Bankers' Alliance of Bangladesh

Bankers' Alliance of Bangladesh Bankers' Alliance of Bangladesh is a non-profit organisation that represent This is a networking page for the Banker community of Bangladesh.

We, a group of young bankers of different banks of Bangladesh, were planning to do something which would play a role to develop banking expertise of bankers and consequently play a further positive role in banking sector and economy of Bangladesh as well. We were seeking a platform to shape our dream which would help us be a true/practical part of building digital Bangladesh. Bankers' Alliance o

f Bangladesh is that platform which was formally inaugurated at Boat Club, Chittagong on 8th August, 2015

The basic objectives of the organisation are:

(i) to develop a bankers community and establish a strong platform for Bankers. (ii) to develop bonding among members & expanding public relations through involvement of Bankers of all level. (iii) to disseminate knowledge on banking and financial services through publication of journals, newsletters and by organising lectures, seminars, etc. ;

(iv) to undertake any other activity incidental to, and facilitating, the achievement of the basic objectives of the Bankers' Alliance of Bangladesh as mentioned above.

13/04/2026
03/04/2026

সকাল আটটা। ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় বের হওয়ার আগে মোবাইল ফোনে কয়েকটি ট্যাপ করলেন রাহাত। কয়েক মিনিটের মধ্যেই দরজার সামনে এসে দাঁড়াল একটি মোটরবাইক। এটি কোনো ব্যক্তিগত পরিচিত চালকের নয়—অ্যাপভিত্তিক একটি সেবার মাধ্যমে বুক করা। অফিসে পৌঁছানোর পথে রাহাত ভাবছিলেন, প্রযুক্তি কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর এক ফ্ল্যাটে বসে কম্পিউটারের সামনে কাজ করছেন নীলা। তিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী নন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব ডিজাইনের কাজ করছেন অনলাইনের মাধ্যমে। কাজ শেষ হলেই তিনি পারিশ্রমিক পাবেন ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে।

রাহাতের যাতায়াত আর নীলার কাজ—দুটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা হলেও একটি জায়গায় গিয়ে মিলেছে। আর সেটি হলো গিগ ইকোনমি।

গিগ ইকোনমি কী? গিগ ইকোনমি হলো ইন্টারনেট ও অ্যাপভিত্তিক এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে মানুষ স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদী বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করে। এখানে কর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজ বেছে নিতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মীদের দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের কাজ করিয়ে নেয়।

এই ব্যবস্থায় কাজের সুযোগ তৈরি হয় বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। যেমন—রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট তৈরি, ডিজাইন বা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি। ফলে কর্মক্ষেত্র আর নির্দিষ্ট অফিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন ব্যক্তি নিজের ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে পারেন।

“গিগ” নামের পেছনের গল্প: “গিগ” শব্দটি মূলত সংগীত জগত থেকে এসেছে। আগে কোনো সঙ্গীতশিল্পী বা ব্যান্ড যখন অল্প সময়ের জন্য কোনো অনুষ্ঠান বা কনসার্টে পারফর্ম করতেন, তখন সেটিকে “গিগ” বলা হতো। সেখান থেকেই স্বল্পমেয়াদী বা অস্থায়ী কাজকে “গিগ” বলা শুরু হয়। আর এই ধরনের অসংখ্য ছোট ছোট কাজের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে গিগ ইকোনমি।

কেন জনপ্রিয় হচ্ছে এই ব্যবস্থা? প্রযুক্তির বিস্তার এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে গিগ ইকোনমি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রথমত, এখানে কাজের স্বাধীনতা রয়েছে। প্রচলিত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার চাকরির বাধ্যবাধকতা নেই। নিজের সুবিধামতো সময়ে কাজ করা যায়।

দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে ঘরে বসেই কাজ করা সম্ভব। ফলে পরিবার ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

তৃতীয়ত, অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একজন ফ্রিল্যান্সার বাংলাদেশে বসেই ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে কাজ করতে পারেন।

চতুর্থত, প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এই ব্যবস্থা লাভজনক। স্থায়ী অফিস, প্রশিক্ষণ বা অবকাঠামোর জন্য বড় বিনিয়োগ না করেও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেওয়া যায়।

তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন—স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা নেই, সবেতন ছুটি বা অন্যান্য সুবিধা অনেক সময় পাওয়া যায় না। তবুও স্বাধীনতা ও নমনীয়তার কারণে দিন দিন এই ব্যবস্থার চাহিদা বাড়ছে।

কেন মানুষ এই কাজ বেছে নিচ্ছে? বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকেই স্বেচ্ছায় গিগ ইকোনমিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে এই ধরনের কাজে যুক্ত হন। আবার প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং প্রচলিত চাকরির ধারা থেকে বের হয়ে আসার জন্য এই পথ বেছে নেন।

কিছু মানুষ অবসর-পরবর্তী অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবেও গিগ ইকোনমিকে ব্যবহার করছেন।

প্রজন্মভেদেও এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। বেবি বুমার প্রজন্মের অনেকেই এটিকে অবসর জীবনের আয় হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে মিলেনিয়াল প্রজন্মের মানুষদের মধ্যেই গিগ ইকোনমিতে কাজের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে গিগ ইকোনমি: বিশ্বের অনেক দেশেই গিগ ইকোনমি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, চীন, ভারত, স্পেন এবং নেদারল্যান্ডে এই খাত উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
তবে সব দেশে এর প্রভাব সমান নয়। কিছু দেশ প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই খাতকে সীমিত রাখছে।

উদাহরণ হিসেবে জাপানের কথা বলা যায়। সেখানে প্রযুক্তিগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও গিগ ইকোনমিকে খুব বেশি উৎসাহ দেওয়া হয় না, কারণ কর্মীদের আয় ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

আবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিগ ইকোনমির বিস্তারে কিছু আইনি বাধা রয়েছে। সেখানে মোট কর্মীর বড় অংশই বিদেশি শ্রমিক হওয়ায় তাদের কাজের জন্য বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

