06/12/2025
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে যারা মাঠে কাজ করি, তাদের জন্য নি:সন্দেহে একটা বড় স্বস্তি। দীর্ঘ অপেক্ষা, নানা বাধা আর অসংখ্য আলোচনার পর অবশেষে বন্যপ্রাণী আইনের যে সংস্কারটা হয়েছে, সেটা শুধু কাগজে-কলমে পরিবর্তন নয় এটাই ভবিষ্যতের সুরক্ষার ভিত্তি।
এতদিন পাচারকারীরা প্রায় নিশ্চিন্ত ছিল। পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতারের সুযোগ না থাকায়, আর অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ কগনিজেবল না হওয়ায়, তারা মনে করত ধরা হলেও কিছুই হবে না। ঠিক এই জায়গাটাই বদলে গেছে। এখন ২৫০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী হত্যা বা পাচার অজামিনযোগ্য অপরাধ। বন বিভাগের হাতে আছে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতারের ক্ষমতা। অর্থাৎ পালানোর যে দরজা এতদিন খোলা ছিল, সেটা অবশেষে বন্ধ হলো।
সংস্কারের ফলে কঠিন শাস্তির পাশাপাশি নতুন শ্রেণিবিন্যাস, সুরক্ষা তালিকা, সিডিউল পরিবর্তন সব মিলিয়ে দেশের বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় একটা কার্যকর কাঠামো তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনটা যতটা আইনি, তার চেয়েও বেশি বাস্তব। এখন পাচারকারীরা আগের মতো ‘ঝুঁকি নেই’ ভেবে কাজ করতে পারবে না, আর মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কর্মকর্তাদের হাতেও পাওয়া গেছে শক্ত ভিত্তি।
আমরা যারা প্রতিদিন উদ্ধার নিয়ে দৌড়াই—তাদের জন্য এটা শুধু আইন নয়, একটা বাস্তব হাতিয়ার। বন্যপ্রাণী হত্যার জায়গা থেকে আইনের শিথিলতাকে কাজে লাগিয়ে যে নৈরাজ্য চলছিল, সেটাকে থামানোর পথ এখন পরিষ্কার।
সংরক্ষণ শুধু সচেতনতায় হয় না, কঠোর ও আধুনিক আইনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই পরিবর্তন ঠিক সেই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।