Bankers' Alliance of Bangladesh

Bankers' Alliance of Bangladesh Bankers' Alliance of Bangladesh is a non-profit organisation that represent This is a networking page for the Banker community of Bangladesh.

We, a group of young bankers of different banks of Bangladesh, were planning to do something which would play a role to develop banking expertise of bankers and consequently play a further positive role in banking sector and economy of Bangladesh as well. We were seeking a platform to shape our dream which would help us be a true/practical part of building digital Bangladesh. Bankers' Alliance o

f Bangladesh is that platform which was formally inaugurated at Boat Club, Chittagong on 8th August, 2015

The basic objectives of the organisation are:

(i) to develop a bankers community and establish a strong platform for Bankers. (ii) to develop bonding among members & expanding public relations through involvement of Bankers of all level. (iii) to disseminate knowledge on banking and financial services through publication of journals, newsletters and by organising lectures, seminars, etc. ;

(iv) to undertake any other activity incidental to, and facilitating, the achievement of the basic objectives of the Bankers' Alliance of Bangladesh as mentioned above.

15/06/2026

ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে সেই অর্থ কীভাবে বিনিয়োগ করা হয়? ইসলামী ব্যাংক কীভাবে সুদ ছাড়া আয় করে? মুরাবাহা, মুশারাকা, মুদারাবা, ইজারা—এত নামের ভিড়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, "আসলে এগুলো কী?"

চলুন দুই ব্যাংকার কায়সার ও ইকবালের কথোপকথনের মাধ্যমে বিষয়টি সহজভাবে জানি।
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল ভিত্তি হলো—সুদ (রিবা) নয়, বরং ব্যবসা, অংশীদারিত্ব, ভাড়া ও বাস্তব সম্পদভিত্তিক লেনদেন। অর্থকে অর্থের বিনিময়ে বাড়ানো নয়; বরং বাস্তব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা।

প্রথম পর্ব: মুরাবাহা (Murabaha)

কায়সার: ইকবাল ভাই, ইসলামী ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি কোন মোড ব্যবহার হয়?

ইকবাল: মুরাবাহা। একে বলা যায় "ক্রয় করে মুনাফাসহ বিক্রয়" পদ্ধতি।

কায়সার: একটু সহজ করে বলুন।

ইকবাল: ধরো, একজন ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকার কাপড় দরকার। ব্যাংক তাকে টাকা ধার না দিয়ে আগে নিজে কাপড় কিনবে। এরপর সেই কাপড় গ্রাহকের কাছে ১১ লাখ বা ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করবে। গ্রাহক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করবে।

কায়সার: অর্থাৎ ব্যাংক পণ্যের মালিক হয়, তারপর বিক্রি করে?

ইকবাল: ঠিক তাই। এ কারণেই এটি সুদভিত্তিক ঋণ নয়; বরং একটি বৈধ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি।

দ্বিতীয় পর্ব: বাই-মুয়াজ্জাল (Bai-Muajjal)

কায়সার: তাহলে বাই-মুয়াজ্জাল কী?

ইকবাল: এটাও বিক্রয় চুক্তি। তবে এখানে মূল বিষয় হলো বাকিতে বিক্রি। উদাহরণ: ব্যাংক একটি মেশিন ৫ লাখ টাকায় কিনে গ্রাহকের কাছে ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করল। গ্রাহক তিন বছরে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করবে।

তৃতীয় পর্ব: মুশারাকা (Musharaka)

কায়সার: আমি শুনেছি মুশারাকায় লাভ-ক্ষতি ভাগাভাগি হয়।

ইকবাল: একদম ঠিক। ধরো তুমি ও আমি মিলে একটি ব্যবসা শুরু করলাম। তুমি দিলে ৬ লাখ টাকা, আমি দিলাম ৪ লাখ টাকা। ব্যবসায় লাভ হলে আমরা চুক্তি অনুযায়ী ভাগ করব। আর ক্ষতি হলে মূলধনের অনুপাতে বহন করব।

কায়সার: অর্থাৎ ব্যাংকও এখানে ব্যবসার অংশীদার?
ইকবাল: হ্যাঁ। ইসলামী অর্থনীতিতে এটিই সবচেয়ে আদর্শ অংশীদারিত্বভিত্তিক মডেল হিসেবে বিবেচিত।

চতুর্থ পর্ব: ডিমিনিশিং মুশারাকা

কায়সার: বর্তমানে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কোন মোড বেশি ব্যবহৃত হয়?

ইকবাল: ডিমিনিশিং মুশারাকা। ধরো, একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৫০ লাখ টাকা। গ্রাহক দিলেন ১০ লাখ। ব্যাংক দিল ৪০ লাখ। এখন ফ্ল্যাটের মালিক দুজনই। প্রতি মাসে গ্রাহক ব্যাংকের অংশ ধীরে ধীরে কিনতে থাকবেন। ফলে ব্যাংকের মালিকানা কমবে এবং গ্রাহকের মালিকানা বাড়বে। একসময় পুরো ফ্ল্যাট গ্রাহকের হয়ে যাবে।

পঞ্চম পর্ব: মুদারাবা (Mudaraba)

কায়সার: মুদারাবা আর মুশারাকার মধ্যে পার্থক্য কী?