করোনা মহামারি ও গিগ ইকোনমি: করোনা মহামারির সময় গিগ ইকোনমি নতুনভাবে আলোচনায় আসে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ আয়ের উৎস হারায়। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং বা অ্যাপভিত্তিক কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
একদিকে ফুড ডেলিভারি বা অনলাইন সেবার কাজ বেড়ে যায়, অন্যদিকে ইভেন্ট বা বিয়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অনেক পেশাজীবী কাজ হারিয়ে ফেলেন।

এই সময় দুটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে—স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা।

ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান কি গিগভিত্তিক? বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে ভবিষ্যতে গিগ ইকোনমির আরও সম্প্রসারণ ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই ব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে কর্মী ও নিয়োগকর্তার মধ্যে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হয়তো ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের ধরণকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।

#গিগ_ইকোনমি #ফ্রিল্যান্সিং #ডিজিটাল_অর্থনীতি #ভবিষ্যতের_কর্মসংস্থান #অ্যাপভিত্তিক_কাজ #অনলাইন_আয় #স্মার্ট_অর্থনীতি

01/04/2026

বাজারে গেলে আমরা প্রায়ই দেখি—একই ধরনের পণ্য, কিন্তু ভিন্ন রঙের মোড়ক বা ভিন্ন লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কারণে দামের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। অনেক সময় এই পার্থক্যটি খুব সূক্ষ্ম হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বড় একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করে। অর্থনীতির ভাষায় এই বিষয়টিকেই বলা হয় “পিংক ট্যাক্স”।

নামের মধ্যে “ট্যাক্স” শব্দটি থাকলেও বাস্তবে এটি কোনো সরকারি কর নয়। বরং বাজারে একই বা প্রায় একই ধরনের পণ্য নারীদের জন্য বাজারজাত করার সময় যে অতিরিক্ত মূল্য ধার্য করা হয়, সেটিই পিংক ট্যাক্স নামে পরিচিত। অর্থাৎ একজন নারী অনেক সময় অজান্তেই এমন একটি অতিরিক্ত খরচ বহন করেন, যা একই পণ্যের জন্য একজন পুরুষকে করতে হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি দাম পরিশোধ করেন। প্রসাধনী, শ্যাম্পু, ডিওডোরেন্ট বা রেজরের মতো পণ্যের উপাদানে তেমন বড় পার্থক্য না থাকলেও শুধু নারীদের জন্য আলাদা ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে দাম বেড়ে যায়।
একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় ২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার একটি গবেষণায়। সেখানে দেখা যায়, ডিওডোরেন্ট স্প্রের ক্ষেত্রে নারীরা প্রতি বোতলে গড়ে ৩০ সেন্ট বেশি খরচ করেন। বাজারে এসব পণ্য সাধারণত নারীদের জন্য গোলাপি রঙের মোড়কে এবং পুরুষদের জন্য নীল বা গাঢ় রঙে বাজারজাত করা হয়।

ব্যবসা-বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, পিংক ট্যাক্সের কারণে একজন নারী বছরে গড়ে প্রায় ১,৪০০ মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করে থাকেন।

পিংক ট্যাক্সের উদাহরণ শুধু পশ্চিমা বিশ্বে নয়, দক্ষিণ এশিয়াতেও দেখা যায়। ভারতের বাজারে একজন পুরুষ যদি একটি রেজর কিনতে যান, তবে তার গড় দাম প্রায় ৮০ রুপি। কিন্তু একই কোম্পানির নারীদের জন্য বাজারজাত করা প্রায় একই মানের রেজরের দাম হতে পারে ২৫০ রুপির কাছাকাছি।
তবে দেশটিতে নারী অধিকারকর্মীদের আন্দোলনের ফলে ২০১৮ সালে নারীদের মাসিকের সময় ব্যবহৃত পণ্যের ওপর আরোপিত ১২ শতাংশ জিএসটি তুলে নেওয়া হয়। যদিও এটি পিংক ট্যাক্সের পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, তবু একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়।

পিংক ট্যাক্সের পেছনে একটি বড় কারণ হচ্ছে বাজারজাতকরণের কৌশল। কোম্পানিগুলো অনেক সময় কিছু প্রচলিত ধারণা বা স্টেরিওটাইপ ব্যবহার করে পণ্যকে “নারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি” বলে উপস্থাপন করে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক রেজর। পুরুষদের রেজর সাধারণত সোজা হাতলযুক্ত হয়, আর নারীদের জন্য তৈরি রেজরের হাতলে সামান্য বাঁক বা নকশা যোগ করা হয়। আবার পুরুষদের বডি স্প্রেতে এক ধরনের ঘ্রাণ থাকলেও নারীদের জন্য আলাদা সুগন্ধ যুক্ত করা হয়। এসব ছোটখাটো পরিবর্তনকে “বিশেষায়িত বৈশিষ্ট্য” হিসেবে তুলে ধরে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পিংক ট্যাক্স পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে সামনে আনে। সমাজে নারীদের বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে যে চাপ বা অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে, অনেক সময় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সেটিকেই পুঁজি করে। ফলে সৌন্দর্যচর্চা বা ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে নারীরা তুলনামূলক বেশি ব্যয় করতে বাধ্য হন।

সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আয়-বৈষম্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক দেশে একই ধরনের কাজ করার পরও নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম আয় করেন। উদাহরণ হিসেবে ভারতে নারী শ্রমিকরা গড়ে ১৯ শতাংশ কম আয় করেন। অর্থাৎ আয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থেকেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়ের বোঝা নারীদেরই বেশি বহন করতে হয়।

নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের হিসাব অনুযায়ী, পিংক ট্যাক্সের কারণে একজন নারী জীবনের প্রথম ৩০ বছরে প্রায় ৪০,০০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে পারেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো দেশের রাজনীতি বা প্রশাসনে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি হলে পিংক ট্যাক্সের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়।

