন দক্ষ ব্যাংকারের প্রকৃত পরিচয়।"

#বাংলায়_ব্যাংকিং

28/07/2026

একটি ব্যাংকের শাখা। সকালবেলা। গ্রাহকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। ইয়াসীন নতুন কর্মকর্তা। হাতে একটি পত্রিকা। মুখে কৌতূহল। রাশেদ ভাই চায়ের কাপ হাতে ডেস্কে বসে দিনের কাজ গুছিয়ে নিচ্ছেন।

ইয়াসীন: (পত্রিকা হাতে) রাশেদ ভাই, আজকের পত্রিকায় দেখলাম—একটি ব্যাংক আবারও "AAA" ক্রেডিট রেটিং পেয়েছে। সবাই যেন খুব খুশি! কিন্তু আমার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছে।

রাশেদ: (হেসে) প্রশ্ন না থাকলে শেখা হয় না। বলো, কী জানতে চাও?

ইয়াসীন: এই AAA কি শুধু একটা সম্মাননা? নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো গল্প আছে?

রাশেদ: (চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে) খুব বড় গল্প আছে। চলো, আজকের ব্যাংকিং পাঠশালায় আমরা সেই গল্পটাই শুনি।

ধরো, আমাদের গ্রামের দুইজন ব্যবসায়ী—করিম আর রহিম। দুজনই বাজার থেকে ১০ লাখ টাকা ধার চাইলো। করিমের সম্পর্কে সবাই জানে—সময়মতো টাকা ফেরত দেয়, হিসাব পরিষ্কার, ব্যবসা স্থিতিশীল।
অন্যদিকে রহিম মাঝে মাঝেই কিস্তি মিস করে, ব্যবসাও ওঠানামা করে। বল তো, মহাজন কাকে আগে টাকা দেবে?

ইয়াসীন: করিমকেই। কারণ তার ওপর বিশ্বাস আছে।

রাশেদ: এই "বিশ্বাস"কেই আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় Creditworthiness। আর সেই বিশ্বাসকে সংখ্যায় ও গ্রেডে প্রকাশ করে যে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, সেটাই দেয় ক্রেডিট রেটিং।

ইয়াসীন: তাহলে এটা স্কুলের রিপোর্ট কার্ডের মতো?

রাশেদ: একদম। যেমন পরীক্ষায় কেউ A+, কেউ A, কেউ B পায়। তেমনি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিভিন্ন গ্রেড দেওয়া হয়। AAA মানে সবচেয়ে শক্তিশালী। AA মানে খুব ভালো। A মানে ভালো। BBB পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। এর নিচে নামতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে থাকে।

ইয়াসীন: অর্থাৎ গ্রেড যত নিচে, ঋণ ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তাও তত বেশি।

রাশেদ: ঠিক তাই।

ইয়াসীন: কিন্তু একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী তো ব্যাংকের সব হিসাব জানে না। তাহলে?

রাশেদ: সেখানেই ক্রেডিট রেটিংয়ের প্রয়োজন।
ধরো, তুমি বিদেশে বসে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকে বিনিয়োগ করবে। তুমি কি প্রতিটি ফাইল খুলে দেখবে?

ইয়াসীন: অসম্ভব।

রাশেদ: তাই স্বাধীন রেটিং এজেন্সির মূল্যায়নই হয়ে ওঠে প্রথম ভরসা। একটি ভালো রেটিং অনেক সময় হাজার পৃষ্ঠার আর্থিক প্রতিবেদনের সারাংশ হয়ে যায়।

ইয়াসীন: এই রেটিং দেয় কারা?

রাশেদ: বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত তিনটি প্রতিষ্ঠান—
Moody's, S&P Global Ratings, Fitch Ratings।
এদের বলা হয় "Big Three"। বাংলাদেশেও কয়েকটি অনুমোদিত ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি রয়েছে, যারা ব্যাংক, বীমা কোম্পানি, এনবিএফআই ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের রেটিং করে।

ইয়াসীন: ধরুন কোনো ব্যাংক এ বছর অনেক লাভ করল। তাহলেই কি AAA?