ইকবাল: মুশারাকায় উভয় পক্ষ মূলধন দেয়। কিন্তু মুদারাবায় একজন মূলধন দেয়, অন্যজন শ্রম ও দক্ষতা দেয়। উদাহরণ: ব্যাংক ২০ লাখ টাকা দিল। উদ্যোক্তা ব্যবসা পরিচালনা করলেন। লাভ হলে চুক্তি অনুযায়ী ভাগ হবে।ক্ষতি হলে (যদি উদ্যোক্তার অবহেলা না থাকে) মূলধনের ক্ষতি ব্যাংক বহন করবে।

ষষ্ঠ পর্ব: ইজারা (Ijarah)

কায়সার: ইজারা কি লিজিংয়ের মতো?

ইকবাল: হ্যাঁ। ধরো একটি ট্রাকের প্রয়োজন। ব্যাংক ট্রাক কিনবে এবং গ্রাহককে ভাড়ায় ব্যবহার করতে দেবে। গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভাড়া দেবেন। মেয়াদ শেষে মালিকানা হস্তান্তরও হতে পারে।

সপ্তম পর্ব: HPSM

কায়সার: HPSM এত জনপ্রিয় কেন?

ইকবাল: কারণ এটি বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসায়িক সম্পদ ক্রয়ে খুব কার্যকর। এখানে ব্যাংক ও গ্রাহক যৌথভাবে সম্পদের মালিক হয়। গ্রাহক ব্যবহার করেন এবং ধীরে ধীরে ব্যাংকের অংশ কিনে নেন।

অষ্টম পর্ব: বাই-সালাম

কায়সার: কৃষকদের জন্য কোন মোডটি বেশি উপযোগী?

ইকবাল: বাই-সালাম। ধরো একজন কৃষক ধান উৎপাদনের জন্য অর্থ চান। ব্যাংক আগে থেকেই ধানের মূল্য পরিশোধ করবে। ফসল উৎপাদনের পর কৃষক ব্যাংকের কাছে ধান সরবরাহ করবেন।

নবম পর্ব: ইস্তিসনা

কায়সার: বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পে কী হয়?

ইকবাল: সেখানে ইস্তিসনা ব্যবহৃত হয়। ধরো একটি জাহাজ বা কারখানা তৈরি করতে হবে। ব্যাংক নির্মাণের অর্ডার দেবে এবং ধাপে ধাপে অর্থায়ন করবে। নির্মাণ শেষ হলে সম্পদ হস্তান্তর করা হবে।

দশম পর্ব: কার্ড-এ-হাসান

কায়সার: ইসলামী ব্যাংকে কি সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণ আছে?

ইকবাল: আছে। এর নাম কার্ড-এ-হাসান। এখানে ব্যাংক শুধুমাত্র মূল অর্থ ফেরত নেয়। সাধারণত চিকিৎসা, শিক্ষা বা মানবিক প্রয়োজনে দেওয়া হয়।

একাদশ পর্ব: ওয়াকালা

কায়সার: ওয়াকালা কী?

ইকবাল: প্রতিনিধি নিয়োগ। গ্রাহক ব্যাংককে বলেন—"আমার পক্ষে আপনি বিনিয়োগ পরিচালনা করুন।"
ব্যাংক একটি নির্ধারিত ফি গ্রহণ করে সেই কাজ করে।

দ্বাদশ পর্ব: সুকুক (Sukuk)

কায়সার: ইসলামী বন্ড বলতে কী বোঝায়?

ইকবাল: সেটিই সুকুক। প্রচলিত বন্ড সুদভিত্তিক হলেও সুকুক বাস্তব সম্পদের মালিকানা বা আয়ভিত্তিক অংশীদারিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। সাধারণত বড় অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়।

আলোচনা শেষে কায়সার বললেন, "এখন বুঝতে পারছি, ইসলামী ব্যাংকিং শুধু সুদকে অন্য নামে চালানো নয়; বরং পণ্য, সম্পদ, ব্যবসা, অংশীদারিত্ব ও বাস্তব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিনিয়োগ কাঠামো তৈরি করেছে।"

হেসে ইকবাল উত্তর দিলেন, "ঠিক তাই। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল দর্শন হলো—ঝুঁকি ভাগাভাগি, বাস্তব সম্পদের সাথে সম্পৃক্ততা এবং ন্যায্য মুনাফা অর্জন। অর্থের বিনিময়ে অর্থ নয়; বরং অর্থের মাধ্যমে উৎপাদন, ব্যবসা ও উন্নয়ন।"

14/06/2026

একদিন অফিস শেষে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা, রাশেদ ও ইয়াসিন, চা হাতে বসেছেন ব্যাংকের লাউঞ্জে।

রাশেদ: ইয়াসিন ভাই, ব্যাংকিং পরীক্ষায় দেখি RTGS, BEFTN, NPSB আর Cheque Clearing নিয়ে অনেক প্রশ্ন আসে। আবার গ্রাহকরাও প্রায়ই জানতে চান। সহজভাবে বুঝিয়ে বলবেন?