স্বল্পমেয়াদে কিছু সচেতন পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন—একই ধরনের পণ্য কিনতে গেলে ভোক্তারা তুলনা করে দেখতে পারেন, পুরুষদের জন্য বাজারজাত করা পণ্যটি একই কাজ করছে কি না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেটি ব্যবহার করলেও কার্যকারিতায় তেমন কোনো পার্থক্য হয় না।

এছাড়া শিশুদের জন্য খেলনা বা পোশাক কেনার সময় লিঙ্গনিরপেক্ষ পণ্য বেছে নেওয়াও একটি সচেতন সিদ্ধান্ত হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পিংক ট্যাক্স সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে সমাজে আলোচনা তৈরি করা। কারণ ভোক্তারা সচেতন হলেই বাজারের আচরণ বদলাতে বাধ্য হয়।

পিংক ট্যাক্স তাই শুধু একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়; এটি ভোক্তা সচেতনতা, সামাজিক মানসিকতা এবং বাজারনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ক্ষেত্র।

#নারীর_অর্থনীতি #পিংক_ট্যাক্স #মূল্য_বৈষম্য #ভোক্তা_অধিকার #লিঙ্গ_বৈষম্য #অর্থনৈতিক_বৈষম্য

30/03/2026

বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং খাত শুধু আর্থিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংযোগের এই যুগে ব্যাংকিং সম্পর্কিত মৌলিক ধারণা ও পরিভাষা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা এখন সময়ের দাবি।

প্রতিদিনের জীবনে আমরা নানা ধরনের ব্যাংকিং টার্ম ব্যবহার করি—যেমন ঋণ, সুদ, আমানত, এটিএম, অনলাইন ব্যাংকিং ইত্যাদি। কিন্তু এসব শব্দের প্রকৃত অর্থ, ব্যবহার এবং প্রয়োগ অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থেকে যায়। বিশেষ করে ব্যাংকিং চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষার্থী এবং নতুন গ্রাহকদের জন্য এই টার্মগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই “ব্যাংকিং টার্মস ডিকশনারি শীর্ষক এই উদ্যোগ। এখানে A থেকে Z পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং টার্ম সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

আমাদের লক্ষ্য হলো জটিল ব্যাংকিং ভাষাকে সহজ ও বোধগম্য করে তোলা, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী—সবার জন্য এটি একটি কার্যকর রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে। আশা করা যায়, এই ডিকশনারি ব্যাংকিং জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

A

ATM (Automated Teller Machine) – নগদ উত্তোলন, ব্যালেন্স চেক ও অন্যান্য লেনদেনের যন্ত্র।
Account Holder – ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।
Accrued Interest – জমা থাকা সুদ যা এখনও পরিশোধ হয়নি।
ACH (Automated Clearing House) – ইলেকট্রনিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক।
Acquisition – একটি ব্যাংক বা সংস্থা অন্য ব্যাংক/সংস্থা কিনে নেওয়া।
Amortization – ঋণ ধীরে ধীরে কিস্তিতে পরিশোধ।
ATM Card – এটিএম ব্যবহার করার জন্য ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত কার্ড।
Authorized Signatory – ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেনের অনুমোদন দেওয়ার ব্যক্তি।
Automatic Transfer – স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তর।
Audit – ব্যাংকের আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা।
Asset – সম্পদ যা অর্থমূল্য তৈরি করে।
Accounts Payable (AP) – যে অর্থ প্রদান করতে হবে।
Accounts Receivable (AR) – যে অর্থ পাওনা।
Arbitrage – এক বাজার থেকে কম দামে কিনে অন্য বাজারে বেশি দামে বিক্রি।
Ask Rate – বাজারে বিক্রির জন্য প্রদত্ত মুদ্রার হার।

B

Bank Draft – অন্য ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য ইস্যুকৃত চেক।
Balance Sheet – সম্পদ, দায় এবং মালিকানার হিসাব।
Bank Guarantee (BG) – তৃতীয় পক্ষকে প্রদত্ত ব্যাংক প্রতিশ্রুতি।
Banking Regulation – ব্যাংক নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারী আইন।
Base Rate – ব্যাংকের সুদের সর্বনিম্ন হার।
Benchmark Rate – সুদের মান নির্ধারণের রেফারেন্স।
Bill of Exchange – নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ প্রদানের লিখিত নির্দেশ।
Branch – ব্যাংকের শাখা অফিস।
Bridge Loan – অল্প সময়ের জরুরি ঋণ।
Bull Market – শেয়ার বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা।
Bankruptcy – আর্থিকভাবে দেউলিয়া হওয়া।
Bearer Instrument – যে কেউ প্রদর্শন করে দাবি করতে পারে এমন চেক বা বন্ড।
Bond – ঋণ প্রমাণপত্র যা সুদ সহ ফেরত দেওয়া হয়।
Bank Rate – কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য ব্যাংকের জন্য সুদের হার।
Base Lending Rate – ব্যাংকের ঋণ প্রদানের প্রাথমিক সুদের হার।

C

Cheque – ব্যাংককে টাকা প্রদানের লিখিত নির্দেশ।
Credit – অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থ।
Collateral – ঋণের নিরাপত্তার জন্য সম্পদ।
Cash Reserve Ratio (CRR) – কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা বাধ্যতামূলক নগদ অনুপাত।
Certificate of Deposit (CD) – নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকে রাখা অর্থের প্রমাণপত্র।
Current Account – ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য অ্যাকাউন্ট।
Customer Due Diligence (CDD) – গ্রাহকের পরিচয় যাচাই।
Clearing – চেক বা লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ।
Capital Adequacy Ratio (CAR) – ব্যাংকের মোট মূলধন বনাম ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ।
Cheque Truncation System (CTS) – চেকের ডিজিটাল ইমেজ ব্যবহার করে লেনদেন।
Commercial Bank – সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক।
Cash Credit – ব্যবসায়ীকে দেওয়া ঋণ যা ক্রমাগত ব্যালেন্স অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়।
Convertible Bond – শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য বন্ড।
Credit Rating – ঋণদাতার আর্থিক সক্ষমতার মূল্যায়ন।
Custodian – গ্রাহকের সম্পদ সংরক্ষণকারী।