রাশেদ: (হাসি দিয়ে) না। যদি তাই হতো, তাহলে সবাই এক বছরে ভালো লাভ দেখিয়ে AAA নিয়ে নিত। রেটিং এজেন্সি অনেক বিষয় দেখে— মূলধন কতটা শক্তিশালী। খেলাপি ঋণ কত। তারল্য কেমন। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর। করপোরেট গভর্ন্যান্স আছে কি না। ব্যবস্থাপনা কতটা দক্ষ। ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কেমন।

রাশেদ: ধরো একজন মানুষ বাইরে থেকে খুব সুস্থ দেখাচ্ছে। কিন্তু ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন—
হার্টে সমস্যা আছে। ডায়াবেটিসও আছে। রক্তচাপও অস্বাভাবিক। বাইরে দেখে কি বোঝা যায়?

ইয়াসীন: না।

রাশেদ: ঠিক তেমনি একটি প্রতিষ্ঠানের বাইরের চাকচিক্য দেখে তার প্রকৃত আর্থিক স্বাস্থ্য বোঝা যায় না। ক্রেডিট রেটিং অনেকটা পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো।

ইয়াসীন: তাহলে AAA পেলে লাভ কী?

রাশেদ: অনেক।
✔ কম খরচে ঋণ পাওয়া যায়।
✔ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হন।
✔ বন্ড বা সুকুক সহজে বিক্রি করা যায়।
✔ বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।
✔ বড় বড় ব্যবসায়িক অংশীদারও বেশি আস্থা রাখে।

ইয়াসীন: তাহলে AAA মানেই নিশ্চিন্ত?

রাশেদ: না। মনে রাখবে— ক্রেডিট রেটিং ভবিষ্যতের গ্যারান্টি নয়। এটি নির্দিষ্ট সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া একটি স্বাধীন মতামত। পরিস্থিতি বদলালে রেটিংও বদলে যেতে পারে।

রাশেদ: ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের কথা শুনেছ?

ইয়াসীন: শুনেছি।

রাশেদ: তখন কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদও উচ্চ রেটিং পেয়েছিল। পরে সেগুলো ধসে পড়ে। এরপর পুরো বিশ্ব রেটিং ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেয়। এ থেকেই শিক্ষা— রেটিং গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেটিই একমাত্র সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।

ইয়াসীন: আমাদের দেশে এর গুরুত্ব কি বাড়ছে?

রাশেদ: অবশ্যই। ব্যাংক, এনবিএফআই, বীমা কোম্পানি, করপোরেট বন্ড, সুকুক—সব ক্ষেত্রেই এখন রেটিংয়ের গুরুত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে বড় বিনিয়োগকারী, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ভালো রেটিং একটি বড় শক্তি।

ইয়াসীন: সাধারণ মানুষের কি এতে কোনো উপকার হয়?

রাশেদ: অবশ্যই। যখন তুমি কোনো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করবে বা বড় অঙ্কের অর্থ রাখবে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং তোমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে—প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে কতটা শক্তিশালী। তবে শুধু রেটিং নয়, প্রতিষ্ঠানের সুনাম, আর্থিক প্রতিবেদন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যও দেখা উচিত।

ইয়াসীন: আজ বুঝলাম— ক্রেডিট রেটিং শুধু কয়েকটি ইংরেজি অক্ষর নয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সততা, আর্থিক শৃঙ্খলা, সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

রাশেদ: ঠিক তাই। একটি শক্তিশালী ক্রেডিট রেটিং শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বাড়ায় না, বরং পুরো দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাসও বাড়ায়। আর মনে রেখো—
"আস্থা এক দিনে তৈরি হয় না। বছরের পর বছর সততা, স্বচ্ছতা, সুশাসন ও দায়িত্বশীলতার ওপর দাঁড়িয়েই একটি প্রতিষ্ঠান অর্জন করে তার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি—একটি শক্তিশালী ক্রেডিট রেটিং।"

(দুজনের মুখে হাসি। ব্যাংকের দরজা দিয়ে নতুন একজন গ্রাহক প্রবেশ করেন। রাশেদ উঠে দাঁড়িয়ে বলেন—) "স্বাগতম। ব্যাংকিং শুধু টাকা লেনদেনের নাম নয়; এটি আস্থা গড়ে তোলারও একটি শিল্প।"

23/07/2026

ইয়াসিন: রাশেদ ভাই, টেলিভিশন বা পত্রিকায় প্রায়ই শুনি— "ওভার ইনভয়েসিং করে অর্থ পাচার" বা "আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার"। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ তো বুঝতেই পারে না, কাগজপত্র দিয়ে আবার টাকা কীভাবে পাচার হয়!