ইয়াসিন: অবশ্যই! চলুন গল্প করেই শিখি।

১. RTGS — বড় অঙ্কের টাকার এক্সপ্রেস ট্রেন
ইয়াসিন: ধরুন, একজন ব্যবসায়ীকে আজই ১০ লাখ টাকা ঢাকায় পাঠাতে হবে। তিনি অপেক্ষা করতে পারবেন না। তখন আমরা ব্যবহার করি RTGS (Real Time Gross Settlement)।

রাশেদ: Real Time মানে কি সঙ্গে সঙ্গে?

ইয়াসিন: ঠিক তাই। RTGS-এ প্রতিটি লেনদেন আলাদাভাবে প্রসেস হয় এবং টাকা কয়েক মিনিটের মধ্যেই গন্তব্য ব্যাংকে পৌঁছে যায়।

রাশেদ: তাহলে এটা অনেকটা এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো?

ইয়াসিন: একদম! যাত্রী (টাকা) মাঝপথে কোথাও দাঁড়ায় না। সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

RTGS-এর বৈশিষ্ট্য
✅ সাধারণত বড় অঙ্কের লেনদেনে ব্যবহৃত হয়।
✅ বাংলাদেশে বর্তমানে ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি অর্থ স্থানান্তরের জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়।
✅ Real Time অর্থাৎ তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি।
✅ জরুরি ব্যবসায়িক ও কর্পোরেট লেনদেনের জন্য আদর্শ।

রাশেদ: অর্থাৎ বড় অঙ্ক + দ্রুত সময় = RTGS।

ইয়াসিন: ঠিক ধরেছেন।

২. BEFTN — সবার প্রিয় নিয়মিত পরিবহন
রাশেদ: এবার BEFTN?

ইয়াসিন: BEFTN-এর পুরো নাম Bangladesh Electronic Funds Transfer Network। ধরুন, একটি কোম্পানি তাদের ৫০০ কর্মচারীর বেতন একসঙ্গে পাঠাবে। সবার জন্য আলাদা RTGS করা ঝামেলা। তখন BEFTN সবচেয়ে উপযোগী।

রাশেদ: কেন?

ইয়াসিন: কারণ BEFTN ব্যাচ আকারে কাজ করে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে অনেকগুলো লেনদেন একসঙ্গে প্রসেস হয়।

BEFTN-এর ব্যবহার
✅ বেতন প্রদান
✅ ভাতা প্রদান
✅ বিল পরিশোধ
✅ ব্যবসায়িক পেমেন্ট
✅ সাধারণ ব্যাংক-টু-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার

রাশেদ: তাহলে এটা অনেকটা বাস সার্ভিসের মতো?

ইয়াসিন: দারুণ উদাহরণ! বাস নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়ে, যাত্রীদের একসঙ্গে নিয়ে যায়। BEFTN-ও ঠিক তাই।

রাশেদ: টাকা কি সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে?

ইয়াসিন: না। ব্যাচ অনুযায়ী প্রসেস হয়। তাই কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত নির্ধারিত কাট-অফ সময়ের মধ্যে পাঠালে একই দিনে ক্রেডিট হতে পারে, নাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়।

৩. NPSB — মোবাইল গতির ব্যাংকিং
রাশেদ: এখন NPSB নিয়ে বলুন।

ইয়াসিন: NPSB-এর পূর্ণরূপ National Payment Switch Bangladesh। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম, যা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেনকে এক নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছে।

রাশেদ: এর সুবিধা কী?

ইয়াসিন: ধরুন আপনার ইসলামী ব্যাংকের ATM কার্ড আছে, কিন্তু কাছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথ। NPSB থাকার কারণে আপনি সেই বুথ থেকেই টাকা তুলতে পারবেন।

রাশেদ: অসাধারণ!

ইয়াসিন: শুধু তাই নয়— NPSB-এর সুবিধা:
✅ Instant Fund Transfer
✅ Interbank ATM ব্যবহার
✅ POS মেশিনে পেমেন্ট
✅ অনলাইন লেনদেন
✅ দ্রুত ও নিরাপদ ট্রান্সফার

রাশেদ: তাহলে এটা অনেকটা দেশের সব ব্যাংককে সংযুক্ত করা একটি মহাসড়কের মতো?

ইয়াসিন: একদম ঠিক!

৪. Cheque Clearing — ঐতিহ্যবাহী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া
রাশেদ: এবার Clearing?

ইয়াসিন: ধরুন, আপনার কাছে একটি চেক আছে যা অন্য ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ইস্যু করা হয়েছে।
আপনি সেটি নিজের ব্যাংকে জমা দিলেন। তখন কী হবে?