D

Demand Draft (DD) – অন্য শহরে টাকা পাঠানোর জন্য ব্যাংক ইস্যুকৃত প্রি-পেইড চেক।
Deposit – ব্যাংকে রাখা অর্থ।
Debit – অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া।
Default – ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া।
Derivatives – অন্যান্য সম্পদের উপর ভিত্তি করে আর্থিক চুক্তি।
Diversification – ঝুঁকি কমানোর জন্য বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ।
Documentary Credit – ব্যাংক গ্রাহকের জন্য পেমেন্ট গ্যারান্টি।
Demand Loan – ব্যাংক যে কোনো সময় ফেরত চাইতে পারে এমন ঋণ।
Deposit Insurance – ব্যাংক ব্যর্থ হলে গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা।
Discounting – ব্যাংক চেক বা বিল আগেভাগে নগদে রূপান্তর।
Drawdown – ঋণগ্রহীতার দ্বারা প্রাপ্ত ঋণের অংশ।
Dynamic Currency Conversion (DCC) – বিদেশী লেনদেনে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর।

E

Equity – কোম্পানির মালিকানা অংশ।
EMI (Equated Monthly Installment) – সমান কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি।
E-banking / Internet Banking – অনলাইনে ব্যাংকিং লেনদেন।
Endorsement – চেক বা বিল অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর।
Escrow Account – তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে রাখা তহবিল।
Encumbrance – সম্পদে বাধা বা অধিকার।
Expenditure – ব্যয় করা অর্থ।
Exchange Rate – এক মুদ্রা অন্য মুদ্রায় বিনিময় হার।
Expected Loss (EL) – সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ যা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ থেকে আসতে পারে।
External Commercial Borrowing (ECB) – বিদেশী উৎস থেকে ব্যবসায়ী ঋণ।

F

FD (Fixed Deposit) – নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থায়ী অর্থ।
Forex (Foreign Exchange) – দেশের মুদ্রা অন্য দেশের মুদ্রায় বিনিময়।
Foreclosure – ঋণদাতা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ঋণ আদায়।
Fiduciary – অন্যের জন্য সম্পদ পরিচালনা করা ব্যক্তি।
Fiscal Policy – সরকার কর্তৃক কর ও ব্যয় নীতি।
Floating Rate – সুদের হার বাজারের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।
Fixed Rate – সুদের হার স্থির থাকে।
Fund Transfer – একটি অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর।
Fraud Detection – বেআইনি লেনদেন চিহ্নিত করা।
Forward Contract – নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দামে সম্পদ ক্রয়/বিক্রির চুক্তি।

G

GIC (General Insurance Corporation) – সাধারণ বীমা সংস্থা।
GDP (Gross Domestic Product) – দেশের মোট উৎপাদিত পণ্য ও সেবা।
Grace Period – ঋণের কিস্তি বা ক্রেডিটের বিল পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সময়।
Green Banking – পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম।
Guarantor – ঋণগ্রহীতার দায়িত্ব বহনকারী ব্যক্তি।
Government Securities (G-Secs) – সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ঋণপত্র।
Gross Profit – বিক্রয় থেকে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বাকি লাভ।
Gross Margin – বিক্রয় আয় এবং সরাসরি খরচের পার্থক্য।
Guarantee Fee – গ্যারান্টির জন্য ব্যাংককে প্রদত্ত ফি।
Growth Fund – বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্য ফান্ড।

H

Holding Company – অন্য কোম্পানির শেয়ার ধারনকারী সংস্থা।
Hedging – ঝুঁকি কমানোর জন্য আর্থিক কৌশল।
Home Loan – বাড়ি বা সম্পদ ক্রয়ের জন্য ঋণ।
Hypothecation – ঋণ নেওয়ার সময় সম্পদ ন্যায্য অধিকার রেখে বন্ধক রাখা।
Head Office – ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়।
Hire Purchase – কিস্তিতে সম্পদ ক্রয় ও মালিকানা অর্জন।

I

Interest Rate – ঋণ বা জমার সুদের হার।
Inflation – পণ্যের সাধারণ মূল্য বৃদ্ধি।
Investment Banking – কোম্পানি ও সরকারের জন্য বিনিয়োগ ও অর্থায়ন পরিষেবা।
Insurance Premium – বীমার জন্য গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ।
Intangible Assets – অমূর্ত সম্পদ যেমন পেটেন্ট, ব্র্যান্ড।
Interest Payment Date – সুদ পরিশোধের নির্দিষ্ট তারিখ।
Issue Price – শেয়ার বা বন্ড ইস্যুর মূল্য।
Internal Audit – ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও হিসাব পরীক্ষা।
Interbank Market – ব্যাংকের মধ্যে ঋণ বা ফান্ডের লেনদেনের বাজার।
Insolvency – সম্পূর্ণ দেউলিয়ার অবস্থা।

J

Joint Account – একাধিক ব্যক্তি কর্তৃক খোলা অ্যাকাউন্ট।
Judgment Loan – আদালতের আদেশের ভিত্তিতে প্রদত্ত ঋণ।
Jumbo Loan – বড় ঋণ যা সাধারণ ঋণের সীমার বাইরে।
Job Work Financing – উৎপাদন কাজে ব্যবহার করার জন্য ঋণ।
Joint Liability – একাধিক ব্যক্তি একই দায় বহন করে।

K

KYC (Know Your Customer) – গ্রাহকের পরিচয় যাচাই।
Key Rate – সুদের মান নির্ধারণে প্রধান রেট।
Kirana Loan – ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ।
Knock-in Option – অপশন যা নির্দিষ্ট শর্ত পূর্ণ হলে সক্রিয় হয়।
Know Your Transaction (KYT) – সন্দেহজনক লেনদেন যাচাই।