রাশেদ: ঠিক বলেছো। চল, খুব সহজ একটা গল্প দিয়ে বুঝাই। ধরো, একজন ব্যবসায়ী বিদেশ থেকে ১,০০০টি মোবাইল ফোন আমদানি করলেন। প্রতিটি ফোনের প্রকৃত দাম ১০০ ডলার। অর্থাৎ মোট মূল্য হওয়ার কথা— ১,০০০ × ১০০ = ১,০০,০০০ ডলার। ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি (LC) খুলে এই অর্থ বিদেশে পাঠানো হবে। এ পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হতে পারে Trade-Based Money Laundering (TBML)।

🟢 ঘটনা–১ : Over Invoicing (দাম বেশি দেখানো)

ইয়াসিন: এটা কীভাবে হয়?

রাশেদ: ধরো বিদেশের বিক্রেতা ও বাংলাদেশের আমদানিকারক আগে থেকেই একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে রেখেছে। তারা ইনভয়েসে লিখল—
১,০০,০০০ ডলারের পরিবর্তে ২,০০,০০০ ডলার।
ব্যাংক যদি বিষয়টি বুঝতে না পারে, তাহলে ২,০০,০০০ ডলারই বিদেশে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু প্রকৃত পণ্যের মূল্য তো মাত্র ১,০০,০০০ ডলার। বাকি ১,০০,০০০ ডলার বিদেশে থাকা অপরাধীদের অ্যাকাউন্টে থেকে গেল।
অর্থাৎ কাগজে-কলমে বৈধ ব্যবসা হলেও বাস্তবে এটি অর্থ পাচার।

🎯 বাস্তব জীবনের উদাহরণ: ধরো— একটি গাড়ির প্রকৃত মূল্য ৩০ লাখ টাকা। কাগজে দেখানো হলো ৫০ লাখ টাকা। ব্যাংক ৫০ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দিল। বিদেশে অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা অপরাধীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেল। বাংলাদেশে কেউ বুঝতেই পারল না—কারণ সব কাগজপত্র দেখতে ঠিকঠাক।

🔵 ঘটনা–২ : Under Invoicing (দাম কম দেখানো)

ইয়াসিন: এবার কম দাম দেখালে কী লাভ?

রাশেদ: ধরো একজন রপ্তানিকারক বিদেশে ১ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। কিন্তু কাগজে লিখলেন—
মাত্র ৬০ লাখ টাকা। তাহলে ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসবে ৬০ লাখ টাকা। বাকি ৪০ লাখ টাকা বিদেশের কোনো অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়া হলো। এই অর্থ পরে বাড়ি কেনা, বিনিয়োগ কিংবা অন্য অপরাধে ব্যবহার করা যেতে পারে।

🟣 ঘটনা–৩ : একই পণ্যের জন্য একাধিক ইনভয়েস

ইয়াসিন: এটা আবার কীভাবে সম্ভব?

রাশেদ: ধরো একই চালানের জন্য দুইটি আলাদা ইনভয়েস তৈরি করা হলো। একটি ইনভয়েস দেখিয়ে একটি ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়া হলো। আবার অন্য ইনভয়েস দেখিয়ে অন্য ব্যাংক থেকেও অর্থ পরিশোধ করানো হলো। ফলে একই পণ্যের জন্য দুইবার অর্থ বিদেশে চলে গেল।

🟠 ঘটনা–৪ : Ghost Shipment (ভুয়া চালান)

ইয়াসিন: তাহলে কি এমনও হয় যে কোনো পণ্যই আসে না?

রাশেদ: অবশ্যই। কাগজে লেখা আছে, ৫০০ টন যন্ত্রপাতি এসেছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পণ্যই আসেনি।
শুধু জাল কাগজ তৈরি করে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

🌎 পৃথিবীতে এমন ঘটনা কি সত্যিই ঘটেছে?