রাশেদ: ব্যাংক কি সরাসরি টাকা দিয়ে দেবে?

ইয়াসিন: না। প্রথমে চেকটি যাচাই হবে। তারপর বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে পাঠানো হবে। চেকের তথ্য, স্বাক্ষর, অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স সব যাচাই শেষে টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

Clearing-এর ধাপ
✅ চেক জমা
✅ তথ্য যাচাই
✅ ক্লিয়ারিং হাউসে প্রেরণ
✅ ড্রই ব্যাংকের অনুমোদন
✅ গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা

রাশেদ: অর্থাৎ এটি অনেকটা ডাক বিভাগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র যাচাই করে গন্তব্যে পাঠানোর মতো।

ইয়াসিন: একদম।

রাশেদ: এতক্ষণে বিষয়টা পরিষ্কার। তবু এক লাইনে বললে—

ইয়াসিন:
🔹 RTGS = বড় অঙ্কের টাকা + তাৎক্ষণিক ট্রান্সফার
🔹 BEFTN = সাধারণ ফান্ড ট্রান্সফার + ব্যাচ প্রসেসিং
🔹 NPSB = তাৎক্ষণিক ট্রান্সফার + ATM/POS আন্তঃব্যাংক সুবিধা@
🔹 Cheque Clearing = চেকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর

চা শেষ করে রাশেদ হাসতে হাসতে বললেন— "আজ বুঝলাম, ব্যাংকিং শুধু টাকা লেনদেন নয়; এর পেছনে রয়েছে প্রযুক্তি, গতি ও নিরাপত্তার এক চমৎকার সমন্বয়।"

ইয়াসিন উত্তর দিলেন— "আর একজন দক্ষ ব্যাংকারের কাজ হলো গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে সঠিক মাধ্যমটি বেছে দেওয়া। বড় অঙ্কের জরুরি লেনদেন হলে RTGS, নিয়মিত পেমেন্ট হলে BEFTN, দ্রুত কার্ডভিত্তিক ট্রান্সফার হলে NPSB আর চেকের ক্ষেত্রে Clearing— এটাই স্মার্ট ব্যাংকিং।"

11/06/2026

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ATM থেকে টাকা তোলেন। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, মেশিনের ভেতরে টাকা কোথায় রাখা থাকে? আর আপনি ৫,০০০ টাকা চাইলে ATM কীভাবে ঠিক ৫,০০০ টাকাই বের করে দেয়?

আসুন, ATM-এর ভেতরের জগতে একটু ঘুরে আসি।
🏧 ATM (Automated Teller Machine) আসলে একটি ছোট্ট স্বয়ংক্রিয় ব্যাংক শাখার মতো। এর ভেতরে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিখুঁত হিসাবের সমন্বয়।

ATM-এর ভেতরের প্রধান অংশগুলো

১️⃣ ক্যাশ ক্যাসেট (Cash Cassette)
এটাই ATM-এর টাকার ভাণ্ডার।
বিভিন্ন মূল্যমানের নোট আলাদা আলাদা ক্যাসেটে রাখা হয়। যেমন— 💵 ১০০ টাকার নোট
💵 ৫০০ টাকার নোট
💵 ১০০০ টাকার নোট
প্রতিটি ক্যাসেটে হাজার হাজার নোট সংরক্ষণ করা যায়।

২️⃣ ক্যাশ ডিসপেনসার (Cash Dispenser)
এটিকে ATM-এর "টাকা বিতরণকারী" বলা যায়।
আপনি টাকা তোলার অনুরোধ করলে ডিসপেনসার নির্দিষ্ট ক্যাসেট থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নোট বের করে। উন্নত সেন্সর নোট গুনে দেখে এবং জোড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট আলাদা করে ফেলে।

৩️⃣ কার্ড রিডার
এখানে আপনার ATM বা ডেবিট কার্ডের তথ্য পড়া হয় এবং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়।

৪️⃣ কীপ্যাড
এখানে আপনি PIN নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রদান করেন।

৫️⃣ ডিসপ্লে স্ক্রিন
লেনদেনের নির্দেশনা, ব্যালেন্স, উত্তোলনের পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য দেখায়।

৬️⃣ রসিদ প্রিন্টার
প্রয়োজনে লেনদেনের স্লিপ বা রসিদ প্রিন্ট করে দেয়।

৭️⃣ রিজেক্ট বিন (Reject Bin)
যদি কোনো নোট ভাঁজ করা, ক্ষতিগ্রস্ত বা একসঙ্গে আটকে থাকে, তাহলে সেটি এই বিশেষ বাক্সে জমা হয়।

৮️⃣ সেফ ভল্ট (Safe Vault)
ATM-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মেশিনের নিচে থাকা এই ভারী স্টিলের ভল্টের ভেতরেই ক্যাশ ক্যাসেটগুলো থাকে। এটি ব্যাংকের ট্রেজারির মতোই শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সুরক্ষিত।

ATM থেকে টাকা বের হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া
🔹 আপনি কার্ড প্রবেশ করান
🔹 PIN নম্বর যাচাই হয়
🔹 ATM ব্যাংকের সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে
🔹 আপনার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স আছে কি না পরীক্ষা করা হয়
🔹 আপনি টাকার পরিমাণ নির্বাচন করেন
🔹 ডিসপেনসার ক্যাসেট থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক নোট বের করে
🔹 সেন্সর নোটগুলো পুনরায় গুনে নিশ্চিত করে
🔹 টাকা আউটলেটে চলে আসে
🔹 প্রয়োজনে রসিদ প্রিন্ট হয়
সবকিছু ঘটে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই!