L

Liquidity – সম্পদ নগদে রূপান্তরের ক্ষমতা।
Loan – ব্যাংক থেকে ধার করা অর্থ।
Letter of Credit (LC) – ব্যাংক গ্রাহকের পক্ষ থেকে পেমেন্ট নিশ্চিত করে।
Leverage – ঋণ ব্যবহার করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
Lien – ব্যাংকের অধিকার একটি সম্পদে ঋণ পরিশোধ না হলে।
Limit Order – নির্দিষ্ট দামে শেয়ার ক্রয় বা বিক্রি করার নির্দেশ।
Ledger – অ্যাকাউন্টের রেকর্ড সংরক্ষণ।
Liquidity Ratio – শর্ট-টার্ম ঋণ পরিশোধের ক্ষমতার অনুপাত।
Loan-to-Value Ratio (LTV) – ঋণের পরিমাণ বনাম সম্পদের মূল্য।

M

Mortgage – সম্পদ বন্ধক রেখে নেওয়া ঋণ।
Mutual Fund – বিনিয়োগকারীদের অর্থ একত্রিত করে বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগ।
MICR (Magnetic Ink Character Recognition) – চেক প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যাংক কোডিং প্রযুক্তি।
Maturity Date – FD বা ঋণের পরিশোধের শেষ তারিখ।
Minimum Balance – অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে ন্যূনতম পরিমাণ অর্থ।
Money Market – স্বল্পমেয়াদি ঋণ এবং আর্থিক সম্পদের লেনদেনের বাজার।
Market Risk – বাজারের ওঠাপড়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা।
Merchant Banking – কোম্পানি বা ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং অর্থায়ন পরামর্শ।
Monetary Policy – কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা এবং সুদের নীতি।
Mutual Obligation – ঋণগ্রহীতা এবং ব্যাংকের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা।

N

NEFT (National Electronic Funds Transfer) – ইলেকট্রনিকভাবে ব্যাংক-টু-ব্যাংক অর্থ স্থানান্তর।
Net Banking – অনলাইনে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা।
Non-Performing Asset (NPA) – ব্যাংকের ঋণ যা সময়মতো ফেরত আসছে না।
Nominee – অ্যাকাউন্টের জন্য প্রার্থী করা উত্তরাধিকারী।
Negotiable Instrument – যে কোনো ব্যক্তি প্রদর্শন করলে দাবি করা যায় এমন চেক বা বন্ড।
Net Worth – সম্পদ থেকে দায় বাদ দিয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মোট মূল্য।
Non-Fund Based Facility – ব্যাংক যে কোনও আর্থিক নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি দেয়, কিন্তু নগদ প্রদান করে না।
No Objection Certificate (NOC) – ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা অসংশয়নাপত্র।

O

Overdraft (OD) – অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সের চেয়ে বেশি টাকা উত্তোলনের সুবিধা।
Opening Balance – দিনের শুরুতে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স।
Operational Risk – ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমের ঝুঁকি।
Outstanding – সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া ঋণ বা বিল।
Outsourcing – ব্যাংকের কিছু কার্যক্রম তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া।
Overdue – সময়সীমা অতিক্রম করা ঋণ বা বিল।
Offshore Banking – বিদেশে পরিচালিত ব্যাংকিং কার্যক্রম।
Overnight Rate – এক রাতের জন্য ব্যাংকগুলির মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের সুদের হার।

P

Personal Loan – ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ঋণ।
Portfolio – বিনিয়োগকারীর সম্পদ ও বিনিয়োগের সমষ্টি।
Principal – মূল ঋণ বা মূল অর্থ।
Premature Withdrawal – FD বা সঞ্চয় আগেভাগে উত্তোলন।
Profit & Loss Account (P&L) – ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাব।
Private Banking – উচ্চ সম্পদের গ্রাহকের জন্য ব্যক্তিগত ব্যাংকিং।
Promissory Note – লিখিত ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি।
Public Deposit – সাধারণ মানুষের থেকে নেওয়া আমানত।
Payment Gateway – অনলাইনে লেনদেনের প্রযুক্তি।
Payable at Par – সম্পূর্ণ মূল্যের বিনিময়ে অর্থ প্রদানের শর্ত।

Q

QR Code Payment – মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের কোড।
Quality Asset – ঝুঁকি কম সম্পদ।
Quantitative Easing (QE) – কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ মুদ্রা বৃদ্ধি করে অর্থনীতি চালনা।
Quarterly Review – তিন মাস অন্তর ব্যাংক বা কোম্পানির আর্থিক মূল্যায়ন।
Quasi Money – নগদ নয় কিন্তু সহজে নগদে রূপান্তরযোগ্য সম্পদ।

R

RTGS (Real Time Gross Settlement) – উচ্চমূল্যের লেনদেনের জন্য অবিলম্বে অর্থ স্থানান্তর।
Reconciliation – ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও হিসাব মিলানো।
Reserve Requirement – ব্যাংকের রাখার বাধ্যতামূলক মূলধন।
Risk Management – ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া।
Retail Banking – সাধারণ গ্রাহকের জন্য ব্যাংকিং পরিষেবা।
Revolving Credit – ক্রমাগত ঋণ সীমা অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য ঋণ।
Return on Investment (ROI) – বিনিয়োগ থেকে লাভের হার।
Refinance – নতুন ঋণ দিয়ে পুরনো ঋণ পরিশোধ।
Remittance – টাকা প্রেরণ।
Restricted Account – সীমিত লেনদেনের অ্যাকাউন্ট।

S

SWIFT – আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেনের নিরাপদ বার্তা ব্যবস্থা।
Standing Instruction – স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ স্থানান্তর।
Securities – শেয়ার, বন্ড বা আর্থিক সম্পদ।
Settlement – লেনদেন চূড়ান্ত করা।
Sub-Prime Loan – উচ্চ ঝুঁকির ঋণ।
Savings Account – সঞ্চয় এবং সুদ পাওয়ার জন্য অ্যাকাউন্ট।
Stop Payment – চেক বা লেনদেন বাতিলের নির্দেশ।
Structured Product – বিনিয়োগের জন্য কাস্টমাইজড আর্থিক পণ্য।
Statutory Reserve – আইন অনুসারে সংরক্ষিত ব্যাংক মূলধন।
Syndicated Loan – একাধিক ব্যাংক দ্বারা প্রদত্ত বড় ঋণ।