ইয়াসিন: এসব কি শুধু গল্প, নাকি বাস্তবেও হয়েছে?

রাশেদ: বাস্তবেই হয়েছে। Financial Action Task Force (FATF), জাতিসংঘ এবং বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে— দক্ষিণ আমেরিকার মাদক চক্র TBML ব্যবহার করে কোটি কোটি ডলার বৈধ অর্থে রূপান্তর করেছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভুয়া ইনভয়েস ব্যবহার করে অর্থ পাচারের অসংখ্য ঘটনা ধরা পড়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক তদন্তে দেখা গেছে, একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অতিমূল্যায়ন (Over Invoicing) ও কমমূল্যায়ন (Under Invoicing) ছিল অর্থ পাচারের প্রধান কৌশল।

ইয়াসিন: বাংলাদেশেও কি এমন হয়?

রাশেদ: বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম, তদন্ত সংস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে— কিছু অসাধু আমদানিকারক বিদেশ থেকে পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছে। আবার কিছু রপ্তানিকারক প্রকৃত রপ্তানি আয় দেশে না এনে বিদেশে রেখে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাই নিয়মিত ব্যাংকগুলোকে Over Invoicing, Under Invoicing এবং Trade Misinvoicing শনাক্ত করার নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিটি কাগজপত্র এখন অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়।

ইয়াসিন: ধরুন আমি একজন ব্যাংকার। তাহলে কী কী বিষয় দেখব?

রাশেদ: খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদি দেখো—
🔴 বাজারদরের তুলনায় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেশি বা কম।
🔴 একই গ্রাহক বারবার একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেন করছে।
🔴 পণ্যের সঙ্গে ইনভয়েসের বিবরণ মিলছে না।
🔴 বিল অব লেডিং, প্যাকিং লিস্ট ও ইনভয়েসে অসঙ্গতি রয়েছে।
🔴 গ্রাহকের ব্যবসার সঙ্গে লেনদেনের ধরন মিলছে না।
🔴 নতুন প্রতিষ্ঠানের হঠাৎ কোটি কোটি টাকার আমদানি।
🔴 অপ্রয়োজনীয় তৃতীয় পক্ষকে অর্থ প্রদান।
🔴 উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সঙ্গে অস্বাভাবিক লেনদেন।

তাহলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।

ইয়াসিন: সন্দেহ হলে কী করব?

রাশেদ: একজন দক্ষ ব্যাংকার কখনো শুধু কাগজ দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তিনি—
✔ গ্রাহকের KYC ও CDD সঠিকভাবে সম্পন্ন করেন।
✔ গ্রাহকের ব্যবসার প্রকৃতি বোঝেন।
✔ বাজারদরের সঙ্গে ইনভয়েস মিলিয়ে দেখেন।
✔ প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট চান।
✔ সন্দেহজনক লেনদেন AML/Compliance বিভাগে পাঠান।
✔ প্রয়োজন হলে STR/SAR দাখিলের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন।

ইয়াসিন: আজ বুঝলাম, অর্থ পাচার সব সময় স্যুটকেসে টাকা ভরে সীমান্ত পার করার নাম নয়।

রাশেদ: একদম ঠিক। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থ পাচারের একটি মাধ্যম হলো কাগজে-কলমে ব্যবসাকে ব্যবহার করে অর্থ পাচার (Trade-Based Money Laundering)। তাই একজন ব্যাংকারের কাজ শুধু এলসি খোলা বা বিল পরিশোধ করা নয়; বরং প্রতিটি ইনভয়েস, প্রতিটি ডকুমেন্ট এবং প্রতিটি লেনদেনের পেছনের বাস্তবতা যাচাই করা।

📖 ব্যাংকিং পাঠশালার মূল বার্তা
"একটি ইনভয়েস কখনো শুধু একটি কাগজ নয়। এর আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের একটি বড় ষড়যন্ত্র। তাই সতর্ক ব্যাংকারই নিরাপদ ব্যাংকিং ও শক্তিশালী অর্থনীতির প্রথম প্রহরী।"

Address

Paragon City, Nobab Sirajuddola Road, Anderkilla
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bankers' Alliance of Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Bankers' Alliance of Bangladesh:

Shortcuts

Share