ATM-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা : শক্তিশালী স্টিলের সেফ ভল্ট, ২৪ ঘণ্টা CCTV নজরদারী, অ্যালার্ম ও ভাঙচুর প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এনক্রিপ্টেড ডেটা ট্রান্সমিশন, টেম্পার সেন্সর (অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা ভাঙচুর শনাক্তকরণ), নির্দিষ্ট সময় পর ভুলে ফেলে যাওয়া কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটেইন করার ব্যবস্থা।

কিছু মজার তথ্য
💡 একটি ATM-এ লক্ষ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ রাখা যেতে পারে।
💡 বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যাশ-লোডিং টিম নির্দিষ্ট সময় পর ATM-এ নতুন টাকা ভরে।
💡 আধুনিক ATM একসঙ্গে আটকে থাকা নোট, ছেঁড়া নোট এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহজনক নোটও শনাক্ত করতে পারে।
💡 বেশিরভাগ ATM সার্বক্ষণিকভাবে ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, ফলে প্রতিটি লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড হয়।

সংক্ষেপে: ATM-এর টাকা কোনো খোলা অংশে থাকে না। মেশিনের নিচে থাকা অত্যন্ত সুরক্ষিত সেফ ভল্টের ভেতরে ক্যাশ ক্যাসেটে সংরক্ষিত থাকে। যখন আপনি টাকা তোলেন, তখন ডিসপেনসার নির্দিষ্ট সংখ্যক নোট গুনে, যাচাই করে এবং নিরাপদে আপনার হাতে পৌঁছে দেয়। অর্থাৎ, ATM শুধু টাকা দেওয়ার মেশিন নয়; এটি প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং নিখুঁত হিসাবের এক চমৎকার সমন্বয়। :::

09/06/2026

একটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের গল্প শুরু হয় তখনই, যখন সংকটের অন্ধকারে কেউ একজন সম্ভাবনার প্রদীপ জ্বালাতে সাহস করে। কারণ ইতিহাস বলে—সমস্যা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা সহজ, কিন্তু সমাধানের পথ নির্মাণ করা কঠিন। আর সেই কঠিন পথেই ভবিষ্যতের নতুন অধ্যায় লেখা হয়।

আজ বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে চ্যালেঞ্জের সংখ্যা কম নয়। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে যদি দেশের মূল সমস্যাগুলোকে দেখা যায়, তাহলে বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি নীরবে ক্ষত তৈরি করে। কারণ কর্মহীনতা শুধু একজন মানুষের আয় কেড়ে নেয় না, তার স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেও সংকুচিত করে ফেলে।

গত কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতির ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ডলার সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ আজও নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বাস্তবতা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের, তবে আশার বিষয় হলো—সমস্যাকে স্বীকার করে তা সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব মোস্তাকুর রহমানের সাম্প্রতিক উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়েছে। দেশের বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করা, উৎপাদনের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়া এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি সাহসী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ।
যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আশাবাদী করেছে, তা হলো এই উদ্যোগের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি। শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি, প্রবাসী কর্মসংস্থান, গ্রীন ইকোনমি, স্টার্টআপ এবং ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মতো ভবিষ্যৎমুখী খাতগুলোকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এটি কেবল অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা নয়; বরং একটি বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের রূপরেখা।

আরও প্রশংসার বিষয় হলো—অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এই তহবিল ব্যবস্থাপনায় কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, আয় থেকে স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ এবং অর্থপাচারকারী ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে এবার লক্ষ্য শুধু ঋণ দেওয়া নয়, বরং উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি করা।

আমরা অনেক সময় সমালোচনায় উদার হলেও ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর মূল্যায়নে কৃপণ হয়ে যাই। অথচ একটি দেশ এগিয়ে যায় তখনই, যখন ভুলের সমালোচনার পাশাপাশি সঠিক উদ্যোগকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আমরা বিশ্বাস করি, এই পরিকল্পনার যদি অর্ধেকও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার হবে, উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং লাখো পরিবার নতুন করে আশার আলো দেখবে।