T

Term Loan – নির্দিষ্ট সময়ের ঋণ।
Treasury – ব্যাংকের অর্থ পরিচালনার কেন্দ্র।
Trade Finance – আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধার জন্য ঋণ ও গ্যারান্টি।
Treasury Bills (T-Bills) – সরকারী স্বল্পমেয়াদি ঋণপত্র।
Trust Account – তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত অ্যাকাউন্ট।
Transaction Fee – লেনদেনে প্রদেয় ফি।
Time Deposit – নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমা অর্থ।
Total Debt Service Ratio (TDSR) – আয়ের তুলনায় মোট ঋণের অনুপাত।
Third Party Cheque – অন্যের নামে ইস্যুকৃত চেক।

U

UPI (Unified Payments Interface) – মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ লেনদেন।
Unsecured Loan – সম্পদের বাধ্যবাধকতা ছাড়া ঋণ।
Usance Bill – বিল পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা সহ চেক।
Utility Bill Payment – বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদির বিল পরিশোধ।
Unclaimed Deposit – দীর্ঘ সময় উত্তোলন না করা আমানত।

V

Venture Capital – নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য তহবিল।
Variable Interest Rate – সুদের হার পরিবর্তনশীল।
Value Date – লেনদেনের জন্য ব্যাংক গ্রহণকৃত তারিখ।
Valuation – সম্পদের বাজারমূল্য নির্ধারণ।
Volatility – বাজারে মূল্যের ওঠানামার পরিমাণ।

W

Withdrawal – নগদ উত্তোলন।
Working Capital – দৈনন্দিন ব্যবসায় ব্যবহৃত অর্থ।
Wire Transfer – ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ইলেকট্রনিক অর্থ স্থানান্তর।
Warranty – পণ্য বা সেবার জন্য গ্যারান্টি।
Wealth Management – উচ্চ সম্পদ গ্রাহকের জন্য বিনিয়োগ ও আর্থিক পরিকল্পনা।
Written-off Loan – পুনরুদ্ধারযোগ্য নয় এমন ঋণ।

X

XBRL (eXtensible Business Reporting Language) – আর্থিক রিপোর্টিংয়ের মান।
XML Payment File – ব্যাংক লেনদেনের জন্য ব্যবহারযোগ্য ফাইল ফরম্যাট।
Excess Reserve – CRR এর উপরে ব্যাংকে রাখা অতিরিক্ত তহবিল।

Y

Yield – বিনিয়োগ থেকে আসা আয় বা লাভ।
Yield Curve – বিভিন্ন মেয়াদের ঋণের সুদের গ্রাফ।
YTD (Year to Date) – বছরের শুরু থেকে নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত হিসাব।
Young Savers Account – তরুণদের জন্য সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট।

Z

Zero Coupon Bond – সুদ ছাড়া বিক্রি হওয়া বন্ড।
Z-score – ঋণ default ঝুঁকি মূল্যায়নের সূচক।
Zone Branch – ব্যাংকের নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রধান শাখা।
Zero Balance Account (ZBA) – অ্যাকাউন্টে সর্বদা শূন্য ব্যালেন্স রাখা।
Zombie Bank – কার্যকরী না হলেও ব্যাংক কার্যক্রম চালানো।

#ব্যাংকিংটার্মস #শিক্ষামূলক #ব্যাংকিংরেফারেন্স #ব্যাংকিংশিক্ষা #শাকিলমাহমুদ #ব্যাংকিংপাঠশালা

29/03/2026

ইকবাল,নবীন ব্যাংকার: স্যার, আজ একজন গ্রাহক টাকা চাইতে এসে মজা করে বলছিল—“লাগে টাকা, দেবে গৌরী সেন”! কথাটা তো আমরা প্রায়ই বলি, কিন্তু আসলে এই গৌরী সেন কে?

অনিরুদ্ধ, অভিজ্ঞ ব্যাংকার: (হালকা হাসি দিয়ে) খুব ভালো প্রশ্ন করেছো। আমরা অনেক প্রবাদই ব্যবহার করি, কিন্তু তার পেছনের মানুষগুলোকে চিনি না। গৌরী সেন ছিলেন সত্যিকারের একজন মানুষ, কল্পকাহিনি নয়।

ইকবাল: সত্যি! তাহলে তিনি কী করতেন?

অনিরুদ্ধ: তিনি ছিলেন ১৭শ শতকের একজন ধনী ব্যবসায়ী। তবে শুধু ধনী হলেই তো মানুষ বিখ্যাত হয় না। গৌরী সেন বিখ্যাত হয়েছিলেন তার দানশীলতার জন্য।

ইকবাল: মানে?

অনিরুদ্ধ: ধরো, কোনো মানুষ ঋণে জর্জরিত, কারো হাতে টাকা নেই, কারো বেতন বন্ধ—এই খবর পেলেই তিনি সাহায্য করতেন। নিজের সম্পদ মানুষের কল্যাণে খরচ করতেন।

ইকবাল: তাই বুঝি সবাই বলত—টাকা লাগলে গৌরী সেন দেবে?

অনিরুদ্ধ: ঠিক তাই। সেই সময় থেকেই এই কথাটা চালু হয়। মানুষ বিশ্বাস করত, বিপদে পড়লে গৌরী সেন সাহায্য করবেন।

ইকবাল: স্যার, শুধু গৌরী সেনই কি এমন ছিলেন?

অনিরুদ্ধ: না, আরও অনেক মানুষ আছেন যারা প্রবাদ হয়ে গেছেন। যেমন—হরি ঘোষ।

ইকবাল: হরি ঘোষ? উনার গল্পটা কী?

অনিরুদ্ধ: তিনি খুব বড়লোক ছিলেন না, কিন্তু মনটা ছিল অনেক বড়। গ্রাম থেকে শহরে পড়তে আসা গরিব ছাত্রদের তিনি নিজের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিতেন।

ইকবাল: ওহ! তাহলে তো তিনি একরকম হোস্টেলের মতো চালাতেন?

অনিরুদ্ধ: হ্যাঁ, বলা যায় তাই। প্রতিদিন তার বাড়িতে আড্ডা বসত, মানুষ আসত, খেত—কেউ খালি পেটে ফিরত না। এজন্যই মানুষ মজা করে বলত—“হরি ঘোষের গোয়াল”।

ইকবাল: স্যার, একটা ছড়া তো শুনেছি—
“বনমালী সরকারের বাড়ি, গোবিন্দরাম মিত্রর ছড়ি…”—এটারও কি ইতিহাস আছে?

অনিরুদ্ধ: অবশ্যই আছে। এই ছড়ার প্রতিটি লাইনে একজন করে মানুষ আছেন।

ইকবাল: একটু বুঝিয়ে বলবেন?

অনিরুদ্ধ: বনমালী সরকার ছিলেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার বড় ও সুন্দর বাড়ির জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। তাই বলা হয়—“বনমালী সরকারের বাড়ি”।

ইকবাল: আর গোবিন্দরাম মিত্র?

অনিরুদ্ধ: তিনি ছিলেন ক্ষমতাশালী কর্মকর্তা। তার “ছড়ি” বলতে বোঝানো হয় তার প্রভাব ও দাপট।

ইকবাল: উমিচাঁদের দাড়ি?

অনিরুদ্ধ: উমিচাঁদ ছিলেন শিখ ব্যবসায়ী। তার লম্বা দাড়ির জন্য তিনি আলাদা করে পরিচিত ছিলেন।

ইকবাল: আর হুজুরীমল?

অনিরুদ্ধ: তিনি ছিলেন ধনী ব্যক্তি, কিন্তু নিজের টাকা মানুষের কল্যাণে খরচ করতেন। তাই বলা হয়—“হুজুরীমলের কড়ি”।

ইকবাল: স্যার, একটা জিনিস বুঝলাম—আগের দিনে মানুষ শুধু টাকা জমাত না, মানুষের জন্য খরচও করত।

অনিরুদ্ধ: একদম ঠিক কথা। আর এখানেই আমাদের জন্য শিক্ষা আছে।

ইকবাল: কী ধরনের শিক্ষা?

অনিরুদ্ধ: আমরা ব্যাংকার হিসেবে শুধু টাকা লেনদেন করব না, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও রাখতে হবে। সমাজের উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন মানুষ একে অপরকে সাহায্য করবে।

ইকবাল: স্যার, তাহলে বলা যায়—এই প্রবাদগুলো শুধু কথা না, এগুলো আসলে ইতিহাস?

অনিরুদ্ধ: ঠিক তাই। এগুলো আমাদের শিকড়, আমাদের সংস্কৃতি। আমরা প্রতিদিন যে কথাগুলো বলি, তার মধ্যেই লুকিয়ে আছে মানুষের গল্প, মানবিকতার গল্প।

ইকবাল: (হেসে) স্যার, আজ থেকে কেউ “গৌরী সেন” বললে আমি কিন্তু পুরো গল্পটাই বলব!

অনিরুদ্ধ: (হাসি দিয়ে) সেটাই তো চাই। গল্পগুলো বেঁচে থাকুক মানুষের মুখে মুখে।

শেষকথা, প্রবাদ শুধু ভাষার সৌন্দর্য বাড়ায় না, আমাদের অতীতের গল্পও বহন করে। গৌরী সেন, হরি ঘোষ কিংবা হুজুরীমলের মতো মানুষরা আমাদের শেখান—সমাজে টিকে থাকতে হলে শুধু ধনী হওয়া নয়, মানবিক হওয়াটাই সবচেয়ে বড় কথা।

#বাংলা_প্রবাদ #গৌরী_সেন #বাংলার_ইতিহাস #মানবতা #লোকসংস্কৃতি #জানেন_কি

28/03/2026

সকালের দিকে উপজেলা শহরের একটি ব্যাংক শাখা। গ্রাহকদের ভিড় এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। ব্যাংকের ভেতরে বসে চা খেতে খেতে গল্প করছিলেন দুই সহকর্মী ব্যাংকার—সিনিয়র অফিসার তুহিন সাহেব এবং তরুণ ব্যাংকার শোভন।

হঠাৎ শোভন বললেন, —রফিক ভাই, একটা বিষয় নিয়ে আমি অনেক গ্রাহককে বুঝাতে গিয়ে দেখি তারা ঠিকমতো ধরতে পারেন না। সেটা হলো নেট ওয়ার্থ।

তুহিন সাহেব হালকা হাসলেন। —এই সমস্যাটা শুধু গ্রাহকদের না, অনেক শিক্ষিত মানুষও নেট ওয়ার্থ বিষয়টা ভালোভাবে বোঝেন না। চলুন আজ বিষয়টা সহজ করে আলোচনা করি।

নেট ওয়ার্থ আসলে কী?
শোভন বললেন, —আমরা প্রায়ই শুনি, কেউ একজন বিলিওনারি, তার নেট ওয়ার্থ এত বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আসলে নেট ওয়ার্থ কী?

তুহিন সাহেব বোঝাতে শুরু করলেন— খুব সহজ ভাষায় বললে, আপনার সব সম্পদের মোট মূল্য থেকে আপনার সব ঋণ বা দায় বাদ দিলে যা থাকে সেটাই আপনার নেট ওয়ার্থ। অর্থাৎ, নেট ওয়ার্থ = মোট সম্পদ – মোট দায়।

তিনি আরও বললেন— ধরুন, আপনার জমি আছে, ঘর আছে, ব্যাংকে টাকা আছে, ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে—এসবই আপনার সম্পদ। আবার আপনার যদি ব্যাংক লোন থাকে, গাড়ির ঋণ থাকে বা অন্য কোনো ধার থাকে—সেগুলো হলো দায়। সব সম্পদের মূল্য যোগ করে যদি সব দায় বাদ দেন, তাহলে যে অঙ্কটি পাবেন সেটাই আপনার প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ছবি—যাকে আমরা বলি নেট ওয়ার্থ।

শোভন জানতে চাইলেন, —কিন্তু ভাই, মানুষ তো সাধারণত আয় দেখেই নিজের অবস্থান বোঝে। নেট ওয়ার্থ কেন দরকার?