রাজনৈতিক প্রভাব, বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর চাপ এবং নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার এই উদ্যোগকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিক—এটাই প্রত্যাশা। কারণ শক্তিশালী অর্থনীতি মানেই শক্তিশালী বাংলাদেশ; কর্মসংস্থান মানেই সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ; আর উৎপাদনমুখী বাংলাদেশই হতে পারে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভিত্তি।

দেশ এগিয়ে যাক। কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলুক। সম্ভাবনার বাংলাদেশ আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াক।

#অর্থনীতির_চাকা_ঘোরাতে_গভর্নরের_দূরদর্শী_উদ্যোগ #বাংলাদেশ_ব্যাংক #কর্মসংস্থান #শিল্পপুনরুজ্জীবন #অর্থনৈতিক_পুনর্জাগরণ #বাংলাদেশ

08/06/2026

ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করতে সম্মিলিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচালক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ড. খান সোবায়েল বিন রফিক।

ড. খান সোবায়েল বিন রফিক একজন গবেষক, বিশ্লেষক, চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়ার (যুক্তরাজ্য) এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌর প্রযুক্তি, উপকরণ বিজ্ঞান এবং টেকসই প্রকৌশল বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত। দীর্ঘ একাডেমিক ও গবেষণা জীবনে তিনি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (UKM)-এর সোলার এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (SERI) পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক ও সিনিয়র লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গবেষণা ক্ষেত্রে তার উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে পাতলা স্তরের (Thin-Film) সৌরকোষ, পেরোভস্কাইট সোলার সেল, শক্তি-সাশ্রয়ী আইওটি প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধান। তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত বিভিন্ন জার্নালে ৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাসির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) শিল্প, আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা প্রশংসিত।

এর আগে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর এবং ৯ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির সময় তদন্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করায় তিনি আলোচনায় আসেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে গবেষক ও বিশ্লেষক হিসেবে মতামত প্রদান করেন।

একাডেমিক উৎকর্ষতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, কৌশলগত বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা-অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ড. খান সোবায়েল বিন রফিকের অন্তর্ভুক্তি সম্মিলিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তার নেতৃত্ব, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন-দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাংকের আধুনিকায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

08/06/2026

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব কাজী শায়রুল হাসান নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন । আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে তিন বছরের জন্য এ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ কর্মজীবন, দক্ষ নেতৃত্ব এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর নিয়োগকে সংশ্লিষ্ট মহল ইতিবাচকভাবে দেখছে।

কাজী শায়রুল হাসান বাংলাদেশের কর্পোরেট ও ব্যাংকিং অঙ্গনের একজন সুপরিচিত নাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন ‘এক্স-আইবায়েট’ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের আর্থিক ও ব্যবসায়িক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

পেশাগত জীবনে তিনি বহুমাত্রিক নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিশেষ করে সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (SABINCO)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে টানা ১২ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। এ সময় তিনি দক্ষ তহবিল ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই বিনিয়োগ কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এছাড়াও তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে নীতি নির্ধারণ, করপোরেট গভর্ন্যান্স, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নমূলক অর্থায়নের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কাজী শায়রুল হাসান সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একজন দৃঢ় প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, করপোরেট প্রশাসন, তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অসামান্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

সম্প্রতি দেশের ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ও আস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজী শায়রুল হাসানের নিয়োগকে নতুন ব্যাংকটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পেশাগত সততা এবং নেতৃত্বগুণের সমন্বয়ে কাজী শায়রুল হাসান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি সুশাসন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে একজন দক্ষ সংগঠক, বিচক্ষণ নীতিনির্ধারক এবং অভিজ্ঞ আর্থিক ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজী শায়রুল হাসানের নাম ইতোমধ্যেই বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্ব দেশের আর্থিক খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।

08/06/2026

বাংলাদেশের ব্যাংকিং অঙ্গনের একজন সুপরিচিত ও দক্ষ পেশাজীবী মো. আবেদুর রহমান সিকদার রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন । দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের ব্যাংকিং খাতে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, সততা এবং নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছেন।

ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। এর আগে তিনি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-তে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবাকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়।

একজন বিচক্ষণ ব্যাংকার হিসেবে মো. আবেদুর রহমান সিকদার সব সময় সুশাসন, জবাবদিহিতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা সহকর্মী ও ব্যাংকিং মহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।

সরকার তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলির স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি আরও শক্তিশালী, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল প্রত্যাশা করছে।

ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার লক্ষ্যে মো. আবেদুর রহমান সিকদার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা।

06/06/2026

ব্যাংকের ব্যস্ত এক বিকেলে অফিসের কফি কর্নারে বসে কথা বলছিলেন দুই ব্যাংকার—ইয়াসিন ও জুয়েল।

ইয়াসিন: জুয়েল ভাই, অনেক গ্রাহকই জানতে চান—ঋণ খেলাপি হলে ব্যাংক কি সঙ্গে সঙ্গেই মামলা করে?

জুয়েল: না ভাই, মামলা হলো শেষ ধাপ। তার আগে অনেকগুলো প্রক্রিয়া আছে। চলুন সহজ করে বলি।
শুরুটা যেভাবে হয়। যখন কোনো ঋণগ্রহীতা দীর্ঘদিন কিস্তি পরিশোধ করেন না এবং ঋণ খেলাপি হয়ে যায়, তখন ব্যাংক প্রথমে একটি ফাইনাল বা ডিমান্ড নোটিশ পাঠায়। সেখানে সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধের অনুরোধ করা হয়।

ইয়াসিন: অর্থাৎ প্রথমেই আদালত নয়, আগে গ্রাহককে সুযোগ দেওয়া হয়?

জুয়েল: একদম ঠিক। ব্যাংক চায় গ্রাহক স্বেচ্ছায় ঋণ সমন্বয় করুক।

এরপর কী হয়?
ফাইনাল নোটিশের সময় শেষ হওয়ার পরও যদি গ্রাহক কোনো যোগাযোগ না করেন, তখন শাখা অফিস বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে পাঠায়। মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় Head Office Approval নেওয়া হয়।
অনুমতি পাওয়ার পর ব্যাংকের প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো হয় লিগ্যাল নোটিশ।

ইয়াসিন: এই নোটিশে কতদিন সময় দেওয়া হয়?

জুয়েল: সাধারণত ১৫ দিন। এই সময়ের মধ্যেও যদি ঋণ পরিশোধ বা সমঝোতা না হয়, তখন ব্যাংক আইনের পরবর্তী ধাপে যায়।

মামলা করার আগে কেন নিলাম?
এখানেই অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ধারা অনুযায়ী, বন্ধকী বা দায়বদ্ধ সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষমতা ব্যাংকের কাছে থাকলে ব্যাংক সরাসরি মামলা করতে পারে না। আগে সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করতে হবে অথবা বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হবে।

ইয়াসিন: অর্থাৎ মামলা করার আগে অন্তত একবার নিলামের উদ্যোগ নিতে হবে?

জুয়েল: ঠিক তাই। নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে, দরপত্র আহ্বান করতে হবে। যদি ক্রেতা না পাওয়া যায় বা প্রত্যাশিত মূল্য না ওঠে, তখন ব্যাংক আদালতে মামলা করতে পারে।

মামলা দায়েরের প্রস্তুতি, নিলাম ব্যর্থ হওয়ার পর ব্যাংকের আইনজীবী মামলা প্রস্তুত করেন। এর জন্য প্রয়োজন হয়— ঋণচুক্তি ও নিরাপত্তা দলিল, হিসাব বিবরণী, স্ট্যাম্প ও অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ
হলফনামা, নির্ধারিত কোর্ট ফি।

সব নথি প্রস্তুত হলে অর্থ ঋণ আদালতে আরজি (Plaint) দাখিল করা হয়। আদালত নথিপত্র পরীক্ষা করে মামলা গ্রহণ করেন এবং বিবাদীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
ইয়াসিন: সমন মানে আদালতে হাজির হওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ?

জুয়েল: ঠিক তাই। এরপর আসে Return of Summons বা SR। অর্থাৎ সমন পৌঁছেছে কিনা, গ্রহণ করা হয়েছে কিনা—তার প্রতিবেদন আদালতে জমা হয়।

কখনো বিবাদীকে খুঁজে পাওয়া না গেলে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের বিধান অনুযায়ী সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং তার কপি আদালতে জমা দেওয়া হয়।

সমন পাওয়ার পর বিবাদী আদালতে Written Statement (W/S) দাখিল করেন। এখানে তিনি বলতে পারেন—দাবির কোন অংশ সত্য, কোন অংশ অস্বীকার করেন, তার নিজের প্রতিরক্ষা কী, এবং তার পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে।

ইয়াসিন: সব মামলাই কি রায়ে যায়?

জুয়েল: না। আইন মধ্যস্থতারও সুযোগ দিয়েছে।
লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত চাইলে মামলাটি ADR (Alternative Dispute Resolution) বা মধ্যস্থতায় পাঠাতে পারেন। এতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।

যদি সমঝোতা না হয়, আদালত নির্ধারণ করেন আসল বিরোধের বিষয়গুলো কী। যেমন— ঋণের পরিমাণ কত? চুক্তি বৈধ কিনা? সুদের হিসাব সঠিক কিনা?
এসব প্রশ্নকে আদালত “Issue” হিসেবে নির্ধারণ করেন।

এরপর শুরু হয় শুনানি। Peremptory Hearing (PH) – প্রাথমিক বাধ্যতামূলক শুনানি। Further Hearing (FH) – অতিরিক্ত শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপন। মামলার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক FH হতে পারে।

সব সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষ হলে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে তাদের আইনগত যুক্তি উপস্থাপন করেন।

ইয়াসিন: যদি বিবাদী আদালতে না আসেন?
জুয়েল: তখন আদালত একতরফা শুনানি করতে পারেন। অর্থ ঋণ আদালত আইন অনুযায়ী, সমন যথাযথভাবে জারি হওয়ার পরও বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে আদালত Ex-Parte ভিত্তিতে মামলার নিষ্পত্তি করতে পারেন।