তুহিন সাহেব বললেন, —আয় দেখে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। কারণ কেউ হয়তো মাসে অনেক টাকা আয় করে, কিন্তু তার ঋণও অনেক বেশি। আবার কেউ হয়তো কম আয় করে কিন্তু তার সম্পদ অনেক। তাই নেট ওয়ার্থ আমাদের বলে দেয়—

একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক শক্তি,
সম্পদ বাড়ছে নাকি কমছে, ঋণের চাপ কতটা, ভবিষ্যতে আর্থিক নিরাপত্তা কেমন।

তিনি যোগ করলেন —ব্যাংকারদের জন্যও নেট ওয়ার্থ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো গ্রাহক যখন বড় ঋণের জন্য আবেদন করেন, তখন তার নেট ওয়ার্থ দেখেই অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শোভন বললেন —গ্রামের মানুষের জন্য যদি একটা সহজ উদাহরণ দিতেন?

তুহিন সাহেব বললেন— ধরুন, একজন কৃষকের হিসাব দেখি।

সম্পদ
ব্যাংকে সঞ্চয়: ২৫,০০০ টাকা
বসতবাড়ি: ৯,০০,০০০ টাকা
একটি গাড়ি বা ট্রাক্টর: ৫,০০,০০০ টাকা
ব্যবসায় বিনিয়োগ: ১,০০,০০০ টাকা
দোকান: ৫০,০০০ টাকা
মোট সম্পদ = ১৫,৭৫,০০০ টাকা

দায়
ব্যাংক ঋণ: ৩,০০,০০০ টাকা
বাড়ির বন্ধক ঋণ: ৫,০০,০০০ টাকা
মোট দায় = ৮,০০,০০০ টাকা

নেট ওয়ার্থ
১৫,৭৫,০০০ – ৮,০০,০০০ = ৭,৭৫,০০০ টাকা

তুহিন সাহেব বললেন, অর্থাৎ এই ব্যক্তির প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ালো ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

শোভন বললেন —মানুষের অনেক জিনিস থাকে। সব কি নেট ওয়ার্থে ধরা হয়?

তুহিন সাহেব ব্যাখ্যা করলেন— সাধারণত নেট ওয়ার্থে যেসব সম্পদ ধরা হয়: ব্যাংকের সঞ্চয়, নগদ টাকা, জমি বা বাড়ি, ব্যবসার বিনিয়োগ, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ড, গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহন, মূল্যবান গয়না বা সম্পদ।

দায় বা ঋণের মধ্যে সাধারণত থাকে— ব্যাংক লোন, বাড়ির বন্ধক, গাড়ির ঋণ, ক্রেডিট কার্ড বকেয়া, চিকিৎসা খরচের ঋণ, অন্য কারো কাছে ধার।

শোভন বললেন, —ভাই, কখন নেট ওয়ার্থ ভালো আর কখন খারাপ ধরা হয়?

তুহিন সাহেব বললেন— যদি সম্পদ দায়ের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে নেট ওয়ার্থ ইতিবাচক, যদি ঋণ সম্পদের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে নেট ওয়ার্থ নেতিবাচক

তিনি বললেন —নেতিবাচক নেট ওয়ার্থ মানে আপনার ঋণের বোঝা বেশি। তখন সতর্ক হয়ে আর্থিক পরিকল্পনা করা দরকার।

শোভন আবার প্রশ্ন করলেন, বিশ্বের ধনী মানুষদের নেট ওয়ার্থ কীভাবে বের করা হয়?

তুহিন সাহেব বললেন —মূল সূত্র একই। তাদের কোম্পানির শেয়ার, ব্যবসা, বিনিয়োগ, সম্পদ—সবকিছুর মূল্য হিসাব করা হয়। এরপর তাদের ঋণ বা দায় বাদ দেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি কয়েকজন বিশ্বখ্যাত ধনীর কথা বললেন— Elon Musk, Bernard Arnault, Jeff Bezos, Bill Gates, Warren Buffett।

তাদের নেট ওয়ার্থ মূলত বড় বড় কোম্পানির শেয়ার ও বিনিয়োগের উপর নির্ভর করে।

তুহিন সাহেব পরামর্শ দিলেন—প্রতিটি মানুষ বছরে অন্তত একবার নিজের নেট ওয়ার্থ হিসাব করতে পারে। এর জন্য— নিজের সব সম্পদের তালিকা করুন, সব ঋণের তালিকা করুন, সম্পদ থেকে দায় বাদ দিন, প্রতি বছর আগের বছরের সাথে তুলনা করুন। এতে বোঝা যাবে আপনার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে নাকি অবনতি।

চা শেষ করে তুহিন সাহেব বললেন— দেখো শোভন, মানুষ সাধারণত আয় বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। কিন্তু আসল বিষয় হলো সম্পদ বাড়ানো এবং ঋণ কমানো। তখনই নেট ওয়ার্থ বাড়বে।

শোভন মাথা নেড়ে বললেন—ঠিক বলেছেন ভাই। মনে হয় গ্রামাঞ্চলের মানুষদেরও এই বিষয়টা জানা দরকার। তাহলে তারা নিজেদের সম্পদ ও ঋণের হিসাব বুঝতে পারবে।

তুহিন সাহেব হাসলেন , হ্যাঁ, কারণ অর্থনীতির বড় বড় তত্ত্ব না বুঝলেও একটি বিষয় সবাই বুঝতে পারে— নিজের প্রকৃত সম্পদের হিসাব জানা। আর সেটাই হলো নেট ওয়ার্থ।

#সম্পদ_হিসাব #নেটওয়ার্থ #ব্যক্তিগত_অর্থনীতি #আর্থিক_শিক্ষা #অর্থনৈতিক_পরিকল্পনা #সম্পদ_ও_দায় #টাকার_হিসাব #গ্রামীণ_অর্থনীতি

Address

Paragon City, Nobab Sirajuddola Road, Anderkilla
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bankers' Alliance of Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Bankers' Alliance of Bangladesh:

Share