সবশেষে আদালত রায় প্রদান করেন। রায়ে থাকতে পারে—পাওনা অর্থ পরিশোধের নির্দেশ, বন্ধকী সম্পত্তি নিলামের নির্দেশ, অথবা বিবাদীর অন্যান্য সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ। রায়ের পর ব্যাংক প্রয়োজন হলে Ex*****on Suit (জারি মামলা) দায়ের করে ডিক্রি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

কফির কাপ শেষ করে জুয়েল বললেন— “অনেকেই ভাবেন ঋণ খেলাপি হলেই ব্যাংক মামলা করে দেয়। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি এত সহজ নয়। ফাইনাল নোটিশ, লিগ্যাল নোটিশ, নিলামের চেষ্টা, সমঝোতার সুযোগ—সবকিছু শেষ হওয়ার পরই সাধারণত অর্থ ঋণ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। আইন যেমন ব্যাংকের পাওনা আদায়ের সুযোগ দিয়েছে, তেমনি গ্রাহককেও আত্মপক্ষ সমর্থন ও সমঝোতার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে।”

হেসে ইয়াসিন বললেন— “তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, অর্থ ঋণ আদালতের মামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘ একটি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার শেষ অধ্যায়।”

#অর্থঋণআদালত #অর্থঋণআদালত২০০৩ #ঋণআইন #ব্যাংকিংআইন #ব্যাংকিংজ্ঞান #ঋণখেলাপি

05/06/2026
03/06/2026

একদিন ব্যাংকের লোন রিকভারি বিভাগে বসে চা খাচ্ছিলেন দুই সহকর্মী—জুয়েল ও ইয়াসিন।

জুয়েল: ইয়াসিন ভাই, একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্ত হই। আদালতের বিষয়ে আমরা কখনো Suit বলি, আবার কখনো Case বলি। দুটো কি একই জিনিস?

ইয়াসিন: একেবারে একই নয়। তবে সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। একটা সহজ উদাহরণ দিই। ধরো, একজন গ্রাহক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ঋণ পরিশোধ করলেন না। তখন ব্যাংক বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করল।
ব্যাংক যখন প্রথমবার আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দাখিল করল, সেই পদক্ষেপটিকে বলা হয় Suit বা Lawsuit। অর্থাৎ, আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করাই হলো Suit।

জুয়েল: তাহলে Suit মানে মামলা শুরু করার ঘটনা?

ইয়াসিন:ঠিক তাই। এখন আদালত সেই Suit গ্রহণ করল, মামলা নম্বর দিল, শুনানি শুরু হলো, নথিপত্র জমা হলো, সাক্ষ্য-প্রমাণ নেওয়া হলো। এই পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের নথিভুক্ত কার্যক্রমকে বলা হয় Case। অর্থাৎ, আদালতের ফাইলে যে বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় চলে, সেটিই Case।

জুয়েল: তাহলে বলা যায়, Suit হলো বীজ বপন করা, আর Case হলো সেই বীজ থেকে গাছ হয়ে বেড়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়া!

ইয়াসিন (হেসে): চমৎকার উদাহরণ! আরও সহজ করে বলি—Suit = আদালতে মামলা দায়ের করার কাজ।
Case = আদালতে চলমান সেই মামলার বিচারিক রেকর্ড ও কার্যক্রম।

তবে বাস্তবে অনেক সময় আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ দুটি শব্দ প্রায় একই অর্থেও ব্যবহার করেন। বিশেষ করে Case শব্দটি আরও বিস্তৃত; এটি দেওয়ানি (Civil) ও ফৌজদারি (Criminal) উভয় ধরনের বিচারিক বিষয়কেই বোঝাতে পারে। অন্যদিকে Suit সাধারণত দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহৃত হয়।

জুয়েল: এখন তো বিষয়টা একদম পরিষ্কার। অর্থাৎ—
Suit হলো আদালতের দরজায় কড়া নাড়া, আর Case হলো সেই দরজা খোলার পর শুরু হওয়া পুরো বিচারযাত্রা।

ইয়াসিন: একদম ঠিক ধরেছ। আর ব্যাংকিংয়ের ভাষায় বলতে গেলে— ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলো Suit, আর আদালতে সেই মামলার নম্বর, শুনানি, আদেশ ও রায়ের পুরো ধারাবাহিকতা হলো Case।

সংক্ষিপ্ত মনে রাখার কৌশল:
🔹 Suit = Start (মামলার সূচনা)
🔹 Case = Continuation (চলমান বিচারিক কার্যক্রম)

অর্থাৎ, “Suit হলো শুরু, Case হলো চলমান বিচারিক যাত্রা।”

Address

Paragon City, Nobab Sirajuddola Road, Anderkilla
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bankers' Alliance of Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Bankers' Alliance of Bangladesh:

Share